ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রামু বৌদ্ধ বিহারে একদিন দ্রুত বিদায়ে হতাশ তুরস্ক কোচ ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় বাবা রিকন্ডিশন্ড গাড়িতে বাড়তি কর প্রত্যাহারের আহ্বান বারভিডার আ. লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা মাফিয়া পার্টি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর লজ্জিত আরদা গুলের বেনজিরকে শিগগিরই ফেরত আনা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মালয়েশিয়া ও চীন সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গী ২৮ জন টিনএজ থেকে গ্লোবাল সুপারস্টার চকরিয়ায় শ্রীরামকে অবমাননার প্রতিবাদে বিক্ষোভ রূপগঞ্জে  ব্যবসায়ীর বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন নওগাঁয় ডাকাতি করতে গিয়ে পুলিশের খাঁচায় ৩ ডাকাত আইওএস ২৭-এ আসছে নতুন ফিচার কেমন ছিল রাসুল (সা.)-এর প্রিয় পোশাক রাঙামাটিতে জাম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে শিক্ষিকার মৃত্যু ব্রাজিলের কাছে হেরেও ফুটবলারদের নিয়ে গর্বিত হাইতির কোচ বরকে মিষ্টিমুখ করাতে গিয়ে প্রাণ গেল চাচা শ্বশুরের ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে চুক্তি হতে পারে ১৫-১৭টি : পররাষ্ট্র সচিব চট্টগ্রামে র‍্যাব সদস্য হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার সাতকানিয়ায় মাদরাসায় হামলা ও দেওয়ালে জয় বাংলা লেখার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন মোহনগঞ্জে ধর্ষণ মামলায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার আত্মসমর্পণ এআই ক্যামেরা বন্ধের পেছেন কি তবে ‘ইঁদুরের হাত’ অস্ট্রেলিয়ায় শনাক্ত হলো সংক্রামক এইচ৫ বার্ড ফ্লু রামপুরায় গুলিবিদ্ধ শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্লা পলাশের’ মৃত্যু টুকটুক ও চিকু পাঠ থেকে ২টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ৪র্থ পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বাংলা ৮০তম জন্মদিন ঘিরে ট্রাম্পের ভাগ্যে বড় পরিবর্তনের আভাস জ্যোতিষীদের ৯০ মিনিট খেলতে এখনও প্রস্তুত নন ইয়ামাল ৪৮ লাখ টাকা খরচ করে বিয়ে, ৯ দিন পর বিচ্ছেদ চাইলেন যুবক টাঙ্গাইলে সেপটিক ট্যাংকের বিষাক্ত গ্যাসে প্রাণ গেল ৪ জনের কিংবদন্তি ক্রীড়াবিদ আব্দুস সাদেক আর নেই

সরকারি চাকরির বয়স ৩২ ও ৪ বার বিসিএস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০১:৫০ পিএম
আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম
সরকারি চাকরির বয়স ৩২ ও ৪ বার বিসিএস নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভাবনা
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন। ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ বছর করার দাবিতে চাকরিপ্রত্যাশীরা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। গত আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আন্দোলনটি আরও জোরদার হয়। এরপর তারা বিভিন্ন কর্মসূচিসহ শাহবাগ অবরোধও করে। চলমান ইস্যুতে গত ২৪ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ এবং তিনবারের বেশি বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন এই ইস্যুতে আন্দোলন করে আসা শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি রাজপথে চলছে আন্দোলন-অবরোধও। গত ৩০ অক্টোবর সচিবালয় অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগোতে থাকলে আন্দোলনকারীদের ওপর জলকামান থেকে পানি ছোড়ে পুলিশ। এরপর গত ৩১ অক্টোবর এক বিজ্ঞপ্তিতে চারবার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় অন্তর্বর্তী সরকার। তবে চারবার বিসিএস নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। যারা ইতোমধ্যে চারবার বিসিএস দিয়ে ফেলেছেন, তাদের ব্যাপারে বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়নি। এমন সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন ৩৫ প্রত্যাশী শিক্ষার্থীরা। তবে অনেক শিক্ষার্থী সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, সরকারের এমন সিদ্ধান্ত যৌক্তিক ও সময়োপযোগী। আজকের প্রতিবেদনে এ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের মতামত তুলে ধরছেন খালিদ ফারহান


