ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩১, সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪

মঙ্গলবাড়িয়া লিচু গ্রামে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লিচু চাষ, বিক্রি ৩ কোটি

প্রকাশ: ২২ মে ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
আপডেট: ২২ মে ২০২৪, ০১:৩৯ পিএম
মঙ্গলবাড়িয়া লিচু গ্রামে ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন লিচু চাষ, বিক্রি ৩ কোটি
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া লিচু গ্রাম। খবরের কাগজ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার একটি প্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী গ্রামের নাম মঙ্গলবাড়িয়া। এই গ্রামে পাঁচ হাজারের বেশি লিচু গাছ আছে। সব মৌসুমে গ্রামটিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার লিচু বিক্রি হয়। তবে চলতি মৌসুমে প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, শিলাবৃষ্টি ও ঝড় বাতাসে লিচু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ৪০ বছরের মধ্যে এমন পরিস্থিতি কখনো দেখেননি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় লিচু চাষিরা। এবার তারা সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান। 

গ্রামের স্থানীয় লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে যারা ভালো যত্ন করেছেন তারা এবার লিচু গাছে রাখতে পেরেছেন। যারা খরার সময় লিচু গাছের পরিচর্যা করেননি তাদের গাছের লিচু ঝরে যাচ্ছে। প্রায় ১০০ বছর আগে গ্রামের কয়েকজন মানুষ রাস্তার দুই পাশে লিচু গাছ রোপণ করেছিলেন। এরপর থেকেই এখানকার লিচুর ফলন ও স্বাদের কারণে সারা দেশে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের লিচুর সারা দেশে ভালো সুনাম রয়েছে। প্রতি বছর এই গ্রামের লিচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। 

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে বায়তুল্লাহ বলেন, ‘এ বছর চাচার কাছ থেকে ৪৫টি লিচু গাছ দুই লাখ টাকা দিয়ে লিজ নিয়েছিলাম। কিন্তু ১ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারব কি না জানি না। গতবার ৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকার লিচু বিক্রি হয়েছিল। এ বছর রোদ আর ঝড়ে সব লিচু ঝরে গেছে। গতবারের তুলনায় এবার লিচু খুবই কম ধরেছে। তবে যেটুকুই ধরেছে তাও ঝরে যাচ্ছে।’

মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ডা. নজরুল ইসলামের ছেলে সাইফুল্লাহ তারেক বলেন, ‘দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে আমরা লিচু বিক্রি করে আসছি। দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা এসে লিচু কিনে নিয়ে গেছেন। এ বছর যখন মুকুল ধরেছে তখনই শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এরপর আবার খরা এসেছে। খরায় আমরা অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। ৪০ বছরের মধ্যে এমনভাবে লিচু ঝরে যাওয়া আগে আর দেখিনি। আমার নিজের বর্তমানে ৬০টি গাছ আছে। এর মধ্যে ৪০টি গাছে ফলন এসেছে। ভেবেছিলাম তিন লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারব, তবে এ বছর সম্ভব হবে না।’ 

একই এলাকার বজলু মাস্টারের ছেলে মামুন মিয়া বলেন, ‘এ বছর সঠিক সময়ে বৃষ্টি না হওয়াতে আমি বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছি। অন্য বছরে ৪০টি গাছ থেকে দুই লাখ টাকার লিচু বিক্রি করতে পারতাম, কিন্তু এ বছর ৭০ হাজার টাকার লিচু বিক্রি করেছি।’

