ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৭৮৪ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৫.৮২ শতাংশ

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০২ পিএম
আপডেট: ২১ মে ২০২৪, ০৯:০২ পিএম
মাথাপিছু আয় বেড়ে ২৭৮৪ ডলার, প্রবৃদ্ধি ৫.৮২ শতাংশ
ছবি : সংগৃহীত

বছরের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরে (২০২৩-২৪) মাথাপিছু গড় আয় ৩৫ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৭৮৪ ডলার। গত অর্থবছরে (২০২২-২৩) মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। ডলারের দাম ১০৯ টাকা ৯৭ পয়সা ধরে টাকার অঙ্কে এই বছরে আয় হচ্ছে ৩ লাখ ৬ হাজার ১৪৪ টাকা। 

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) সর্বশেষ চলতি অর্থবছরের সাময়িক হিসাবে এই তথ্য প্রকাশ করেছে। 

একই সঙ্গে চলতি অর্থবছরের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সাময়িক হিসাবও দেওয়া হয়েছে। এতে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। গত অর্থবছরে জিডিপির প্রকৃত প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। সেই হিসাবে বেড়েছে দশমিক ০৪ শতাংশ। 

কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরের আয়ের সঙ্গে রেমিট্যান্সসহ যত আয় হয়, তাই হচ্ছে একটি দেশের মোট জাতীয় আয়। সেই জাতীয় আয়কে মাথাপিছু ভাগ করে এই হিসাব করা হয়। মাথাপিছু আয় কোনো ব্যক্তির একক আয় নয়। এ আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়। অর্থাৎ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। বিবিএস সাধারণত বাজেটের আগে ৯ মাসের প্রকৃত আয় ও প্রবৃদ্ধি এবং বাকি ৩ মাসের একটা সম্ভাব্য প্রাক্কলন করে মাথা পিছু আয় ও জিডিপির প্রবৃদ্ধির তথ্য প্রকাশ করে। অর্থবছর শেষ হলে সব কিছু হিসাব করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশ করে জানায়।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, সেবা খাতকে ভর করেই সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। কারণ গত অর্থবছর চূড়ান্ত হিসাবে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৭৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে কৃষি ও শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমে হয়েছে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ ও ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। বিবিএস তা দেখিয়েছে। সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়লেও তা খুবই সামান্য। তারপরও বেড়ে গেছে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার।

বিবিএসের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছর সাময়িক হিসাবে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ২১ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধি কমেছে শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ।

একইভাবে চলতি অর্থবছর শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যা গত অর্থবছরে ছিল ৮ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অর্থাৎ শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে ১ দশমিক ৭১ শতাংশ। শিল্প খাতের এ প্রবৃদ্ধি চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। কারণ ২০২০-২১ অর্থবছর শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১০ দশমিক ২৯ শতাংশ ও ২০২১-২২ অর্থবছর ৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৪৩ শতাংশ। কারণ গত অর্থবছর এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ৬ দশমিক ২৬ শতাংশ। 

চলতি অর্থবছরে সাময়িক হিসাবে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ। কৃষি ও শিল্পে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাওয়ার পরও সার্বিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কীভাবে বাড়ল তার কোনো ব্যাখ্যা বিবিএসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই প্রান্তিকে সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমানোর পরও সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি কেন বাড়ল তারও কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। গত অর্থবছরের শুরু থেকে চলা ডলারসংকট আরও প্রকট আকার ধারণ করা, আমদানিতে বড় ধরনের ধসের ফলে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়া, সরকারের উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়নে ধীরগতিসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছর প্রবৃদ্ধি আরও কমবে বলেই প্রাক্কলন করেছিল বিশ্বব্যাংক।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ও অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘বিবিএস চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির যে তথ্য ৫ দশমিক ৮২ শতাংশ প্রকাশ করেছে, তা মোটামুটি ঠিক আছে। কারণ আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) আগেই এ রকম তথ্য প্রাক্কলন করেছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকও (এডিবি) কাছাকাছি ৬ শতাংশের বেশি প্রাক্কলন করেছে। শুরুতে কমলেও শেষ পর্যায়ে ভালোই করেছে প্রবৃদ্ধি। প্রথমে মূল্যস্ফীতি খারাপ অবস্থায় ছিল। তাই নতুন বাজেটে কৃষিতে আরও বরাদ্দ বাড়াতে হবে।’

