ঢাকা ২ বৈশাখ ১৪৩১, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪
Khaborer Kagoj

পারিবারিক সহযোগিতা পেলে সফলতা আসবেই

প্রকাশ: ০২ মার্চ ২০২৪, ০৪:১৫ পিএম
পারিবারিক সহযোগিতা পেলে সফলতা আসবেই
নারী দিবসের বিশেষ আয়োজনে ‘ফ্যাশন প্লাস’-এর এবারের মডেল হয়েছেন বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএরসির ব্রান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ডিপার্টমেন্টের ইনচার্জ এবং সফল নারী ব্যক্তিত্ব নাজিয়া খানম কণা । ছবি: শরিফ মাহমুদ

নারী দিবসের বিশেষ আয়োজনে ‘ফ্যাশন প্লাস’-এর  কভার  হয়েছেন বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএরসির ব্রান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন্স ডিপার্টমেন্টের ইনচার্জ এবং  নিউজ টোয়েন্টি ফোর চ্যানেলের  প্রেজেন্টার  নাজিয়া খানম কণা । নারী দিবস উপলক্ষে এক আড্ডায় তিনি বলেছেন নিজের  সফলতার গল্প ও আগামর স্বপ্নের কথা। সেই সঙ্গে মেয়েদের জন্য দিয়েছেন সফলতার পরামর্শও। এই  সফর নারী ব্যক্তিত্বের সঙ্গে কথোপকথনে ছিলেন ফিচার সম্পাদক খালেদ আহমেদ। সেই আলাপচারিতার চুম্বকীয় অংশ তুলে ধরা হলো। 

সফলতার গল্প

ছোটবেলা থেকেই আমি এমন কিছু করতে চাইতাম যেন সবাই আমাকে আমার নামে চিনতে পারে। ফিন্যান্সিয়ালি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাওয়ার মনোভাবের কারণে পড়াশোনার প্রতি বেশ মনোযোগী ছিলাম। আমার বেড়ে ওঠা কিন্তু একেবারেই গ্রামে। এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই আমার বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পরই অন্তঃসত্ত্বা হয়ে যাই। তারপর আমার সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান জন্মের পরই আমি ভর্তি পরীক্ষা দেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর শুরু হলো আমার সংগ্রাম। যেকোনো অবস্থায়ই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চেয়েছি। পড়াশোনা কীভাবে চালিয়ে নেওয়া যায় সেই চেষ্টা করেছি এবং দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিল যে, এটা করবই। এরপর শুরু হয় আমার সন্তানকে নিয়ে পড়াশোনা। আমি যখন স্নাতক তৃতীয় বর্ষে তখন আমার ছেলেকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলাম। ও তখন নার্সারিতে পড়ে আর আমি স্নাতকে পড়ি। স্নাতক পাস করার পরই আমার ইচ্ছা হয় নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার। সেই আগ্রহ থেকেই নিউজ প্রেজেন্টারের ওপর কোর্স করি এবং নিউজ টোয়েন্টি ফোর চ্যানেলে নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে যোগদান করি।

সফলতা প্রসঙ্গে বলতে চাই যে, আসলে আমি জানি না কতটা সফল হয়েছি। কিন্তু আমার কাছে যেটা মনে হয় প্রত্যেক মানুষ নিজ নিজ অবস্থানে যা হতে চেয়েছে, যতটুকু হতে পেরেছে সেটা অর্জন করতে পারাটাই সফলতা। একজন গৃহিণীও সফল হতে পারেন তার কাজের মাধ্যমে। আমি একই সঙ্গে সংসার করেছি, সন্তান লালন পালন করেছি, পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছি এবং নিজের ক্যারিয়ারও গড়েছি। আমি যেহেতু খুব ভালো ছাত্রী ছিলাম, তাই আমাকে আমার শিক্ষকরা অনুপ্রেণিত করেছিল বিসিএস দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমার মোটেও আগ্রহ ছিল না, তাই কখনো সেদিকে চেষ্টা করিনি। যাই হোক, আমার জায়গা থেকে আমি যতটুকু করেছি সেটাই আমার সফলতা। আমি বর্তমানে ব্যাংকার পেশার পাশাপাশি নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করছি নিউজ টোয়েন্টি ফোর চ্যানেলে।

এটার পাশাপাশি আমার আরেকটি পরিচয় হলো আমি একজন মা। মা হিসেবে আমার একটা বড় দায়িত্ব আছে। এটা আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমি একজন মা হিসেবে সফল হতে বেশি পছন্দ করব। তবে সব জায়গাই আমি সফল হতে চাইব।