পাকুন্দিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর-ই-আলম বলেন, ‘মঙ্গলবাড়িয়ার লিচুর কারণেই পাকুন্দিয়া সারা বাংলাদেশে পরিচিত। মঙ্গলবাড়িয়ার লিচু পরিচিতির কারণ হলো এই লিচু মিষ্টি বেশি এবং এর মধ্যে সুন্দর ঘ্রাণ রয়েছে। যার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লিচুপ্রেমীরা স্বাদ নিতে এখানে ছুটে আসেন। চলতি মৌসুমে অতি খরার কারণে পাকুন্দিয়ায় আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলন পাইনি। মঙ্গলবাড়িয়া গ্রামের পাশাপাশি হোসেন্দি, নারান্দি, পাটুয়াভাঙ্গা প্রচুর লিচুর ফলন হয়। গাছ থেকে কৃষকরা পর্যাপ্ত পরিমাণ লিচু বিক্রি করেন এবং তারা আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে থাকেন। এ বছর প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে আমাদের লিচু বাগানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কৃষকরা লিচু বাগান থেকে কাঙ্ক্ষিত মাত্রার লাভ করতে পারবেন না। প্রতি বছর সাধারণত ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার বিক্রি করে থাকি। তবে চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩ কোটি টাকার লিচু বিক্রি করতে পারবেন চাষিরা।’ 

চামড়াশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা হাতছাড়া

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:১১ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:১১ পিএম
চামড়াশিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা হাতছাড়া
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের মধ্যে বাংলাদেশের পশুর চামড়ার গুণগত মান বেশ ভালো। এখানকার শ্রমও তুলনামূলক সস্তা। পশুর কাঁচা চামড়াও ক্রমান্বয়ে সস্তা হচ্ছে। এসব কারণে দেশের চামড়াশিল্পের বিকাশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তা সত্ত্বেও এ শিল্পের বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে দুর্বল কমপ্লায়েন্সের কারণে দেশের ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ইউরোপ, আমেরিকাসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারের খুচরা বিক্রেতাদের কাছে চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। দুর্বল কমপ্লায়েন্স ট্যানারি মালিকদের জন্য লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ পেতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এ জন্য রপ্তানি ক্রমান্বয়ে কমে যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘বাংলাদেশের চামড়াশিল্প বিভিন্ন কারণে উল্টোপথে হাঁটছে। প্রথমত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে সেখানকার মানুষ হিমশিম খাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতি বেড়ে গেছে। ডলারের দামও বেড়েছে। তারা জীবনের চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত। 

বিলাসী পণ্য না হলেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য কেনার ঝোঁক কমিয়ে দিয়েছেন। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) উদাসীনতায় ট্যানারিগুলো কমপ্লায়েন্সের আওতায় যেতে পারছে না। তৃতীয়ত চামড়াশিল্পের মানসনদ প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ না পাওয়া।’ 

দেশে প্রতিবছর চামড়ার দাম কমছে। দাম না পাওয়ার হতাশা থেকে কেউ কেউ চামড়া খালে ফেলে দিচ্ছেন। অনেকে মাটিচাপা দিচ্ছেন। এভাবেই কী চলতে থাকবে- এমন প্রশ্নের জবাবে চামড়াশিল্পের এই নেতা বলেন, ‘এর জন্য অনেক কিছু দায়ী। বিশ্ববাজারের অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঈদসহ সারা বছর চামড়া সস্তায় বেচাকেনা হবে। কারণ হচ্ছে, ১৪০টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র ৪টি এলডব্লিউজির সদস্য।

তারাই শুধু আন্তর্জাতিক বাজার ধরতে পারছেন। বাকি রপ্তানিকারকরা ৬৫ শতাংশ চামড়া চীনে পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন। সেখানের ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক দামের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম দাম দিয়ে থাকেন। এ জন্য দাম বাড়ছে না। দেশে উন্নতমানের কাঁচা চামড়ার বিপুল সরবরাহ রয়েছে। তারপরও রপ্তানি বাড়ছে না। শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে কমপ্লায়েন্সের কথা বললেও এলডব্লিউজির লোক আনা যায় না। কারণ তারা এসে দেখেন- আমাদের ট্যানারিপল্লি পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি।’ 

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) বলছে, বাংলাদেশ থেকে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি হয়েছে মাত্র ১২২ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা বৈশ্বিক চাহিদার ১ শতাংশও না। কারণ গত অর্থবছরে চামড়াজাত পণ্যের বৈশ্বিক বাজার ছিল প্রায় ৪৬৮ বিলিয়ন বা ৪৬ হাজার ৮০০ কোটি ডলার। 