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, ‘কৃষি ও শিল্প খাতের চেয়ে সেবা খাত ভালো করেছে। এটা খারাপ কিছু না। তবে শিল্পেও ভালো করতে হবে। কারণ শিল্পায়নের বিকল্প নেই। ডলারের অবমূল্যায়ন, আমদানি কমে যাওয়ায় এই অবস্থা হয়েছে। নতুন বাজেটে তাই এসব বিষয় বিবেচনা করতে হবে। যাতে কৃষি ও শিল্পের প্রবৃদ্ধি হয়। সেবা খাতের প্রবৃদ্ধি বেশি হয়েছে এটা খারাপ না। ভারতও সেবা খাতকে ভর করে এগিয়ে গেছে। কারণ সেবা খাতে অনেক কিছু জড়িত। ভারতে যা হচ্ছে বাংলাদেশেও তা দেখা যাচ্ছে।’

সম্প্রতি ডলারের রেকর্ড পরিমাণ অবমূল্যায়ন হয়েছে। তা ৩০ শতাংশ ছাড়িয়েছে। তারপরও সাময়িক হিসাবে চলতি অর্থবছর মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৫ ডলার বা ১ দশমিক ১২ শতাংশ। কারণ মাথাপিছু আয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৭৮৪ ডলার। যা গত অর্থবছর ছিল ২ হাজার ৭৪৯ ডলার। তার আগের ২০২১-২২ অর্থবছরে ২ হাজার ৭৯৩ ডলার ছিল।

বিবিএসের প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিল্প খাতের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা ছিল বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে। এ খাতে গত অর্থবছর প্রবৃদ্ধি ছিল ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছর কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ ঋণাত্মক। এর মধ্যে বিদ্যুৎ খাতে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪০ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশ ঋণাত্মক বা নেতিবাচক। আর গ্যাসের প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ৮৪ শতাংশ ঋণাত্মক থেকে কমে দাঁড়িয়েছে শূন্য দশমিক ৯৩ শতাংশ ঋণাত্মক।

বিবিএসের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছর বৃহৎশিল্পে প্রবৃদ্ধি অনেকখানি কমে গেছে। এ শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার ২০২২-২৩ অর্থবছর ছিল ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছর হ্রাস পেয়ে হয়েছে ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। একইভাবে চলতি অর্থবছর ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রবৃদ্ধির হারও হ্রাস পেয়েছে। গত অর্থবছর এ হার ছিল ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ, চলতি অর্থবছর দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ ছাড়া গত অর্থবছর কুটিরশিল্পে প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় ১০ দশমিক ০১ শতাংশ, যা চলতি অর্থবছর দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ০৮ শতাংশ।

তবে সেবা খাতে আগের অর্থবছরে ৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলে চলতি অর্থবছরে বেড়ে ৫ দশমিক ৮০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ইন্স্যুরেন্সে বড় লাফ দেয়। গত অর্থবছরে এ খাতে ১ দশমিক ০৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হলেও চলতি অর্থবছরে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশে ঠেকেছে। মানব স্বাস্থ্য ও সামাজিক কার্যক্রমেও ব্যাপকভাবে ১০ দশমিক ০৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত অর্থবছরে এটা হয়েছিল ৭ দশমিক ২২ শতাংশ।

ঈদের পরও চড়া গরু-খাসি, কমেছে পোলট্রি মুরগি ও কাঁচা মরিচের দাম

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ০১:০৩ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ০১:০৩ পিএম
ঈদের পরও চড়া গরু-খাসি, কমেছে পোলট্রি মুরগি ও কাঁচা মরিচের দাম

‘ঈদের পর মানুষের হাতে টাকা কমে গেছে। চাহিদাও কমে গেছে। এ জন্য পোলট্রি মুরগির দাম কমতেই আছে। আগে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও বর্তমানে ১৭৫-১৮০ টাকা কেজি পোলট্রি মুরগি।’ কারওয়ান বাজারের সততা মুরগি আড়তের বাহার উদ্দিন মুরগির দামের কথা জানাতে গিয়ে বললেন এই কথা।

রবিবার (২৩ জুন) বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৪০০ টাকা কেজির কাঁচা মরিচের দামও কমে ১৮০-২০০ টাকায় নেমেছে। ১৬০ টাকার শসা হয়েছে ৮০ টাকা। তবে ঈদের পর পেঁয়াজের দাম না কমে বরং কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়ে ৯০-৯৫ টাকা হয়েছে। ঈদের পর গরু ও খাসির মাংসের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। দাম কমেনি। বরং সরবরাহের ঘাটতির অজুহাতে কেজিতে ৩০-৫০ টাকা বেড়ে ৭৮০-৮০০ টাকা ও ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি হয়ে গেছে। 

