দেশের অন্যতম বিউটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম সাজগোজ লিমিটেড। এটি একটি আধুনিক ও নারীবান্ধব কর্মপরিবেশের দারুণ উদাহরণ। পণ্যের মানের পাশাপাশি তারা এমন এক অফিস সংস্কৃতি গড়েছে যেখানে নারীরা সম্মান, সমর্থন ও নেতৃত্ব পাচ্ছেন এবং অফিসে সহানুভূতি, সম্মান আর নেতৃত্বের চর্চা প্রতিদিনই হয়। নারীদের জন্য এমন সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তোলার পেছনের ভাবনা ও অভিজ্ঞতা ফ্যাশন প্লাসের সঙ্গে শেয়ার করেছেন সাজগোজ লিমিটেডের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মিসেস সিনথিয়া ইসলাম। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ফারজানা ইয়াসমীন
শুরু থেকেই নারীবান্ধব কর্ম সংস্কৃতি গড়ে তোলার চিন্তা ছিল কেন?
সাজগোজ একটি বিউটি ফোকাসড প্রতিষ্ঠান, আমরা বেশির ভাগ সময়ই নারীদের নিয়ে কাজ করেছি। কিন্তু শুধু সাপোর্ট বা কাস্টমার সার্ভিসে নয়, আমরা চেয়েছি নারীরা যেন লজিস্টিকস, অপারেশন, মার্কেটিংসহ সব জায়গায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারে এবং যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারে। আমরা মনে করি, তারা শুধু কাজ করতে নয়, নেতৃত্ব দিতেও সমানভাবে সক্ষম।
এইচআর পলিসি ভিন্ন সাজে সাজগোজে- নারীদের সমর্থনে আপনি কোন ধরনের মূল্যবোধ অনুসরণ করেন?
সাজগোজে নারীদের সমর্থন একটি কাগজে লেখা পলিসির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি আমাদের কর্মসংস্কৃতির প্রতিদিনের বাস্তবতা। আমরা জানি, কর্মীরা শুধু কাজের মানুষ নয়—তারা বাবা-মা, সন্তান এবং সর্বোপরি আলাদা একজন মানুষও। তাই যখন কেউ ব্যক্তিগত সমস্যায় পড়ে, আমরা তা বুঝতে চেষ্টা করি। সহানুভূতির সঙ্গে পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমাদের বিশ্বাস—নরম মন মানেই দুর্বলতা নয়, বরং এটি নেতৃত্বের একটি শক্ত দিক। আমরা অহংকারে নয়, বরং মমতায় নেতৃত্ব দিই। এটি শুধু কথার কথা নয়, এই অনুভূতি আমাদের সহকর্মীরা প্রতিদিনের অভিজ্ঞতায় বুঝতে পারেন।
বিয়ে, মাতৃত্ব বা স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জের মতো পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে কর্মজীবী মা এবং নারীদের কীভাবে সহায়তা করে সাজগোজ?
আমাদের টিমের ৬০ শতাংশ নারী। তাই আমরা জানি জীবনের নানা পরিবর্তন কীভাবে কাজের ওপর প্রভাব ফেলে। এ কারণেই আমরা কর্মীদের ফ্লেক্সিবল কর্মঘণ্টা, ছুটি এবং মানসিক সমর্থন দিই। আমরা বিশ্বাস করি—যারা কাজ থেকে সাময়িক বিরতি নেন, তারাও দায়িত্বশীলভাবে তাদের কাজ শেষ করেন। অনেক মা আমাদের সেরা কর্মীদের একজন।
নারীদের নেতৃত্বে আনতে সাজগোজ কী করে এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে কী পরামর্শ দেবেন?
আমরা পারফেক্ট প্রার্থী খুঁজি না। যাদের শেখার আগ্রহ, দায়িত্ব নেওয়ার ইচ্ছা আছে, তাদের সুযোগ দিই। আমাদের অনেক নারীকর্মী ইন্টার্ন থেকে শুরু করে এখন ম্যানেজার বা টিম লিড করছেন। তারা ভুল করেছে, কিন্তু শেখার জায়গা পেয়েছে। আমরা মানুষকে গড়ে তুলি, শুধু রেজুমে দেখে বিচার করি না। আমি যদি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য পরামর্শ দিতে চাই, তাহলে বলব শুধু রেজুমে দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না। বরং খুঁজে দেখুন কার মধ্যে লড়াই করার মানসিকতা, জানার আগ্রহ এবং অগ্রসর হওয়ার ক্ষুধা আছে- তারপর সেই গুণগুলোকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলুন।
সাজগোজের আগামী অধ্যায় নিয়ে আপনার স্বপ্ন কী?
আমি চাই সাজগোজ শুধু নারীবান্ধব না বরং নারী নেতৃত্বাধীন হোক। আরও বেশি নারী নেতৃত্বে আসুক, তাদের হাতে শক্তি, জ্ঞান ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকুক। আমি নিজেও চাই, একজন সৎ, শক্তিশালী এবং সহানুভূতিশীল লিডার হিসেবে পথ দেখাতে।
সাজগোজ দেখিয়ে দিয়েছে, নারী-সহায়ক কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে বড় কিছু করতে হয় না। প্রতিদিন ছোট ছোট মানবিক সিদ্ধান্তই পার্থক্য গড়ে দেয়। যে প্রতিষ্ঠানগুলো সত্যিই নারীদের সম্মান করে, তাদের পাশে থাকে, তারা শুধু নারীদের নয়, পুরো অফিসকেই এগিয়ে নিয়ে যায়।