ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
কারাগারে অভিনেতা জাহের আলভী কাতার ম্যাচে ফিরছেন কানাডার অধিনায়ক আলফনসো ডেভিস আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবসে বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে ‘ব্লেন্ডার’স চয়েস আনপ্লাগড’ আইসিইউতে চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার ভারতের ‘মাইকেল জ্যাকসন’, শাড়ি পরে মুনওয়াক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী ফটিকছড়িতে গ্রিড সাবস্টেশন নির্মাণে অচলাবস্থা, বিদ্যুৎসংকট চরমে রাঙ্গুনিয়ায় ভবন থেকে পড়ে ইলেক্ট্রিশিয়ানের মৃত্যু সততার মাপকাঠি কেমন হওয়া উচিত? সোনারগাঁয়ে শপিংমলে আগুন, ক্ষতি প্রায় ২০ লাখ টাকা পাবনার আটঘরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে  যুবকের মৃত্যু আরেক ধাক্কা খেলেন মমতা ব্যাপন, অভিস্রবণ ও প্রস্বেদন অধ্যায়ের ৪টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সুন্দরবনে কুমিরের হামলায় নারী জেলের মৃত্যু সাগর-রুনি হত্যা মামলার প্রতিবেদন পেছাল ১২৭ বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের জোক্সস, ‘ভাবছি মেসিকে ব্রাজিল দলে নিব’ প্রাথমিকে 'ম্যাথ ল্যাব' প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: ববি হাজ্জাজ উন্নয়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়ব: প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ পঞ্চগড়ে বালি-পাথরে পাওয়া গেলো মর্টার শেল অনুশীলনে ড্রোন আতঙ্ক, বিরক্ত কোরিয়ান কোচ হামে সিলেটে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৭১ রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ মুন্সীগঞ্জে আরিফ হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন ও থানায় বিক্ষোভ অগ্ন্যুৎপাতে বইছে আগুনের স্রোত, ভাইরাল ভিডিও স্নায়ুচাপ কাটিয়ে জয়ে চোখ মেক্সিকো কোচের গাজীপুরে পোশাক কারখানায় পানি পান করে অসুস্থ ২ শতাধিক শ্রমিক ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ১২০ মোড়ে বসছে এআই ক্যামেরা বিধিনিষেধ আরোপ সময়ের দাবি রাঙামাটির বরকল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে রসুন ও সার জব্দ নড়াইলে শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগে গণপিটুনি
Nagad desktop

অটোমোবাইল অপার সম্ভাবনা, সংকটও আছে

প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:০৬ পিএম
আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ০৬:৪৫ পিএম
অপার সম্ভাবনা, সংকটও আছে
গ্রাফিক্স খবরের কাগজ

দেশে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে পণ্য পরিবহন বাড়ছে। এতে বাণিজ্যিক যানবাহনের চাহিদাও বাড়ছে। যা দেশে যানবাহন সংযোজন ও উৎপাদনশিল্পে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। এ শিল্পের যেমন সম্ভাবনা রয়েছে, তেমিন সংকটও আছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশ অটোমোবাইলশিল্পের জন্য আকর্ষণীয় বাজার। এই খাতে বিনিয়োগের অনেক সুযোগ আছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। বিশেষভাবে নীতিসহায়তার পাশাপাশি কম সুদে ব্যাংক ঋণ, কারখানা নির্মাণের জন্য জায়গা বরাদ্দের দাবিও করেছেন তারা।

অটোমোবাইল খাতের মেরামতের জন্য আলাদা অঞ্চল নির্ধারণ, দেশে বৈদুত্যিক যানবাহন আমদানি সহজ করার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে বিআরটিএতে যানবাহনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করা, অটোমোবাইল খাতের সব প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যাংকগুলোকে একই নীতি অনুসরণ করা, অটোমোবাইল খাতসংশ্লিষ্ট সরকারের যেকোনো নীতি প্রণয়নে অভিজ্ঞ ব্যবসায়ীদের মতামত গ্রহণেও দাবি জানান ব্যবসায়ীরা।

