২ হাজার ৮৪১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় সম্বলিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে।
এর মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, দীর্ঘদিন পর ডাকসু কার্যক্রম সচল করা, একাডেমিক শৃঙ্খলা ফেরানোসহ মোট ৪১টি উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে প্রশাসন।
আজ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘গণ-আন্দোলন পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে একে একে পদত্যাগ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি, প্রো-ভিসি, প্রক্টরসহ বেশিরভাগ হলের প্রভোস্ট এবং প্রশাসনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম রীতিমতো স্থবির হয়ে পড়ে। এরকম অস্থির ও অস্বাভাবিক সময়ে দায়িত্ব গ্রহণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে ভঙ্গুর ও স্থবির বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকা পুনরায় সচল করা ছিল নতুন প্রশাসনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে সকল বিভাগ ও ইন্সটিটিউটে ক্লাস চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা, শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা এবং আবাসিক হলগুলোকে সংস্কার করার যে চ্যালেঞ্জ তাদের সামনে ছিল, সেসব তারা দ্রততম সময়ে সম্পন্ন করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সার্বিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষা করাই একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের মূল শক্তি। একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান যেন ব্যক্তিনির্ভর না হয়ে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ধারাবাহিক অগ্রগতির পথে এগিয়ে যায়, সেই লক্ষ্যেই আমরা সবাইকে এ বিষয়ে অবহিত করছি। একই সঙ্গে, যার যার অবস্থান থেকে আপনাদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।’
এসময় উপাচার্য সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম (এসএমটি) গঠন, আবাসিক হলে গণরুম প্রথা বিলুপ্তিকরণ, ট্রান্সক্রিপ্ট, মার্কশীট ও সার্টিফিকেট সেবায় শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ, বিশেষ আপৎকালীন আর্থিক সহায়তা, অনলাইনে ভর্তি ফি প্রদান, উচ্চতর গবেষণাকেন্দ্র সমূহে পরিচালক নিয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ, ক্যারিয়ার দক্ষতায় বিশেষ সার্টিফিকেট কোর্স, ক্যাম্পাসে শাটল পরিবহণ সার্ভিস চালুকরণ, ছাত্ররাজনীতির সংস্কার, অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প, প্রথম বর্ষের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামের ছাত্রীদের আবাসনের সুযোগ, আন্তর্জাতিক গবেষণা কার্যক্রমে নেতৃত্ব প্রদান, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ২৯টি আন্তর্জাতিক মানের ই-রিসোর্স সাবস্ক্রাইব গবেষণা, ডাকসু নির্বাচন, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি রোধে পদক্ষেপসহ ৪১টি কার্যক্রম বাস্তবায়নের কথা বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
এদিকে প্রায় ২, হাজার ৮৪১ কোটি টাকার ‘অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প’ উদ্বোধনকৃত প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে আর্থ এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস অনুষদ এবং ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের জন্য ২১ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন নির্মাণ, ৩য় শ্রেণি কর্মচারীদের আবাসিক ভবন, ১৫ তলা আইটি হাব ভবন নির্মাণ, ৯টি হল (ছাত্র-৪, ছাত্রী-৫), ৬টি একাডেমিক ভবন, কেন্দ্রীয় মসজিদ, ডাকসু ভবন, মেডিকেল সেন্টার, প্রশাসনিক ভবন, খেলার মাঠ উন্নয়নসহ জিমনেসিয়াম নির্মাণ, জলাধার সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধণ, রোড নেটওয়ার্ক এবং পাবলিক টয়লেট নির্মাণ।
এসময় ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদের সঞ্চালনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ, সকল অনুষদের ডিন, সকল হলের প্রভোস্ট এবং ডাকসু ও হল সংসদ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ জাবেদ আলম মৃধা বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরেন।
জাওয়াদ/মাহফুজ