গরু ৮০০, খাসি ১২০০ টাকা
ঈদে এবার ১ কোটি ৪ লাখ ৮ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ৪৭ লাখ ৬৭ হাজার ও ছাগল ৫০ লাখ ৫৬ হাজার। তার পরও ঈদের পর গরুর মাংসের দাম কমছে না। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে ঈদের পর কেজিতে ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। খাসির মাংসের দামও কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি হয়েছে বলে বিক্রেতারা জানান। 

টাউনহল বাজারের মন্টু বলেন, ‘ঈদের পর গরুর মাংসের দাম কমেনি। সরবরাহ কমে গেছে। আবার কাস্টমারও কম। মানুষের হাতে টাকা কমে গেছে। বেচাকেনা কম হচ্ছে। এ জন্য দাম বেশি। গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি। অন্যান্য বাজারেও ৭৮০-৮০০ টাকা কেজি ও খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০ থেকে ১ হাজর ২০০ টাকা বলে বিক্রেতারা জানান।

ঈদের আগে পোলট্রি মুরগি ১৯০-২০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে ১৭৫-১৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। কারওয়ান বাজারের ভাই ভাই মুরগি আড়তের শরিফ বলেন, ‘ঈদের পর মানুষ গরু, খাসি খাচ্ছে। পোলট্রি মুরগির চাহিদা কমে গেছে। এ জন্য দামও কমেছে কেজিতে ১৫-২০ টাকা। তবে কমেনি সোনালি মুরগির দাম। ৩০০-৩২০ টাকার সোনালি মুরগি ঈদের পরও সেই দামে বিক্রি করা হচ্ছে। দেশি মুরগিও ৬৫০ টাকা কেজিতে নেমেছে।’ ১৫৫-১৬০ টাকা ডজনের ডিমের দামও কমে বিভিন্ন বাজারে ১৪০-১৫০ টাকা বলে বিক্রেতারা জানান। 

ঈদের পরও বাড়তি পেঁয়াজের দর
ঈদে পেঁয়াজের দাম বেড়ে ৮৫-৯০ টাকা হয়ে গিয়েছিল। ঈদ চলে যাওয়ার পরও কমার পরিবর্তে কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। টাউনহল বাজারের রফিকুল খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঈদের পর কমেনি দাম। এ জন্য আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বর্তমানে পেঁয়াজ ৯০-৯৫ টাকা কেজি বিক্রি করা হচ্ছে।’ আদার কেজি ২০-৪০ টাকা কমে ২৮০-৩০ টাকায় নেমেছে। রসুনের দামও কমে এখন ২০০-২২০ টাকা কেজি। 

কারওয়ান বাজারের করিম বলেন, ‘ঈদের পর পেঁয়াজের দাম বাড়লেও আদা ও রসুনের দাম কয়েক দিন থেকে কমছে। তবে সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। টাউনহল বাজারের রফিক বলেন, ‘বর্তমানে আলু ৬০ টাকা কেজি। তবে গোল লাল আলুর দাম একটু বেশি, ৬৫-৭০ টাকা কেজি। 

কমেনি মসলার দাম
ঈদ চলে গেলেও কমেনি কোনো মসলার দাম। আগের মতোই জিরা ৭৫০-৮০০ টাকা কেজি, এলাচের কেজি ৩ হাজার ৪০০ থেকে ৪ হাজার টাকা, গোলমরিচ ১ হাজার ১০০, লবঙ্গ ১ হাজার ৬০০ ও কিশমিশ ৫৪০ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত মাসে ডলারের দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কিছু মসলার দাম বেড়ে গেছে। তাই ঈদের পরও কমছে না দাম। আগের মতোই বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটার ১৬৭ টাকা ও পাঁচ লিটার ৭৯০-৮১৮ টাকা, খোলা আটার কেজি ৪০-৪৫ ও দুই কেজির আটা ১১০-১৩০ টাকা, খোলা চিনি ১৩০ ও প্যাকেট চিনি ১৩৫ টাকা। 

