জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
মুজাহেদ বিল্লাহ/রিফাত/
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়।
মুজাহেদ বিল্লাহ/রিফাত/
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ব্যবহারিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক প্রকৌশল শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদে আধুনিক ল্যাবরেটরি, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বা Outcome-Based Education (OBE), ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম, গবেষণামুখী পরিবেশ এবং শিল্প-সংযুক্ত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
প্রকৌশল শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের বিষয় টিকে গুরুত্ব দিয়ে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৫টিরও বেশি আধুনিক ও সুসজ্জিত ল্যাবরেটরি রয়েছে।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্সসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ল্যাব কার্যক্রম, প্রজেক্ট ডিজাইন, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়টি একটি সমন্বিত ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা লাইভ ক্লাস, লেকচার, অ্যাসাইনমেন্ট, একাডেমিক মূল্যায়ন, আলোচনা ফোরাম এবং অন্যান্য শিক্ষাসহায়ক কার্যক্রমে অংশ নিতে পারে। পাশাপাশি সমৃদ্ধ ই-লাইব্রেরির মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষণা জার্নাল, ই-বুক ও একাডেমিক প্রকাশনায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষা যুগোপযোগী কারিকুলামের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত Outcome-Based Education (OBE) কাঠামোর আলোকে পরিচালিত হয়। এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার ফলাফলের ওপর নয়, বরং সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উদ্ভাবনী চিন্তা, গবেষণার সামর্থ্য এবং পেশাগত প্রস্তুতির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের Institutional Quality Assurance Cell (IQAC) সক্রিয়ভাবে কাজ করছে।
IQAC-এর মাধ্যমে নিয়মিত একাডেমিক অডিট, পাঠদান পদ্ধতির মূল্যায়ন এবং ধারাবাহিক মানোন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার উৎকর্ষ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে IQAC বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অন্যতম শক্তি হলো এর দক্ষ ও গবেষণামুখী শিক্ষকবৃন্দ। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০ জনের বেশি অভিজ্ঞ ও যোগ্যতাসম্পন্ন পূর্ণকালীন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৫০ জনের বেশি পিএইচডি ডিগ্রিধারী শিক্ষক ও গবেষক কর্মরত আছেন। তাঁদের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক নেতৃত্ব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সমৃদ্ধ শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করেছে।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে গবেষণা কার্যক্রমে আর্থিক সহায়তা প্রদান, গবেষণা অনুদান বা Research Grant বরাদ্দ এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করে থাকে। শিক্ষক ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা, জার্নাল প্রকাশনা, সম্মেলনে অংশগ্রহণ এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও তহবিল প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে গবেষণামুখী শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরাও গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।
শিল্প-সংযোগ আরও শক্তিশালী করতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ১০০টিরও বেশি সমঝোতা স্মারক বা MoU স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ, শিল্প-সংযুক্ত প্রশিক্ষণ, যৌথ গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কনসালটিং ফার্ম, নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, সফটওয়্যার কোম্পানি এবং প্রযুক্তি খাতে
ইন্টার্নশিপ ও প্রকল্পভিত্তিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে।
নিয়মিত সেমিনার, ওয়ার্কশপ, ইন্ডাস্ট্রি ভিজিট, টেকনিক্যাল প্রতিযোগিতা এবং ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্র- উপযোগী দক্ষতা অর্জনে উৎসাহিত করা হয়।
কর্মজীবী ও ডিপ্লোমা প্রকৌশলী শিক্ষার্থীদের জন্যও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশেষ একাডেমিক ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব ও সময়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে শুক্রবার ও শনিবার তাত্ত্বিক ক্লাসের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ল্যাব ক্লাস পরিচালনা করা হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা প্রদান করা হয়।
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার প্রতিফলন হিসেবে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। WURI Ranking 2026-এ বিশ্বের উদ্ভাবনী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৩৩তম স্থান এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪র্থ অবস্থান অর্জন করেছে।
