রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসের নাম শুনলেই সবার চোখে ভেসে ওঠে প্যারিস রোডের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। দুই পাশে গগনচুম্বী গাছ, সুপরিকল্পিত ফুটপাত আর পিচঢালা পথ যেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্যের প্রতীক। কিন্তু প্যারিস রোড ছাড়া বাকিগুলোর চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরের বেশির ভাগ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। সাম্প্রতিক সময়ের টানা বৃষ্টিতে এসব রাস্তায় কাদা-পানিতে দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়েছে। এসব রাস্তায় হেঁটে চলাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাদার বখ্শ হলের সামনে থেকে স্টেডিয়াম গেট পর্যন্ত রাস্তা দিয়ে শামসুজ্জোহা, সোহরাওয়ার্দী ও মাদার বখ্শ হলের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করেন। এ ছাড়া মেহেরচণ্ডী এলাকার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের যাতায়াতও হয় এই সড়ক দিয়ে। কিন্তু ইটের সলিং উঠে গিয়ে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রিকশাচালকরা এ পথে যেতে চান না। কেউ গেলে তাকে বাড়তি ভাড়া দিতে হয়।
আরেকটি বড় দুর্ভোগের নাম স্যার জগদীশচন্দ্র বসু ভবনের পেছন থেকে চারুকলা অনুষদের গেট পর্যন্ত সড়ক। বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় রাস্তার পিচ উঠে গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে। এমনকি ভারী যানবাহনের কারণে মাদার বখ্শ হল থেকে হবিবুর রহমান হল পর্যন্ত রাস্তারও বেহাল দশা।
বিনোদপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী হল, রোকেয়া হলের উত্তর পাশ থেকে ফ্লাইওভার পর্যন্ত, শামসুজ্জোহা হল থেকে শহিদ মিনার হয়ে বধ্যভূমি পর্যন্ত প্রায় সব সড়কেই বৃষ্টির সময় কাদা-পানি জমে থাকে। এসব পথে হাঁটা যেখানে কঠিন, সেখানে রিকশার কথা তো বলাই বাহুল্য।
সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘২০১৯ সালে ক্যাম্পাসে আসার পর থেকে রাস্তার এমন বাজে অবস্থা দেখছি। রিকশায় উঠলেও গর্তে ধাক্কা খেয়ে কোমরে ব্যথা হয়। বর্ষায় তো পিছলে পড়ে যাওয়াটা নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু প্রশাসনের দৃষ্টি নেই বললেই চলে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের তথ্যমতে, বিভিন্ন ভবনের নির্মাণকাজ ও বাজেট ঘাটতির কারণে এতদিন রাস্তাগুলো সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে চলতি অর্থবছরে নতুন বরাদ্দ পাওয়া গেছে, কিছু রাস্তার টেন্ডারও হয়েছে। তিন মাসের মধ্যে বেশ কয়েকটি রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। গত বছরের কিছু বাজেট এবং চলতি বছরের বরাদ্দ দিয়ে বেশ কয়েকটি রাস্তার সংস্কারকাজ শুরু হবে। এরই মধ্যে কয়েকটির টেন্ডার হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে প্রতিটি রাস্তার জন্য আলাদা বাজেট পাস হয়েছে। সাতটি সড়কের জন্য ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মতিহার হলের সামনের রাস্তার কাজ শুরু হয়েছে। বিনোদপুর থেকে সোহরাওয়ার্দী হল এবং রোকেয়া হলের পাশের রাস্তাগুলোর কাজও কয়েক মাসের মধ্যে শুরু হবে।’