সম্প্রতি অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে অটোমোবাইল খাতে পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষভাবে প্রভাব পড়ে, এমন অনেক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। বর্ধিত ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক কমানোর কথাও বলেছেন অটোমোবাইল ব্যবসায়ীরা। 

অর্থনীতির বিশ্লেষকরা বলেছেন, বাংলাদেশে অটোমোবাইলশিল্পের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। আবার সমস্যাও রয়েছে। এ খাতে গতি আনতে হলে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে হবে। অটোমোবাইল খাতের ওপর শতাধিক শিল্প খাত নির্ভরশীল। অটোমোবাইল খাতে গতি এলে ওইসব শিল্পেও গতি বাড়বে। সমগ্র অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। 

শিল্প মন্ত্রণালয় প্রণীত সর্বশেষ অটোমোবাইল নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ পৃথিবীর দ্রুত উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। গত ১০ বছরে দেশের শিল্প উৎপাদন সূচক বেড়েছে গড়ে ১০ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে অটোমোবাইলশিল্পকে বিবেচনা করা হয়েছে। এ শিল্প খাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে ইঞ্জিনচালিত যান সম্পূর্ণভাবে উৎপাদন করা সম্ভব হচ্ছে না। কিছু প্রতিষ্ঠান সংযোজনে আসছে। এখানেও সরকারি পৃষ্টপোষকতা বাড়াতে হবে। বিনিয়োগকারীদের পর্যাপ্ত পুঁজি না থাকাও অটোমোবাইল খাতের বিকাশে বাধা। ইঞ্জিনচালিত যানবাহনের দাম কমাতে দেশেই পরিবেশবান্ধব যন্ত্রাংশ উৎপাদন করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হলে গতিশীল অটোমোবাইলশিল্প খাত গড়ে তোলা সম্ভব। অটোমোবাইল খাতের আমদানি নির্ভরশীলতা কমবে।’

জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জিকা) গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ইঞ্জিনচালিত গাড়ির বিক্রি গড়ে এক বছরে ১ লাখ পর্যন্ত সম্ভব। অথচ বর্তমানে দেশে গড়ে প্রতি বছর ১২ হাজার থেকে ৩৫ হাজার গাড়ি বিক্রি হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান লাইটক্যাসেল পরিচালিত এক সমীক্ষা থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে আছে। বাংলাদেশে প্রতি ১ হাজার মানুষের বিপরীতে ২ দশমিক ৫টি গাড়ি রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে ব্যক্তিগত গাড়ির বাজার ৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। 

শিল্প মন্ত্রণালয়ের তৈরি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের বেশির ভাগ গাড়ির চাহিদা পূরণ করে প্রায় ১ হাজার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান। স্থানীয়ভাবে সম্পূর্ণ গাড়ি উৎপাদন করার চেয়ে সংযোজনশিল্পে আছে বেশি।

দেশে এখন ১৪ থেকে ১৫টি বড় অটোমোবাইল পরিবেশক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠানের রয়েছে নিজস্ব সংযোজন কারখানা। বাকিরা শুধু পরিবেশক বা আমদানিকারক। বাংলাদেশে অটোমোবাইলের প্রধান প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে: ইফাদ অটোস, আফতাব অটো, নাভানা, র‌্যাংগস মটরস, রনকন মোটরস, নিটল মোটর, রানার মোটর, এজি অটোমোবাইল, এসিআই মটরস ইত্যাদি।

উদ্যোক্তাদের মতে, অর্থনীতির গতি বাড়ছে বলে বাংলাদেশে বাণিজ্যিক যানবাহনের জন্য একটি সম্ভাব্য বাজার তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যিক যানবাহনগুলোর চাহিদা দিন দিন বাড়বে। কারণ, পণ্য পরিবহন ও মানুষের গতিবিধির জন্য যানবাহন দরকার।

