ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক
Nagad desktop

হঠাৎ একদিন

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
হঠাৎ একদিন
অলংকরণ: মেহেদী হাসান

সেই প্রথম, কোনো মেয়ের সঙ্গে শেয়ারে রিকশায় ওঠার অভিজ্ঞতা আবিদের।     
মেয়েটির নাম খুশবু। ওর সঙ্গে যখন দেখা হয়, সময়টা ছিল অদ্ভুত। সন্ধ্যা উতরে গেছে। আকাশে কালো করে মেঘ জমেছে। থেমে থেমে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে। শ্যামলী থেকে বাসায় ফিরছিল সে। ফার্মগেট পেরোনোর আগেই তিরতিরিয়ে বৃষ্টি নামল। নাগরিক বৃষ্টি এমনকিছু খারাপ নয়, আবিদের ভালোই লাগে। কিন্তু সন্ধ্যার অন্ধকারে, বাড়ি ফেরার মুহূর্তে এমন আচানক বৃষ্টি মুগ্ধতা নয়, অনিশ্চয়তা তৈরি করে। বাংলামোটর মোড়ে বাস থেকে নামতেই বৃষ্টিটা ধরে এল। অন্যদিন এখানে মগবাজারমুখী অজস্র রিকশা দাঁড়িয়ে থাকে এবং ‘মামা আসেন, মামা আসেন’ বলে ডাকাডাকি করে। আজ রিকশা প্রায় নেই, দু-একটা যা আছে, দূরের খ্যাপ ছাড়া যাবে না। রুমালের পাতলা আবরণে নিজেকে ঢাকার ব্যর্থ চেষ্টা করে সে। কিন্তু বৃষ্টির দাপট থেকে নিজেকে আলগা করতে পারে না। দাঁড়ানোর মতো জায়গাও নেই; মোটরপার্টসের দোকানপাট খোলা থাকলে তবু দাঁড়ানো যেত। ধুর, ভিজেই তো গেলাম; বলে আবিদ পেছনে তাকায়, তখনই মেয়েটিকে দেখে সে। 
এই যে ভাই, আসুন।

আবিদ পাশ ফিরে তাকায়, চেনা কাউকে দেখে না। আর-একবার যখন মেয়েলি ডাকটি আসে, সে বুঝতে পারে, রিকশায় বসা মেয়েটি তাকেই ডাকছে। 
মেয়েটি, খুশবু যার নাম, বলে- আমি মগবাজারে যাব। আপনি ইচ্ছে করলে আমার সঙ্গে যেতে পারেন। 
আবিদ খানিক দ্বিধা করে। কিন্তু সময় নষ্ট না করে রিকশায় উঠে বসে।
রিকশা চলতে থাকে। 

আমার নাম খুশবু। মগবাজার রেললাইনের ওপাশে কাঁচাবাজারের ওদিকে থাকি। আপনি সহজ হয়ে বসুন। 
আবিদ জি, বলে একবার গলা খাকারি দেয়। 
খুশবু চেনা মানুষের মতো তাকায়। বলে, দুজন পুরুষ যদি রিকশায় শেয়ারে যেতে পারে, একজন মেয়ের সঙ্গে পুরুষও যেতে পারে। আর এই বৃষ্টিদিনে রিকশা পাওয়াও কঠিন। 
আবিদ লজ্জিতভাবে হাসে। 

বৃষ্টি থেকে বাঁচতে রিকশার হুড তুলে দেওয়া হয়েছে। পায়ের নিচ থেকে হাঁটু অব্দি নীল পলিথিনে ঢাকা। খুশবুর শরীরের সঙ্গে সেঁটে থাকতে হয় আবিদকে। এনিয়ে মেয়েটির কোনোরকম সংকোচ নেই।  
আবিদ মৃদু গলায় বলে, সাধারণত আমি একাই যাই। রিকশা না পেলে শেয়ারেও এসেছি। কখনো হেঁটে। কোনো মেয়ের সঙ্গে এই প্রথম। 