এনামুল হক
সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
সেশন: ২০১৭-১৮

বাংলাদেশের বিসিএস এর প্রেক্ষাপট বর্ণনায় টুয়েলভথ ফেইল সিনেমার মনোজ (কেন্দ্রীয় চরিত্র) আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আর্থসামাজিক দিক ও বিসিএস সম্পর্কে বাংলাদেশের তরুণদের একটা দিক মনোজ প্রতিনিধিত্ব করে। উন্নয়নশীল দেশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ৭০ ভাগ জনগোষ্ঠী কৃষির উপর নির্ভরশীল। সেই কৃষি পরিবার বা নিম্নবিত্ত অন্যান্য পেশার সাথে জড়িত থাকা পরিবার থেকে যখন কেউ উচ্চশিক্ষা লাভ করে তখন স্বাভাবিকভাবেই সে চেষ্টা করে তার পরিবারের উন্নতির জন্য অথবা নিজেকে শিক্ষিত হিসেবে সম্মানজনক পেশায় দেখার জন্য।

ফলশ্রুতিতে, লেখাপড়া শেষ করেই খুব দ্রুতই একটি চাকরি পাওয়া আমাদের সমাজের প্রেক্ষাপটে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। যার জন্য দেখা যায়, পাবলিক বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশিই চাকরির প্রস্তুতি নেয়া শুরু করে। সেই শুরু থেকে যদি চক্রাকারে ঘুরতে-ঘুরতে ২৪ থেকে ৩৫ বছর পর্যন্ত চলে যায়, অথবা এই ১১ বছরে ৭-৮টি বিসিএস দিয়ে ব্যর্থ হয়ে হতাশায় পর্যবসিত হয়, তখন তা রাষ্ট্র বা সমাজের জন্য একজন শিক্ষার্থীকে দারুণভাবে অপচয় করা ছাড়া আর কিছুই নয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সরকারি চাকুরিতে বয়সসীমা ৩৫ বছর একটি অযৌক্তিক ভাবনা বলে আমি মনে করি। ৩৫ বছরে পাশ করে একজন ব্যক্তির চাকরিতে জয়েন করতে বয়স হবে ৩৭ বছর-যা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে খুবই বেশি। কেননা যেখানে ২৫ লাখের উপর বেকার তরুণ চাকরি পাচ্ছেনা অথবা বছরের পর বছর সরকারি চাকরির পিছনে পড়ে থাকছে, তখন এর প্রভাব পুরো সমাজেই পড়ছে। ৩০ বছর বয়সেই চাকরি না পেয়ে প্রচন্ড হতাশায় আত্মহত্যার খবরও আমরা দেখেছি, তাই ৩৫ বছর পর্যন্ত সরকারি চাকরির জন্য পড়ে থাকা মেধার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। যার জন্য করোনা বা অন্যান্য অসুবিধা সাপেক্ষে ৩২ বছর-ই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের জন্য যথাযথ মনে করি। আর এই সময়ের মধ্যে একজন ব্যক্তি ৩-৫ বার বিসিএস পরীক্ষায় বসতে পারাটাই যৌক্তিক মনে করি। দিনের পর দিন অসংখ্যবার বিসিএস পরীক্ষার জন্য বসে থেকে হতাশ হওয়ার চেয়ে একটা টাইম ফ্রেম বেঁধে দেয়াটাই যৌক্তিক মনে করি। 

এরপরও কতবার বিসিএস দেয়া যাবে এই বিষয়টি আরো বিস্তারিত আলোচনা বা পর্যালোচনার দাবি রাখে। কিন্তু বয়সের ব্যাপারটি ৩৫ আমি অযৌক্তিক ই বলবো।

এন এম রাসেল
সমাজকর্ম বিভাগ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
সেশন: ২০১৭-১৮

সরকারি চাকরির মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের প্রথম পছন্দের তালিকার শীর্ষে থাকে বিসিএস ক্যাডার। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের চারবার বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমার মতো সদ্য স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পাস করা প্রার্থীদের অনেকে হতাশ করেছে। 

একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি মূলত অনেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন, যার দরুন এত ভালো প্রস্তুতি নেওয়াটা অনেকের পক্ষেই প্রায় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তার জন্য অনেকেই প্রথমবার বিসিএস দিলে এতটা প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দিতে পারে না। অনেক বড় ভাই-আপুর থেকে জানতে পাই যে, তাদের কেউ কেউ ৫/৬/৭ বার পরীক্ষা দিয়ে ক্যাডার হতে পেরেছিলেন। এ দেশের বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সংকটের জন্য নিজের পড়াশোনার খরচ নিজেই বহন করেন। সেক্ষেত্রে বিসিএস পরীক্ষাকে সীমাবদ্ধতায় রাখা ঠিক হবে কি?- আপনাদের কাছে প্রশ্ন রাখলাম। স্বপ্নে যদি সীমাবদ্ধতা থাকে তাহলে স্বপ্ন শিকড়েই নষ্ট হয়ে যাবে। আমাদের মতো যারা টিউশন অথবা ক্লাস শেষে আলাদা কাজ করে অর্থ জোগান দিয়ে পড়াশোনা চালান, তাদের জন্য এই সিদ্ধান্ত হতাশা সৃষ্টি করবে। আশা রাখি, বর্তমান সরকার আরও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তে উপনীত হবে।

শাহরিন জান্নাত নীরা
তৃতীয় বর্ষ, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কতবার বিসিএস দিতে পারবেন- এমন সময় বেঁধে দেওয়ার দিকে মনোযোগ না দিয়ে বরং এক একটা বিসিএসের সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়াকাল (প্রিলি-রিটেন-ভাইভা, ভেরিফিকেশন ও গ্যাজেট প্রকাশের সময়কাল) কী করে সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্য সম্পন্ন করা যায়, তার দিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়াটা জরুরি বলে আমি মনে করি।

তাছাড়া প্রথমে পিএসসির পূর্ণ সদস্য গঠন করে আগের ঝুলে থাকা নিয়োগগুলো সম্পন্ন করা উচিত, যাতে পরবর্তী বিসিএসগুলোয় এই সুদীর্ঘ কালক্ষেপণ কমিয়ে আনা যায়। 

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিসিএস ক্যাডার হওয়া বেশির ভাগেরই স্বপ্নের পেশা। সেক্ষেত্রে শুরুতেই এভাবে এত কম সময় (চারবার) বেঁধে দেওয়ার কারণে যারা পূর্বেই কয়েকবার পরীক্ষা দিয়ে ফেলেছেন- এমন প্রার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যারা একদমই নতুন, তারা টিকে থাকতে না পেরে বৈষম্যের শিকার হবে বলে আমি মনে করি। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে ছয়বার আইসিএস দেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে। 

যেহেতু চাকরির বয়স ৩২ করা হবে, বাংলাদেশে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ কতবার দিতে পারবেন তা একান্তই বেঁধে দিতে হলে ন্যূনতম পাঁচ থেকে সাতবার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে বলে আমি মনে করি।


মো. আমান উল্লাহ খান 
পপুলেশন সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় 
সেশন: ২০১৬-১৭

বাংলাদেশের বৃহৎ যুবসমাজকে কাজে লাগাতে পারলে দেশের উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত হবে। তবে দেশে সরকারি এবং বেসরকারি চাকরির বাজার বৃদ্ধি করে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিই নতুন বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ।  
সরকারি চাকরিতে বয়সের প্রবেশসীমা বৃদ্ধিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। কারও মতে, এতে যুবসমাজ উপকৃত হবে। আবার কেউ দাবি করছেন বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে বেকারত্ব হারের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।

বয়স নির্ধারণে পৃথিবীব্যাপী যে প্যারামিটারকে প্রাধান্য দেওয়া হয় তা হলো, সে দেশের নাগরিকদের গড় আয়ু এবং তাদের শারীরিক সম্ভাবনার গড় অবস্থা। সেই হিসাবে বাংলাদেশে সরকারি চাকরির বয়স বৃদ্ধি করে ৩২ বা ৩৫ করা অযৌক্তিক নয়। তবে চারবার বিসিএস পরীক্ষাদানের সীমাবদ্ধতা নাগরিক অধিকারের ওপর চরম হস্তক্ষেপ। ফলে রাষ্ট্রকে বয়স থাকাকালীন সরকারি চাকরিতে নাগরিকদের সুযোগ প্রদানের সীমাবদ্ধতা নির্ধারণের মধ্য দিয়ে নাগরিক জীবনের ওপর হস্তক্ষেপের সুযোগ দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।

