নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া প্রায় এক বছর আগে সংস্কার ও মান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তখন দুই মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া পুনরায় চালু করার প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে ইতোমধ্যে ৯ মাস পেরিয়েও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের বাইরের টং দোকান ও হোটেলগুলো থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের ভোগান্তির পাশাপাশি অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে।
গত বছরের ১৩ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়াটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তখন প্রশাসন জানিয়েছিল, ক্যাফেটেরিয়ার সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শেষ করে দ্রুতই শিক্ষার্থীদের জন্য এটি চালু করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতকালীন ছুটি শেষ হলেও ছাত্রদের সবচেয়ে বড় আবাসিক হল মালেক উকিল হলের ডাইনিং কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। সে জন্য আবাসিক শিক্ষার্থীদের আরও বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, এ সময় যদি ক্যাফেটেরিয়া চালু থাকত, তাহলে খাবার নিয়ে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হতো না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া বন্ধ থাকায় প্রতিদিনই আমাদের বাইরের দোকান থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। সেখানে খাবারের দাম অনেক বেশি। প্রশাসন দুই মাসের মধ্যে ক্যাফেটেরিয়া চালু করার কথা বলেছিল, কিন্তু ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও এটি চালু হয়নি, যা আমাদের জন্য হতাশাজনক।’
এ বিষয়ে শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি প্রতিষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া এতদিন বন্ধ থাকা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বারবার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। প্রশাসনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে এবং ক্যাফেটেরিয়া চালু করার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজওয়ানুল হক বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া চালু করার পথে কিছু প্রতিবন্ধকতা ছিল, তবে এখন কিছু সরঞ্জাম কেনার বাকি রয়েছে। আশা করছি, এ মাসের শেষে অথবা ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ক্যাফেটেরিয়া চালু করতে পারব। এ ছাড়া হলগুলোর ডাইনিং কার্যক্রম শিগগির চালু করতে হল প্রভোস্টদের সঙ্গে আলোচনা করব।’




