টিভি নাটকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ড. সুমাইয়া শিমুর জন্মদিন আজ। এবারের জন্মদিন তিনি তার প্রিয় গর্ভধারিণী মাকে নিয়ে বিশেষ একটি সুখবর জানালেন। অভিনয় জীবনের পথচলায় তিনি অভিনয়ের জন্য দেশের বিভিন্ন সংগঠন থেকে বিভিন্ন সময়ে সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে এবারের ‘সম্মাননা’ প্রাপ্তির বিষয়টি একেবারেই অন্যরকম। কারণ এবার শিমুর কর্মের ওপর ভিত্তি করে একজন সফল ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী শিমুর মাকে ‘গরবিনী মা ২০১৫’-এ ভূষিত করা হচ্ছে।
রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তীর উদ্যোগে এই হাসপাতালেরই আয়োজনে বিগত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ‘গরবিনী মা’ সম্মাননা পদক। আগামী ১১ মে রাজধানীর রাওয়া কনভেনশন হলে ‘গরবিনী মা ২০২৫’ প্রদান করা হবে দশজন সফল সন্তানদের মায়েদের। তার মধ্যে ড. সুমাইয়া শিমুর মা লায়লা রহমানকেও এই সম্মাননায় ভূষিত করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত সুমাইয়া শিমু।
এ প্রসঙ্গে সুমাইয়া শিমু বলেন, ‘এটা সত্যি সত্যিই আমার জন্য অনেক বড় একটি খবর। আমার অভিনয় জীবনের সাফল্যকে বিবেচনা করে আমার আম্মার হাতে এই পদক তুলে দেওয়া হচ্ছে- এটা সত্যিই এক জীবনের অনেক বড় প্রাপ্তি। আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞতা জানাই আমার আম্মাকে নির্বাচিত করার জন্য শ্রদ্ধেয় ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্ত্তী দাদাকে এবং ইউনিভার্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে। দাদার এই আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হোক এটাই প্রত্যাশা। আর আজ আমার জন্মদিন। জন্মদিনে সবার কাছে দোয়া চাই আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে সুস্থ রাখেন, ভালো রাখেন।’
প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালের আগে ‘প্রিয়জন পত্রিকা’-এর শুধু স্থির চিত্র পাঠিয়ে প্রিয়জন ফটোসুন্দরী হয়েছিলেন শিমু। এই প্রিয়জন পত্রিকায় জিনাত নামে একজন লেখালেখি করতেন, তিনি আবার বিজ্ঞাপনী সংস্থা অ্যাডকমেও চাকরি করতেন। সেই জিনাতই প্রথম বিজ্ঞাপনে নতুন মুখ হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেন ‘লাক্স বিউটি সোপ’-এর বিজ্ঞাপনে। যার শুটিং হয়েছিল মুম্বাইতে। বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মিডিয়ায় পেশাগতভাবে তার যাত্রা শুরু। এরপর থেকে আজ অবধি দশটিরও বেশি বিজ্ঞাপনে মডেল হিসেবে কাজ করেছেন।
নাটকে শিমুকে প্রথম দেখা যায় অরন্য আনোয়ার পরিচালিত ‘এখানে আতর পাওয়া যায়’ টেলিফিল্মে। ক্যারিয়ারের তুঙ্গে যখন শিমু অর্থাৎ অভিনয়ে পুরোদস্তুর ব্যস্ত তিনি সেই সময়ে তিনি ‘ললিতা’, ‘স্বপ্নচূড়া’, ‘হাউজফুল’, ‘এফএনএফ’, ‘রেডিও চকলেট’, ‘বিহাই- দ্য সিন’, ‘ইডিয়ট’, ‘শিউলি অথবা রক্ত জবার গল্প’, ‘সাদা গোলাপ’, ‘লেক ড্রাইভ লেন’সহ আরও বহু নাটকে অভিনয় করে প্রশংসিত হন। শিমু ২০১৭ সালে আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল’-এর শুভেচ্ছা দূত নির্বাচিত হোন।
নড়াইলে জন্ম নেওয়া সুমাইয়া শিমু নড়াইল গার্লস হাইস্কুল থেকে এসএসসি, খুলনা গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘সরকার ও রাজনীতি’ বিষয়ে তিনি অনার্স, মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রামাটিকস বিভাগ থেকে তিনি এমফিল এবং পরবর্তীতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পিএইচডিতে তার বিষয় ছিল ‘শিল্প ও আর্থ-সামাজিক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে টেলি প্লে অভিনয়ে নারীর ভূমিকা’।
/ফারজানা ফাহমি
.jpg)