আরেকটি কথা বলতে চাই, পরিবারের সমর্থন ছাড়া আসলে কোনো নারী এগিয়ে যেতে পারে না। তবে পরিবারের সমর্থনের আলাদা, ধরন আছে, অনেকে যা ইচ্ছা করে তাতে কোনো কেউ বাধা দেয় না। বলে না এটা করতে পারবে না, এটা হতে পারবে না। আরেকটা হচ্ছে আপনাকে উৎসাহ দিচ্ছে যে তুমি এগিয়ে যাও, আমরা তোমার সঙ্গে আছি। ওই উৎসাহটা হয়তো আমি সেভাবে পাইনি, কিন্তু খুব বড় ধরনের বাধা যে এসেছে সেটাও না। তবে অনেক বাধা এসেছে সেটাকে আমি বাধা মনে করিনি, আমার জন্য যেটা বরাদ্দ ছিল সেটাই হয়েছে, আমি কী পায়নি সেটা না ভেবে যেটা পেয়েছি সেটা নিয়ে আসলে ভেবেছি।

নারীর উন্নতির পথে বাধাগুলো

প্রথমে একজন নারীকে বিশ্বাস করতে হবে নিজের ওপর। আপনি যা চান, আপনি তা করতে পারবেন।

নারীর উন্নয়নে বড় বাধা হলো নারীর মানসিকতা। নারীকে আগে তার মানসিকতা পরির্বতন করতে হবে। সবকিছু করার মানসিকতা থাকতে হবে। সমাজ কী ভাববে, পরিবার সমর্থন দেবে কি না- এগুলো না ভেবে আগে নিজেকে সমর্থন করতে হবে।

আপনি যতক্ষণ নিজেকে সমর্থন না করবেন, দুনিয়ার কেউই আপনার ওই কাজটাতে সফল করে দিতে পারবে না।

নারীর উন্নতির ক্ষেত্রে সমাজেরও একটা বড় ভূমিকা আছে। তবে তার আগে পরিবার, কারণ সমাজের সমর্থনটা তখনই পাওয়া যায় যখন পরিবার আপনাকে সমর্থন করবে। আমাদের পরিবার যদি আমাদের সমর্থন করে তাহলে নারীর জন্য কাজটা আরেকটু সহজ হয়ে যায়।

অনেক সময় নারীর অনেক কাজকে ইতিবাচকভাবে দেখা হয় না। অনেক রকম বাধা সৃষ্টি হয় কিংবা একজন কর্মজীবী নারীর দোষও সমাজ ভালো চোখে দেখে না।

একজন নারীর জন্য কিন্তু আরেকজন নারী বাধা তৈরি করে। সে একটি নেতিবাচক কথা দিয়ে নারীর চলার পথে বাধা তৈরি করে।

আমরা নারীরা সমালোচনা বেশি করি। এ ছাড়া হিংসা জিনিসটাও নারীর মধ্যে বেশি। এটা যে সব নারীর ক্ষেত্রে হয় সেটা বলব না, তবে অধিকাংশ নারীর মধ্যে রয়েছে। হয়তো এটা আমাদের স্বভাবগত প্রকৃতি। তাই কোনো নারী সফল হতে গেলে নারীরাই তার পেছনে লাগে, এতে ওই নারীর সফল হওয়াটা খুবই কষ্টকর হয়।

পুরুষদেরও হয়তো এতটা পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নেই, যতটা নারীদের মধ্যে থাকে। কিন্তু একটা নারী হয়ে আরেকজন নারীকে সমর্থন করাটা খুবই জরুরি, নারীরা নিজেরা নিজেদের সমর্থন বা উৎসাহ জোগায় তাহলেই সব বাধা পেরিয়ে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাওয়া যাব।

আগামীর স্বপ্ন

ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি আসলে খুব বেশি ভাবি না। আমি আজকে যেখানে সেটা নিয়েও আমি আগে কখনো ভাবিনি। যেমন- আমি এখানে কাজ করব, এটা হব, কোনো কিছু নিয়ে আমার কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে সব সময় আমি কাজের ওপর বিশ্বাস রেখেছি। যে কাজটি করব মনোযোগ দিয়ে করব এবং করে যাব। সব সময় জীবনে একটা অবস্থানে পৌঁছাতে চেয়েছি। আগামীকাল কি হবে জানি না, তবে আমি আমার আজটা সুন্দর করতে চাই। আমি বর্তমান বিশ্বাস করি। কখনোই আমি অতীত নিয়ে ভাবিনি, ভবিষ্যৎ নিয়ে আবর্ত হয়ে থাকতে চাইনি। আমি চেয়েছি আমার সামনে যে আজটা আছে সেটা নিয়ে বাঁচতে, তো আমার সব ভাবনা আজকে নিয়ে। আজকে ভালোভাবে বেঁচে থাকাই আমার স্বপ্ন।