বারভিডা সভাপতি আবদুল হক খবরের কাগজকে বলেন, দেশে ইঞ্জিন সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে গাড়ি আমদানিতে শুল্ক ১২৮ শতাংশ থেকে শুরু করে ৭০০ শতাংশ পর্যন্ত আছে। যা অতি উচ্চ হারের। সরকার যুক্তিসংগত কর এবং শুল্ক আরোপ করলে বাংলাদেশে গাড়ির বাজার বাড়বে। 

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, করোনার আঘাত আসার আগে বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজার গড়ে বার্ষিক ১৫-২০ শতাংশ হারে সম্প্রসারিত হচ্ছিল। অটো পার্টসের বাজার সম্প্রসারণের হার ছিল গড়ে ১২ থেকে ১৫ শতাংশ।

তিনি বলেন, করোনার সময়ে এসব হিসাব কিছুটা কমলেও করোনা কমার পর আবারও বাড়ে। কিন্তু ডলারের দাম বাড়ার কারণে অটোমোবাইল খাতের ব্যবসা আবারও চাপে পড়েছে। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এ দেশে অটোমোবাইল খাতের সম্ভাবনা রয়েছে। 

ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ আরও বলেন, গত ১০ বছরে দেশের সড়ক, মহাসড়ক আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। ব্রিজ ও টানেল এবং আঞ্চলিক পর্যায়ের রাস্তাঘাটও আগের চেয়ে ভালো। এতে বাংলাদেশে দুই চাকা, যাত্রীবাহী গাড়ি, হালকা ও ভারী বাণিজ্যিক পরিবহন কিংবা তিন চাকার বাহনের মতো অটোমোবাইলেরও চাহিদা বাড়ছে। এ খাতের বিরাজমান সমস্যার সমাধান করতে পারলে অটোমাবাইল খাতের সম্ভাবনা আরও বাড়বে।

আকিজ মোটরসের সিইও শেখ আমিনুদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন না হলেও আমাদের এখানে সংযোজনের মাধ্যমে রপ্তানির সুযোগ আছে। এটা পৃথিবীর অনেক দেশেই করে থাকে। আমাদের দেশে সংযোজন করে উন্নত বিশ্বে সেগুলো রপ্তানি করলে সেখানে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি আমরা নিজেরাও পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল ও ভুটানে রপ্তানির চিন্তাভাবনা করছি। এ ব্যাপারে চলতি বছরই কাজ শুরু করব বলে আশা করছি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্যানুসারে, দেশে মোটরচালিত যানের অধিকাংশই দুই বা তিন চাকার, যেগুলোর বেশির ভাগের নিবন্ধন নেই। দেশে নিবন্ধিত মোটরচালিত যানের সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। মোট নিবন্ধিত অটোমোবাইল খাতের মোটরচালিত পরিবহনের প্রায় ৬০ শতাংশ দুই চাকাবিশিষ্ট। বাকি ১০ শতাংশ যাত্রীবাহী গাড়ি। এর বাইরে বাস, ট্রাক, পিকআপ, অটোরিকশা, ভ্যান এবং মাইক্রোবাস মিলে আছে বাকি অংশ।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুল মজিদ খবরের কাগজকে বলেন, অটোমোবাইল খাতে উচ্চ শুল্ক, কর ও ভ্যাটের কারণে এ শিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। শুল্ক, কর ও ভ্যাট কমানো হলে অটোমোবাই খাতে বিনিয়োগকারী বাড়বে। এতে রাজস্ব আদায় বাড়বে। তাই সরকারকে বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন।

