বিশ্বের সবচেয়ে বড় গাড়ির বাজার চীনে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে জাপানি নির্মাতা টয়োটার নতুন একটি বৈদ্যুতিক গাড়ি। প্রায় ১৫ হাজার মার্কিন ডলার মূল্যের ‘বিজেড৩এক্স’ মডেলের এসইউভি এরই মধ্যে চীনের বাজারে কোনো বিদেশি ব্র্যান্ডের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বৈদ্যুতিক গাড়ির খেতাব অর্জন করেছে।
টয়োটার যৌথ উদ্যোগে ‘জিএসি-টয়োটা’ এই বছরের মার্চে গাড়িটি বাজারে আনে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গাড়িটির অর্ডারের চাপ এতটাই বেশি ছিল যে, জিএসি-টয়োটার সার্ভার ক্র্যাশ করে। প্রথম ঘণ্টায় অর্ডার ছাড়িয়ে যায় ১০ হাজারের ঘর।
বিক্রির দ্বিতীয় মাসে গাড়িটি চীনে ফক্সওয়াগন, নিশান ও বিএমডব্লিউর মতো ব্র্যান্ডগুলোকে পেছনে ফেলে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া বিদেশি গাড়ির স্বীকৃতি পায়। জুনেও সেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ‘বিজেড৩এক্স’।
জিএসি-টয়োটার বিক্রয় বিভাগের মহাব্যবস্থাপক পেং বাওলিন জানিয়েছেন, জুন মাসে গাড়িটির ৬ হাজার ৩০ ইউনিট সরবরাহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত গাড়িটির মোট সরবরাহ ২০ হাজার ইউনিট ছাড়িয়েছে, যা যৌথ উদ্যোগে তৈরি কোনো বৈদ্যুতিক এসইউভির মধ্যে দ্রুততম বিক্রির রেকর্ড।
টয়োটার প্রথম ১ লাখ ইউয়ান বাজেটের বৈদ্যুতিক এসইউভি এটি। গাড়িটি মোট সাতটি সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে, যার সর্বনিম্ন দাম ১ লাখ ৯ হাজার ৮০০ ইউয়ান, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৫৭ হাজার টাকা।
গাড়িটির দুটি সংস্করণে রয়েছে লাইডার প্রযুক্তি, যা চীনে যৌথ উদ্যোগে নির্মিত গাড়ির মধ্যে প্রথম। ‘স্মার্ট ড্রাইভিং’ সংস্করণটির দাম শুরু হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮০০ ইউয়ান বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
গাড়িটির লং-রেঞ্জ মডেলে ৬৭.৯২ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি রয়েছে, যা একবার সম্পূর্ণ চার্জে ৬১০ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। অন্যদিকে বেস মডেলে ৫০.০৩ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারি দেওয়া হয়েছে, যা এক চার্জে ৪৩০ কিলোমিটার রেঞ্জ দেবে।
গাড়িটির ভেতরের নকশায় আধুনিক প্রযুক্তির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে রয়েছে ১২.৩ ইঞ্চির একটি ইনফোটেইনমেন্ট স্ক্রিন ও ৮.৮ ইঞ্চির একটি ড্রাইভার ডিসপ্লে। এ ছাড়া ‘মোমেন্টা ৫.০’ স্মার্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের মাধ্যমে লেভেল-২ অ্যাসিস্টেড ড্রাইভিং ও রিমোট পার্কিংয়ের মতো উন্নত সুবিধাও পাওয়া যাবে।
চীনে যেখানে শাওমির মতো স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলো ঘণ্টায় কয়েক লাখ গাড়ির অর্ডার পায়, সেখানে টয়োটার এই সাফল্যকে ছোট মনে হতে পারে। তবে তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোনো বিদেশি ব্র্যান্ডের জন্য এটি একটি বড় অর্জন।