চালের দাম স্থিতিশীল
ঈদে পরিবহন খরচ বাড়লেও ঢাকায় চালের দাম বাড়েনি। আগের সপ্তাহের মতো মিনিকেট বর্তমানে ৬৬-৭০ টাকা, আটাশ চাল ৫২-৫৪ টাকা ও মোটা গুটি স্বর্ণা চাল ৫২ টাকা কেজি। কারওয়ান বাজারের খুচরা চাল বিক্রেতা হাজি রাইস এজেন্সির জসিমসহ অন্য বিক্রেতারা বলেন, ‘ধান ওঠায় কমছে চালের দাম। তবে ঈদের আগে পরিবহন খরচ বেড়ে যায়। এ জন্য আমাদের বেশি দামে কিনতে হয়েছে। তবে বাড়েনি চালের দাম।’ 
পোলাও চালের দামও বাড়েনি। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পোলাওয়ের প্যাকেট চাল ১৫০-১৭০ টাকা ও বস্তার চাল ১২০-১৪০ টাকা কেজি বলে বিক্রেতারা জানান। 

মাছের দাম বাড়তি
ঈদে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়লেও এখনো আগের মতো জনজীবন স্বাভাবিক হয়নি। মাছের চাহিদা কমলেও সরবরাহ বাড়েনি। এ জন্য বাজার কিছুটা চড়া বলে বিক্রেতারা জানান। কেজিতে গড়ে ৩০-৫০ টাকা কমেছে বলে বিক্রেতারা জানান। বর্তমানে রুই ও কাতলা ৩২০-৬০০ টাকা কেজি, চিংড়ি ৫৫০-৮০০ টাকা। নদীর চিংড়ি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকা। পাবদা ৫০০-৭০০, পাঙাশ ১৮০-২০০, তেলাপিয়া ১৮০-২০০, শিং ও মাগুর ৪০০-৬০০ টাকা কেজি। বাতাসি মাছ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা, টেংরা ৬০০-৮০০ ও নদীর মাছ ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

কমেছে শসাসহ বিভিন্ন সবজির দাম
ঈদের আগে শসার কেজি ১২০-১৬০ টাকা হলেও গতকাল বিভিন্ন বাজারে ৮০-১০০ টাকায় নেমে নেমেছে। পেঁপে ৪০-৫০ টাকা কেজি, করলা ৫০-৭০, ঢ্যাঁড়স ৪০-৫০, মিষ্টিকুমড়া ৩০-৪০, ঝিঙে ও ধুন্দুল ৫০-৬০, সজনে ডাঁটা ৮০-১২০, পটোল ৫০-৬০, বেগুন ৭০-১০০ টাকা। ৩৪০-৪০০ টাকার কাঁচা মরিচ হঠাৎ করে ২০০ টাকার নিচে নেমে গেছে। বিভিন্ন বাজারে ১৬০ টাকা কেজি। লাল শাকসহ অন্যান্য শাকের আঁটি ১৫-২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করবে ১২০ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৮ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৫০ পিএম
পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করবে ১২০ কোটি টাকা

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে পুঁজিবাজারে আসতে চায় প্রকৌশল খাতের কোম্পানি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি। সংগ্রহ করা অর্থ দিয়ে বিনিয়োগ করবে নতুন খাতে। এখানে উৎপাদন হবে অটোক্লেভ প্যানেলস, কনক্রিট ব্লক, ইট এবং টাইলস। নতুন বিনিয়োগের মাধ্যমে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে নতুন বিনিয়োগের অংশ হিসেবে একটি নতুন কারাখানা স্থাপন করবে কোম্পানিটি। সম্প্রতি কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানান। আইপিওর মাধ্যমে ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি বাজার থেকে সংগ্রহ করবে ১২০ কোটি টাকা।
 
ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি হচ্ছে সাইফ পাওয়ারটেক পরিবারের একটি কোম্পানি। পুঁজিবাজারে এলে এটি হবে এই গ্রুপের দ্বিতীয় কোম্পানি। গ্রুপের ফ্ল্যাগশিপ কোম্পানি সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড ২০১৪ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। কোম্পানিটি মূলত সমুদ্রবন্দর পরিচালনা-সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ-দুবাই রুটে জাহাজ পরিচালনার ব্যবসায়ও যুক্ত হয়েছে কোম্পানিটি।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি মূলত একটি ইপিসি (ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এবং কনস্ট্রাকশন) কোম্পানি। এই কোম্পানি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুসারে, তাদের জন্য অবকাঠামোর ডিজাইন, পণ্য ক্রয়, অবকাঠামো তৈরি ও সংস্থাপন করে থাকে। এর পাশাপাশি ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি নিরাপত্তা ও আইটি সংশ্লিষ্ট ইক্যুইপমেন্ট, ড্রেজার, ক্রেন, ভারী মেশিনারিজ সরবরাহ ও সংস্থাপন-সংক্রান্ত সেবা দিয়ে থাকে। কোম্পানিটির ব্যবসার পরিধির মধ্যে আরও রয়েছে নদী খনন, ভূমি উন্নয়ন, বহুতল ভবন নির্মাণ, সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার নির্মাণ ইত্যাদি ।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি বেশ কয়েকটি বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে। এর মধ্যে কয়েকটি কোম্পানির পণ্য ও সেবার পরিবেশক তারা। কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুক্তরাষ্ট্রের এস্ট্রোফিজিকস, স্ক্যানস্ক্যান, আমেরিকান সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, তুরস্কের রিডোম্যাক টার্কি, সিঙ্গাপুরের এমটি কমিউনিকেশন, নেদারল্যান্ডসের ইউভি স্ক্যান।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং পিএলসি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কোম্পানিটির ১২ কোটি শেয়ার রয়েছে। তারা নতুন করে আরও ৩ কোটি শেয়ার ইস্যু করার পরিকল্পনা করছে। কোম্পানির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘তাদের নতুন প্ল্যানটি হবে গ্রিন ফ্যাক্টরি তথা পরিবেশবান্ধব। পাশাপাশি এই প্ল্যান্ট পরিবেশবান্ধব নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের কারখানায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণ উপকরণ উৎপাদন করা হবে। এর মধ্যে কিছু উপকরণ বাংলাদেশে তারাই প্রথম নিয়ে আসবেন। এর মধ্যে রয়েছে- অটোক্লেভ প্যানেলস। আগুনে না পুড়িয়ে তাপ ও চাপের মাধ্যমে মেশিনে এই প্যানেল উৎপাদন করা হবে। এই প্যানেল ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় এবং সময়ও সাশ্রয় হবে। যেমন কেউ চাইলে তারা ২০ ফুট বাই ২০ ফুট আকারের প্যানেল তৈরি করে দেবেন। সংশ্লিষ্ট ক্রেতা এটি নিয়ে শুধু সংস্থাপন করে দেবেন।

প্রতিষ্ঠানটি খুব দ্রুত আইপিওর প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) অনুমোদন সাপেক্ষে আইপিওর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

ই-ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড নির্ধারিত সময় গ্রাহকদের প্রয়োজনীয়তা এবং বাজেটের মধ্যে ব্যাপক এবং বৈচিত্র্যময় পরিসরের পরিষেবা প্রদান করে থাকে। সাইফ পাওয়ারের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে সাইফ পাওয়ার ব্যাটারি, সাইফ পাওয়ার এলইডি, সাইফ পাওয়ারটেক ডেভেলপড বার্নার, সাইফ সোলার পাওয়ার সিস্টেম, সাইফ প্লাস্টিক অ্যান্ড পলিমার ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ম্যাক্সন পাওয়ার লিমিটেড, ব্লু লাইন কমিউনিকেশন লিমিটেড, সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব, সাইফ গ্লোবাল স্পোর্টস লিমিটেড, ইপিসি মানে ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট এবং কনস্ট্রাকশন এবং এটি নির্মাণ শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য সেক্টরে চুক্তির একটি বিশিষ্ট রূপ। আমরা বিস্তারিত ইঞ্জিনিয়ারিং ডিজাইনের অঙ্কন অনুযায়ী প্রকল্পটি পরিচালনা করি, প্রয়োজনীয় সমস্ত সরঞ্জাম এবং উপকরণ সংগ্রহ করি এবং তারপরে আমাদের ক্লায়েন্টদের কাছে কার্যকরী সুবিধা বা সম্পদ সরবরাহ করার জন্য কার্যকর, ইনস্টল এবং কমিশনিং করি।

আইসিবিকে ‘সভরেন গ্যারান্টি’ দেওয়ার পরিকল্পনা

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪৬ পিএম
আইসিবিকে ‘সভরেন গ্যারান্টি’ দেওয়ার পরিকল্পনা

রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)-কে তিন হাজার কোটি টাকার ‘সভরেন গ্যারান্টি’ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এতে আইসিবি বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্য কোনো ঋণদাতা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সমপরিমাণ টাকার ঋণ নিতে পারবে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা জানান, গত কয়েক বছরে কয়েক দফায় শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে তারল্য সংকট মেটাতে সরকারের কাছে ৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ চেয়ে আসছিল আইসিবি। তবে আর্থিক সংকটে থাকা সরকারের পক্ষে সরাসরি ঋণ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে প্রতিষ্ঠানটির ঋণে সরকার ‘গ্যারান্টার’ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, গ্যারান্টি পেতে সরকার নির্ধারিত ফরম্যাটে কিছু নথিপত্রসহ আবেদন করতে হয়। এসব নথি প্রস্তুতের কাজ চলছে। শিগগিরই মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হবে।