নিটল-নিলয় গ্রুপের চেয়ারম্যান আব্দুল মাতলুব আহমাদ খবরের কাগজকে বলেন, স্থানীয়ভাবে অটোমোবাইল শিল্প খাতের বিকাশে পৃথক অটোমোবাইল শিল্প এলাকা প্রয়োজন। দেশে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ উৎপাদন করতে না পারলে অটোমোবাইলশিল্প খাতে গতি আসবে না। এ খাতের বিকাশে সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের জনসংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। জনসংখ্যার তুলনায় পর্যাপ্ত গণপরিবহন না থাকায় মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি কিনছে। এ ক্ষেত্রে রিকন্ডিশনন্ড গাড়ি আমদানি কমিয়ে দেশেই গাড়ি অ্যাসেম্বলিংয়ের সুযোগ দিতে হবে। গাড়ি উৎপাদনেও বেসরকারি খাতকে উৎসাহ দিতে হবে।

উত্তরা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউর রহমান বলেন, অটোমোবাইল খাতের যানের চাহিদা বাড়লেও এখনো এই খাত অনেক পিছিয়ে আছে। এই খাতকে এগিয়ে নিতে দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালা ও প্রণোদনা প্রণয়ন প্রয়োজন। অন্তত ৫-১০ বছরের টেকসই শুল্কনীতি প্রণয়নের কথাও বলেন তিনি।

/আবরার জাহিন

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম অটোমোবাইল ডেস্ক

প্রকাশ: ১৭ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম
অটোমোবাইল ডেস্ক
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও সমৃদ্ধ গাড়ির জাদুঘর। গাড়ির ইতিহাস, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও ভবিষ্যতের নকশা দিয়ে সাজানো এই জাদুঘর গাড়িপ্রেমীদের জন্য এক বিস্ময়কর অভিজ্ঞতার সূচনা করে।

১৯৯৪ সালে রবার্ট ই. পিটারসেন ও মার্জি পিটারসেন জাদুঘরটি প্রতিষ্ঠা করেন। রবার্ট ছিলেন একজন বিখ্যাত ম্যাগাজিন প্রকাশক, যিনি মোটরগাড়ি শিল্পের প্রতি খুব আগ্রহী ছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি জায়গা তৈরি করা, যেখানে মানুষ গাড়ির প্রতি তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারবে এবং এই শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবে। মূলত গাড়ির সংস্কৃতি ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ইতিহাস সংরক্ষণের লক্ষ্যে এটি গড়ে তোলা হয়েছে।

২০১৫ সালে ১২৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি আধুনিকায়ন করা হয়, ফলে জাদুঘরটির নকশায় আসে বৈপ্লবিক পরিবর্তন। বর্তমানে এর স্টেইনলেস স্টিলের ঢেউখেলানো বাহ্যিক নকশা গতির প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে ১০ হাজারের বেশি গাড়ির সংগ্রহ রয়েছে, যা ক্ল্যাসিক গাড়ি থেকে শুরু করে আধুনিক ডিজাইন পর্যন্ত বিস্তৃত।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে বিভিন্ন ধরনের গাড়ি প্রদর্শন করা হয়, যা অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস তুলে ধরে। এতে ক্ল্যাসিক গাড়ি, রেসিং কার, মোটরসাইকেল ও কনসেপ্ট কার রয়েছে। এ ছাড়া এখানে বেশ কয়েকটি ইন্টার‌্যাক্টিভ প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রয়েছে, যা দর্শকদের অটোমোবাইল শিল্পের বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে সাহায্য করে। এখানে সিনেমা ও টেলিভিশন শো-তে ব্যবহৃত গাড়িগুলো প্রদর্শিত হয়। বিশ্বের বিখ্যাত কিছু রেসিং কার এখানে দেখা যায়। এ শিল্পের একদম শুরুর দিকের ক্ল্যাসিক গাড়িগুলো এখানে রয়েছে। ভবিষ্যৎ গাড়িগুলোর ডিজাইন এখানে প্রদর্শন করা হয়।

পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম জনসাধারণের মধ্যে অটোমোবাইল শিল্পের ইতিহাস সম্পর্কে শিক্ষা বিস্তারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাদুঘরটি শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। এ ছাড়া এখানে একটি গবেষণা গ্রন্থাগার রয়েছে, যা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

