ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর রহস্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু বিচারসহ শিক্ষার্থীদের ১৫ দফা দাবি মেনে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৯ জুলাই) রুটিন দায়িত্বে থাকা ভিসি অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থিত হয়ে দাবিদাওয়া মেনে নেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. জাহাংগীর আলম ও প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান প্রমুখ।
তবে বিবৃতি না নিয়ে আন্দোলন স্থগিত করবে না বলে ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল হক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা দাবি মেনে নেওয়ার চিঠি হাতে পেয়ে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলন স্থগিত করেন।
১৫ দফা দাবিগুলো হলো- ১. তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে দুই থেকে আড়াই মাস সময় ক্ষেপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রিপোর্ট প্রকাশের সময়সীমা কমিয়ে এনে ২৪ ঘণ্টার ভেতর প্রাথমিক তদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করতে হবে এবং আগামী ৬ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। ২. হল ও প্রশাসনের তদন্ত কমিটিতে ২ জন করে শিক্ষার্থী অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ৩. বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলা এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতে ব্যর্থতার দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নিতে হবে এবং এর ক্ষতিপূরণ স্বরূপ দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাজিদের পরিবারকে কমপক্ষে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ৪. সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে আগামী ৬ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৫. নতুন হলের নাম "সাজিদ আব্দুল্লাহ'র নামে নামকরণ করতে হবে। ৬. তদন্ত কমিটিতে নিরপেক্ষ শিক্ষকদেরকে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। ৭. ১৭৫ একর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরকে CCTV (সিসিটিভি) ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে। কোনো এলাকা যেন নজরদারির বাইরে না থাকে তা নিশ্চিত করতে হবে। ৮. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যেকটি আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের এন্ট্রি ও এক্সিট শতভাগ মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে। প্রয়োজন হলে ডিজিটাল কার্ড বা বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ৯. বিশ্ববিদ্যালয়ের চারপাশে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তাবেষ্টিত বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণের নিশ্চয়তা দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। ১০. ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন ও সক্রিয় রাখতে হবে, যাতে কোনো শিক্ষার্থী অন্ধকারে চলাচল করতে বাধ্য না হয়। ১১. ক্যাম্পাসে বহিরাগত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রবেশের অনুমতি নির্দিষ্ট পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে দিতে হবে। ১২. মাননীয় উপাচার্য, মাননীয় উপ-উপাচার্য, মাননীয় ট্রেজারার, সম্মানিত হল প্রভোস্ট, সম্মানিত প্রক্টর ও সম্মানিত ছাত্র উপদেষ্টা তাঁদের সবাইকে নিয়মিতভাবে ক্যাম্পাসে উপস্থিত থাকতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সমস্যা সমাধানে সরাসরি জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। ১৩. মেইন গেটের পাশাপাশি সকল এন্ট্রি পয়েন্টে নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিতে হবে ১৪. উপরে উল্লিখিত সমস্যা সমাধানে নির্দিষ্ট সময়সীমা (ডেডলাইন) ঘোষণা করতে হবে এবং তার বাস্তবায়নের নিয়মিত অগ্রগতি প্রকাশ করতে হবে। ১৫. আমাদের দাবিসমূহ ৬ দিনের ভেতর বাস্তবায়ন করতে হবে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষার্থী এ আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, শাখা ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ইউনিয়ন ও ইসলামী ছাত্র আন্দোলনসহ অন্যন্য সকল সংগঠন।
গত ১৭ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল পাঁচটার দিকে শাহ আজিজুর রহমান হল সংলগ্ন পুকুরে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ ভেসে থাকতে দেখে শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে ৬টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
সাজিদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি শহিদ জিয়াউর রহমান হলের ১০৯নং রুমে থাকতেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায়। বাবার নাম মুহাম্মদ আহসান হাবিবুল্লাহ ও মায়ের নাম সুমাইয়া আক্তার।
সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শহিদ জিয়াউর রহমান হল কর্তৃপক্ষ আলাদা আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
নিয়ামত/মৌসুমী/