পাশাপাশি Financial Impact-Driven Technology Transfer (C8) ক্যাটাগরিতে ৭ম, Digital and AI Transformation in Strategy and Management (B3) ক্যাটাগরিতে ৮ম, Funding for Sustainability (B5) ক্যাটাগরিতে ১৫তম, Future-Oriented Responses to Global Uncertainty and
Geopolitical Risk (A7) ক্যাটাগরিতে ২১তম এবং Industrial Application (A3) ক্যাটাগরিতে ২৪তম স্থান অর্জন করেছে। একইভাবে QS Asia University Rankings 2026 এবং UI GreenMetric World University Rankings 2025-এও বিশ্ববিদ্যালয়টির অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা, উদ্ভাবনী সক্ষমতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক উৎকর্ষতার স্বীকৃতি বহন করে।
ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ আধুনিক অবকাঠামো, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিকুলাম, গবেষণামুখী শিক্ষা, শিল্প-একাডেমিক সহযোগিতা এবং দক্ষ শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে জাতীয় ও বৈশ্বিক চাহিদা পূরণে সক্ষম প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদ তৈরির লক্ষ্যে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ওমানবসম্পদ বিকাশেও বিশ্ববিদ্যালয়টি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
বিজ্ঞপ্তি
অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার লক্ষ্যে ১৪ দিনের সফরে যাচ্ছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী।
জানা যায়, আগামী ১৪ জুন থেকে ২৭ জুন পর্যন্ত এই সফর চলবে। অস্ট্রেলিয়া সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ (ডিএফএটি)-এর অর্থায়ন ও উদ্যোগে আয়োজিত ‘অস্ট্রেলিয়ান প্রফেশনাল অপরচুনিটি’ (এপিও) প্রোগ্রামের অধীনে 'অস্ট্রেলিয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসকদের শিক্ষা সফর'-এ অংশগ্রহণের জন্য ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস বাংলাদেশ’ কর্তৃক তিনি নির্বাচিত হন।
এই সফরে বেরোবি উপাচার্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের আরও সাতটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। সফরকালে প্রতিনিধিদল অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়, ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়, মোনাস বিশ্ববিদ্যালয়, গ্রিফিথ বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলস (ইউএনএসডব্লিউ) সিডনি এবং ইউনিভার্সিটি অব উলংগং পরিদর্শন করবেন।
এছাড়া তারা বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, আন্তর্জাতিকীকরণ, গবেষণা সহযোগিতা, উদ্ভাবন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং শিল্প–একাডেমিক সংযোগ বিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালা ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, অস্ট্রেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিশ্বমানের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য সুপরিচিত। এই শিক্ষা সফরের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনা, গবেষণা সহযোগিতা, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হবে। আশা করি, এ সফর থেকে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গাজী আজম/তামান্না রুপা/
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) ভিপি (সহসভাপতি) আব্দুর রশিদ জিতু ও জিএস মাজহারুল ইসলামের নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পরও পদে বহাল থাকা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হলে জাকসুর পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই বলে দাবি করেছেন তারা।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স ডিগ্রি অর্ডিন্যান্সের ৬.১ ধারায় বলা আছে, মাস্টার্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণে ব্যর্থ হলে বা উত্তীর্ণ না হলে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য হবেন না। এ ছাড়া বিভাগীয় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে একবার অনিয়মিত পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকলেও নিয়মিত ছাত্রত্ব থাকে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু তুলনামূলক সাহিত্য ও সংস্কৃতি ইনস্টিটিউটের ৪৭তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তিনি নিয়মিত মাস্টার্স ২০২২-এ একটি বিষয়ে অকৃতকার্য হন। জাকসুর গঠনতন্ত্র অনুসারে নিয়মিত মাস্টার্সে অকৃতকার্য শিক্ষার্থী পরবর্তী শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত বৈধ ভোটার হিসেবে বিবেচিত হন।
তবে নিয়মিত মাস্টার্সের ২০২৩ (৪৮তম ব্যাচ) পরীক্ষা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সেই হিসাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ছাত্রত্বের বৈধতা হারিয়েছেন জাকসু ভিপি জিতু।
ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক শামীমা সুলতানা জানান, জিতু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার মাস্টার্সের একটি কোর্সের পরীক্ষায় অংশ নেননি। তাকে বিধি অনুসারে বিশেষ পরীক্ষা দিতে হবে।