সরকারের কাছে কত টাকার ঋণ গ্যারান্টি চাইবেন- এমন প্রশ্নে আইসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘আইসিবি পাঁচ হাজার কোটি টাকা চায়। এখন সরকার কতটা দেবে, তা তো বলতে পারি না।’

তিনি জানান, এর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ঋণ চেয়ে আবেদন করেছিল আইসিবি। তবে ১৩ জুন চিঠি দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, সরকার গ্যারান্টার হলে ঋণ দিতে আপত্তি নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, সরকার গ্যারান্টি দিলে আইসিবিকে ঋণ দেওয়া হবে।

ওই ঋণ ব্যবহারের বিষয়ে আইসিবি এমডি জানান, আইসিবির পরিকল্পনা হলো শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পাশাপাশি সরকার ও বেসরকারি ব্যাংক থেকে নেওয়া উচ্চ সুদের পুরোনো ঋণের কিছুটা পরিশোধ করা। এ ক্ষেত্রে প্রাপ্ত ঋণের ৫০ অনুপাত ৫০, অর্থাৎ অর্ধেকটা ঋণ পরিশোধে এবং বাকিটা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা আছে। তবে এই হার ৬০ অনুপাত ৪০-ও হতে পারে।

ঋণ করে পুরোনো ঋণ পরিশোধের কারণ ব্যাখ্যায় আইসিবির এমডি বলেন, বেসরকারি ব্যাংকের ঋণের সুদহার অনেক বেশি। সরকারের গ্যারান্টিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে অপেক্ষাকৃত কম সুদে ঋণ মিলবে। এতে সুদ ব্যয় বাবদ খরচ কমবে।

পতনের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৪১ পিএম
পতনের বৃত্ত থেকে বের হচ্ছে পুঁজিবাজার

দেশের পুঁজিবাজারে ঈদের আগে টানা পতন চললেও ছুটির পর ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। আগের দুই কার্যদিবসের ধারাবাহিকতায় গতকাল রবিবার প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) মূল্যসূচক বেড়েছে। এর মাধ্যমে ঈদের পর লেনদেন হওয়া তিন কার্যদিবসেই পুঁজিবাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।

তিন কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান সূচক বেড়েছে ১২৮ পয়েন্ট।

গতকাল মূল্যসূচক বাড়লেও ডিএসই এবং সিএসইতে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর কমেছে। তবে বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ। ডিএসইতে লেনদেন বেড়ে ৫০০ কোটি টাকার কাছাকাছি চলে এসেছে।

এর আগে অব্যাহত দরপতনে ঈদের আগে এক মাসের মধ্যে ডিএসইর বাজার মূলধন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা কমে যায়। আর ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক কমে প্রায় ৭০০ পয়েন্ট। সেই সঙ্গে লেনদেন কমে ৩০০ কোটি টাকার নিচে চলে আসে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের আতঙ্ক দেখা দেয়। বাজারে ক্রেতাসংকট প্রকট হয়ে ওঠে।

এ পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটি শেষে পুঁজিবাজারে টানা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাজারে ক্রেতা বেড়েছে। অবশ্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দানা বাঁধা আতঙ্ক এখনো কাটেনি। ফলে দাম বাড়ার পরই দাম কমার প্রবণতাও দেখা যাচ্ছে।

রবিবার পুঁজিবাজারে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। 

এরপর একশ্রেণির বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়ায়। ফলে দাম বাড়ার তালিকা থেকে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দাম কমার তালিকায় চলে আসে। এতে দাম বাড়ার থেকে দাম কমার তালিকা বড় হয়। লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১১টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২৩২টি প্রতিষ্ঠানের। আর ৫৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

দাম বাড়ার তালিকায় থাকা ছয় প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম এক দিনে যতটা বাড়া সম্ভব ততটাই বেড়েছে। দিনের সর্বোচ্চ দামে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের বিপুল পরিমাণ ক্রয় আদেশ এলেও বিক্রয় আদেশের ঘর শূন্য হয়ে পড়ে।

