ছয় বছরের শিশু ইকরা স্কুলে যেতে চায়। কিন্তু তার মা ইমা আহমেদ আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় দুই বছর ধরে পরিকল্পনা করেও আদরের সন্তানকে স্কুলে ভর্তি করাতে পারছিলেন না। খবরের কাগজ ‘বন্ধুজন’ ও শিশুদের নিয়ে কল্যাণমূলক কাজ করা বেসরকারি সংগঠন চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের (সিডব্লিউএফ) যৌথ উদ্যোগে শিশু ইকরা সেই সুযোগ পেয়েছে। এ উদ্যোগে আরও সঙ্গী হয়েছেন গুলশান আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ দীপক চন্দ্র সরকার।
সম্প্রতি রাজধানীর বাংলামোটরে খবরের কাগজ-এর প্রধান কার্যালয়ে ইকরা ও তার মা ইমা আহমেদের হাতে স্কুলে ভর্তির ফি ও শিক্ষা উপকরণ কেনার জন্য নগদ অর্থ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় শিশু ইকরা খবরের কাগজ কার্যালয়ে সবার আদর-স্নেহে সিক্ত হয়। হাসিমুখে ছোটাছুটিও করে শিশুটি। ইকরা খবরের কাগজ কর্মীদের কাছ থেকে চকলেটও উপহার পায়। সিঙ্গেল মাদার বা একক মা ইমার জন্য ওই মুহূর্তটি ছিল পরম আনন্দের। ইমা এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, মাত্র চার মাস বয়সে আমার সন্তান তার বাবাকে হারায়। তারপর থেকে আমি মায়ের সহায়তায় সন্তানকে বড় করছি। কৃতজ্ঞতায় ইমার চোখমুখ কান্না-আনন্দে ছলছল করে ওঠে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন খবরের কাগজ সম্পাদক মোস্তফা কামাল, বন্ধুজন-এর সভাপতি ড. সারিয়া সুলতানা ও সাধারণ সম্পাদক আতিয়া সুলতানা।
গুলশান আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ দীপক চন্দ্র সরকার ফোনে খবরের কাগজকে বলেন, খবরের কাগজ বন্ধুজন-এর সহায়তার কথা জেনে স্কুলে নার্সারিতে ভর্তি ফি বাবদ খরচ আমরা অর্ধেক কমিয়ে দিয়েছি। খবরের কাগজের এ উদ্যোগকে আমি অভিনন্দন জানাই।
ইকরাকে প্রদান করা আর্থিক সহায়তার মধ্যে বন্ধুজন-এর তহবিলে দেওয়া সিডব্লিউএফ ও বন্ধুজন-এর অর্থ রয়েছে।
শিশু ইকরাসহ অন্য শিশুদের যারা সহযোগিতা করতে চান তারা গুলশান আইডিয়াল স্কুলের অধ্যক্ষ দীপক চন্দ্র সরকার অথবা খবরের কাগজ বন্ধুজন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।