ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে সর্বোচ্চ আয়কারী নারীকেন্দ্রিক ছবি ‘দ্য কেরালা স্টোরি’। ২০২৩ সালে মুক্তির পর ছবিটি ঘিরে নানা তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। তবে সর্বশেষ ৭১তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের তালিকায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে পুরস্কার জিতে নিয়ে বাজিমাত করেছে এটি।
গত শুক্রবার ১ আগস্ট ঘোষণা করা জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সিনেমার নির্মাতা সুদীপ্ত সেন সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন এবং প্রশান্তনু মহাপাত্রের ঝুলিতে এসেছে সেরা চিত্রগ্রহণের স্বীকৃতি।
ছবিটির কেন্দ্রীয় নারী চরিত্রে অভিনয় করেন আদা শর্মা। তার অভিনয়ও খুব প্রশংসিত হয়েছিল। নিজের অভিনীত সিনেমার পুরস্কার প্রাপ্তিতে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। সুদীপ্ত স্যার, বিপুল স্যার ও প্রশান্তনু স্যার এই চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছেন নিছক গল্প বলার উদ্দেশ্যে, পুরস্কার বা করতালির জন্য নয়। যাদের কণ্ঠস্বর ছিল না, তাদের গল্প তুলে ধরাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য।
শেষ পর্যন্ত দর্শকরাই আমাদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছেন এবং এই ছবিটিকে সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী নারীকেন্দ্রিক সিনেমায় পরিণত করেছেন।’
আদা আরও বলেন, ‘এই ছবি করে আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের, তাদের পরিবার এবং দর্শকদের আশীর্বাদ পেয়েছি। আজও বিমানবন্দর বা কোনো অনুষ্ঠানে যখন দর্শকরা ছবির দৃশ্য নিয়ে কথা বলেন, তখন তাদের চোখে পানি চলে আসে। একজন অভিনেত্রী হিসেবে আমি এই ঐতিহাসিক ছবির অংশ হতে পেরে গর্বিত।’
ভারতের কেরালা রাজ্য থেকে আইএসআইএস-এ নারীদের নিয়োগের অভিযোগ তুলে ধরার কারণে ২০২৩ সালে মুক্তির পরই ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ দেশটিতে বিতর্কের কেন্দ্রে চলে আসে। বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে এবং চলচ্চিত্রটির উদ্দেশ্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন তোলা হয়।
পরিচালক সুদীপ্ত সেন এ নিয়ে এক বিবৃতিতে জানান, “ছবিটি প্রায়শই রাজনৈতিক কারণে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, বিশেষ করে ‘মুসলিম’ শব্দটির সংবেদনশীল ব্যবহারের জন্য।” কেরালাভিত্তিক সহযোগী অম্বিকা জে.-র নেতৃত্বে ২০১০ সালে ছবিটি নিয়ে গবেষণা শুরুর পর ২০১২ সাল থেকে এর নির্মাণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বলে জানান সুদীপ্ত।
মুক্তির পর থেকেই সমালোচনা ঘিরে ধরলেও ‘দ্য কেরালা স্টোরি’ বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায় এবং এটি দেশের অন্যতম আলোচিত সিনেমায় পরিণত হয়।
/এমএস