ঢাকা ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, রোববার, ০৭ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয় স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা সপ্তাহের প্রথম দিনে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার জাতীয় বাজেট নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা রামেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু তীব্র অর্থনৈতিক মন্দায় দেশ, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জাপা চেয়ারম্যানের হালিশহরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্তকে গণপিটুনি ট্রাকসহ ভেঙে পড়ল বেইলি সেতু, ময়মনসিংহ-ধোবাউড়া সড়ক যোগাযোগ বন্ধ Your Favourite Teacher/Favourite Personality বিষয়ক Writing Paragraph, ৩১তম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ২য় পত্র পুশইন ঠেকাতে সীমান্তে রাতে বিজিবির সঙ্গে আনসার-ভিডিপির টহল ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় হাম উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু জিপিএসের নির্দেশ মেনে সোজা রেললাইনে গাড়ি, ভাইরাল বৃদ্ধার গাড়িচালনা এসএসসি পাসে চাকরির সুযোগ, নেবে ২৮০ জন কঙ্গোতে ইবোলা প্রাদুর্ভাব: যা জানা জরুরি কোটচাঁদপুরে ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত, খুলনার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ কষ্টকর হবে জীবন, সব জিনিসের দাম বাড়বে বিশ্বের অন্যতম প্রশস্ত সড়ক ‘মনুমেন্টাল অ্যাক্সিস’ বিশ্বকাপ স্কোয়াডের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের ভিসা দিল না যুক্তরাষ্ট্র, ইরানের ক্ষোভ সন্ধ্যার মধ্যে ৭ অঞ্চলে বজ্রবৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে সতর্কসংকেত হরিপুর সীমান্তে ৩২ ঘণ্টা পরও শূন্যরেখায় ১১ জন রোনালদো গোল না পেলেও জিতল পর্তুগাল মিরসরাইয়ে পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষ সমাজকর্মের মূল্যবোধ ও নীতিমালা অধ্যায়ের ১৭টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ১ম পত্র শিশু রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলা: সোহেল ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ড অনূর্ধ্ব-১৫ ডেভেলপমেন্ট কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে এক দিনে ২ নির্দেশনা, প্রশাসনে বিভ্রান্তি
Nagad desktop

স্থগিতাদেশ শেষ, দ্রুতই শাকসু নির্বাচনের দাবি শিক্ষার্থীদের

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আপডেট: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৪ এএম
স্থগিতাদেশ শেষ, দ্রুতই শাকসু নির্বাচনের দাবি শিক্ষার্থীদের
শাহজালাল প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি: খবরের কাগজ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে শেষ হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (শাকসু) ওপর হাইকোর্টের দায়ের করা ২৮ দিনের স্থগিতাদেশ। এবার কি শাকসুর আলো দেখবে শাবিপ্রবি? নির্বাচন কি হবে? এ নিয়ে প্রশ্ন জাগছে প্রার্থীসহ সব শিক্ষার্থীর মাঝে।

শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম শেষে ২০ জানুয়ারি শাকসুর চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা ও পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও নির্বাচনের ঠিক আগের দিন গত ১৯ জানুয়ারি শাকসুর এক দিন আগে হাইকোর্টে করা এক রিটের কারণে ২৮ দিনের স্থগিতাদেশ দেন হাইকোর্ট। এর প্রতিবাদে তখন বিশ্ববিদ্যালয় কমপ্লিট শাটডাউনের ঘোষণা দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। পরবর্তী সময়ে সেশন জটের কথা চিন্তা করে কমপ্লিট শাটডাউন তুলে নেন তারা এবং ২৮ দিনের স্থগিতাদেশ শেষে শাকসু আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেয় প্রশাসন। 

অবশেষে সেই প্রতীক্ষার অবসান ঘটে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি। শিক্ষার্থীরা রাত ১২টার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাকসুর দাবি নিয়ে কথা বলা শুরু করেছেন। এ ব্যাপারে কথা হয় শাকসুতে শিবির সমর্থিত দুর্বার সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী দেলোয়ার হাসান শিশিরের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যে ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার স্যারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শাকসু নিয়ে উনাদের চিন্তা-ভাবনা নিয়ে কথা বলেছি। উনাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, আদালত থেকে এ ব্যাপারে শুনানি আসতে হবে। তখন আমি যত দ্রুত সম্ভব সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা নিয়ে রমজানের আগেই শাকসু নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানিয়ে এসেছি। স্যাররাও দ্রুত এ ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’ 