নারীদের জন্য পরামর্শ

সফলতা মানে হচ্ছে তৃপ্তি। আপনি যে অবস্থানে আছেন সেখানে আত্মতুষ্ট থাকেন বা আপনি তৃপ্ত থাকেন তাহলেই আপনি সফল।

প্রত্যেক নারীর প্রতি আমার একটা উপলব্ধি করা শেয়ার করতে চাই, তা হলো- অবশ্যই একটা নারীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হতে হবে।

অর্থনৈতিকভাবে কারও ওপর যখন নির্ভরশীল হয়ে যাবেন তখন আপনি চাইলেও আপনার মন মতো কিছু করতে পারবেন না। চাইলেও সম্ভব না কারণ আপনি আরেকজনের ওপর নির্ভরশীল। তার মতামতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তার দিকে মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হচ্ছে।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অর্থ আপনার থাকতে হবে। তাই বলব, খুব ধনী বাবার মেয়ে হোন কিংবা খুব পয়সাওয়ালা ব্যক্তির স্ত্রী হোন না কেন, আপনার নিজের একটা পরিচয় থাকতে হবে। নিজের একটা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বা টাকা আয় করার মানসিকতা অনেক বেশি জরুরি।

নারীদের পড়াশোনা কখনো ছেড়ে দেওয়া যাবে না। জীবনে আপনি যদি লেগে থাকেন, তাহলে সফলতা আসবেই। তাই আমি মেয়েদের এই কথাই বলব পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন। অর্থনৈতিকভাবে অবশ্যই স্বাধীন হবেন।

নিজের আত্মসম্মানের সঙ্গে কখনোই আপস করবেন না। যে কাজটাই করবেন, সেটাই শতভাগ একাগ্রতা এবং সততার সঙ্গে করুন। তাহলেই সফলতা আসবে।

বৈশাখী আয়োজনে বিশ্বরঙ !

প্রকাশ: ০৭ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৪৫ পিএম
বৈশাখী আয়োজনে বিশ্বরঙ !

বাংলা নববর্ষ উদযাপন মানেই বাঙালির সত্তার নিজস্ব উৎসব, আমাদের যাপিত জীবনে, মননে, সংস্কৃতিতে প্রতি মুহুর্ত উদযাপনই আমাদের বৈশাখ, আমাদের উৎসব। উৎসব পার্বন উৎযাপনে বিশ্বরঙ সবসময়ই অগ্রপথিক তাই উৎসব পাবর্নে দেশীয় সংস্কৃতি নিয়ে কাজ করা বিশ্বরঙ এর স্বভাবসিদ্ধতা সুদীর্ঘ ২৯ বছর ধরে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি ।

মাহে রমজানের শেষদিকে ঈদের কেনাকাটা শেষে বাংলা নতুন বছরকে উন্মুক্ত চিত্তে স্বাগত জানাতে এবং বাঙালির জীবনে নতুন বছরের আনন্দকে আরো রাঙিয়ে দিতে দেশের অন্যতম ফ্যাশন ব্রান্ড বিশ্বরঙ -এর রয়েছে বিশেষ প্রয়াস। “বিশ্বরঙ” এর পোশাক মানেই নতুনত্ব এবং ঐতিহ্যগত আভিজাত্যের গর্বিত উপস্থাপনা। বৈশাখী উৎসবের এই আনন্দের রঙে বাড়তি মাত্রা যোগ করতে বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড় ও উপকরণ ব্যাবহার করে “বিশ্বরঙ” এবারেও বৈশাখী আয়োজনে পোশাকে দেশীয় ঐতিহ্যকে নান্দনিক ভাবে উপস্থাপন করেছে, কালের আবর্তে প্রায় হারিয়ে যাওয়া আদিবাসী সম্প্রদায়ের হাতে তৈরি বাহারি রঙের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ব্যাবহৃত নকশার অনুপ্রেরণায়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজ হাতে তৈরি পোশাক দিনে দিনে প্রায় বিলুপ্তির পথে, তাই আমাদের এবারের আয়োজন আদিবাসীদের নিজস্ব সৃষ্টিশীলতাকে আমাদের নাগরিক জীবনে পৌছে দেয়ার অভিপ্রায় মাত্র।  

বরাবরের মতোই দেশীয় কাপড়, উপকরণ ব্যবহার করে ”বিশ্বরঙ” এবারেও বৈশাখী আয়োজনে পোশাকে ট্রেন্ডি এবং ট্রেডিশনাল লুকের নান্দনিক উপস্থাপন করেছে। দেশের আবহাওয়ার কথা মাথায় রেখে আরামদায়ক কাপড় ব্যবহারের পাশাপাশি রঙের ব্যবহারেও কনট্রাস্ট কালারের পাশাপাশি ম্যাচিউরড টোন এর পরিমিত ব্যবহার লক্ষ্যনীয়।