বছরজুড়ে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়ামে মাঝে মধ্যে বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কার শো, লেকচার ও ওয়ার্কশপ। এ ছাড়া এখানে কিছু বিশেষ প্রদর্শনী হয়, যা সীমিত সময়ের জন্য দেখানো হয়।

জাদুঘরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘দ্য ভল্ট’, যেখানে ২৫০টিরও বেশি ক্ল্যাসিক, দুর্লভ ও ঐতিহাসিক গাড়ি সংরক্ষিত আছে। গাড়ির অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎকে একত্রে উপস্থাপন করে পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গাড়ি সংগ্রহশালা হিসেবে স্বীকৃত। পিটারসেন অটোমোটিভ মিউজিয়াম সপ্তাহের সাত দিনই জনসাধারণের জন্য খোলা থাকে। এটি লস অ্যাঞ্জেলেসের ৬০৬ উইলশায়ার বুলেভার্ডে অবস্থিত।

বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার ভি মটো বাংলাদেশ
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার চলমান দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অফিশিয়াল ইলেকট্রিক বাইক পার্টনার হিসেবে যুক্ত হয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। মাঠে ক্রিকেটের রোমাঞ্চের পাশাপাশি দেশে পরিবেশবান্ধব ই-মবিলিটি বা বৈদ্যুতিক যানবাহনের ধারণাকে ছড়িয়ে দিতে এই যৌথ উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

সিরিজে মাঠের পারফরম্যান্স ও ক্রিকেটারদের অদম্য স্পৃহাকে সম্মান জানাতে বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণাও দিয়েছে ভি মটো বাংলাদেশ। চলমান এই সিরিজে বল হাতে দুর্দান্ত নৈপুণ্য দেখিয়ে যে বাংলাদেশি বোলার সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করবেন, তাঁকে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে একটি আকর্ষণীয় ইলেকট্রিক বাইক পুরস্কার দেওয়া হবে।

সম্প্রতি এক আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভি মটো বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভি মটো গ্রুপের দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের কান্ট্রি ডিরেক্টর মীর ফয়সাল, ভি মটো বাংলাদেশ ও সিমবা মটরস লিমিটেডের চেয়ারম্যান সোহেল বিন আজাদ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) রাজীব নূর।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির ক্রিকেট অপারেশনস ইনচার্জ ও সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার শাহরিয়ার নাফীস এবং মার্কেটিং ও কমার্শিয়াল বিভাগের মো. আসিফুল ইসলাম।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে ক্রিকেট মাঠের উৎকর্ষ উদযাপনের পাশাপাশি প্রযুক্তির নিত্যনতুন উদ্ভাবন ও পরিবেশবান্ধব চেতনাকে এগিয়ে নেওয়ার অভিন্ন লক্ষ্য প্রতিফলিত হয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই গৌরবময় যাত্রার সঙ্গী হতে পেরে এবং একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও স্মরণীয় সিরিজ উপহার দেওয়ার আশা প্রকাশ করেছে ভি মটো বাংলাদেশ।

অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
অটোমোটিভ উদ্ভাবনে শীর্ষে চীনের বিওয়াইডি
ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক অটোমোটিভ উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে জার্মানির বিখ্যাত ভক্সওয়াগেন ও মার্সিডিজ-বেঞ্জকে ছাড়িয়ে শীর্ষস্থান দখল করেছে চীনের নিউ এনার্জি ভেহিকেল উৎপাদক প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি। জার্মানিভিত্তিক স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার অব অটোমোটিভ ম্যানেজমেন্ট (সিএএম)’ প্রকাশিত ‘অটোমোটিভ ইনোভেশনস রিপোর্ট ২০২৬’-এ এই তথ্য জানানো হয়। বৈশ্বিক গাড়ি নির্মাণ শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসে এই প্রথম কোনো চীনা প্রতিষ্ঠান এমন গৌরবময় মাইলফলক অর্জন করল।