অর্থাৎ, চামড়ার বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের হিস্যা মাত্র দশমিক ২৬ শতাংশ। অপরদিকে চলতি অর্থবছরের (২০২৩-২৪) প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) ১৩৫ কোটি লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে অর্জন হয়েছে মাত্র ৯৬ কোটি ১০ লাখ ডলার। অর্জন কম হয়েছে ২১ শতাংশ। আর প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১৪ শতাংশ। কারণ গত বছরের এই সময়ে রপ্তানি হয়েছিল ১১২ কোটি ডলারের।

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশ থেকে লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপ বা এলডব্লিউজি সনদবিহীন কারখানায় প্রক্রিয়াজাত প্রতিটি চামড়া ন্যূনতম ১ দশমিক ৮০ ডলারে রপ্তানি হচ্ছে। তবে এলডব্লিউজি সনদধারী কারখানার ক্ষেত্রে এই দাম দ্বিগুণের বেশি। সংশ্লিস্টরা বলছেন, দেশীয় চামড়াশিল্পের বিকাশ না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো দেশের চামড়াশিল্পের কমপ্লায়েন্স (দূষণমুক্ত ও উন্নত কর্মপরিবেশ) অর্জন করতে না পারা। 

বিসিকের গবেষণায় বলা হয়েছে, এর পেছনে যেসব কারণ, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, সাভারের চামড়াশিল্প নগরীতে কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগারের (সিইটিপি) সক্ষমতার অভাব, কমপ্লায়েন্স সম্পর্কে ট্যানারিমালিকদের যথাযথ ধারণা না থাকা, কঠিন বর্জ্যের অব্যবস্থাপনা ও ট্যানারির অভ্যন্তরীণ পরিবেশের মান উন্নত না হওয়া। এসব কারণে চামড়াশিল্পের মানসনদ প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এলডব্লিউজি থেকে স্বীকৃতি পাচ্ছে না সাভারের ট্যানারিগুলো। 

ফলে দেশে প্রক্রিয়াজাত চামড়া ইউরোপের বদলে চীনের বাজারে কম দামে রপ্তানি করতে হচ্ছে।
দেশের চামড়াশিল্প কমপ্লায়েন্সের ক্ষেত্রে এত পিছিয়ে আছে যে বাংলাদেশে এলডব্লিউজি সনদপ্রাপ্ত ট্যানারির সংখ্যা মাত্র ৪টি। অথচ এ সংখ্যা ভারতে ১৩৯, চীনে ১০৩টি। এলডব্লিউজি সনদ না থাকায় চামড়ার বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে আছে। 

দেশীয় কাঁচা চামড়ার পর্যাপ্ত জোগান থাকা সত্ত্বেও রপ্তানিমুখী চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী শিল্পকারখানাগুলোকে বছরে প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার এলডব্লিউজি সনদপ্রাপ্ত ফিনিশড চামড়া আমদানি করতে হয়, যা কারখানাগুলোর প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। অথচ হাজারীবাগ থেকে সাভারের হেমায়েতপুরে ট্যানারিগুলো স্থানান্তর করা হয়েছিল উন্নত কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য। যাতে দেশীয় চামড়াশিল্পে কমপ্লায়েন্স সৃষ্টি করে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। 

কিন্তু বহু বছর কেটে গেলেও এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে যে, একদিকে কাঁচা চামড়ার উপযুক্ত মূল্য না পেয়ে বঞ্চিত হচ্ছেন ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে এতিমখানা, মাদ্রাসা ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষেরা। অন্যদিকে অনেক দেশীয় চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী কোম্পানিকে বিদেশ থেকে এলডব্লিউজি সনদপ্রাপ্ত চামড়া আমদানি করতে হচ্ছে। গত এক দশকে চামড়ার জুতা থেকে শুরু করে সব ধরনের পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও বিস্ময়করভাবে কাঁচা চামড়ার দাম প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে।

