ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক বর্তমান বাজেটে অর্থনৈতিক সংস্কারের সুযোগ নেই: নাহিদ ইসলাম উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন শেষ ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের ছয় হাসপাতালকে আদ্‌-দ্বীনের রোগী ভর্তি নিতে নির্দেশ হজ পালন শেষে দেশে ফিরলেন ৫২, ৪৯১ হাজি সরকার ব্যাংকমুখী নয় গণমানুষের বাজেট ঘোষণা করেছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘণ্টাব্যাপী বিভ্রাটের পর স্বাভাবিক ফেসবুক চট্টগ্রামে ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রস্তুতি গ্রহণ দেশপ্রেমের কালজয়ী কণ্ঠকে শিল্পকলার বিশেষ সম্মাননা কুলাউড়া সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত দেশের ভঙ্গুর অবস্থায় ভালো বাজেট হয়েছে: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী শিল্পের ক্যানভাসে তিন প্রাণের সেতুবন্ধন জনকল্যাণমুখী বাজেটের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ
Nagad desktop

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্বপ্ন কতদূর !

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৫, ০২:৩০ পিএম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্বপ্ন কতদূর !
পাখির চোখে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত জায়গা। ছবি: সংগৃহীত

উনিশ বছর পেরিয়ে ২০ বছরে আজকের আধুনিক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কলেজ হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তবে এ দুই দশকে এখনো অনাবাসিক তকমা মুছতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয়টি। সময়ে-অসময়ে শিক্ষার্থীদের বহুবিধ আন্দোলন-সংগ্রামের পর ২০২০ সালে শুধু ছাত্রীদের জন্য একটি আবাসস্থল ছাড়া আর কোনো আবাসন নেই এ ক্যাম্পাসে।

যদিও ২০১৬ সালে হলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তুমুল আন্দোলন করলে ২০১৮ সালে তৎকালীন সরকারপ্রধান কেরানীগঞ্জে ২০০ একর জায়গায় একটি আধুনিক ও মানসম্মত ক্যাম্পাস তৈরি করার ঘোষণা দেয়। শিক্ষার্থীরা তখন রাজপথের আন্দোলন গুটিয়ে নিয়ে পড়ার টেবিলে ফিরে যায়।

শিক্ষার্থীদের আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে ২০১৮-২০২৪ এ ছয় বছর পার হলেও এখনো কেন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সুফল হিসেবে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের অগ্রগতি নেই। বারবার কেন শিক্ষার্থীদের একটি মৌলিক অধিকারের জন্য আন্দোলন করতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই যুগে বহু প্রশাসনের রদবদল হয়েছে। ধারাবাহিক পরিবর্তনে এক উপাচার্য কিংবা কোষাধ্যক্ষ থেকে শুরু করে প্রতিটি চেয়ারে একজনের বদলে আরেকজন আসছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের স্বপ্ন যেন স্বপ্নই রয়ে গেল। আবাসন সংকট নিয়ে যেখানে পুরান ঢাকার অলিগলি থেকে শুরু করে সর্বত্র অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে লড়াই করে টিকে থাকতে হয় এখানকার অধ্যায়নরত প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। তারপরও কেন এত উদাসীন আচরণ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন প্রশ্নও রেখেছেন একাধিক শিক্ষার্থী। 

৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আবারও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ইস্যুতে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে এসে পুরো প্রকল্প সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরসহ রাজপথে তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত গত ১১ নভেম্বর তিন দফার আন্দোলন পাঁচ দফায় গিয়ে সচিবালয়ে ঘেরাও এর মতো কর্মসূচিতে গিয়ে ঠেকে। তারপরও যখন কোনো সুরাহা হয়নি এবার আবারও আমরণ অনশন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। 

আজ সকাল ৯টা থেকে দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত অনশনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

ধারাবাহিক এসব আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সম্মুখ সারির শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের অভিমত তুলে ধরা হয়েছে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্প এবং আবাসন সংকটের বিষয়ে। 

দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ধীরগতি ও আবাসন সংকটের বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ যোদ্ধা ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ইস্যুতে অনশন কর্মসূচির ঘোষক আন্দোলনকারীদের অন্যতম ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফেরদৌস শেখ বলেন, ‘এভাবে আসলে আমাদের স্বপ্ন নিয়ে আর কেউ খেলা করতে পারে না। জুলাই বিপ্লবে একবার জীবন দিতে দিতে শেষ মুহূর্তে বেঁচে ফিরলেও আবার দরকার হলে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েও দাবি আদায় করব ইনশাআল্লাহ। আমরা নতুন বাংলাদেশে কোনো বৈষম্য দেখতে চাই না। রাজপথে আর কত শত বুলেট কিংবা মিছিলের ঝান্ডা উড়ালে হাজারো জবিয়ানের লুণ্ঠিত মৌলিক স্বপ্ন পূরণ হবে?’