প্রতিবেদনের ২২তম সংস্করণে বিশ্বের ৩৬টি বড় অটোমোটিভ গ্রুপের মোট ৮৬৭টিরও বেশি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে মূল্যায়ন করা হয়েছে। সিএএম তাদের নিজস্ব ‘এম.ও.বি.আই.এল’ পদ্ধতির মাধ্যমে এই জটিল মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। এই পদ্ধতিতে অটোমোবাইল উদ্ভাবনগুলোর পরিপক্বতা, মৌলিকত্ব, গ্রাহক উপযোগিতা এবং কার্যকারিতার ওপর ভিত্তি করে স্কোর দেওয়া হয়। চূড়ান্ত ফলাফলে ১৫৭ দশমিক ২ ইনডেক্স পয়েন্ট পেয়ে উদ্ভাবনী সূচকে সবার শীর্ষে জায়গা করে নেয় বিওয়াইডি। অন্যদিকে পূর্ববর্তী চ্যাম্পিয়ন ভক্সওয়াগেন গ্রুপ ১৪৩ দশমিক ১ পয়েন্ট এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ গ্রুপ ১৩৪ দশমিক ২ পয়েন্ট অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে উদ্ভাবনী অটোমোটিভ গ্রুপ হওয়ার পাশাপাশি ‘মোস্ট ইনোভেশন ভলিউম ব্র্যান্ড ২০২৬’-এর মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিও নিজেদের করে নিয়েছে বিওয়াইডি। এই বিশেষ ক্যাটাগরিতে ১০৫-এর বেশি ইনডেক্স পয়েন্ট নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি রেনল্ট ও টয়োটার মতো সুপ্রতিষ্ঠিত বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোকে সহজে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সিএএম-এর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক পাওয়ারট্রেন, আধুনিক ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেম এবং একাধিক বিশ্বমানের উদ্ভাবনই মূলত বিওয়াইডির এই সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি।

পরিবেশবান্ধব ও টেকসই যাতায়াত ব্যবস্থার দিকে বৈশ্বিক রূপান্তরে বিওয়াইডির ক্রমবর্ধমান প্রভাব এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মাধ্যমে পুনরায় প্রমাণিত হলো। নিজেদের তৈরি ব্লেড ব্যাটারি, ডিএম-আই সুপার হাইব্রিড সিস্টেম এবং অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম বা এডিএএস-এর মতো যুগান্তকারী প্রযুক্তির ক্রমাগত উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বব্যাপী বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে সম্পূর্ণ নতুন এক মানদণ্ড তৈরি করছে।

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারেও বিওয়াইডি তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণ করছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দুই ধাপে জমকালো মেগা ডেলিভারি ইভেন্টের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে সরাসরি ৯০টি পরিবেশবান্ধব আধুনিক গাড়ি হস্তান্তর করেছে। দেশের বাজারে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

/আবরার জাহিন

চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে

প্রকাশ: ০৯ জুন ২০২৬, ০৭:১৩ পিএম
চীনের পরিবেশবান্ধব গাড়ি রপ্তানি দ্বিগুণ বেড়েছে
চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি।