সরকার কোরবানির ঈদের আগে এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। খাসির প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম নির্ধারণ করে ২০ থেকে ২৫ টাকা, যা গত বছর ছিল ১৮ থেকে ২০ টাকা। তারপরও ঈদের দিন এমনকি ঈদের তৃতীয় দিন বুধবারও হাজারীবাগের ট্যানারি মোড়ে মধ্যস্বত্বভোগী এমনকি কোনো কোনো ট্যানারির লোক ৪০০-৭০০ টাকার বেশি দামে চামড়া কেনেননি। 

আর খাসির চামড়া তো কেউ সহজে কেনেনি। আবার কিনলেও প্রতিটার দাম দেওয়া হয়েছে সর্বোচ্চ ১০ টাকা। আর ট্যানারি থেকে চামড়াপ্রতি সর্বোচ্চ ৮২০ টাকায় মোহাম্মদপুরের জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে কেনা হয়েছে বলে মাওলানা মিজানুর রহমান কাশেমী জানান। অথচ ২০১৩ সালে ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৮৫ থেকে ৯০ টাকা আর খাসির চামড়ার দর ৫০ থেকে ৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। 

উল্লেখ্য, হাজারীবাগে ট্যানারিগুলো থাকা অবস্থায় প্রতিদিন প্রায় ২১ হাজার ৬০০ ঘনমিটার তরল বর্জ্য পরিশোধন না করেই সরাসরি বুড়িগঙ্গা নদীতে ফেলত। এ নিয়ে পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন অঙ্গনে হইচই পড়লে সরকার বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ কমাতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বিসিকের নেতৃত্বে সাভারের হেমায়েতপুরে ১ হাজার ৭৯ কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় চামড়াশিল্প পল্লী। 

যার মধ্যে ৫৪৭ কোটি টাকা ব্যয় করা হয় কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার বা সিইটিপি নির্মাণে। ২০১৭ সালে রাজধানীর হাজারীবাগ থেকে ট্যানারিগুলো সাভারের চামড়াশিল্প নগরে সরিয়ে নেওয়া হলেও এ শিল্প দূষণমুক্ত হয়নি। চামড়াশিল্পের বর্জ্য এখন বুড়িগঙ্গার বদলে সাভারের ধলেশ্বরী নদী দূষিত করছে। এ কারণে চামড়াশিল্প পরিবেশবান্ধব সার্টিফিকেট পাচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। 

বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ০১:০৬ পিএম
বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এখানে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগ করতে পারেন।

গতকাল শনিবার কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার আবাসস্থলে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি বলেন, ‘আপনারা (ভারতীয় ব্যবসায়ীরা) বাংলাদেশে এসে বিনিয়োগ করেন।’

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আমরা আপনাদের স্বাগত জানাই।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী সব সময় বলতেন ‘প্রতিবেশী সবার আগে’ এবং তিনি বাংলাদেশের সব প্রতিবেশী দেশকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য অগ্রাধিকার দেন।

বাংলাদেশ ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা সিইওদের বলেন, তারা এটা ব্যবহার করতে পারেন এবং সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া সিইওরাও বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চান এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ব্যবসা করতে চান। সালমান বলেন, বাংলাদেশে যারা ব্যবসা করছেন তারা তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী।

সিআইআই পক্ষের সিইওরা প্রধানমন্ত্রীকে বলেন, তারা এফবিসিসিআইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতে কাজ করতে চান। এ ক্ষেত্রে তারা বিশেষ করে কৃষি, আইটি ও লজিস্টিক সেক্টরে যৌথভাবে কাজ করার উপায় খুঁজে বের করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

তারা ভারতের বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে আইটি খাতে তাদের সাফল্য তুলে ধরেন এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে বাংলাদেশে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চান।

বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা নিজ দেশে বিরাজমান সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে বাংলাদেশের ব্যবসায়িক বিষয়গুলো নিয়েও আলোচনা করেন।

সিইওরা নন-ট্যারিফ বাধা সম্পর্কেও কিছু বিষয় উত্থাপন করলে এই বিষয়ে সালমান বলেন, তাদের (সিআইআই) এই প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য তাদের (ভারত) সরকারকে বলতে বলা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব মো. নাঈমুল ইসলাম খান। এ সময় অন্যদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, অ্যাম্বাসেডর-অ্যাট-লার্জ মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন, বাংলাদেশের হাইকমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি মাহবুবুল আলম, নিটল নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল মাতলুব আহমদ, প্রাণ আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরীসহ কয়েকজন বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বৈঠকে অংশ নেন।

