দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাশি খান্না। তেলেগু ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনয়ের মাধ্যমে রুপালি পর্দায় অভিষেক হওয়া এই তারকা এখন বলিউডেও কাজ করছেন। বলিউডে যে দক্ষিণী সিনেমা রিমেকের প্রচলন রয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আগে অনেক তারকারাই কথা বলেছেন। এবার রাশিও সেই তালিকায় যুক্ত হলেন।
এ অভিনেত্রী সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, বলিউডে বক্স অফিসে সাফল্য অর্জনের জন্য দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার প্রবণতাটা খুব বেশি। তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, বলিউডের জন্য এখন নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করার সময় এসেছে। দর্শকরা মৌলিক গল্পের প্রতি বেশি আগ্রহী এবং ডাব করা দক্ষিণী চলচ্চিত্র এখন অনলাইনে সহজেই পাওয়া যায়। তাই এ অভিনেত্রী নতুন বিষয়বস্তুর প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন।

প্যান-ইন্ডিয়া সিনেমার এই সুসময়ে তিনি একমত যে, বলিউডের দক্ষিণী সিনেমা রিমেকের পুনরাবৃত্তি করার বর্তমান প্রচেষ্টাই হলো বাস্তবতা। তবে এটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজনীয় বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসকে রাশি বলেন, ‘আমি দ্বিমত পোষণ করতে পারছি না যে, আমরা প্রায়ই দক্ষিণের রিমেক দেখি। কিন্তু আমার মনে হয় ইন্ডাস্ট্রি ক্রমশ বুঝতে পারছে যে, দর্শকদের নতুন কন্টেন্টের প্রয়োজন এবং ডাব করা ছবিগুলো এখন অনলাইনেই অনেক বেশি সহজলভ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে ভাষা আর কোনো বাঁধা নয়। ইন্ডাস্ট্রির মানসিকতায় পরিবর্তন অনুভব করতে পারছি এবং আমি সত্যিই আশা করি আমাদের আরও মৌলিক কন্টেন্ট তৈরি করা এবং বিভিন্ন ধারা অন্বেষণ করা প্রয়োজন। কারণ সত্যি বলতে, কেউ জানে না কোনটি আসলে কাজে আসবে।’

২০১৩ সালে ‘মাদ্রাজ ক্যাফে’ দিয়ে আত্মপ্রকাশ করা রাশি নিজেকে হিন্দি, তেলেগু এবং তামিল সিনেমায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার চলচ্চিত্র তালিকায় ‘ওহালু গুসাগুসালাদে’, ‘বেঙ্গল টাইগার’, ‘সুপ্রিম’, ‘জয় লাভা কুসা’, ‘থোলি প্রেমা’, ‘ইমাইক্কা নোডিগাল’, ‘ভেঙ্কি মামা’, ‘সর্দার’ এবং ‘আরানমানাই ৪’-এর মতো সিনেমা রয়েছে।
বলিউড এবং দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে রাশি খান্না বলেন, ‘সবাইর একই রকম উদ্দেশ্য- ভালো ছবি তৈরি করা। ভাষা ছাড়া আমার মনে হয় দুই ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে কেবল সংস্কৃতিগত পার্থক্য রয়েছে। এটি এখন বড় কোনো বাঁধা নয়। প্রতিটি শিল্পেরই নিজস্ব স্বকীয়তা রয়েছে যা তাদের চলচ্চিত্রে আপনি সূক্ষ্মভাবে দেখতে পাবেন।’
/শাকিল