অন্যদিকে, জিএস মাজহারুল ইসলাম ইংরেজি বিভাগের ৪৮তম ব্যাচের থিসিস গ্রুপের শিক্ষার্থী। তবে তিনি একবছর ড্রপ দেওয়ায় গত মে মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজ বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের সঙ্গে থিসিস জমা দিয়ে ছাত্রত্ব শেষ করেন।
বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রায়হান শরীফ বলেন, ‘জাকসুর জিএস মাজহার তার একাডেমিক কার্যক্রম শেষ করেছেন। তবে ফল প্রকাশ বাকি রয়েছে।’
জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জাকসুর সদস্য হওয়ার নীতিমালা সুস্পষ্ট থাকলেও নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষে পদ ছাড়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নীতিমালা নেই। তবে আমি নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আগামী কার্যনির্বাহী সভায় নিয়মিত শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পর পদত্যাগের বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা তৈরির প্রস্তাব আনা হবে।’
ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, ‘জাকসুর কারা প্রার্থী হতে পারবে তা উল্লেখ থাকলেও কারও ছাত্রত্ব শেষ হয়ে গেলে কী হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতিমালা নেই। যেহেতু গঠনতন্ত্রে সুনির্দিষ্ট উল্লেখ নেই, তাই পদে থাকা না থাকা নিয়ে কোনো সমস্যা নেই।’
নিয়মিত মাস্টার্স ২০২৩-এ পরীক্ষায় অংশ নেননি জানিয়ে জিতু বলেন, ‘আমি নিয়মিত শিক্ষার্থী না হলেও অনিয়মিত হিসেবে এখনো আমার শিক্ষাজীবন আছে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও জাকসুর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।’
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম কামরুজ্জামান।
একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারকে তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইতিখারুল আলম মাসউদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদারের আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ থেকে তাকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।
একই দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামানকে জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা হারে সম্মানী পাবেন বলেও জানানো হয়েছে।
অধ্যাপক ড. এস. এম. কামরুজ্জামান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিভিএম ও এমএস এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে তিনি যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে পোস্টডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ায় মর্যাদাপূর্ণ ‘ফুলব্রাইট ফেলোশিপ’ পান।
তিনি ২০০৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করা এই গবেষক ২০১৭ সালে অধ্যাপক হন। তার প্রধান গবেষণার বিষয় প্লেটলেট বায়োলজি, ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইনোলজি ও ক্যান স্টেম সেল। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠনের সাথে সক্রিয় আছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রশাসনের পদত্যাগের পর, ওই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের নতুন প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পান অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার।
শাকিবুল হাসান/তামান্না রুপা/
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শরীফ হোসাইন রওশানকে নেত্রকোনায় অপহরণ, নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি জাবি সংসদ।
বুধবার (১০ জুন) রাত নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘ছাত্রলীগ নিপীড়ন করে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কী করে’, ‘সন্ত্রাসীদের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ সহ বিভিন্ন ছাত্রলীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সমাবেশে জাতীয় ছাত্রশক্তির জাবি সংসদের নেতারা অভিযোগ করেন, রওশানকে নেত্রকোনায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সদস্যরা অপহরণ ও নির্যাতন করেছেন। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মমিনুল ইসলাম শাওনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, এ ঘটনা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার বিরুদ্ধে একটি বার্তা দেওয়ার চেষ্টা। তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী সুলতান-উল-মুলক খবরের কাগজকে বলেন, জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাপনী বক্তব্যে সংগঠনটির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন ও লাঞ্ছিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের আওয়ামী লীগের পক্ষে সাফাই গাওয়ার নিন্দা করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জুলাই হামলায় মদদদাতা শিক্ষকদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের নিরবতার সমালোচনা করে বিএনপি সরকারের কাছে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে'।
আমানউল্লাহ/থিও