চলতি বছরের মে মাসে পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত বা পরিবেশবান্ধব যাত্রীবাহী গাড়ি রপ্তানিতে বিশাল সাফল্য দেখছে চীন। দেশটির যাত্রীবাহী গাড়ি সংস্থার (সিপিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার গাড়ি রপ্তানি ১১২.৬ শতাংশ বেড়ে ৪ লাখ ২৪ হাজার ইউনিটে পৌঁছেছে।  
তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলের তুলনায় মে মাসে রপ্তানি বেড়েছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। একই সময়ে বিদেশে পাঠানো মোট যাত্রীবাহী গাড়ির ৫৪ দশমিক ১ শতাংশই ছিল পরিবেশবান্ধব জ্বালানিচালিত যান, যা এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট বেশি।
রপ্তানিকৃত এনইভিগুলোর মধ্যে ব্যাটারিচালিত বৈদ্যুতিক গাড়ির অংশ ছিল ৫৯ দশমিক ৩ শতাংশ। যদিও এক বছর আগে এ হার ছিল ৬৬ দশমিক ১ শতাংশ। 
সিপিসিএ বলেছে, চীনের অটোমোবাইল শিল্পের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এখন রপ্তানি। অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলনামূলক দুর্বল চাহিদার মধ্যেও চীনা গাড়ি নির্মাতারা লাতিন আমেরিকা ও ইউরোপের মতো বাজারে তাদের উপস্থিতি আরও জোরদার করেছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব অনেকটাই সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে এবং রপ্তানির ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রয়েছে।
সূত্র: সিএমজি বাংলা 

ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ওয়েমোর চালকহীন নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’
ওয়েমোর তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’। ছবি: সংগৃহীত

চালকহীন গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েমো তাদের তৈরি নতুন রোবোট্যাক্সি ‘ওজাই’ উন্মুক্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকো, লস অ্যাঞ্জেলেস ও ফিনিক্সের যাত্রীরা এখন এই স্বয়ংক্রিয় গাড়িতে যাতায়াত করতে পারবেন। প্রাথমিক অবস্থায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সেবা বিনামূল্যে দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

বিশেষভাবে তৈরি এই রোবোট্যাক্সি ওয়েমোর জন্য একটি বড় মাইলফলক। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ বাণিজ্যিক গাড়িকে রূপান্তর করে চালকহীন হিসেবে ব্যবহার করত। ভ্যান আকৃতির এই গাড়িটি বেশ বড় ও প্রশস্ত। এটি টেসলার ছোট আকারের সাইবার ক্যাবের সম্পূর্ণ বিপরীত, যাতে মাত্র দুজন মানুষ মালামালসহ বসতে পারেন।

চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘জিকর’ ওজাই গাড়িটি তৈরি করেছে। পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় ওয়েমোর নিজস্ব কারখানায় এতে স্বয়ংক্রিয় চালনা প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।

গাড়িটিতে যাত্রীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, তিনটি স্ক্রিন এবং চার্জিং পোর্ট রয়েছে। এতে ওয়েমোর ষষ্ঠ প্রজন্মের নতুন চালনা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রযুক্তির ফলে গাড়িটির ক্যামেরা সেন্সর ২৯টি থেকে কমিয়ে ১৩টিতে আনা সম্ভব হয়েছে। এতে লিডার ও রাডার সেন্সরের সংখ্যাও কমেছে। ফলে প্রতিটি গাড়ি তৈরিতে খরচ পড়ছে ২০ হাজার ডলারের কম।

নতুন সফটওয়্যারের জন্য বরফাবৃত ও ঠাণ্ডা শহরের রাস্তায় গাড়িটি চলতে সক্ষম। এর আগে ওয়েমো কেবল উষ্ণ অঞ্চলের শহরগুলোতে সীমাবদ্ধ ছিল। এই সুবিধার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন শিকাগো শহরে তাদের সেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বর্তমানে আমেরিকার ১১টি প্রধান শহরে ওয়েমোর স্বয়ংক্রিয় গাড়ি সেবা চালু রয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ২ কোটিরও বেশি সফল ট্রিপ সম্পন্ন করেছে, যা এই খাতের যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের চেয়ে অনেক বেশি।

তবে চলতি মাসের শুরুতে বন্যার পানিতে গাড়ি চলে যাওয়ার কারণে দুটি শহরে ওয়েমো তাদের সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই ঘটনার পর প্রায় ৪ হাজার গাড়ি ফিরিয়ে নেয় প্রতিষ্ঠানটি।