কাজের মাধ্যম হিসাবে রয়েছে স্ক্রিন প্রিন্ট, বøক প্রিন্ট, ইন্ডাষ্ট্রীয়াল প্রিন্ট, মেশিন এমব্রয়ডারী, কম্পিউটার এমব্রয়ডারী, হ্যান্ড এমব্রয়ডারী, কারচুপি, নকশী কাঁথা জারদৌসীসহ মিশ্র মাধ্যমের নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল। এবারের বৈশাখী আয়োজনে ”বিশ্বরঙ” প্রতিটি শ্রেণীর মানুষের জন্যই ভিন্ন কিছু যোগ করেছে। বাচ্চাদের জন্য এনেছে নান্দনিক সব কালেকশন সেই সাথে প্রাপ্ত বয়স্ক এবং নারীদের জন্য আছে ঐতিহ্য ও আভিজাত্যের ছোঁয়া।


স্বতন্ত্রতায় বিশ্বাসী বিশ্বরঙ সুপ্রিয় ক্রেতা সাধারণের উৎসব আনন্দে অনন্যা মাত্রা যোগ করার প্রয়াসে প্রতিবারের মত এবারও  ব্যাতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে।শুভ্যানুধায়ীদের সাধ ও সাধ্যের সমন্ময় ঘটাতে নির্দিষ্ট পোশাকে রয়েছে ৫০% মূল্য ছাড়। নির্দিষ্ট শাড়ীতে রয়েছে ২০% মূল্য ছাড় এবং বিভিন্ন ব্যাংক এর কার্ডে ১০% মূল্য ছাড় তো থাকছেই।

শোরুমে গিয়ে কেনাকাটার সুযোগের পাশাপাশি যে কেউ ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা করতে পারবেন। www.bishworang.com.bd এই ওয়েব পেইজটি এবং BISHWORANG ফেইজবুক পেইজের মাধ্যমে অনলাইনে ঘরে বসেই কিনতে পারেন আপনার পছন্দের পোশাকটি ।

কলি

সুস্বাদু ঈদের খাবার

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:১৭ পিএম
সুস্বাদু ঈদের খাবার

ঈদে অতিথি আপ্যায়নে কিংবা পরিবারের সদস্যদের জন্য থাকে নানা আয়োজন। ঈদের স্পেশাল রেসিপিগুলো দিয়েছেন বরিশাল কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক এবং কালিনারি এক্সপার্ট আয়শা ফারজানা 

বিন্দি পোলাও 

উপকরণ

চিনিগুঁড়া চাল আধা কেজি, ঘি ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা, আদা ও রসুন বাটা ১ চা চামচ, বাদাম বাটা (কাজু ও চিনা বাদাম) ১ টেবিল চামচ। নারকেল দুধ দিয়ে বেটে নেওয়া বা ব্লেন্ড করা, লবণ পরিমাণমতো। 

বিন্দি টিকিয়ার জন্য 
আদা রসুন বাটা ১ চা চামচ, মুরগির ব্রেস্টের মাংস এক কাপ, বুটের ডাল সেদ্ধ ১ টেবিল চামচ, ধনেপাতা কুচি, কাঁচামরিচ কুচি, গরম মসলা গুঁড়া আধা চা চামচ, জিরা গুঁড়া সামান্য, ডিম অর্ধেকটা, তেল ভাজার জন্য পরিমাণমতো। 

প্রণালি 
টিকিয়ার সব উপকরণ মিশিয়ে ছোট ছোট টিকিয়া বানিয়ে তেলে বাদামি ভেজে নিন। এবার অন্য হাঁড়িতে ঘিতে গরম মসলা ফোড়ন দিয়ে সব পেস্ট করা মসলাগুলো কষিয়ে নিয়ে পোলাও চাল দিয়ে কষিয়ে নিন। হাফ লিটার গরম পানি দিয়ে কম আঁচে রেখে দিন ১৫ মিনিট। তারপর পানি শুকিয়ে গেলে টিকিয়াগুলো ওপরে দিয়ে দমে কিছুক্ষণ রাখুন। ওপর-নিচ মিক্স করে নামিয়ে নিন।

দম হাঁড়ির মাংস

উপকরণ
মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ ১০টি ছ্যাঁচা দিয়ে নেওয়া, আদা ছ্যাঁচা ১ টেবিল চামচ, রসুন আস্ত একটু ছেঁচে নেওয়া ২টি, আস্ত শুকনা মরিচ ৭-৮টি, আস্ত জিরা টেলে নেওয়া ১ চা চামচ, আস্ত তেজপাতা ৩টি, গরম মসলা আস্ত, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, শুকনা মরিচ টেলে গুঁড়া করা ২ টেবিল চামচ, গরম মসলা গুঁড়া ১ চা চামচ, আলু বোখারা ৬-৭টি, তেঁতুল চাটনি ২ টেবিল চামচ, ভেজিটেবল অয়েল ১ কাপ, টমেটো ২টি, লবণ পরিমাণমতো।