এদিকে দাম বাড়ার তুলনায় দাম কমার তালিকায় দ্বিগুণ প্রতিষ্ঠান থাকলেও ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ২৪৭ পয়েন্টে উঠে এসেছে। অপর দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক আগের দিনের তুলনায় দশমিক ৫৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ১৪৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ২ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে।

সব কটি মূল্যসূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনের গতিও বেড়েছে। দিনভর বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৮৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৪৫২ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে ৩৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে সি পার্ল বিচ রিসোর্টের শেয়ার। কোম্পানিটির ২০ কোটি ৮২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিন্ডে বাংলাদেশের ১৯ কোটি ৭৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। ১৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ওরিয়ন ফার্মা।

এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে- বিচ হ্যাচারি, ওরিয়ন ইনফিউশন, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস এবং ইউনিক হোটেল।

গতকাল ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া কোম্পানিগুলোর দর বৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে স্যালভো কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড।

স্যালভো কেমিক্যালের শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় বেড়েছে ৪ টাকা ২০ পয়সা বা ১০ শতাংশ। তাতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে জায়গা নিয়েছে কোম্পানিটি।

দর বৃদ্ধির তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা পেপার প্রসেসিংয়ের শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় ৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেড়েছে। আর ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ বাড়ায় তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান নিয়েছে বিডি মনোস্পুল পেপার।

গতকাল রবিবার দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো হলো সোনালী আঁশ, বিএসআরএম স্টিল, ওয়ালটন, রেনাটা, সোনালী পেপার, ওয়াটা কেমিক্যাল এবং আফতাব অটোমোবাইলস।

এদিন ডিএসইতে দরপতনের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে নর্দার্ন জুট ম্যানুফ্যাকচারিং লিমিটেড।

নর্দার্ন জুটের শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩ টাকা ৭০ পয়সা বা ২ দশমিক ৯৯ শতাংশ কমেছে। তাতে দরপতনের শীর্ষে জায়গা নিয়েছে কোম্পানিটি।

দর হারানোর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা লিগ্যাসি ফুটওয়্যারের শেয়ারদর আগের দিনের তুলনায় ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমেছে। আর শেয়ারদর ২ দশমিক ৯৮ শতাংশ কমে যাওয়ায় তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান নিয়েছে স্টাইল ক্রাফট লিমিটেড।

গতকাল রবিবার দরপতনের তালিকায় উঠে আসা অন্য কোম্পানিগুলো হলো- ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, জেএমআই সিরিঞ্জ, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, এপেক্স ট্যানারি, খান ব্রাদার্স, মিরাকল ইন্ডাস্ট্রিজ এবং বিকন ফার্মা।

অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ৩৪ পয়েন্ট। বাজারটিতে লেনদেন অংশ নেওয়া ২০৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৫টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৯৫টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত। লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।

আরও বেশি মিলিয়নিয়ার আকৃষ্ট করতে চায় ইউএই!

প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
আপডেট: ২৪ জুন ২০২৪, ১২:৩০ পিএম
আরও বেশি মিলিয়নিয়ার আকৃষ্ট করতে চায় ইউএই!
দুবাইয়ের আইকনিক লা মের সমুদ্রসৈকত। ছবি: সংগৃহীত

চলতি বছরে নিজেদের দেশে আরও অনেক বেশি মিলিয়নিয়ার আকৃষ্ট করতে চাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ অভিবাসনবিষয়ক পরামর্শক সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের ‘হেনলি প্রাইভেট ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিপোর্ট-২০২৪’ অনুযায়ী চলতি বছর অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে বেশি নতুন মিলিয়নিয়ার আকর্ষণ করবে ইউএই। খবর আরব নিউজের।

হেনলি প্রাইভেটের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোল্ডেন ভিসা, কম কর সুবিধা, ঈর্ষণীয় জীবনযাত্রা এবং কৌশলগত অবস্থানের সমন্বিত সুবিধার কারণে যুক্তরাজ্য, ভারত ও আফ্রিকা থেকে আসা মিলিয়নিয়ররা এই দেশটিতে যেতে আগ্রহী হচ্ছেন। 

প্রতিবেদন অনুযায়ী পরপর তৃতীয় বছরে বিশ্বের শীর্ষ স্থানীয় ধনকুবের আকর্ষণকারী হিসেবে প্রথম স্থান অধিকার করার পথে রয়েছে ইউএই। চলতি বছরের শেষ নাগাদ রেকর্ডসংখ্যক ৬ হাজার ৭০০ জন বিত্তশালী অভিবাসী আমিরাতকে তাদের নিজেদের বাসস্থান হিসেবে বেছে নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএইতে মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা
যুক্তরাজ্য ও ইউরোপ থেকে প্রচুর অর্থপ্রবাহ আসার কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