যুবসমাজের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে রাষ্ট্র তার সক্ষমতার প্রমাণ দিক, নাগরিকের ওপর অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ করে নয়।

জান্নাতুন নাঈম 
রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
১৭ ব্যাচ (দ্বিতীয় বর্ষ)

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদের নতুন সিদ্ধান্তে ৩৫ প্রত্যাশী আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট নয়। তাদের দাবি, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৫ (পুরুষ) এবং ৩৭ (নারী) করার পাশাপাশি অন্তত আটবার বিসিএসে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হোক। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের এ দাবি সরকার মেনে নিলে সেটি দীর্ঘ মেয়াদে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

প্রথমত, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়ালে অবসরের বয়সসীমাও বাড়াতে হবে। এর ফলে দীর্ঘ মেয়াদে বেকারত্ব কমার পরিবর্তে বাড়বে। স্বাভাবিকভাবে একজন ৩২ বয়স্ক এবং ষাটোর্ধ্ব চাকরিজীবীর কর্মক্ষমতা ও সৃজনশীলতা অসমান হবে।

দ্বিতীয়ত, একাধিকবার বিবিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলে চাকরিপ্রার্থীদের নতুন কোনো সুযোগ না খুঁজে সরকারি চাকরি না হওয়া পর্যন্ত বিসিএস এবং সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রবণতা থেকে যাবে। ফলে চাকরিপ্রার্থীদের একটা দীর্ঘসময় বেকার থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে। 

সেক্ষেত্রে সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ এবং বিসিএস পরীক্ষায় সর্বোচ্চ চারবার অংশগ্রহণ নির্ধারণ করে দেওয়া যৌক্তিক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে।

হাসান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ এএম
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ: উচ্ছ্বাসে ভরা প্রবেশিকা
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (৫৫তম ব্যাচ) স্নাতকের নবীন শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডায়েরি, ক্লাস ব্যাগ ও বার্ষিক ক্যালেন্ডার দিয়ে বরণ করে নেয়। বিভিন্ন অনুষদের প্রায় দুই হাজার নবীন শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন নবীনদের একাডেমিক পড়াশোনা ও গবেষণায় মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবন, আবাসিক হল, নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ রাস্তাসহ নানা সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। নবীন শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আশা-আকাঙ্ক্ষা জানতে চান এবং যথাসম্ভব সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছ। তোমরা এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিজেকে দেশের যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

এর আগে ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিটি বিভাগের নবীন শিক্ষার্থীরা বাহারি রকমের গাছের চারা রোপণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, “তোমরা কঠোর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখে দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় ঐতিহ্যের অংশ হতে পেরে এক অনন্য সুযোগ লাভ করেছ। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়; এটি মুক্তবুদ্ধি চর্চা, সংস্কৃতি এবং আত্ম-আবিষ্কারের এক বিশাল মঞ্চও বটে।”

তিনি আরও বলেন, “এখানে তোমাদের এই নতুন পথচলাকে সফল করতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা জরুরি। আমরা চাই তোমরা শুধু পুঁথিগত বিদ্যায় শিক্ষিত না হয়ে, একজন মানবিক, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠো। সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগাও, নিয়মানুবর্তিতা মেনে চলো এবং নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে অবিচল থাকো। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম-কানুন ও মূল্যবোধ মেনে চলে তোমরা এই প্রতিষ্ঠানের সম্মান আরও উজ্জ্বল করবে, এটাই আমার প্রত্যাশা।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. শামসুল আলম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আব্দুর রবসহ অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

আমান/এএফ

জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১০:৪৩ পিএম
জাবিতে শিক্ষামন্ত্রীর আগমনে ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের প্রবেশিকা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তন সংলগ্ন রাস্তায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় তাদের হাতে ‘একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দেওয়ায় উপাচার্যকে অভিনন্দন’, ‘জুলাই বিচারের নামে অশ্বডিম্ব পাড়ায় অভিনন্দন’, ‘ভবন নির্মাণ is going well, গবেষণা is no more’সহ বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।

ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদের প্রচার সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলা বলেন, “বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে শুরু করে একাডেমিক সব কাজেই চরম অদক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিচারের নামে প্রহসন, একাডেমিক নিপীড়কদের ক্রমাগত দায়মুক্তি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে অপরাধীদের আশ্রয়স্থলে পরিণত করেছেন। ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার ঘটনার দুই মাস পার হয়ে গেলেও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। এসব বিশৃঙ্খলার বিষয়টি শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টিতে আনতেই আমরা এ প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করেছি।”