প্রণালি
গুঁড়া মসলা বাদে সব ছ্যাঁচা মসলা দিয়ে মাংসটা এক ঘণ্টা মেরিনেট করে রাখুন। তারপর মাংসটা হাঁড়িতে বসিয়ে আধা কাপ গরম পানি দিন। এরপর ঢাকনা দিয়ে আটা গুলিয়ে হাঁড়ির মুখ বন্ধ করুন। কম আঁচে এক ঘণ্টা রেখে দিন। ঢাকনা খুলে তেঁতুল চাটনি, গরম মসলা, বেরেস্তা ও জিরা গুঁড়া ও শুকনা মরিচ গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। দারুণ স্বাদের এই দম মাংস লুচি, পরোটাসহ পোলাও বা সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।


টক-ঝাল বিফ

উপকরণ 
মাংস ১ কেজি, পেঁয়াজ কাটা ১ কাপ, রসুন আস্ত ২টি কোয়া বের করে নেওয়া, শুকনা মরিচ, আস্ত ৬-৭টি, গরম মসলা আস্ত, আদা কুচি ২ টেবিল চামচ, টক দই আধা কাপ, সয়াবিন তেল পৌনে এক কাপ, লবণ, হলুদ গুঁড়া ২ চা চামচ, জিরা গুঁড়া ১ চা চামচ, চিনি ২ টেবিল চামচ, তেজপাতা ৩টি, পেঁয়াজ বেরেস্তা আধা কাপ, লেবুর রস আধা কাপ, তেঁতুল চাটনি ২ টেবিল চামচ।

প্রণালি 
সব উপকরণ দিয়ে মাখিয়ে (চাটনি ও চিনি বাদে) চুলায় কম আঁচে মাংসটা কষিয়ে নিন। তিন-চারবার কষানোর পর কম আচে রেখে সেদ্ধ করুন। মাঝে মাঝে অল্প গরম পানি দিয়ে নেড়ে দিন। হয়ে এলে তেঁতুল চাটনি, চিনি ও পেঁয়াজ বেরেস্তা দিয়ে দমে রেখে নামিয়ে নিন।

কলি

ঈদে মিষ্টিমুখ

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৪:০১ পিএম
ঈদে মিষ্টিমুখ

ঈদের দিন সকালটা শুরু হয় মিষ্টিমুখ করে। অতিথি আপ্যায়নে ঈদে মিষ্টি আইটেম ছাড়া চিন্তাই করা যায় না। এবারের আয়োজনে কয়েকটি মিষ্টিজাতীয় খাবারের রেসিপি দিয়েছেন রন্ধনশিল্পী আফরোজা খানম মুক্তা

জাফরানি পায়েস 

উপকরণ
দুধ ২ লিটার, চিনি ১ কাপের বেশি, এলাচ ও দারুচিনি ২/৩ পিস করে, পোলাওয়ের চাল ১ কাপ, জাফরান সামান্য, কাজুবাদাম ১ টেবিল চামচ, পেস্তা বাদাম ১ টেবিল চামচ। 

প্রণালি
হাঁড়িতে দুধ ফুটে উঠলে চাল দিন। পরে চাল সিদ্ধ হলে চিনি, এলাচ ও দারুচিনি দিয়ে নেডে কাজু বাদাম, পেস্তা বাদাম, এক চিমটি জাফরান দিয়ে নেড়ে নেড়ে ঘন করে রান্না করুন। পরে সার্ভিং ডিশে রেখে কাজু, পেস্তা বাদাম ও জাফরান ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

ডিমের মিষ্টি

উপকরণ
লিকুইড দুধ ১ লিটার, পানি ১ কাপ, চিনি ১ কাপ, চায়না গ্রাস ১ মুঠ, ভ্যানিলা এসেন্স আধা চা চামচ।

প্রণালি
হাঁড়িতে পানি ফুটে উঠলে চায়না গ্রাস দিয়ে লিকুইড করে নিন। পরে অন্য হাঁড়িতে লিকুইড দুধ গরম করে ঘন করে চিনি দিন। পরে লিকুইড করা চায়না গ্রাস আর ভ্যানিলা এসেন্স দিয়ে মিশিয়ে ২-৪ মিনিট রান্না করে নিন

ডিমের কুসুমের উপকরণ
গাজর পেস্ট ২ কাপ, চিনি ২ কাপ, ঘি+সয়াবিন তেল আধা কাপ, মুড়ির গুঁড়া আধা কাপ, এলাচ ও দারুচিনি ২ পিস করে।

