কৃষি মানব সভ্যতার প্রাচীনতম পেশা, যার সূচনা হয়েছিল নারীর হাত ধরে। আজও সেই ধারাবাহিকতায় কৃষি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ক্রমেই বাড়ছে। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি কমপ্লেক্স মিলনায়তনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর
ক্যাম্পাসে ছিল নবাগত শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।
উপাচার্য বলেন, ‘গত শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬২ শতাংশই নারী ছিলেন, এবার এ সংখ্যা আরও বেড়েছে। এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়। তিনি শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, শেকৃবিতে কোনো ধরনের র্যাগিং নেই। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করার সুষ্ঠু পরিবেশ রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বদা নিয়োজিত। কেউ শৃঙ্খলা পরিপন্থী অনাকাঙ্ক্ষিত কাজে জড়ালে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নবীনবরণ উপলক্ষে টিএসসি চত্বরে সক্রিয় ২৩টি সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন রঙিন স্টল সাজায়। তারা ফুল দিয়ে নবীনদের বরণ করে নেয় এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবন নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও দিকনির্দেশনা দেয়।
সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশন শুরু হয় এবং ৯টা ৪৫ মিনিটে নবীনরা মিলনায়তনে আসন গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার।
ড. বেলাল বলেন, শেকৃবি এই উপমহাদেশে কৃষি শিক্ষার অগ্রদূত। ১৯৩৮ সালের ১১ ডিসেম্বর অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ কে ফজলুল হক ‘দি বেঙ্গল এগ্রিকালচারাল ইনস্টিটিউটের’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, যার উত্তরসূরি আজকের শেকৃবি। দেশ ও দেশের কৃষিকে এগিয়ে নেওয়ার বড় এক সুযোগ অপেক্ষা করছে নবীনদের জন্য।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার নবীনদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই একটি সঠিক পরিকল্পনা তৈরি করে সে অনুযায়ী এগোতে হবে। তাহলেই সফলতা অর্জন সম্ভব।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আশাবুল হক এবং সঞ্চালনা করেন রেজিস্ট্রার শেখ রেজাউল করিম। দিনব্যাপী আয়োজনে বিকেল ৩টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হলে নবীন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন।
আরাফাত রহমান/নাঈম