জাবি ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ইমন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি থেকে শুরু করে সার্টিফিকেট উত্তোলন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা হয়রানি ও অবিচারের শিকার হচ্ছেন। অভ্যুত্থানের পর উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েও একাডেমিক কিংবা প্রশাসনিক ক্ষেত্রে সামান্যতম পরিবর্তন আনতে পারেননি। এই ব্যর্থতার দায় মনে করিয়ে দিতেই আজকের কর্মসূচি। যতদিন শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত না হবে, ততদিন আমাদের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।”

আমানউল্লাহ/এএইউ

চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:১৫ পিএম
চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দৈনিক মজুরি ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টা থেকে নতুন প্রশাসনিক ভবনের নিচে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী অবস্থান করেছেন।

প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে আসা এসব কর্মচারীদের মধ্যে অনেকেই ৯ থেকে ১৪ বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন ১১৭ জন কর্মচারী রয়েছেন। জ্যেষ্ঠরা ২০১৩ সালে এবং সর্বশেষ ২০১৭ সালে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সময় আন্দোলনকারীরা ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও, লড়াই করো’, ‘লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই’, ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

কর্মচারীরা জানান, মাত্র ১৬,৫০০ টাকা বেতনে সংসার চালানোই কষ্টকর। কোনো লিখিত ছুটি, বোনাস বা অন্যান্য সুবিধা নেই। সন্তানের লেখাপড়া ও চিকিৎসার মতো মৌলিক প্রয়োজনগুলোও তাদের কাছে বিলাসিতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রশাসন চাকরি স্থায়ীকরণের আশ্বাস দিলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

শহিদ ফেলানি খাতুন হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মো. আবু রায়হান বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে দৈনিক মজুরিতে কাজ করে যাচ্ছি। বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও কিছুই হয়নি। সম্প্রতি ১৫ জন গার্ডের যে সার্কুলার হয়েছে, সেখানকার বয়সসীমা আমাদের অনেকেরই পার হয়ে গেছে। এতদিন স্থায়ী করার কথা বলে এখন আবেদন করতেও পারছি না।”

অবস্থান কর্মসূচির একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে। সুফিয়া কামাল হলের হল অ্যাটেনডেন্ট মোহাম্মদ নাইম বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে, শুরুতে ব্যানারে তারেক রহমানের ছবি থাকায় উপর মহলে গোয়েন্দা সংস্থার নেগেটিভ ধারণা হয়েছে। এজন্য প্রশাসন লিখিত ক্ষমাপ্রার্থনা চেয়েছে।”

তিনি আরও জানান, প্রশাসন এখন তাদের নিয়োগের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং তদন্ত করবে বলে জানিয়েছে। অথচ নিয়োগের সময় সার্কুলার প্রকাশিত হয়েছিল এবং ইউজিসি অনুমোদিত সিন্ডিকেটে অনুমোদন হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারী বলেন, “ইঙ্গিতে বলা হচ্ছে আমাদের নিয়োগ অবৈধ। এটা আমাদের জন্য পরোক্ষ হুমকি। ন্যায্য দাবি তুললেই যদি চাকরিটাও চলে যায়, তাহলে আমরা কোথায় দাঁড়াব? এতদিন কেন বলা হয়নি যে চাকরি অবৈধ? শুধু আশ্বাসই দেওয়া হয়েছে।”

আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে আগামী রবিবার থেকে আরও তীব্র ও লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন।

আমানউল্লাহ/ এএফ

কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:২২ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৪:৩৩ পিএম
কিউএস র‍্যাঙ্কিংয়ে আবারও দেশসেরা নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
ছবি: বিজ্ঞপ্তি

কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাঙ্কিংস ২০২৭-এ আবারও বাংলাদেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ)। এবারের র‍্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি ৯০১–৯৫০ ব্যান্ডে স্থান পেয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় এক ধাপ অগ্রগতি নির্দেশ করে।