খুশবু বলে, ঢাকা শহরে নিয়ম বলে কিছু আছে নাকি? 
বৃষ্টির কারণে রাস্তা ফাঁকা। রিকশা মগবাজার মোড়ে এসে পড়ে। বৃষ্টি থামার নাম নেই দেখে খুশবু বলল, মামা, ভাড়া বাড়িয়ে দেব। আপনি রেলগেটের কাছে নামিয়ে দেন। 
কথায় এতটুকু আঞ্চলিক টান নেই। আবিদ বুঝতে পারে না, মেয়েটি কোন এলাকার। তার নিজের গন্তব্যও রেলগেটের কাছেই। সে বলল, ভাই, ব্রিজের তলাটা দ্রুত পার হয়ে যাও।
খুশবু প্রশ্নচোখে তাকায়। 

আবিদ বলে, বলা তো যায় না, নিচ দিয়ে পারাপারের সময় যদি ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ে। 
খুশবু হা হা করে হেসে ওঠে; ফ্লাইওভারটা ভাঙার আর সময় পেল না!

রেলগেট পেরিয়ে রিকশা থামে। পার্স খুলতে খুলতে খুশবু বলে, আপনি দশ টাকাই দিন। বাঁকি কুড়ি টাকা আমি দিচ্ছি। 
আবিদ মাথা দোলায়। 
বৃষ্টিটা ধরে আসে। খুশবু বলে, সরি, আমার ব্যাগে কোনো ভাঙতি নেই। মামা, পাঁচশ টাকা ভাঙতি হবে? রিকশাওয়ালা বিরস মুখে তাকায়।

আমার কাছে ভাঙতি আছে। পুরোটা আমি দিচ্ছি।
খুশবু খুব আপত্তি করে।
দেখুন, এই বৃষ্টির মধ্যে আর কষ্ট করার দরকার নেই। আবার কখনো দেখা হলে-
খুশবু তেরচা চোখে তাকায়। 
না, যদি দেখা হয় আর কী, শোধ দিয়ে দেবেন।
খুশবু এবার লাজুক চোখে তাকায়। মাধুরী মেশানো ভঙিতে হাসে। চলে যায়।
বাসায় ফিরে কাপড় বদলে আবিদ স্নানঘরে ঢুকে পড়ে। বেরিয়েই দেখে ফোন বাজছে। গ্রাম থেকে মা ফোন করেছেন। খুশবুর কথা একদমই সে ভুলে যায়। ঢাকা শহর অনেককিছুই ভুলিয়ে দেয় মানুষকে। ভুলিয়ে রাখে। 
অনেকদিন কেটে যায়। দিনযাপনের নিয়তিরেখায় খুশবুর কথা মনেও থাকে না আবিদের। 

এক ছুটির দিনের সন্ধ্যায় শাহবাগ থেকে বাসায় ফেরে আবিদ। মগবাজারে রেলক্রসিংয়ের কারণে তাকে থামতে হয়। ট্রেন আসছে। মানুষ-রিকশা-গাড়ি থেমে আছে নিরুত্তাপ। হঠাৎ দেখে, সেই মেয়েটি। রিকশা থেকে নামছে। আবিদের চোখে খুশির আভা ছড়িয়ে পড়ে। সে কাছে এগিয়ে যায়- কেমন আছেন? 
খুশবু প্রথমে চোখ পিটপিট করে। পরে উচ্ছ্বাসিত হয়- আরে আপনি?
ট্রেন চলে যাওয়ার পর জ্যাম ও ভিড় আলগা হয়ে আসে। ওরা ফাঁকা জায়গায় দাঁড়ায়।
খুশবুর মুখে আজ কথা কম। হাসিও তেমন দীর্ঘ হয় না। 