এ ছাড়া আইটিসি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঞ্জীব পুরী, সিআইআইয়ের ডিরেক্টর জেনারেল চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি, অ্যাপোলো হসপিটালস এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের এক্সিকিউটিভ ভাইস চেয়ারপারসন শোবানা কামিনেনি, ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের চেয়ারম্যান শ্রীকান্ত মাধব বৈদ্য, ডাবর ইন্ডিয়া লিমিটেডের সিইও মোহিত মালহোত্রা, অমৃত সিমেন্ট লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর প্রদীপ কুমার বাগলা, আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সিইও (এনার্জি) দীপক অমিতাভ, সাংখ্য ল্যাবসের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং সিওও বিশ্বকুমার কয়ারগাড্ডে, সিটিও এবং তেজস নেটওয়ার্কস লিমিটেডের (টাটা গ্রুপ কোম্পানি) প্রতিষ্ঠাতা ড. কুমার শিবরাজন, সিআইআইয়ের ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল মারুত সেন গুপ্ত প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পুঁজিবাজার ছেড়েছেন লক্ষাধিক বিনিয়োগকারী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৫৮ পিএম
পুঁজিবাজার ছেড়েছেন লক্ষাধিক বিনিয়োগকারী
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজার ছাড়ছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিনিয়োগকারী। ছয় মাসে বাজার ছেড়েছেন লক্ষাধিক বিনিয়োগকারী। ২০২৩ সালের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর দেশের পুঁজিবাজারে শেয়ারশূন্য বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব ছিল ২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬৪টি। চলতি মাসের ২০ জুন এ সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮৫টি। অর্থাৎ ছয় মাসের ব্যবধানে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ১২১ জন বিও অ্যাকাউন্টধারী। 

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন এবং বাজারের জন্য কোনো প্রকার নীতিসহায়তা না থকার কারণেই পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট চলছে। 

চলতি বছরের ছয় মাসে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ১৫ হাজারের বেশি। কিন্তু সংখ্যায় বিও হিসাব বাড়লেও সব শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন এমন বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বেড়েছে। 

বিও হলো পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ব্রোকারেজ হাউস অথবা মার্চেন্ট ব্যাংকে একজন বিনিয়োগকারীর খোলা হিসাব। এই বিও হিসাবের মাধ্যমেই বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে লেনদেন করেন। বিও হিসাবের তথ্য রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করে সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, ২০ জুন শেষে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৮ হাজার ২৪৪টি, ২০২৩ সালের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৩ হাজার ২০৪টি। এ হিসাবে চলতি বছর বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ১৫ হাজার ৪০টি।

সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৯৫টি, যা ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর দেশি বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব ছিল ১৭ লাখ ৭৫৬টি। এ হিসাবে দেশি বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব বেড়েছে ১৫ হাজার ৩৩৯টি।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারী আছেন, তার মধ্যে পুরুষ বিনিয়োগকারীদের নামে বিও হিসাব আছে ১৩ লাখ ৩৯ হাজার ৪৬৩টি। 

অন্যদিকে বর্তমানে নারী বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ১৪৩টি। এদিকে বর্তমানে কোম্পানি বিও হিসাব রয়েছে ১৭ হাজার ৬৩৮টি। 

যোগাযোগ করা হলে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, দেশের অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে, যার ফলে আস্থার সংকটে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজার ছাড়ছেন। তিনি আরও বলেন, মুনাফা করতে বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছিলেন। অব্যাহত লোকসানের কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বিনিয়োগকারীরা বাজারবিমুখ হচ্ছেন। 

বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে বাজারে আস্থার সংকট চলছে।

সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ‘জেড’ শ্রেণি নিয়ে নির্দেশনা। এ বছরেই বিএসইসি ‘জেড’ শ্রেণি নিয়ে দুবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। সর্বশেষ চলতি বছরের মে মাসে বিএসইসি জানায়, এখন থেকে তালিকাভুক্ত যেকোনো কোম্পানি শর্ত লঙ্ঘন করলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) ওই কোম্পানিকে ‘জেড’ শ্রেণিতে পাঠাতে পারবে।

এর আগে ফেব্রুয়ারি মাসের এক নির্দেশনায় বিএসইসি বলেছিল, তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানিকে ‘জেড’ শ্রেণিতে নিতে হলে বিএসইসির অনুমোদন লাগবে। 

পাশাপাশি এ বছরের জানুয়ারিতে ফ্লোর প্রাইস (শেয়ারদরের সর্বনিম্ন সীমা) প্রত্যাহারের পর কিছুদিন ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেলেও ফেব্রুয়ারিতেই দরপতন শুরু হয় পুঁজিবাজারে। ঈদুল ফিতরের ছুটির পর থেকে পুঁজিবাজারের টানা দরপতন ছিল। এ অবস্থায় দরপতনের তীব্রতা কমাতে এপ্রিল মাসে শেয়ারদর কমার নতুন সীমা বেঁধে দেয় বিএসইসি। এ ক্ষেত্রে যেসব শেয়ারের ওপর ফ্লোর প্রাইস রয়েছে, সেগুলো বাদে বাকি সব শেয়ারের দর সর্বোচ্চ ৩ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্রোকারেজ হাউসের শীর্ষ নির্বাহী খবরের কাগজকে বলেন, কয়েক মাসের ব্যবধানে ‘জেড’ শ্রেণি এবং ফ্লোর প্রাইস নিয়ে বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। যে কারণে পুঁজিবাজার ছেড়েছেন উল্লেখযোখ্যসংখ্যক বিনিয়োগকারী। 

এদিকে দীর্ঘদিন ধরে দেশের পুঁজিবাজারে মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। বিনিয়োগকারীরা আশা করছিলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে গতি ফেরাতে বিভিন্ন প্রণোদনা থাকবে। কিন্তু তা তো নেই-ই, উল্টো মূলধনি মুনাফার ওপর কর আরোপ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে পুঁজিবাজারে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা ৫০ লাখ টাকার ওপর ক্যাপিটাল গেইন করলে তার ওপর ১৫ শতাংশ হারে ট্যাক্স দিতে হবে। যেটা আগে ছিল না। এ ছাড়া আগামী অর্থবছর থেকে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমছে।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত নয়, এমন কোম্পানির জন্য এই হার ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে শর্ত হলো, একক লেনদেনে ৫ লাখ টাকা এবং বার্ষিক সর্বমোট ৩৬ লাখ টাকার বেশি সব খরচ ও বিনিয়োগ ব্যাংকের মাধ্যমে হতে হবে। বর্তমানে এই শ্রেণির প্রতিষ্ঠানকে সাড়ে ২৭ শতাংশ কর দিতে হয়।

এ ছাড়া শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে শর্ত সাপেক্ষে করপোরেট কর আগের মতোই ২০ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শর্ত পূরণ না করলে তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে এ করহার হবে সাড়ে ২২ শতাংশ। এ হিসাবে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করহারের ব্যবধান আরও কমেছে। ফলে বিনিয়োগকারীরা বাজার নিয়ে অনেকটা হতাশ।

মাগুরায় জনপ্রিয় হচ্ছে বস্তায় আদা চাষ

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৪২ পিএম
মাগুরায় জনপ্রিয় হচ্ছে বস্তায় আদা চাষ
মাগুরা সদর উপজেলার মঘী ইউনিয়নের বড়খড়ী গ্রামে মেহেগনি বাগানে আদা চাষ। ছবি: খবরের কাগজ