শাকসু নির্বাচনের দাবিতে নতুন কোনো কর্মসূচির কথা ভাবছেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসন থেকে যদি স্বাভাবিকভাবেই ভালো পদক্ষেপ নেয়, তাহলে তো কর্মসূচির দরকার নেই। তবে আরও যারা নির্বাচনে প্রার্থী আছেন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি চায় যে, নতুন করে আবারও কর্মসূচির প্রয়োজন আছে। তা হলে হবে আর যদি সবাই মনে করে প্রয়োজন নেই তা হলে না। সবার সঙ্গে কথা বলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ছাত্রদল সমর্থিত সম্মিলিত সাস্টিয়ান ঐক্য প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মুস্তাকিম বিল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ক্যাম্পাস তো মাত্র খুলছে তাই এখনো সব শিক্ষার্থী আসেনি। আমরা যারা শাকসুর আন্দোলনে ছিলাম, সবাই চিন্তা করছি যেহেতু আমাদের ২৮ দিনের যে নিষেধাজ্ঞা সেটা শেষ, আমরা খুব শিগগিরই দু-এক দিনের মধ্যে আগের মতো আন্দোলন শুরু করব। সব প্যানেলের শিক্ষার্থীরা মিলে কীভাবে আন্দোলনকে পরিচালনা করা যায়, সে ব্যাপারে আমরা একটা মিটিং ডাকছি। এই মিটিং শেষে আমরা কালকে বা পরশু থেকে আন্দোলন শুরু করে দেব। এখন যেহেতু আর কোনো ধরনের বাধা নেই তাই কোনো ধরনের বাহানা বা রিট করে শাকসুকে আর আটকে রাখা যাবে না। আমরা খুব শিগিরই মাঠে নামব এবং যেকোনো মূল্যে শাকসু আদায় করে ছাড়ব ইনশাআল্লাহ।’

এদিকে শাকসু নিয়ে নানা নাটকীয়তার মাঝে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন স্বতন্ত্র সাধারণের ঐক্যস্বর প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী মুহয়ী শারদ। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শাকসু থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার অন্যতম একটা কারণ ছিল আমার মায়ের অসুস্থতা। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে আমি বাসা থেকে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেব। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আমি যে পোস্টটা দিয়েছিলাম সে ব্যাপারে আমি এখনো নির্বাচন কমিশনের কাছে মনোনয়নপত্র বাতিল করার ব্যাপারে কোনো আবেদন করিনি। তখন আমি এ ব্যাপারে আরও চিন্তাধারা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এ ব্যাপারে সিলেটে যাওয়ার পর আমার সঙ্গে যারা ছিলেন তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আমি পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।’

শাকসু আদায়ের আন্দোলনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘শাকসুর আন্দোলনে আমরা শুরু থেকেই ছিলাম। এখনো যদি আমরা ওই পরিস্থিতিতে বুঝি যে, সার্বিক আইনগতভাবে আন্দোলনটা শুরু করা উচিত বা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের দাবিটা আদায় হবে, তাহলেই আমরা এর সঙ্গে যুক্ত হব বা অর্গানাইজ করব।’

হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের পর শাকসু নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছিল, তাদের পূর্ণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসন অনুমতি দিলে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা নেই। এখন যেহেতু স্থগিতাদেশ শেষ হয়েছে, এবার শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে কোনো বাধা আছে কি না এবং কবে অনুষ্ঠিত হতে পারে জানতে চাইলে শাকসু নির্বাচন কমিশনের মুখপাত্র অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনের পূর্ণ প্রস্তুতি ছিল। তারপর একটা রিটের কারণে হাইকোর্ট সেটা স্থগিত করেছে। রিট হওয়ার কারণে বিষয়টা এখন প্রশাসনের ওপর নির্ভর করছে। কারণ প্রশাসন এটা ডিল করছে। এখন প্রশাসনের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত আসবে আমরা সে অনুযায়ী কাজ করব। নির্বাচন কমিশন তো আদালতের সঙ্গে সম্পৃক্ত না বা যে ভূমিকা পালন করার কথা সেটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব না আসলে। এই ভূমিকা পালনের দায়িত্ব প্রশাসনের। তাই আমার মনে হয় এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বরত প্রশাসন সিদ্ধান্ত দিতে পারবে। আমরা নিজেরাও অপেক্ষা করছি নির্বাচন আসলে হবে কি না বা হলেও কবে হবে। আমরা তারিখ পেলে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নেব।’

