ফিনল্যান্ডের তুর্কুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ঘিরে সম্প্রতি যে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, তা নিছক একটি ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। এটি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার ওপরও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
২০২৩ সালের মার্চে এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী তুর্কুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষার মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন। দেড় বছর পড়াশোনা করার পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার জমা দেওয়া ব্যাচেলর ডিগ্রিকে ভুয়া বলে অভিযোগ তোলে এবং ভর্তি বাতিল করে দেয়।
পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি বিশ্ববিদ্যালয় জানায়, সনদটি আসল নয়। এমনকি ফিনল্যান্ডে অবস্থিত ভারতের দূতাবাসও মন্তব্য করে যে, বাংলাদেশের সরকারি প্রশাসনের নামে উপস্থাপিত নথির প্রায় ৮০ শতাংশ জাল।
তবে শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে তার সনদ প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক আদালত রায়ে জানায়, যথেষ্ট প্রমাণ ছাড়া ভর্তি বাতিল করা যায় না। ফলে শিক্ষার্থী মাস্টার্স প্রোগ্রামে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অধিকার পান।
এ ঘটনা কেবল একজন শিক্ষার্থীর জীবন নয়, বরং বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতাকেও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
তুর্কুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা দেখিয়েছে যে ব্যক্তিগত একটি আবেদনই দেশের শিক্ষাব্যবস্থার সুনামের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা যে যোগ্যতা ও মেধার অধিকারী, তা যাতে জাল নথি বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় - সেই নিশ্চয়তা তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশ যদি শিক্ষা প্রশাসনে স্বচ্ছতা, সনদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক আস্থা অর্জনে সফল হয়, তবে আমাদের তরুণরা বিদেশের উচ্চশিক্ষার দরজা আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পেরোতে পারবে।
অমিয়/