প্রসঙ্গত, বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ সংস্থা হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত ‘হেনলি প্রাইভেট ওয়েলথ মাইগ্রেশন রিপোর্ট-২০২৪’ বিভিন্ন দেশ থেকে কোটিপতিদের আগমন ও প্রস্থানের সংখ্যা তুলে ধরে। এই প্রতিবেদনে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) ডলার বা তার বেশি তরল বিনিয়োগযোগ্য সম্পত্তির অধিকারী ব্যক্তিকে মিলিয়নিয়ার হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং কোন দেশে কতজন মিলিয়নিয়ার অভিবাসী হয়েছেন এবং কতজন দেশ থেকে চলে গেছেন, তার পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত মিলিয়নিয়ারদের অভিবাসনের জন্য বিশ্বের এক নম্বর গন্তব্য হিসাবে নিজেকে ধরে রেখেছে এবং শুধু চলতি বছরেই ৬ হাজার ৭০০ জন নতুন মিলিয়নিয়ার আগমনের রেকর্ড হতে পারে দেশটিতে।

হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংযুক্ত আরব আমিরাত তার শূন্য আয়কর, গোল্ডেন ভিসা, বিলাসবহুল জীবনধারা ও কৌশলগত অবস্থানের কারণে কোটিপতিদের আকৃষ্ট করছে। ভারত, বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল, রাশিয়া ও আফ্রিকা থেকে ধারাবাহিকভাবে আসা বিত্তশালীসহ ব্রিটেন ও ইউরোপীয়দের একটা বড়সংখ্যক মিলিয়নিয়ারের প্রত্যাশিত আগমন দেখে মনে হচ্ছে, আমিরাত তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ মিলিয়নিয়ারকে আকর্ষণ করবে। ২০২৪ সালে দেশটি (যুক্তরাষ্ট্র) ৩ হাজার ৮০০ কোটিপতিকে আকৃষ্ট করতে পারবে বলে অনুমান করা হয়েছে।

দুবাইয়ের হাউরানির প্রাইভেট ওয়েলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি অফিসের নেতৃত্বদানকারী সুনীতা সিং-দালাল বলেছেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিবর্তন ও বিকাশ অভাবনীয়। মাত্র পাঁচ বছরেরও কম সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত একটি শক্তিশালী নিয়ন্ত্রক কাঠামো প্রবর্তন করেছে, ধনী ব্যক্তিদের তাদের সম্পদ রক্ষা, সংরক্ষণ এবং বাড়ানোর জন্য উদ্ভাবনী সমাধানের একটি পরিসীমা দেয়।’

প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ হাজার ৫০০ জন বিত্তশালীর নেট প্রবাহের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর আবারও তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে। এ ছাড়া মিলিয়নিয়ারদের অভিবাসনের জন্য বারোমাসি জনপ্রিয় গন্তব্য হিসেবে পরিচিত কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া রয়েছে যথাক্রমে চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে। এর মধ্যে কানাডায় অভিবাসী মিলিয়নিয়ারের সংখ্যা দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ২০০ জন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার ৫০০ জন।

নিউ ওয়ার্ল্ড ওয়েলথের গবেষণা বিভাগের প্রধান অ্যান্ড্রু অ্যামোয়েলস বলেছেন, এই গন্তব্য দেশগুলোতে সম্পদ ও প্রতিভার স্থানান্তরের সুবিধাগুলো উল্লেখযোগ্য ও বিস্তৃত। অ্যান্ড্রু অ্যামোয়েলস বলেন, ‘অভিবাসী মিলিনিয়াররা বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কারণ তারা যখন কোনো দেশে চলে যায় তখন তারা তাদের অর্থ সঙ্গে নিয়ে আসে। এ ছাড়া তাদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ উদ্যোক্তা এবং কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, যারা নতুন ব্যবসা শুরু করতে পারেন এবং এ কারণে নতুন দেশে তারা স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এই হার (নতুন ব্যবসা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি) মিলিয়নিয়ার ও বিলিয়নিয়ারদের ক্ষেত্রে ৬০ শতাংশেরও বেশি হয়ে থাকে।’