ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

শরীয়তপুরে বোরো আবাদ শেষ পর্যায়ে

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১১:৫৫ এএম
শরীয়তপুরে বোরো আবাদ শেষ পর্যায়ে
জমিতে বোরো ধানের পরিচর্যা করছেন এক কৃষক। ছবি : বাসস

শরীয়তপুরে বোরো আবাদ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেশব্যাপী লাগাতার শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশায় বোরো আবাদ বাধাগ্রস্ত ও বিলম্বিত হলেও শরীয়তপুরে কোনো প্রভাব পড়েনি। 

এ বছর জেলায় ২৫ হাজার ৫১০ হেক্টরে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও কৃষি বিভাগ আশা করছে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও বেশি জমিতে বোরো আবাদ হবে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ও সময়মতো সার-বীজ পাওয়ায় বোরোর ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষক ও স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

জেলা কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, শরীয়তপুর সদরে ৫ হাজার ৩২৩, নড়িয়ায় ৫ হাজার ২২৭, গোসাইরহাটে ৪ হাজার ৩৮০, ভেদরগঞ্জে ৩ হাজার ৮২০, ডামুড্যায় ৩ হাজার ৫০০ ও জাজিরা উপজেলায় ১ হাজার ২৮০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হবে। বোরো উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২২ টন ধরা হলেও লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ধানের ফলন হবে ধারণা করে কৃষি বিভাগ। আবাদ করা বোরোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জাত হলো ব্রি ধান-২৯, ৫৮, ৭৪, ৮১, ৮৯, ৯২, বিনা-১০, ২৫ ও বঙ্গবন্ধু ধান ১০০। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ফলন হয় ব্রি- ৭৪ ধানের, হেক্টরপ্রতি গড়ে ৭ দশমিক ১৫ থেকে ৭ দশমিক ২০ টন উৎপন্ন হয়। জেলায় বোরোর গড় ফলন ৬ দশমিক ৯৫ টন।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. রবীআহ নুর আহমেদ বলেন, ‘খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের কথা মাথায় রেখে বোরো ধান আবাদ করা হচ্ছে। মাটির উপযোগিতা যাচাই করে কোন জমিতে কোন জাত আবাদে কৃষক অধিক ফলন পাবেন সে বিষয়ে আমাদের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে কৃষিবান্ধব সরকারের প্রণোদনা, যান্ত্রিকীকরণ ও কারিগরি সহায়তাসহ উন্নত জাতের ব্যবহারে সবসময় কৃষককে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। এ মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও কৃষক বেশি ফলন পাবেন।’

জেলার বার্ষিক ধানের চাহিদা রয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৯৪২ টন। বোরোর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার ২২২ টন। আউশ আমনের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩২৪ টন, যা জেলার চাহিদার তুলনায় ১৮ হাজার ৬০৪ টন বেশি।
শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর ইউনিয়নের দেওভোগ গ্রামের কৃষক আবু আলেম মুন্সী বলেন, ‘আগে যে পদ্ধতিতে বোরো আবাদ করতাম তাতে খরচ বেশি হলেও ফলন কম পেতাম। কিন্তু গত কয়েক বছর থেকে কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাটির উপযোগিতা অনুযায়ী ধানের জাত, লাইনে লাগানো ও জমিতে গাছের ডাল পুঁতে দেওয়ায় গাছের ডালে পাখি বসায় আমাদের কীটনাশক কম লাগছে, জমিতে আগাছাও কম হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় উৎপাদন ব্যয় কমেছে বেড়েছে ফলনও।’

নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের মালতকান্দি গ্রামের কৃষক রুবেল মালত বলেন, ‘এবার টিভি ও পত্রিকায় শীত-কুয়াশায় বোরোর ক্ষতির খবর দেখায় আমরাও একটু চিন্তিত ছিলাম। কিন্তু আল্লাহর রহমতে বীজতলার কোনো ক্ষতি না হওয়ায় আমরা সময়মতো জমিতে ধান লাগাতে পেরেছি। আশা করছি, বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে ঝড়-বাদলের আগেই ধান গোলায় তুলতে পারব।’ সূত্র : বাসস

বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল

প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:২৯ এএম
বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ল
বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আনিসুর রহমান

সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার আলোচনার মধ্যে রাষ্ট্রমালিকানার বেসিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আনিসুর রহমানের চুক্তির মেয়াদ আরও এক বছর বাড়ানো হয়েছে। কোনো ব্যাংক একীভূত হলে দূর্বল ব্যাংকের এমডি-ডিএমডি ভালো ব্যাংকে যোগদান করতে পারবেন না। এরকম অবস্থার মধ্যে বেসিক ব্যাংকের এমডির মেয়াদ বাড়ানো হলো।

