২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনকে ডামি নির্বাচন আখ্যায়িত করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ডামি নির্বাচন প্রদর্শনী ও ভোটদান প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস রাইটস ওয়াচ প্লাটফর্মের আয়োজনে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছাড়াও বেশ কয়েকজন সাধারণ মানুষকে অংশ নিতে দেখা যায়।
প্রতিযোগিতায় এক মিনিটের মধ্যে প্রতীকী ব্যালটে শুধু নৌকা প্রতীককে কতগুলো ভোট দিতে পারেন তা দেখা যায়। সর্বোচ্চ ভোট প্রদানকারীর জন্য রাখা হয় পুরস্কারের ব্যবস্থা।
সরজমিনে দেখা যায়, শিশু, কাফনে মোড়ানো মৃত ব্যক্তি, এক ব্যক্তি একাধিকবার ভোট দেন।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে ভোট প্রদান করতে টাকা দেন ডামি আওয়ামী লীগ নেতারা। এছাড়া ঘটে প্রতীকী বিচ্ছিন্ন মারধরের ঘটনা।
কথা হয় এই অভিনব প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শেখ হাসিনা একটি ডামি নির্বাচনের আয়োজন করে। খুব কম সংখ্যক মানুষ ভোট প্রদান করলেও নির্বাচন কমিশন জানায় প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ ভোট প্রদান করেছে। আমরা এবার সবাইকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি যেন সবাই ভোট দিতে পারে। বিশেষ করে যারা গত বছর ভোট দিতে পারেনি, তাদের জন্যও আমরা ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা রেখেছি।’
বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সব ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছিল। নির্বাচনের নামে তামাশা, নিজেরাই প্রধান দল আবার তারাই বিরোধী দল হিসেবে অংশ নিত। যেখানে মৃতব্যক্তি এসে ভোট প্রদান করেছিল। এজন্য আমরা আজকে ডামি ভোট প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছি। এখানে অনেকে প্রতীকী ভোট দিয়েছে, আমরাও তাদের ভোটের জন্য ডামি টাকার নোট দিয়েছি।’
এ দিকে ভোট দিতে আসেন একই বিভাগের শিক্ষার্থী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নির্বাহী কমিটির সদস্য মাহিন সরকার। নির্বাচন প্রদর্শনী ও ভোটদান প্রতিযোগিতায় এসে তিনি নৌকা প্রতীকে দশটি ভোট দিয়েছেন।
খবরের কাগজকে মাহিন বলেন, ‘আজকের এমন আয়োজনের মধ্যে গত ২৪ এর নির্বাচনের চিত্র ফুটে উঠেছে। আজকের এই ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারকে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে যেন ভবিষ্যতে এরকম ঘটনা আর ঘটতে না পারে।’
এ সময় আয়োজকরা ‘ভোট সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে’, ‘মধ্য রাতের ভোট’, ‘ডামি নির্বাচন’, ‘দ্যা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী’, ‘আপনার বাবার ভোটও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাবা তো মৃত’- ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন এবং ‘নৌকা-নৌকা’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’। এতে ২৯৮ আসনের মধ্যে ২২৪ আসনে জয়ী হয়েছিল নৌকার প্রার্থী। এ জয়ের মধ্যদিয়ে টানা চতুর্থবার সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।
আরিফ জাওয়াদ/নাবিল/এমএ/