ভালো থাকো বললেই কি
ভালো থাকা যায়
মনের আঘাতের যন্ত্রণা কি
কাউকে বলা যায়
জীবনের অর্থ খুঁজে খুঁজে
দিশাহারা পথিকের মতো
নিজেকে হারায়
চাতক পাখির হাহাকার
আর কত তাকাবো
মেঘের দিকে...
এত তৃষ্ণা নিয়ে
যাবো কোথায়...
ভালো থাকো বললেই কি
ভালো থাকা যায়
মনের আঘাতের যন্ত্রণা কি
কাউকে বলা যায়
জীবনের অর্থ খুঁজে খুঁজে
দিশাহারা পথিকের মতো
নিজেকে হারায়
চাতক পাখির হাহাকার
আর কত তাকাবো
মেঘের দিকে...
এত তৃষ্ণা নিয়ে
যাবো কোথায়...
একটা অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে
অর্ধবৃত্তের মতো অবকাশ রচনা করেছি।
আছে মা-পাখির ডিম ভেঙে যাবার প্রতিকল্পে
সর্বজনীন বেদনা।
বৃদ্ধ বাবার ঝাপসা দৃষ্টির ভেতর এক বুকচাপা
দীর্ঘশ্বাসের সীমিত চতুর্ভুজ।
রানা প্লাজাসদৃশ ব্যথিত পাণ্ডুলিপি।
তরতাজা যুবকের গুম হওয়ার ন্যায়
একটা দীর্ঘ সকাল।
আছে মায়ের জেগে থাকা চোখ।
আছে একজোড়া
সুসিদ্ধ ইকোলজি।
আছে বোনের ব্যবহৃত কাঁকড়া ক্লিপের উদার সৌন্দর্য।
আছে একটা গামছায় হাত মোছার দুটো অবিকল সবাক ছবি।
এই তো আমার রূপকল্পের ইতিবৃত্ত।
এখন কোনো অবসরপ্রাপ্ত দুপুরকে নিয়ে
আমি পূর্ণবয়স্ক অবকাশ রচনা করব।
জীবনের সব হুলস্থূল এনে ভরে রেখে দেব।
দ্যাখো, হেলিওসের মতোনই তোমাদের কাছে যাব আমি।
ছোট্ট এক টুকরো আত্মা
গহিন অতলের অবাধ চত্বরে বৈভবে থাকে
তাকে কি টুকরো টুকরো করা যায়
অবয়বে বেড়ে ওঠে না কস্মিনকালে
এক টুকরোই থেকে যায় আদিঅন্ত কাল।
ভূমিদস্যুরা তবু ওই জলা দখলে মত্ত হয়
বেপরোয়া ছুরি-কাঁচির নির্মমতায়
ঝরনার উৎস স্তব্ধ করে।
ফালি ফালি করা অবয়ব থেকে বেরোয়
অজস্র শোণিত ধারা
নদী পর্যন্ত যেতে পারে না শুকিয়ে জ্বলে।
ভেসে ভেসে বেড়ায় নিশ্চিহ্ন কাঠামো
নিক্ষিপ্ত হয় মর্তের ঝড়ে
মর্গের ব্যবচ্ছেদে খুঁজে পায় না শিশু আত্মা
পায় শুধু
ছোট্ট এক টুকরো জীবনের অবিকাশ! অবিকাশ!
অধরা–
সময়ের বেড়াজালে বন্দি খাঁচায়
দূর পানে চেয়ে থাকি তোমার আশায়
উজান সময় স্রোতে এই অবেলায়–
তুমি আসবে তো? ভালোবাসবে তো?
কবি–
কী আছে তোমার? অর্থ, বিত্ত, বৈভব?
প্রভাব, প্রতিপত্তি? বলো, চুপ থেকো না–
ও, এসব তোমার নেই! এবার, তুমিই বলো–
আমি কেমন করে তোমার কবিতা হই?
কেমন করে তোমার কাছে আসি
কেমন করে তোমায় ভালোবাসি?
কালো চিমনির ধোঁয়ায় আকাশের বুকজুড়ে জমে কালো মেঘ।
মৃত পাখির বাসা খসে পড়ে রক্তাক্ত বনে।
শ্যামল বাগানগুলো পড়ে আছে যুদ্ধাহত ক্ষতবিক্ষত সৈনিকের মতো।
জ্বলন্ত কয়লার পাহাড়,
জাগিয়ে তোলে মাটির গহ্বরে ঘুমিয়ে থাকা আগুনকে।
প্লাস্টিকের সমুদ্দুর,
ক্ষুধার্ত দৈত্যের মতো গিলে খাচ্ছে পৃথিবীকে।
যুদ্ধের দামামা পোড়ামাটির ব্যস বাড়াতে থাকে শুধু।
বোমার শব্দে ঝরে পড়ে পাখির পালক,
আকাশের নীল রং
ভাঙা কাচ হয়ে আছড়ে পড়ে জমিনে।
পৃথিবীর কপালে আগুনের থার্মোমিটার।
কামারের হাতুড়ির মতো আছড়ে পড়ে উন্মত্ত রোদ।
জ্বরে পোড়া পৃথিবীর গা থেকে ঝরতে থাকে বরফ অবিরাম।
বৃদ্ধের শুভ্র দাড়ির মতন।
ক্ষুধার্ত সমুদ্র গিলে খায়,
মানুষের স্বপ্নে বোনা উঠোন।
তৃষ্ণার কঙ্কাল জমিনে আঁকে ছড়ানো মানচিত্র।
নদীর তীর ক্ষুধার্ত ষাঁড়ের মতো গ্রামে ঢুকে পড়ে। পাখির কিচিরমিচির বাজেয়াপ্ত হয় কোনো এক ভোরে,
বাড়তে থাকে ছিন্নমূল মানুষের ভেলা,
পৃথিবীর জ্বর নামানোর দাওয়াই খুঁজতে,
গলি থেকে মাথাগুলো জড়ো হয় জাতিসংঘের টেবিলে।
কথার খই ফোটে, তবে চোখ বাঁধা থাকে কালো ফিতায়।
আমার কথার পরে যদি কোনোদিন
ব্যথা পেয়ে থাকো
যদি এই দুর্দিনে সমূহ বিপদে মনে করো
ডাক দিও কোনো এক নির্মম সকালে।
আমার বুকের ‘পরে দূর্বা যেমন থাকে
বেদনায় নীল–পদপিষ্ট হলুদ সোহাগে
একবার চোখের জলে ধুয়ে নিও
সকল কলুষতা–যেভাবে ধর্ম ছাগ
বলির আগে মুছে ফেলে যত ক্লেদ।