গত মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

আগের দিন (সোমবার) সিটি ব্যাংকের সঙ্গে বেসিক ব্যাংক একীভূতকরণের সিদ্ধান্তের কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

আনিসুর রহমান ২০২১ সালের ১ এপ্রিল বেসিক ব্যাংকের এমডি হিসেবে যোগদান করেন। গত ৩১ মার্চ তার প্রথম মেয়াদ শেষ হয়। এর আগে তিনি অগ্রণী ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) ছিলেন। 

তিনি ১৯৮৮ সালে বিআরসির মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার পদে যোগদান করেন। চাকরি জীবনে অগ্রণী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক, অঞ্চল প্রধান, সার্কেল প্রধান ও বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অগ্রণী ইক্যুইটি অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সিইও হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

আনিসুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তার বাড়ি গোপালগঞ্জে।

অমিয়/

দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০১ পিএম
দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধিতে ধস
ছবি: সংগৃহীত

চলতি ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৭৮ শতাংশে। যা গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায় দ্বিতীয় প্রান্তিকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় পতন হয়েছে। আগের (জুলাই-সেপ্টেম্বর) প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬ দশমিক ০১ শতাংশ।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ও প্রবৃদ্ধি হারের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থিরমূল্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩ দশমিক ৭৮ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। সে তুলনায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৭ দশমিক ০৮ শতাংশ, এবং ২০২১-২২ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ি, চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তুলনায়, দ্বিতীয় প্রান্তিকে শিল্প ও সেবার সব খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। শুধুমাত্র কৃষিখাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে।

অপরদিকে গত অর্থবছরের একই সময়ে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও শিল্প ও সেবা খাতে কমেছে।

চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কৃষিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ, যা প্রথম প্রান্তিকে ছিল ১ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অন্যদিকে গত অর্থবছরে একই সময়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

শিল্প খাতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ১০ দশমিক ০০ শতাংশ। এবার কমে হয়েছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অপরদিকে সেবা খতে গত অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৬২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও এবারের অক্টোবর-ডিসেম্বরে কমে হয়েছে ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

২০২০ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারের সিদ্ধান্ত ও পরবর্তীতে আইএএমএফ-এর পরামর্শ মোতাবেক বিবিএস ত্রৈমাসিক মোট দেশজ উৎপাদন প্রাক্কলনের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি তিন মাস পর পর জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করা হয়।

জাহাঙ্গীর/ইসরাত/অমিয়/

এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক

প্রকাশ: ১০ এপ্রিল ২০২৪, ১২:০৩ এএম
এবার ইউসিবির সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে ন্যাশনাল ব্যাংক
ছবি : সংগৃহীত

এবার বেসরকারি খাতের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) সঙ্গে একীভূত হতে যাচ্ছে বেসরকারি ন্যাশনাল ব্যাংক। 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আবদুর রউফ তালুকদার। 

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, ইউসিবি ব্যাংকের একজন পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ডেকে আজ বৈঠক করেন গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার। বৈঠকে ইউসিবি কর্তৃপক্ষকে একীভূত হওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে বৈঠকে ন্যাশনাল ব্যাংকের কেউ উপস্থিত ছিলেন না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে একীভূতকরণ ইস্যুতে এর আগে দুই ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। 

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংক একীভূতকরণের নীতিমালা জারি করেছে। যেখানে স্বেচ্ছায় ও বাধ্যতামূলক- এই দুইভাবে দুর্বল ব্যাংককে সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূতকরণ হওয়ার বিষয়ে দিক-নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে। ন্যাশনাল ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল। অন্যদিকে ইউসিবির আর্থিক ভিত্তি সবল। 

এর আগে সোমবার (৮ এপ্রিল) বেসরকারি সিটি ব্যাংক রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গত সপ্তাহে সরকারি দুটি ব্যাংক বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সঙ্গে একীভূত হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি খাতের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে পদ্মা ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে এমওইউ সই করেছে। 

সালমান/

রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
রমজানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৮১ শতাংশ
সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সহায়তা ঘোষণা করলেও ঠেকানো যাচ্ছে না মূল্যস্ফীতি। রোজার মাসে দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের লাগাম ছাড়িয়েছে। প্রভাব পড়েছে মার্চ মাসের মূল্যস্ফীতিতে। এ মাসে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯ দশমিক ৬৭। ঈদ উপলক্ষে বেচাকেনা বেশি হওয়ায় গ্রামের তুলনায় শহরে বেড়েছে মূল্যস্ফীতি।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হালনাগাদ মাসিক ভোক্তা মূল্য সূচকে এ তথ্য জানা গেছে।