তিনি আরও বলেন, ‘পুরান ঢাকায় মেসে থেকে অনেক শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়াশোনা তো দূর খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত করতে পারে না। যেখানে বেশির ভাগ শিক্ষার্থীকে টিউশনি করে চলতে হয় জীবন চালিয়ে নেওয়ার জন্য সেখানে আবাসন সংকট কতটা গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কি বুঝে না। এবার আমরা আর খালি হাতে ফিরতে চাই না। এবার হয় মরব নতুবা দাবি আদায় করে ফিরব।’ 

দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও আবাসন সংকট নিয়ে আন্দোলনরত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী ফয়সাল মুরাদ বলেন, ‘অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সব সময় সোচ্চার ছিলাম এবারই আছি। যেহেতু সেনাবাহিনীর হাতে কাজ হস্তান্তরে ধীরগতি এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিয়েছে এজন্য আমি এবং ফেরদৌস দুজনে আগামী রবিবার আমরণ অনশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে আমরা অবাক হয়ে গেলাম আমাদের এ অনশনের খবর শুনে একের পর এক শিক্ষার্থীও সংহতি প্রকাশ করে আমরণ অনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এগুলো দেখার পরও কি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের কষ্টগুলো দেখে না, বুঝে না। তবে এবার আর নয়। হয়তো আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে সফল হব নতুবা নিজেকে বিলিয়ে দেব জুলাই বিপ্লবের শহিদের মতো।’ 

বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো যৌক্তিক আন্দোলনের সামনে থেকে নেতৃত্বদানকারী শিক্ষার্থী ও দ্বিতীয় ক্যাম্পাস আন্দোলনের সংগঠক কে এম এম রাকিব বলেন, ‘এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যা করছে আমাদের সঙ্গে তা একেবারে অযৌক্তিক এবং অন্যায়। আমরা একটু যৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমেই এর সুরাহা করতে চেয়েছি কিন্তু তারপরও দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে আমাদের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জগন্নাথের একজন শিক্ষার্থী জানেন তার প্রতিনিয়ত কতটা লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে টিকে থাকতে হয়। আমরা চাই অনতিবিলম্বে দ্বিতীয় ক্যাম্পাস প্রকল্পটি সেনাবাহিনী হাতে হস্তান্তর করে হাজারো জবিয়ানের অস্থায়ী আবাসন সমস্যা দ্রুত সমাধান করুক।’

নবীন শিক্ষার্থীদের আক্ষেপের কথা জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মায়িশা ফাহমিদা ইসলাম বলেন, ‘হলবিহীন একজন মেয়ে শিক্ষার্থীর কী কষ্ট সেটা মনে হয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জানে না। এমনকি তারা কখনো সেটা বুঝতেও চায় না। পুরান ঢাকার মতো এমন পরিবেশে আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি কখন কোন বিপদ এসে হানা দেয়। আর একেবারে নবীন হলে তো কোনো কথা নেই। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদের।’

/আবরার জাহিন

রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ০২:১৬ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম
রাবির নতুন জনসংযোগ প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান
ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান।

একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (১১জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।

​আদেশে বলা হয়, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ থেকে তাকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। 

একই দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামানকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা হারে সম্মানী পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।

অধ্যাপক ড. এস. এম. কামরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিএম ও এমএস এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুলব্রাইট ফেলোশিপ’ পান।

তিনি ​২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করা এই গবেষক ২০১৭ সালে অধ্যাপক হন। তার প্রধান গবেষণার বিষয় প্লেটলেট বায়োলজি, ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইনোলজি ও ক্যান স্টেম সেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সাথে সক্রিয় আছেন।

​উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রশাসনের পদত্যাগের পর, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।

শাকিবুল হাসান/তামান্না রুপা/

জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৬, ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ১২ জুন ২০২৬, ০১:৫৬ পিএম
জাবি শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের প্রতিবাদে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শরীফ হোসাইন রওশানকে নেত্রকোনায় অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ।

বুধবার (১০ জুন) রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘ছাত্রলীগ নিপীড়ন করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ সহ বিভিন্ন ছাত্রলীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের নেতারা অভিযোগ করেন, রওশানকে নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যরা অপহরণ ও নির্যাতন করেছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।

শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মমিনুল ইসলাম শাওনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, এ ঘটনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতান-উল-মুলক খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়ার নিন্দা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের নিরবতার সমালোচনা করে বিএনপি সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে'।

আমানউল্লাহ/থিও

আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আবাসন বৃত্তির অর্থ পাচ্ছে জবি শিক্ষার্থীরা
ছবি: সংগৃহীত