ওর কি মন খারাপ কোনো কারণে? সে কথা আর জিজ্ঞেস করা হয় না। 
একটু ঝামেলায় আছি। মা খুব অসুস্থ। আজ যাই। 
আবিদ বলে, আচ্ছা।
একদিন আপনার সঙ্গে চা খাব, কেমন?
খুশবু আর দেরি করে না, চলে যায়। 
ঢাকা শহর খুব ছোট; কিংবা এতটা বড় নয় যে, একবার দেখা হলে আর কোনোদিন তার মুখটা দেখা যাবে না। পরে তাদের এখানে দেখা হয়। কিংবা ওখানে। টুকরো কথা হয়। কিন্তু কোনো সম্পর্ক বা বোঝাপড়ার অবকাশ ঠিক গড়ে ওঠে না। 
একদিন, আবিদ মগবাজার রেলগেটের কাছে যে দোকানে নিয়মিত ডাব খায়, সেখানে দাঁড়িয়ে আছে। আচমকা পিঠে কেউ টোকা দেয়। সে পাশ ফিরে তাকায়। খুশবু। আবিদ ওকে ডাব খাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। খুশবু আপত্তি করে না, চলুন, আজ কোথাও একটু বসি। চা খাব আপনার সঙ্গে।

রেলগেট পেছনে ফেলে ওরা একটা ভালো রেস্টুরেন্টের খোঁজে সামনে এগোয়। 
খুশবু বলে, চলুন, নালন্দা ফুডে বসি। 
রেস্টুরেন্টটি তিন তলায়। নতুন হয়েছে। পথে যেতে চোখে পড়লেও আবিদ কখনো ঢোকেনি। এখানে চা-কফি এবং ফাস্টফুড আইটেম পাওয়া যায়।
আসুন, বলে একসঙ্গে উঠতে শুরু করলেও খুশবুই সামনে এগিয়ে যায়। 
আবিদের প্যান্টের পকেটে ভাইব্রেশন হয়। ফোনটা বের করতে পকেটে হাত রেখে সে একটু দাঁড়ায়। খুশবুর উপরে ওঠার দিকে তাকিয়ে তার চোখ স্থির ও চঞ্চল হয়ে ওঠে। হার্টবিট বেড়ে যায়। সে খুশবুকে অনুসরণ করে সিঁড়ি ভেঙে উঠতে থাকে। খুশবু আগে, আবিদ পেছনে। নিজের ভেতরে অচেনা অনুভূতি টের পায়। মনে হয়, তাকে যেতে হচ্ছে না। অলৌকিক কোনো টান তাকে ওপরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আবিদের চোখের সামনে খুশবুর সুডৌল নিতম্ব। খুশবুর খোলা চুল মৃদু উড়ছে। তার শরীরও দুলছে। তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি আবেদন নিয়ে তার নিতম্ব দুলে দুলে উঠছে। আগে কখনো এভাবে তাকে খেয়াল করেনি সে। পাতলা একটা মেয়ে। শ্যামলা। পোশাকেও উগ্রতা নেই। কিন্তু...। আবিদের মনে হতে থাকে, এই যে সিঁড়ি বেয়ে সে ওপরে উঠছে, তিনতলা নয়, তেরো তলায়ও উঠে যেতে পারবে। পুরুষের কাছে নারীর বক্ষসম্পদ গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু বুকের চেয়েও বেশি আকর্ষণ যে এভাবে তার চোখে ধরা দিল, পূর্বের থিউরিটা সে ভুলে যায়। তার কেবলই মনে হতে থাকে, মেয়েদের সমস্ত শোভা তো নিতম্বে।

