পৃথিবীর অন্যতম জনপ্রিয় পানীয় হচ্ছে চা। চায়ে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-সি, বি২ ইত্যাদি। তাই শরীর-মন তরতাজা করার পাশাপাশি ত্বক ও চুলকেও সুন্দর রাখে। প্রাচীনকাল থেকে রূপচর্চার উপকরণ হিসেবে চা পাতা ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বর্তমানে ত্বকের যত্নে গ্রিন টির ব্যবহার বেশি হয়, গ্রিন টি ময়েশ্চারাইজার, ক্লিনজার বা সিরাম সব ভাবেই ত্বকে ব্যবহার করা যায়।
ত্বক পরিষ্কার করতে
প্রতিদিনের ধুলা-ময়লায় ত্বক অপরিচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার করার জন্য চা পাতার টোনার বেশ উপকারী। ত্বক পরিষ্কার করতে এটা ক্লিনজার হিসেবেও কাজ করবে। টোনার তৈরি করার জন্য গরম পানিতে গ্রিন টি ব্যাগ ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর ঠাণ্ডা হলে ভালোভাবে সেই পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে নিতে হবে। এ ছাড়া গরম পানিতে ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রেখে ঠাণ্ডা হলে সেটা ভালো করে ছেঁকে সঙ্গে গোলাপ জল, গ্লিসারিন ও অ্যালোভেরার রস মেশাতে হবে। মিশ্রণটি একটি স্প্রে বোতলে নিয়ে ফ্রিজে রাখতে হবে। মুখ ধোয়ার পর টোনারটি প্রতিদিন ব্যবহার করতে হবে। এটি প্রাকৃতিক টোনারের কাজ করবে, ত্বক টান টান হওয়ার সঙ্গে রক্ত সঞ্চালনও বাড়বে। এ ছাড়া চা পাতায় থাকায় অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল, নরম ও মসৃণ করবে।
দাগ দূর করতে
চায়ে থাকা ক্যাফেইন ত্বকের নিচে রক্তজালকে সংকুচিত করে এবং কালো দাগ দূর করে। একটি পাত্রে ১ চামচ গ্রিন টি নিয়ে তাতে ২ চা চামচ মধু, আধা চা চামচ দই ও লেবুর রস মিলিয়ে প্যাক বানিয়ে ত্বকে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের দাগ দূর হবে।
রোদে পোড়া দাগ দূর করতে
চায়ে থাকা ট্যানিক অ্যাসিড ত্বকের কালো ভাব দূর করে। এর জন্য একটি পাত্রে কিছুটা চা পাতি পানিতে ফোটাতে হবে। তারপর ঠাণ্ডা হলে একটা তোয়ালে চুবিয়ে আধঘণ্টা প্রয়োজনীয় স্থানে ধরে রাখতে হবে। এ ছাড়া গ্রিন টির পানি ও গোলাপ জল মিশিয়ে ঘুমানোর আগে মুখে তুলা দিয়ে লাগিয়ে নিতে পারেন। এতে রোদে পোড়া ভাব দূর হবে। এরপর ভালো মানের ক্রিম লাগিয়ে নিতে পারেন। মুখের ত্বকে জ্বালা ভাব কমাতে সরাসরি টি-ব্যাগও ব্যবহার করতে পারেন।
চোখের ফোলা ভাব দূর করতে
অনেক সময়ই ঘুম থেকে ওঠার পর চোখে ফোলা ফোলা ভাব থাকে। ২টি কালো চায়ের টি ব্যাগ ঠাণ্ডা পানিতে কিছুক্ষণ রেখে চোখের ওপর দিলে ফোলা ভাব অনেকটাই কমে যাবে। ডার্ক সার্কেল দূর করতে গ্রিন টির ঠাণ্ডা ব্যাগ চোখের ওপর দিয়ে রাখুন ১৫ মিনিট। প্রতিদিন ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে কমে যাবে চোখের আশপাশের কালচে দাগ। এ ছাড়া চা পান করার পর পাতা ফেলে না দিয়ে সেটা ঠাণ্ডা করে দুই চোখের ওপর ১০ মিনিট রেখে দিন। এটি প্রতিদিন ব্যবহারে ডার্ক সার্কেলও দূর হবে।
বডি স্ক্রাবার হিসেবে
ত্বক পরিষ্কার করার জন্য প্রয়োজন বডি স্ক্রাবিং। বডি স্ক্রাবের মাধ্যমে ত্বক এক্সফোলিয়েট করলে ত্বকের দাগ দূর হয়। ত্বক হয় কোমল ও আর্দ্র এবং সারা দিন থাকে সতেজ। চা পাতা দিয়ে খুব সহজে স্ক্রাব বানিয়ে নিতে পারেন। ২ টেবিল চামচ গ্রিন টি, ২ টেবিল চামচ মধু, ৩-৫ চামচ ব্রাউন সুগার একসঙ্গে মিশিয়ে পেস্টটি ব্যবহার করে মুখে আলতো করে স্ক্রাব করুন। এ ছাড়া গ্রিন টি, এক চামচ খাঁটি মধু আর অল্প চালের গুঁড়া একসঙ্গে মিশিয়ে মুখের ত্বকে ৫-১০ মিনিট বৃত্তাকারে ঘষে ধুয়ে ফেলতে হবে। ত্বকের দাগ দূর করতে এই ফেসিয়াল স্ক্রাব বেশ উপকারী। সপ্তাহে একবার ব্যবহারে ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ফেলতে সাহায্য করবে। এই স্ক্রাব আপনার ত্বককে আর্দ্র করবে ও ত্বক উজ্জ্বল হবে।
ব্রণের সমস্যা দূর করতে
বিভিন্ন কারণে আমাদের ত্বকে ব্রণের সমস্যা হয়। কখনো অতিরিক্ত তৈলাক্ত ত্বকেও ধুলা-ময়লা জমে এ ধরনের সমস্যা দেখা যায়। ব্রণের সমস্যা দূর করতে চা পাতা বেশ উপকারী। এর জন্য প্রথমে চায়ের লিকার ঠাণ্ডা করে কয়েক ফোঁটা অ্যাসেনশিয়াল তেল মিশাতে হবে। প্রতিদিন নিয়ম করে তুলা ভিজিয়ে ব্রণের ওপর ১০ মিনিট চেপে রাখলে ব্রণ দূর হবে। ত্বকের অতিরিক্ত তেল থেকে মুক্তি দেবে। চাইলে গ্রিন টির পানি ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে তুলা দিয়ে মুখে লাগিয়ে ১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলতে পারেন। এতে উপকারের পাশাপাশি, ত্বকের উজ্জ্বলতা ফেরাতে ও সাহায্য করে।
চুলের যত্নে চা
চুলের কোষগুলো প্রতিদিন বিভিন্ন ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার শিকার হয়। আর চায়ে থাকা এপিগ্যালোক্যাটেচিন-গ্যালেট (ইজিসিজি) নামের রাসায়নিক পদার্থ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে বেশ কার্যকর। চা পাতার নির্যাস চুলের যত্নে নানা কাজে আসে। এমনকি প্রাকৃতিক কন্ডিশনারের কাজও করে। চা পাতা দিয়েই ভালো মানের কন্ডিশনার তৈরি করা যায়। ২ কাপ গরম পানিতে ১ টেবিল চামচ কালো চা দিয়ে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে শ্যাম্পু করার পর চুলে লাগালে কন্ডিশনারের কাজ করবে।
কলি