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত বিশেষ আবাসন বৃত্তি বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে শিক্ষার্থীদের মাঝে ৯ হাজার টাকা করে বৃত্তির চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে বহুল আলোচিত এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে চেক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচ থেকে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ২০তম ব্যাচ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১২৪ জন শিক্ষার্থী এ বিশেষ বৃত্তির আওতায় এসেছেন। উদ্বোধনী দিনে প্রতীকীভাবে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির সৌজন্যে প্রথম কিস্তির ৯ হাজার টাকার চেক শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

বৃত্তির অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, “চলতি সপ্তাহেই বৃত্তির অর্থ বিতরণের মূল পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে ফ্যাকাল্টিভিত্তিক শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং তাদের ব্যাংক-সংক্রান্ত তথ্য অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। বৃত্তির অর্থ বিতরণের সার্বিক পদ্ধতি নিয়ে আগামীকাল বৃত্তি কমিটির একটি জরুরি সভা আহ্বান করা হয়েছে, যেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি বাস্তবায়নে আমাদের প্রশাসন অত্যন্ত আন্তরিক ও বদ্ধপরিকর। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকটের কথা বিবেচনা করেই এই বিশেষ বৃত্তির অর্থ দ্রুত বিতরণের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। শুধু বৃত্তিই নয়, আমাদের মেগা প্রজেক্ট অর্থাৎ দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও নতুন আবাসিক হল নির্মাণকাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে আমি নিজেই খুব দ্রুত প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যাবো। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাব।

প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৭:৩৪ পিএম
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে দুইদিন ব্যাপী ফল উৎসব
গুলশানে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির নিজস্ব ক্যাম্পাসে মৌসুমি ফল উৎসব। ছবি: খবরের কাগজ

দেশীয় ফলের ঐতিহ্য ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতি বছরের ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটিতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী ‘মৌসুমি ফল উৎসব’।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সকাল ১১টায় উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান চৌধুরী। উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে তিনি দেশীয় ফলের পুষ্টিগুণ, স্বাস্থ্যগত উপকারিতা এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আগ্রহে এ ফল উৎসবের আয়োজন হয়ে থাকে। এছাড়া প্রতিবারই আমাদের নবান্ন উৎসব, বৈশাখের আয়োজন করে থাকি। সব সময়ের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা অনেক আগ্রহের সঙ্গে উপভোগ করছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. শহিদুল ইসলাম খান নাঈম, স্কুল অব বিজনেসের ডিন প্রফেসর আবুল কালাম, স্কুল অব ল’র ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম, স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স অ্যান্ড অ্যাডমিনের পরিচালক আফরোজা হেলেন, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান, প্রক্টর মো. আনিছুর রহমান, স্ট্র্যাটেজিক অপারেশন্স অ্যান্ড স্টুডেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড মুশফিকুর রহমান ধ্রুব, এবং পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের ডেপুটি ডিরেক্টর ও হেড জাহিদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান ও বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।

অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল কবির বলেন, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল উপস্থিতিদের মধ্যে দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগকে আমি স্বাগত জানাই। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে নতুন প্রজন্মকে দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত থাকুক এই প্রত্যাশা রাখছি।  

শিক্ষার্থীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস। আম, জাম, লিচু, কাউ, কাঁঠাল, লটকনসহ বিভিন্ন দেশীয় রসালো ফলের সমারোহ ও সুবাসে মুখরিত ছিল পুরো ক্যাম্পাস। ক্যাম্পাসের ছাদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।  

সাগুফতা/এসএন

পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম

প্রকাশ: ১১ জুন ২০২৬, ০৩:৩৪ পিএম
পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম
রাবি অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক। ছবি: সংগৃহীত

একাডেমিক কাজের ব্যস্ততার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমীরুল ইসলাম কনক।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে রেজিস্ট্রার দপ্তর বরাবর পদত্যাগপত্র পাঠান তিনি।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, সম্প্রতি আমার একাডেমিক কাজ এবং গবেষণার কাজের ব্যস্ততা বেড়ে গিয়েছে। ছাত্র উপদেষ্টার মতো পদে থেকে যদি শিক্ষার্থীদেকেই সময় দিতে না পারি তাহলে এই পদে থাকার মানে হয় না।

তিনি আরও বলেন, গতকাল (বুধবার) এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে কিন্তু আমি কিছুই করতে পারিনি। সেই শিক্ষার্থী আমার সঙ্গে একবার কথাও বলেনি। সব মিলিয়ে আমার মনে হয় না এই পদে আমি আর থাকতে পারি।

পদত্যাগপত্রে তিনি বলেছেন, একাডেমিক এবং গবেষণামূল কাজের ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে আমার পক্ষে ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করা সম্ভবপর নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল ইসলাম মাসউদ বলেন, পদত্যাগপত্র আমি পেয়েছি। বিষয়টা উপাচার্য স্যারকে  মৌখিকভাবে জানিয়েছি। তিনি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

উল্লেখ্য, তিনি ২০২৪ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ছাত্র উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পান।

শাকিবুল হাসান/নাঈম