মাগুরায় বাণিজ্যিকভাবে বস্তা পদ্ধতিতে আদা চাষ শুরু হয়েছে। ফলন ভালো হওয়ায় এ পদ্ধতিতে আদা চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। জেলায় অনেকেই ফলদ ও বনজ বাগানে বস্তা পদ্ধতিতে এটি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। ইতোমধ্যে জেলার বেশকিছু গ্রামে কৃষকরা আদা চাষে এ পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফলন পেয়েছেন। আর এ মসলা চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষি বিভাগ থেকে করা হচ্ছে সর্বাত্মক সহযোগিতা। 

জানা গেছে, এ পদ্ধতিতে আদা চাষে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। ফলে ফসল নষ্টের ঝুঁকি থাকে না।

জেলা সদরের মঘী ইউনিয়নের বড়খড়ী গ্রামের কৃষি উদ্যোক্তা মহাইমিন আলম। অন্য ফসল চাষের পাশাপাশি ইউটিউব দেখে এ বছর প্রায় ১ হাজার ৫০০ বস্তায় আদা চাষ করছেন। তিনি বলেন, ‘আমি আগে থেকেই মাশরুমসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করছি। তবে ইউটিউব দেখে বস্তায় আদা চাষের ইচ্ছা জাগে।

পরে বাড়ির পাশে একটি মেহেগনি বাগানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ বস্তায় বারি-২ জাতের আদা চাষ করেছি। বস্তা, আদা, সার কেনা এবং পরিচর্যাসহ প্রতি বস্তায় প্রায় ৪০ টাকা খরচ হয়েছে। আদা চাষ শুরু করার পর থেকে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকেও সহযোগিতা পেয়েছি। প্রতি বস্তায় আড়াই থেকে তিন কেজি আদা পাব বলে আশা করছি।’ 

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘সিমেন্ট বা আলুর বস্তায় আদা ফলানো যায়। এই পদ্ধতিতে একদিকে যেমন মাটিবাহিত রোগের আক্রমণ অনেক কমে যায়, অন্যদিকে প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে বস্তা অন্য জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। বাড়ির উঠান, প্রাচীরের কোলঘেঁষে বা বাড়ির আশপাশের ফাঁকা জায়গা অথবা ছাদে যেখানে খুশি এসব বস্তা রাখা যায়। এর জন্য আলাদা জমি ও পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না।’

চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথমে একটি বস্তায় মাটি, বালু, গোবর সার ও দানাদার কীটনাশক নিতে হবে। মাটির সঙ্গে এগুলো ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। বালুভর্তি টবে তিন টুকরো অঙ্কুরিত আদা পুঁতে দিতে হবে। আদার কন্দ লাগানোর আগে ছত্রাকনাশক এক লিটার পানিতে দিয়ে শোধন করে নিতে হবে। অন্য ছত্রাকনাশকও ব্যবহার করা যাবে। 

শোধনের পর কন্দগুলো আধা ঘণ্টা ছায়ায় রেখে শুকিয়ে নিতে হবে। ২০ থেকে ২৫ দিন পর গাছ বের হবে। তখন আদার চারা সাবধানে তুলে বস্তার মুখে তিন জায়গায় বসিয়ে দিতে হবে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে আদা গাছ বড় হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জেলায় এ বছর প্রায় ২৪ হাজার ২৫০ বস্তায় আদা চাষ হয়েছে। আমরা কৃষি বিভাগ থেকে এই চাষে উদ্বুদ্ধ করতে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছি।’

বাজারে মিলছে হাঁড়িভাঙা আম টার্গেট আড়াই শ কোটি টাকা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৪, ১২:৩৯ পিএম
বাজারে মিলছে হাঁড়িভাঙা আম টার্গেট আড়াই শ কোটি টাকা
রংপুর মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ হাটে ভ্যানে করে হাঁড়িভাঙ্গা আম আনা হয়েছে। ছবি: খবরের কাগজ

রংপুরের কৃষি অর্থনীতির আশীর্বাদ হাঁড়িভাঙ্গা আমের বাজারজাতকরণ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে পাওয়া যাচ্ছে হাঁড়িভাঙ্গা আম। স্বাদে গন্ধে অতুলনীয় এ আম এরই মধ্যে ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য তথা জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের আশা, এ বছর ২৫০ কোটি টাকার হাঁড়িভাঙ্গা আম বেচাকেনা হবে। 