এ বছর বিশ্বের ১,৫০৪টি বিশ্ববিদ্যালয়কে মূল্যায়নের আওতায় এনে র‍্যাঙ্কিং প্রকাশ করেছে কিউএস। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান নির্ধারণে এটি বিশ্বের অন্যতম স্বীকৃত সূচক হিসেবে বিবেচিত। একাডেমিক সুনাম, কর্মসংস্থান সক্ষমতা ও স্নাতকদের অর্জন, শিক্ষার্থীদের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে এ মূল্যায়ন করা হয়।

র‍্যাঙ্কিংয়ে অন্তর্ভুক্ত বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, যার পরেই রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। সরকারি ও বেসরকারি—উভয় ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে পর্যায়ে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির অবস্থান তৃতীয়। একই সঙ্গে এটি দেশের সর্বোচ্চ স্থানপ্রাপ্ত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান বজায় রেখেছে।

এনএসইউর উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী বলেন, “দেশের শীর্ষ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অবস্থান ধরে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার প্রতিফলন। এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বিশ্ববিদ্যালয়কে শিক্ষা, গবেষণা এবং বৈশ্বিক সম্পৃক্ততায় আরও উৎকর্ষ সাধনে অনুপ্রাণিত করবে।”

রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০১:৫৮ পিএম
রাবির জিএস আম্মারের বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ
ছবি খবরের কাগজ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে নবাব আব্দুল লতিফ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নুরুল ইসলাম শহিদকে হেনস্তার  অভিযোগ উঠেছে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন আম্মার।

বুধবার (১৭ জুন) রাত ১০টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ অভিযোগ করেন নুরুল ইসলাম শহিদ।

পোস্টে শহিদ উল্লেখ করেন, আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার মধ্যকার বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচ উপলক্ষে তিনি তার হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে হবিবুর রহমান হল মাঠে খেলা দেখতে যান। খেলার প্রায় ৩০ মিনিটের সময় রাকসুর ভিপি মুস্তাকুর রহমান জাহিদ এবং হবিবুর রহমান হল সংসদের জিএস আশিক শিকদার তাকে তাদের পাশে বসে খেলা দেখার জন্য ডাকেন। পরে তিনি এলইডি স্ক্রিনের পাশে সুতা দিয়ে ঘেরা নির্ধারিত স্থানে গিয়ে ভিপির পাশে বসেন।

তিনি আরও দাবি করেন, সেখানে বসার প্রায় এক মিনিট পর রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহ-ক্রীড়া সম্পাদক আবু সাঈদ সামি এসে তাকে ওই স্থান থেকে সরে যেতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে আম্মার তার গেঞ্জির কলার ধরে টানাটানি করেন এবং সেখানে কেউ অবস্থান করতে পারবেন না বলে জানান। একপর্যায়ে তাকে জোরপূর্বক দড়ির ভেতরের নির্ধারিত স্থান থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

মারধরের অভিযোগ প্রসঙ্গে সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, ‘দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি তার গায়ে স্পর্শও করিনি। তার টি-শার্টেও হাত দিইনি। তিনি আমার প্রতি যে ভাষা ব্যবহার করেছেন, তার জবাবও আমি দিইনি। অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই তাকে স্থান পরিবর্তনের অনুরোধ করা হয়েছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাকসুর আয়োজনে খেলা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে সবাইকে সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মাঠের বাম পাশে ছাত্রীদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ফলে স্ক্রিনের সামনে কেউ অবস্থান করলে তাদের খেলা দেখতে সমস্যা হচ্ছিল। দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি ওই এলাকায় অবস্থান করছিলেন এবং কাউকে সেখানে দাঁড়াতে দিচ্ছিলেন না।’

তিনি বলেন, ‘শহিদ সেখানে আসার পর পেছনে বসা শিক্ষার্থীরা খেলা দেখতে পারছিল না। তাই আমি তাকে স্ক্রিনের ডান পাশে গিয়ে বসার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি সেখান থেকে বের হয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে চলে যান।’

এ বিষয়ে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ’দঁড়ির ভেতরে বসাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। তবে এর আগে কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। খেলা চলাকালীন তাদের তর্ক-বিতর্কে খেলার পরিবেশ ও শৃঙ্খলা ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি থামিয়ে দিয়েছি। তবে বিরোধের মূল কারণ সম্পর্কে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।’

শাকিবুল হাসান/খাদিজা রুমি/