প্রণালি
গাজরের খোসা ফেলে সেট করে কেটে হালকা সেদ্ধ করে পেস্ট করে নিন। পরে কড়াইতে সয়াবিন তেল ঘি গরম হলে এলাচ ও দারুচিনি ফোঁড়ন দিন। এরপর গাজর পেস্ট ও চিনি দিয়ে অনবরত নেড়ে হালুয়া তৈরি করে নিন। পরে মুড়ির গুঁড়া দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। এবার ডিমের কুসুমের মতো করে নিন, ডিমের খোসা আগে থেকে ধুয়ে শুকিয়ে রাখুন। এবার ডিমের খোসার ভেতর গাজরের হালুয়া করে পরে দুধের সাদা মিশ্রণ ঢেলে নিন। পরে ২-৩ ঘণ্টা পরে ডিমের খোসা ছাড়িয়ে ২ ভাগ করে পরিবেশন করুন।

সেমাই পুডিং

উপকরণ
লিকুইড দুধ ১ লিটার, গুঁড়া দুধ ৪ টেবিল চামচ, চিনি ১ কাপ, ভ্যানিলা আধা চা চামচ, লাচ্ছা সেমাই ১ প্যাকেট, ডিম ২টা, চায়না গ্রাস আধা কাপ, পানি ২ কাপ  হলুদ রং সামান্য, সবুজ চেরি সাজানোর জন্য।

প্রণালি
লিকুইড দুধ চুলায় দিয়ে ফুটিয়ে নিন। এবার গুঁড়া দুধ, চিনি, ভ্যানিলা এসেন্স একসঙ্গে ১০ মিনিট রান্না করে ঘন করুন। পরে পানিতে চায়না গ্রাস গরম করে লিকুইড করে ফুটানো দুধের সঙ্গে মিলিয়ে নিন। এবার ডিম এবং লাচ্ছা সেমাই দিয়ে আরেকটু সময় রান্না করুন। সামান্য হলুদ রং দিয়ে নেড়ে নামিয়ে নিন। এবার মোন্ডে ঢালুন, তারপর ঠাণ্ডা করে সার্ভিং প্লেটে পরিবেশন করুন।

কলি

 

ঈদের আতর ও টুপি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৫২ পিএম
ঈদের আতর ও টুপি
ছবি: শরিফ মাহমুদ

আর কয়েক দিন পর ঈদুল ফিতর। ইতোমধ্যে অনেকে ঈদের কেনাকাটা করে ফেলেছেন। নতুন পোশাকের সঙ্গে টুপি, আতর কেনার বিষয়টিও কেনাকাটার পরিকল্পনায় রাখতেই হয়। কারণ ঈদের দিন নতুন পোশাকের সঙ্গে মাথার টুপি এবং শরীরের সুবাস না থাকলে সাজে পূর্ণতা আসে না। তাই নতুন কাপড়ের পাশাপাশি মাহে রমজানের শুরু থেকে বিক্রি বেড়েছে আতর-সুগন্ধি, টুপির। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দোকানে দোকানে নানা ডিজাইনের টুপি, আতর-সুগন্ধি সারি সারি সাজানো। ক্রেতারা দামদর করছেন। বাজার ঘুরে ঈদের আতর টুপি নিয়ে লিখেছেন মো. আল আমিন

আতর 
ঈদের নতুন কাপড়ের ঘ্রাণটাকে আরও তীব্র করে তুলতে সবার কাছে অ্যালকোহলমুক্ত, হালাল সুগন্ধি আতরের বিকল্প যেন শুধুই আতর। তাই রাজধানীর নিউমার্কেট, বায়তুল মোকাররম, চকবাজার, কাকরাইল মসজিদ মার্কেট, চাঁদনী চক, এলিফ্যান্ট রোড, কাঁটাবন, গুলিস্তান ও মৌচাক মার্কেটসহ বিভিন্ন ফুটপাতের সুগন্ধির দোকানগুলোর ভিড় চোখে পড়ার মতো। মানভেদে একেক জায়গায় আতরের দাম একেক রকম হয়ে থাকে। ফুটপাতের দোকানগুলোয় ১০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ছোট আকারে বোতলে বিভিন্ন রকমের আতর পাওয়া যায়। দেশীয় আতরের মধ্যে গোলাপ, বেলি, হাসনাহেনা ও রজনীগন্ধার চাহিদা কিছুটা বেশি। আর একটু ভালো মানের আতর কম দাম নিতে চাইলে যাওয়া যেতে পারে বায়তুল মোকাররমের সামনে।

সেখানে দেশীয় ব্র্যান্ডের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন বিদেশি ব্র্যান্ডের আতর। যেমন- আম্বার, হুগোবস, গুচি, রোমান্স, সিলভার, মেশক আম্বার, জান্নাতুল ফেরদৌস ইত্যাদি। আর যারা দামি আতর কিনতে চান তারা ২০০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে আতর পেয়ে যাবেন এসব মার্কেটে। 

