নারী শিক্ষার্থীদের শতভাগ আবাসিকীকরণ নিশ্চিতকরণের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে সাড়ে ৫ ঘণ্টা প্রতীকী অনশন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল ছাত্রী।
সোমবার (৬ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে এ কর্মসূচি শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় ১৫ শিক্ষার্থী।
পরে দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টায় আলোচনার জন্য আহ্বান জানান তারা।
পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শর্তসাপেক্ষে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্তে রাজি হয়ে কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন শিক্ষার্থীরা।
প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান ইমু বলেন, ‘ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রথম বর্ষের নারী শিক্ষার্থীরা আবাসনের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং ক্যাম্পাসের বাইরে অনিরাপদ পরিবেশে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছে। এই বাস্তবতা উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া রীতিমতো প্রহসনের সামিল। কাজেই নারী শিক্ষার্থীদের অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা ও অন্যান্য দাবি আদায় করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নারীবান্ধব করে তোলার আগ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’
ফের অনশনে বসার কথা জানিয়ে ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা আগামী বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করব। যদি দেখা যায় তারা কোনো শর্ত পূরণে অপরাগতা দেখিয়েছেন তাহলে আমরা বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আবার অনশনে বসব।’
তিন শর্তে আলোচনায় বসবেন জানিয়ে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া সুলতানা প্রমি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা করা হবে বলা হয়েছে। তবে আমরা তিনটি শর্তে আলোচনায় যাব- অস্থায়ী আবাসনের কী ব্যবস্থা করবে সে বিষয়ে একটা সিদ্ধান্ত নেবে, প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যের ভিত্তিতে কাদের সিট জরুরি অ্যাপ্লিকেশন কল করে ডিপার্টমেন্টভিত্তিক বিজ্ঞপ্তি দিতে হবে, নতুন হল মূল ক্যাম্পাসেই হবে। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী নিশ্চিত করে কোথায় হবে জানাতে হবে।’
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ছাত্রীদের আবাসনসংকট নিরসনে ঢাবি প্রশাসনের বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ছাত্রীদের আবাসনসংকট নিরসনের লক্ষ্যে ২ হাজার ৮৪১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ‘চারটি ছাত্রী হলের বর্ধিত ভবন নির্মাণ প্রকল্প’ অনুমোদনের জন্য সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে প্রায় ৩ হাজার ছাত্রীর আবাসনের ব্যবস্থা হবে।
এই প্রকল্পে শাহনেওয়াজ হোস্টেল ভেঙে ১৫ তলা বিশিষ্ট একটি ছাত্রী হল নির্মাণ, ১০ তলা ও ৬ তলাবিশিষ্ট শামসুন নাহার হলের দুটি সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণ, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের বিদ্যমান স্টাফ কোয়ার্টার বি এবং ডি ভবন ভেঙে ১১ তলা ও ৮ তলাবিশিষ্ট দুটি ভবনের সমন্বয়ে একটি ছাত্রী হল নির্মাণ এবং ১০ তলা বিশিষ্ট কুয়েত মৈত্রী হলের সম্প্রসারণ ভবন নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, চীন সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ২৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রস্তাবিত ‘বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হল নির্মাণ প্রকল্পটি’ বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে ছাত্রী হল নির্মাণে সহযোগিতার ব্যাপারে তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
এ ছাড়া বিশ্ব ব্যাংকের হিট প্রজেক্টের (হায়ার এডুকেশন এক্সেলেরেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন প্রজেক্ট) আওতায় ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য আবাসন বৃত্তি চালুর বিষয়টিও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে যেসব ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি হবে, তারা এই বৃত্তির আওতায় আসবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
আরিফ/নাবিল/