এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকার। দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকায় বসবাস করছেন তিনি। যদিও অর্ধযুগ ধরে নতুন কোনো নাটকে অভিনয় করছেন না তিনি। কিন্তু নাট্যাঙ্গনের মানুষদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। এবার দীর্ঘদিন পর দুর্গাপূজা উদযাপন করতে দেশে এসেছেন এই অভিনেত্রী। তমালিকা জানান, বাবা-মায়ের সঙ্গে পূজা উদযাপন করতেই কয়েক দিন আগে দেশে এসেছেন তিনি। এই অভিনেত্রী আরও জানান, তার বাবা অসুস্থ। তাই বিশেষত বাবাকে এবং মাকে দেখার জন্যই কয়েক দিন আগে কাউকে না জানিয়ে বাবা-মাকে সারপ্রাইজ দিতে ঢাকায় এসেছেন তিনি।
তমালিকা কর্মকার বলেন, ‘আমি যে দেশে আসব, সেটা আসলে আমারও পরিকল্পনায় ছিল না। কিন্তু পূজার আগে যখন বাবাকে ফোন করেছি, বাবা তখন বললেন- আমি দেশে থাকলে আমাকে নিয়ে তিনি মণ্ডপে ঘুরতেন। এই কথাটা শুনে আসলে খুব খারাপ লাগল। তখনই মূলত পরিকল্পনা করি দেশে আসার। তবে কেউ তা জানত না। শুধু আমার দলের সুমন আর মোনা জানত। এক সময় ঢাকায় আসলাম। বাসায় গেলাম। বাবা-মা আর চয়ন দিদি আমাকে দেখে বিস্মিত হলেন। খুশিতে কেঁদেও দিলেন সবাই। আমিও ভীষণ আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লাম। এই আবেগ এই ভালোবাসা আসলে ব্যাখ্যা করার মতো নয়। আসলে মানুষ বাঁচেই-বা কয় দিন। এরই মধ্যে সুখ-দুঃখ তো আছেই। এরই নাম জীবন। আর বাবা-মা তো চিরকাল থাকে না কারও। তাই যতটুকু সময় তাদের দেওয়া যায় ততটুকুই আমি মনে করি আজীবন সন্তানের জন্য আশীর্বাদ হয়ে থাকবে। আমি বাবা-মায়ের সেই আশীর্বাদটুকু নিতে এসেছি।’
অনেক দিন পর দেশে ফিরে তিনি আরও বলেন, ‘প্রিয় ঢাকাতে যখনই ফিরে আসি ভীষণ আবেগাপ্লুত হই। একটু একটু করে ঢাকা বদলে যাচ্ছে, কিন্তু আমার যারা প্রিয় প্রিয় মানুষ তারা এখনো সেই আগেরই মতোন আছে। সবাই আমাকে ভীষণ ভালোবাসে। এই ভালোবাসা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’ তমালিকা জানান, শিগগিরই তিনি তার কর্মস্থল যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে ফিরে যাবেন।
তমালিকা কর্মকার সর্বশেষ চয়নিকা চৌধুরীর পরিচালনায় সজলের বিপরীতে ‘ব্ল্যাংক চেক’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন। এটি ২০১৯ সালে প্রচারিত হয়েছিল। এর পর আর তাকে কোনো নাটকে দেখা যায়নি। তবে এখনো তাকে দর্শক, বিশেষত মনে রেখেছেন সালমান শাহের সঙ্গে অভিনয় করা সিনেমা ‘এই ঘর এই সংসার’ সিনেমা এবং সালমান শাহের সঙ্গে ‘নয়ন’ নাটকে অভিনয় করার জন্য।