টুপি 
ঈদের দিনের আরেক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হলো নতুন পাঞ্জাবির সঙ্গে নতুন টুপি। সারা বছর টুপি ব্যবহার করলেও ঈদের দিনে নতুন জামা কাপড়ের সঙ্গে নতুন টুপি ব্যবহার করতে পছন্দ করেন সবাই। আতরের মতো রাজধানীর প্রায় সব মার্কেটেই টুপি পাওয়া যায়। ফেব্রিক্স, ডিজাইন, নানা ধরন ও মানের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দামের টুপি পাওয়া যায়। দেশে তৈরি টুপিগুলো পাবেন ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে।

এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম মার্কেটসহ বিভিন্ন মার্কেটে নানা ধরনের বিদেশি টুপিও পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানি, আফগান, চীনা, তুর্কি, ভারতীয় ও দুবাইয়ের টুপি। কম দামে বৈচিত্র্যময় ডিজাইনের টুপির চাহিদা বেশি। কাপড় ভেদে ৫০ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা দামের টুপি পাওয়া যায়। এ ছাড়া বসুন্ধরা, যমুনা ফিউচার পার্ক থেকে গুলিস্তান, নিউমার্কেটে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি রকমের টুপি।

কলি

উৎসবের মেহেদি

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:৪৯ পিএম
উৎসবের মেহেদি
মডেল: সাদিয়া নিশা মেকআপ: শোভন মেকওভার,ছবি: শরিফ মাহমুদ।

মেহেদি ছাড়া ঈদ উৎসবের কথা যেন চিন্তা করা যায় না। ঈদকে জমজমাট করতে চাঁদরাতে হাতে মেহেদি পরার ঐতিহ্য আমাদের দেশে বহুকাল ধরে। এই ঐতিহ্য পরিবর্তন না হলেও মেহেদির নকশায় এসেছে আধুনিকতা। প্রতিবছরই ঈদের মেহেদি নকশার পরিবর্তন হয়। এবারে ঈদের ট্রেন্ডি মেহেদির নকশা নিয়ে জানিয়েছেন শোভন মেকওভারের মেহেদি আর্টিস্ট সায়েম হোসেন লিখেছেন সানজিদা রিমু

এ বছরও মেহেদির নকশায় হালকা প্যাটার্নের ট্রেন্ড দেখা যাবে। হাতজুড়ে নকশা করা হবে না, হাতের কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে নকশা করা হবে। আঙুলেও থাকবে একেবারে হালকা আধুনিক ছিমছাম নকশা। এই নকশা তাসের থিম নকশা হিসেবে পরিচিত। ইন্ডিয়ান অ্যারাবিক স্টাইলের মেহেদির নকশাও আমাদের দেশে বেশ জনপ্রিয়। অনেককে এই নকশা ঈদ উৎসবে পরতে দেখা যাবে। এ নকশাটিও হাতজুড়ে হয় না। হাতের কবজি বা তার একটু ওপর পর্যন্তই এর দৈর্ঘ্য হয়। হাতের মাঝখানে খালি থাকে। আমাদের দেশের তরুণীরা নিজেদের রাঙাতে দুবাইয়ের মেহেদির নকশা করে থাকে। অনেক বছর ধরে দেখা যাচ্ছে এই নকশা। তবে এই নকশায় কিছুটা ভিন্নতা খুঁজে পাওয়া যাবে। ফ্লোরাল স্টাইলের নকশা এ বছরও চলবে তবে বর্তমানে ফুলেল নকশায় এসেছে কিছুটা পরিবর্তন। শুধু লম্বা করে ফুল বা লতাপাতা নকশা করা হবে না, ভরাট ফ্লোরাল যেমন- গোলাপ, টিউলিপ, লোটাসের নকশা দেখা যাবে। আবার যারা ক্ল্যাসিক ও ট্র্যাডিশনাল নকশা পছন্দ করে তারা মানডালা নকশা বেছে নেবেন। যাদের হাত লম্বা তারা আবার গোল নকশা বেছে নিতে পারেন।

গোল নকশা অনেক বেশি গর্জিয়াস লাগবে। পিকক নকশাও ট্রেন্ডে রয়েছে। এই নকশা হাতের ওপরের অংশে করা হয়। এই নকশার আঙুল জুড়ে ভরাট নকশার সঙ্গে ময়ূরের কারুকাজ আনবে উৎসবের আমেজ। এ ছাড়া হাতের ওপরের অংশের জন্য চেক বা গ্রিডস নকশা ও বেশ আধুনিক। নকশাটি ভরাট হলেও বেশ ছিমছাম। সব সময় কিশোরীদের পাশাপাশি অনেক শিশুও মেহেদি দিয়ে থাকে। ছোটদের হাতে মেহেদির নকশায় সহজ-সরল মোটিফ ব্যবহার করাই ভালো। কোনো একটা থিম বেছে নিয়ে সেই থিমে হাতজুড়ে মেহেদি দিলে দেখতে ভালো লাগবে। শুধু শিশুদের হাতের ওপরের অংশের আঙুল ও কবজির কিছু অংশ মেহেদিতে রাঙিয়ে দিতে পারেন। চাইলে প্রিয় কার্টুন চরিত্রও আঁকতে পারেন।