মার্চে মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশের অর্থ হলো- ২০২৩ সালের মার্চে যে পণ্য ১০০ টাকায় কিনতে হয়েছিল, এ বছরের মার্চে তা ১০৯ টাকা ৮১ পয়সায় কিনতে হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য বলছে, মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ হয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

গত মাসে খাদ্য বহির্ভূত পণ্যের মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। মার্চে এসব পণ্যের  মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৪ শতাংশ, ফেব্রুয়ারিতে যা ছিল ৯ দশমিক ৩৩।

চলতি অর্থবছর সরকারের লক্ষ্যমাত্রা মূল্যস্ফীতি ৬ শতাংশের মধ্যে রাখার। তবে সর্বশেষ মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থবছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশের মধ্যে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে নীতি সুদহার বাড়িয়েছে। কিন্তু তাতেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। 

বিবিএসের তথ্য বলছে, গ্রামের তুলনায় শহরের মূল্যস্ফীতি বেশি। গ্রামে গড় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৬৮, যেখানে শহরের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ। শহরে খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৯৮, গ্রামে ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। 

গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাংকও পূর্বাভাস দিয়েছে

তিন কারণে বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বহাল থাকবে। কারণ তিনটি হলো- ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, বিদেশি মুদ্রার সংকটের কারণে আমদানি সংকোচন ও জ্বালানি সংকট বহাল। 

জাহাঙ্গীর/সালমান/

দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৪, ০৯:৩৮ পিএম
দুর্বল ব্যাংকের তালিকায় নেই কোনো ইসলামি ব্যাংক

দুর্বল ব্যাংকগুলোর তালিকা চূড়ান্ত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শিগগিরই এসব ব্যাংক একীভূত করা হবে বলে জানা গেছে। তবে এই তালিকায় কোনো ইসলামি ব্যাংকের নাম নেই।

সম্প্রতি এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হয়েছে ধুঁকতে থাকা পদ্মা ব্যাংক। ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর মাত্র ১০ বছরের মাথায় দেশের চতুর্থ প্রজন্মের পদ্মা ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ হারিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ডুবতে থাকায় দ্বিতীয় প্রজন্মের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়েছে।

পদ্মা ব্যাংকের মতো আরও বেশ কয়েকটি ব্যাংক একীভূত করা হবে খুব শিগগিরই। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে গভর্নরের সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংকের মালিকানায় থাকা পরিচালক ও চেয়ারম্যানরা বৈঠক করেন। বৈঠকে ১০টি দুর্বল ব্যাংককে বিভিন্ন সবল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করার সিদ্ধান্ত হয়। 

তালিকায় থাকা ব্যাংকগুলো হলো- পদ্মা ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বিডিবিএল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচারাল ব্যাংক এবং আইসিবি ইসলামি ব্যাংক।

তবে আইসিবি ইসলামি ব্যাংকের একীভূত হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর প্রধান কারণ হলো এই ব্যাংকের শেয়ার ওরিয়ন গ্রুপ কিনে নেওয়ার বিষয়ে কথা চলছে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র। 

অন্যদিকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইসলামি ধারার ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা নিয়ে রিপোর্টও হয়েছে।  তবে এসব ব্যাংক একীভূত হচ্ছে না বলেই জানা গেছে।

গত মার্চে এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হওয়ার চুক্তিতে সই করেছে পদ্মা ব্যাংক। এখন একীভূত হওয়ার প্রকৃয়ায় রয়েছে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব), বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) ও বেসিক ব্যাংক।

এরমধ্যে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকক (রাকাব) কৃষি ব্যাংকের সঙ্গে, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে (বিডিবিএল) সোনালী ব্যাংকের সঙ্গে এবং বেসিক ব্যাংক সিটি ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত হচ্ছে।

তাছাড়া তালিকায় থাকা অন্য ব্যাংকগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে একীভূত হওয়ার কথা বলেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এই সময়ের মধ্যে কেউ একীভূত না হলে আগামী বছর মার্চ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে এগুলোকে মিলিয়ে দেওয়া হবে।

গত ৪ এপ্রিল স্বেচ্ছায় একীভূত হওয়ার একটি নীতিমালা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে বলা হয়েছে, ‘একীভূতকরণের পর যে ব্যাংক বিলীন হয়ে যাবে, সেই ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তিন বছরের আগে ছাঁটাই করা যাবে না। তবে ওই ব্যাংকের বড় কর্মকর্তারা (এমডি, ডিএমডি) থাকতে পারবেন না।’

অমিয়/