হাঁড়িভাঙ্গার রাজধানী খ্যাত রংপুরের মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ হাট ঘুরে দেখা যায়, এ আমের বেচাকেনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে বিশাল কর্মযজ্ঞ। সকালেই ভ্যান, অটোরিকশায় করে আসতে থাকে ক্যারেটে ক্যারেটে আম। অনেককেই হাটের রাস্তায় সাইকেল ও ভ্যানে ক্যারেটে আম নিয়ে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আম বেচতে দেখা গেছে। 

মৌসুমের শুরুতেই ক্রেতা ও বিক্রেতার ভিড়ে জমজমাট আমের হাট। চাহিদা বেশি থাকায় ভালো দাম হাঁকাচ্ছেন আমচাষি ও বাগানমালিকরা, বিক্রিও হচ্ছে ভালো দামে। এ মৌসুমে আমের বাজার শুরু হয়েছে ১ হাজার ৫০০ টাকা প্রতি মণে। আমের সাইজ ও রংভেদে দাম গিয়ে ঠেকেছে প্রতি মণ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা । আমের উৎপাদন কম হওয়ায় এ বছর দাম কিছুটা বেশি বলে জানিয়েছেন আমচাষিরা। 

পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি নূর আলম জানান, এবার শুরু থেকে আমের দাম মোটামুটি ভালো। তা ছাড়া চাহিদাও বেশি। আমের দাম এমন থাকলে লাভ হবে।

সাজেদুর রহমান নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমের দাম এ বছর কিছুটা বেশি। গত বছরের তুলনায় আমের দাম বেশি হলেও চাহিদা থাকায় ভালো বিক্রি হচ্ছে।’

দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী ও অনলাইনে বাজারজাতকারীরা বাজারে আসায় আমের চাহিদা আরও বেড়েছে। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করে বাড়তি আয় করছেন অনেকেই।

আরাফাত ইসলাম নামের একজন শিক্ষার্থী জানান, প্রতি বছর আমের মৌসুমে অনলাইনে অর্ডার নিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হাঁড়িভাঙ্গা আম সরবরাহ করেন তিনি। যা আয় হয় তা থেকে নিজের পড়াশোনার খরচ চালান। 

এ বছর বিরূপ আবহাওয়ার কবলে পড়ে ব্যাহত হয়েছে আমের উৎপাদন। টানা দাবদাহে আমের সাইজ এবার গতবারের তুলনায় অনেক ছোট। অনেক বাগানে এবার আমের উৎপাদনই হয়নি। সব মিলিয়ে এ বছর কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে ব্যবসা করতে পারবেন বলে মনে করছেন অনেকে। 

মোখলেছার নামে একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘এবার আমের মুকুল এলেও বৃষ্টির পানিতে পচে গিয়ে কম গুটি এসেছে। তার ওপর রোদে আমের গুটি ঝরে পড়েছে। নানা চেষ্টাতেও গুটি টেকানো যায়নি। যদি আমের দাম ভালো থাকে তবে লোকসান কিছুটা কম হবে।’

খোড়াগাছ মণ্ডলপাড়ার আমচাষি আবুল কাশেম জানান, এ বছর তার একটি বাগানে কোনো গাছেই আম আসেনি। অন্য বাগানের উৎপাদিত আমের পরিমাণ খুব কম। তাই এ বছর তাকে লোকসান গুনতে হবে। 

কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি বছর জেলায় তিন হাজার ৩৫৯ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে হাঁড়িভাঙার আবাদ করা হয়েছে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে হাঁড়িভাঙার আবাদ করা হয়েছে ১ হাজার ৯১০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২৯ হাজার ৭১০ মেট্রিক টন। শুরুর দিকে প্রতি কেজি আম ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়ে থাকে। তবে আমের আকার ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় দামের হেরফের হয়।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান বলেন, ‘আমের মৌসুমে ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বাজার ব্যবস্থাপনাসহ সব ধরনের সহযোগিতার জন্য সার্বক্ষণিক তদারকি করা হচ্ছে।’