কার হাতে কেমন নকশা
হাত অনুযায়ী নকশা করাটা জরুরি। যাদের হাতের পাতা বড় তারা হাতে ভরাট নকশা করলে দেখতে ভালো লাগবে। যাদের হাত ছোট তারা একপাশে লম্বালম্বি ডিজাইন করলে বেশ বানাবে। এ ছাড়া হাতের আঙুল যদি ছোট হয়, তবে অনামিকা বা মাঝের আঙুলে লম্বা করে নকশা করলে মানানসই হবে। আবার যাদের হাত লম্বা তারা কিছুটা অংশ ফাঁকা রেখে ভরাট ডিজাইন করতে পারেন। তবে উৎসব উপলক্ষে দুই হাত ভরে মেহেদির নকশা করতে পারেন দেখতে ভালো লাগবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে মেহেদির নকশা যেন সূক্ষ্ম হয়। সূক্ষ্ম ডিজাইনের কিছুটা অংশ ভরাট করে নকশায় বৈচিত্র্য নিয়ে আসা যায়। বর্তমানে মেহেদির নকশায় এসেছে ফিউশন। পুরো হাতে ছিমছাম নকশার আবেদন সব সময়ই বেশি থাকে। মাঝে মাঝে ফাঁকা জায়গা রেখে নকশাকে সুন্দর করে তোলা হয় এ ধরনের ডিজাইনে। নখের চারপাশে ভরাট করে মেহেদি দেন অনেকে। সে ক্ষেত্রে নখে হালকা রঙের নেইলপলিশ লাগাতে পারেন।

কোথায় পরবেন মেহেদি
বিভিন্ন কোম্পানি ঈদের আগে মেহেদি উৎসব করে থাকে। সেখান থেকে পরতে পারেন। আপনি যদি নিজে মেহেদি ডিজাইন দিতে দক্ষ হন তবে ডিজাইনের বই দেখে নিজেই নকশা করে মেহেদি পরতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অ্যাপ, ইউটিউব ও ফেসবুকে থেকেও নকশা বেছে নিয়ে ডিজাইন করতে পারেন। আশপাশে বন্ধু বা বাড়ির কেউ বা পাশের ফ্ল্যাটের এক্সপার্ট কারও কাছ থেকে মেহেদি পরে নিতে পারেন। তাছাড়া বাড়ির পাশের বিউটি স্যালন তো আছে, চাইলে সেখান থেকে পরতে পারেন। তবে অবশ্যই চাঁদ রাতে অনেক ভিড় থাকবে। তাই আগে থেকে বুকিং দিয়ে রাখলে ভালো হবে।

মেহেদি দেওয়ার আগে 
মেহেদি লাগানোর আগে হাত ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে নিতে হবে। হাতে ওয়াক্সিং করতে চাইলে মেহেদি দেওয়ার এক সপ্তাহ আগে করুন। কারণ ওয়াক্সিং করলে ত্বক মসৃণ হয়ে যায়। সেখানে মেহেদি রং ভালোভাবে বসবে না এবং গাঢ় হবে না। সব সময় চেষ্টা করুন উজ্জ্বল আলোতে মেহেদি দিতে, নাহলে আবছা আলোতে মেহেদি দিলে ডিজাইন ভালো হবে না। এ ছাড়া মেহেদি চিকন টিউব বা চিকন কোণে দেওয়াটাই ভালো। এতে ডিজাইন সুন্দর হবে। মেহেদি লাগানোর সময় টিস্যু, হালকা সুতি কাপড়, টুথপিক বা আলপিন সঙ্গে রাখুন। মেহেদি দেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন, যেন অতিরিক্ত নড়াচড়ার কারণে মেহেদির নকশা নষ্ট না হয়ে যায়।

মেহেদি দেওয়ার পরে
মেহেদি দেওয়ার পর শুকনা নকশার ওপর লেবু, চিনি, লেবুর পানি হাতে ব্যবহার করতে পারেন। এতে মেহেদি ভালোভাবে হাতের ওপর বসবে, রং গাঢ় হবে। এ ছাড়া ৮ থেকে ১০টি লবঙ্গ ঘিতে পুড়িয়ে হাতে ভাপ নিলেও রং গাঢ় এবং স্থায়ী হয়। মেহেদি উঠানোর পর হাতে সরিষার তেলও মাখতে পারেন।

কলি