রেস্টুরেন্টে কোনার দিকের একটা টেবিলে ওরা বসে।
খুশবু বলে, চায়ের সঙ্গে আর কী খাবেন?
মাথা ঝাঁকিয়ে আবিদ সোজা হয়ে বসে। হ্যাঁ, খাওয়া যায়।
আবিদ মেনু দেখার ছলে অল্প হাসে। টুকটাক কথা ও চোখাচোখি হয়। কথার পিঠে কথা। আরও কথা। একটি কথা আর একটি কথার দিকে এগিয়ে যায়। দুজনের সম্মতিতে স্যুপের ডিশ চলে আসে। খুশবু স্যুপ তুলে দেয় আবিদের বাটিতে। স্যুপ ফুরিয়ে এলে সর পড়া দুধের মতো কফি আসে। কফিতে চুমুক দিয়ে আবিদ হাত কচলায়- একটা কথা জানার ছিল-
বেশ তো, বলুন।
সেই বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় আমাকে ডেকে আপনার রিকশায় নিলেন, আমি তো খারাপ লোকও হতে পারতাম।
খুশবু সরাসরি আবিদের চোখে তাকায়- না, পারতেন না।
কেন?
না, এমনি।
আরে বলেন, জেনে রাখি।
খেয়াল করে দেখলে, পুরুষের চোখ দেখে মেয়েরা বলে দিতে পারে, মানুষটা কী চায় এবং কেমন হতে পারে।
আপনি কি চোখের ভাষা বোঝেন?
খুশবু সে কথার জবাব দেয় না। বলে, শুনুন, আজকের বিলটা কিন্তু আমি দেব। 
খুচরা আছে তো?
হা হা করে দুজন হেসে ওঠে।
তা আবিদ সাহেব, বউদি কী করেন?
ভালোই তো চলছিল। এরমধ্যে আবার বউদি কেন?
নেই?
জানি না। 
আহা, সঙ্গী না থাকলে জীবন পূর্ণ হয় নাকি?
এটা আপেক্ষিক ব্যাপার।
এতদিনেও বিয়ে করেননি যে?
হলো না।
হলো না মানে?
আবিদ প্রসঙ্গটা এড়ানোর বাহানায় বলে, সে অনেক কথা।
দু-একটা শুনি।
ঢাকা মানুষের স্বপ্নের শহর, স্বপ্নভঙ্গেরও কি নয়?
খুশবু মুখটা এগিয়ে নিয়ে এসে বলে, এই শহর কি আপনার স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে?
সেটা অন্য আর এক গল্প।
অন্য গল্পটাই বলুন।
আমাদের কথা হচ্ছিল বিয়ে নিয়ে...
বিয়ের গল্পটাই বলুন।
কার বিয়ে? আমি তো বিয়ে করিনি। 
বিয়ে কেন করলেন না, সেই গল্পটাই বলুন!
বিয়ে নিয়ে দারুণ একটা কথা শুনেছিলাম-
কী কথা?
মানুষের একটা বয়স আছে, যখন সে চিন্তাভাবনা না করেও বিয়ে করতে পারে। সেই বয়স পেরিয়ে গেলে বিয়ে করতে দুঃসাহসের দরকার হয়।
আপনার এখন তাহলে সেই অবস্থা, না? 
দুজনে আবারও হেসে ওঠে।

এক সকালে অফিসে বেরোনোর মুখে ফোন আসে অচেনা নম্বর থেকে। 
...দাদা, আমি খুশবু। বড় বিপদে পড়েছি। মার শরীর খুব খারাপ। একা দিশেহারা বোধ করছি। এমারজেন্সি কিছু টেস্ট করাতে হবে। অপারেশনও লাগতে পারে। আপনি যদি একটু হেল্প করতেন। আমি স্যালারি পেয়ে দিয়ে দেব।
একটানা কথাগুলো বলে থামে খুশবু।
আবিদ বিচলিত বোধ করে। সান্ত্বনা দেয়- আমি তো অফিসে যাচ্ছি। দেখি, কী করা যায়।
বিকেলের দিকে খুশবুকে ফোন করে আবিদ। খুশবুর ফোন অফ। রাতে বাসায় ফিরে ফোন করে। বন্ধ। দুশ্চিন্তা হয় তার।
তিন দিন পর, খুশবুর নম্বর খোলা পাওয়া যায়, কিন্তু কেউ ফোন রিসিভ করে না।
সন্ধ্যায় ডাবের দোকানের সামনে দাঁড়াতেই মনির চাচা বলে, মেয়েডা তোর কে হয়?
আবিদ অবাক, কোন মেয়েটা?
ওই যে রিকশায় দেখলাম।
ধুর, কী বলেন। সেই কবে একদিন।
জিনিসটা ভালো। কিন্তু সাবধান।
কেন, কী হয়েছে?
মেয়েটা কিন্তু সেয়ানা। 
আবিদ থতমত খায়- কী সব বলছেন?
আমার বলার কথা বললাম, পরে বুঝবি।
ধুর, তোমার ডাবই খাব না। 
আরে ডাবটা তো খেয়ে যা, বাপ।
আবিদ আর পেছনে ফেরে না।
খটকা লাগে আবিদের। লোকটা কেন এসব কথা বলল? তার খুব অস্বস্তি হয়।

