স্বাধীনতার ঘোষণা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, এ ধরনের বক্তব্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী এবং শহীদদের আত্মত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
রোববার চট্টগ্রাম নগরীর বন্ধন স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত একটি নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ প্রতিবাদ জানায় চবি ছাত্রদল।
বিজ্ঞপ্তিতে তারা অভিযোগ করে, ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করা হয়েছে, যা জাতিকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, স্বাধীনতার ঘোষণা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের এক ঐতিহাসিক ও অনস্বীকার্য অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর গণহত্যার পর জাতি যখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে, তখন শহিদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান, বীর উত্তম, ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। ওই ঘোষণাই মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত রূপ দেয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তি তৈরি করে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি আলাউদ্দিন মহসিন ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার ঘোষণা ও জাতীয় ইতিহাস নিয়ে কোনো ধরনের বিকৃতি, অপপ্রচার কিংবা কটুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তারা আরও বলেন, “অবিলম্বে ডা. শফিকুর রহমানকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে।”
বিবৃতিতে ছাত্রদল নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণে দেশপ্রেমিক সব রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে ছাত্রদল সোচ্চার থাকবে।
আল আরাফ/এসএন