মাঝে মাঝে জীবনটাকে চরকির মতো লাগে আবিদের। ছকবাঁধা রুটিন। ঢাকা শহরে জীবনের মানে বদলে যায়, প্রতিদিন। মানুষও বদলায়। হয়তো বদলায় না। বদলায় শুধু যাপনের মানচিত্র। 
সন্ধ্যায়, বাসার সিঁড়িতে উঠতে উঠতে কথাগুলো মনে আসে আবিদের। আর তখন ওর মুঠোফোনে ভাইব্রেট হয়। একটা টেক্সট আসে। তাতে লেখা-
‘দাদা, আমি খুশবু। টাকা লাগবে না। আমার মা মারা গেছে।’

কবিতা হেলিওস

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
হেলিওস

একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

          অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি

 

আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে

            সর্বজনীন বেদনা

বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা

            দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ

রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি

তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়

                   একটা দীর্ঘ সকাল

আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ

আছে একজোড়া

            সুসিদ্ধ ইকোলজি

আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য

আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি

 

এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত

 

 এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে

            আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব

জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব

 

 দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি

 

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫১ পিএম
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

ছোট্ট এক টুকরো আত্মা

গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে

তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়

অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে

এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল

ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়

বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়

ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে

ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়

অজস্র শোণিত ধারা

নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে

ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো

নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে

মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা

পায় শুধু

ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!

কবিতা অধরা ও কবি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪৫ পিএম
অধরা ও কবি

অধরা

সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়

দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়

উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়

তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?

 

কবি

কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?

প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না

, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো

আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?

কেমন করে তোমার কাছে আসি

কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?

কবিতা প‌রিণ‌তি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ পিএম
প‌রিণ‌তি

কালো চিমনিরধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে মে কালোমেঘ

মৃত পাখির বাসা সে ড়ে রক্তাক্ত নে

্যামল বাগানগুলো ড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের তো

জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,

জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে

প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,

ক্ষুধার্ত দৈত্যের তো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে

যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ্যস বাড়াতে থাকে শুধু

বোমার ব্দে রে পড়ে পাখির পালক,

আকাশের নীল রং

ভাঙা কাচ য়ে আছড়ে ড়ে মিনে

পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার

কামারের হাতুড়ির তো আছড়ে ড়ে উন্মত্ত রোদ

জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম

বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির তন

 

ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,

মানুষের স্বপ্নে বোনাউঠোন

তৃষ্ণার কঙ্কা মিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র

নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের তো গ্রামে ঢুকে ড়ে পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,

বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,

পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,

লি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে

কথার খই ফোটে, বে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়

 

কবিতা বলির আগে

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
বলির আগে

আমার কথার পরে যদি কোনোদিন

ব্যথা পেয়ে থাকো

যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো

ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে

 

আমার বুকেরপরে দূর্বা যেমন থাকে

বেদনায় নীলপদপিষ্ট হলুদ সোহাগে

একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও

সকল কলুষতাযেভাবে ধর্ম ছাগ

বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