এ ব্যাপারে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পদাধিকার বলে শাকসু সভাপতি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলার জন্য মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরবর্তী সময়ে উপাচার্যের সেক্রেটারি ড. আ ফ ম সালাহুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, উপাচার্য মাত্র অফিস থেকে বের হয়ে গেছেন। আজকে কোনোভাবে যোগাযোগ করা যাবে কি না জানতে চাইলে তিনি কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেননি।

পরবর্তী সময়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘প্রথমত শাকসুকেন্দ্রীক যেকোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া একমাত্র উপাচার্যের হাতে। দ্বিতীয়ত, রিট হওয়ার পর যখন শাকসু স্থগিত হয়েছিল তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে রিট ভ্যাকেট করার জন্য চেষ্টা করা হয়েছিল। এখন ফুল কেবিনেটে হিয়ারিং না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারছে না। এখন হিয়ারিংটা হতে হবে। তখন আদালত একটা নির্দিষ্ট তারিখ বা সীমারেখা দিয়ে বলতে পারে যে, হয় এই তারিখের মধ্যে নির্বাচন করেন অথবা বলতে পারে বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচনের ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে পারে। এটা পেলে তখনই কার্যক্রম শুরু হবে।’

দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
দক্ষতা বাড়াচ্ছে রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব
রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাবের সদস্যরা।

বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সফল ক্যারিয়ার গঠনে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তবমুখী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস জরুরি। এই লক্ষ্য নিয়ে ২০১৫ সালের ২৭ আগস্ট রসায়ন বিভাগের চার শিক্ষার্থী ও প্রজ্ঞাবান শিক্ষকদের পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত হয় ‘রাজশাহী কলেজ ক্যারিয়ার ক্লাব’ (আরসিসিসি)। 
একটি দক্ষ নির্বাহী কমিটি ও একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী নিয়ে বছরের শুরুতেই ক্লাবটি বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে। সে অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এতে রয়েছে ‘ক্যারিয়ার জার্নি’, ‘ক্যারিয়ার রোডম্যাপ’ ও ‘ক্যারিয়ার টক’-এর মতো আয়োজন; যেখানে সিভি রাইটিং, ইন্টারভিউয়ের কৌশল, যোগাযোগ ও উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বিসিএস ও করপোরেট চাকরির প্রস্তুতি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ক্লাবের স্বেচ্ছাসেবকরা সরাসরি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, করপোরেট যোগাযোগ ও দল পরিচালনার মতো সফট স্কিল শেখার সুযোগ পান।
একাডেমিক ব্যস্ততার মাঝে বড় অনুষ্ঠানের সূচি নির্ধারণ এবং বৃহৎ পরিসরে কাজের জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়নের অভাব ক্লাবটির অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ। তবে সুশৃঙ্খল পরিকল্পনা ও দলগত প্রচেষ্টায় এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠছে তারা। ক্লাবটির দিকনির্দেশনা নিয়ে অনেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী আজ দেশের শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও সরকারি উচ্চপদে কর্মরত। মূলত শিক্ষার্থীদের দক্ষ ও কর্মমুখী করে গড়ে তুলতে আরসিসিসি একটি আস্থার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখিকা: শিক্ষার্থী, রাজশাহী কলেজ, রাজশাহী

ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০৯ পিএম
ক্যামেরা নষ্ট ছিল স্বপ্ন নয়
ফয়সালের তোলা ছবি।

সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় বড় চাচার দেওয়া একটি নষ্ট ক্যামেরা ঘিরে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সালের মনে ছবি তোলার যে কৌতূহল জন্ম নিয়েছিল, তা আর কখনো থামেনি। রহনপুরের এই তরুণ মোবাইল ফোন দিয়েই শুরু করেন তার আলোকচিত্রের যাত্রা। বর্তমানে তিনি রহনপুর ইউসুফ আলী সরকারি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগে পড়ার পাশাপাশি ফটোগ্রাফি লালন করছেন।

 

দেশের বিভিন্ন জেলায় ঘুরে প্রাচীন মসজিদ ও শতবর্ষী ইমারতের ছবি তুলতে তুলতে হেরিটেজ ফটোগ্রাফিতে ফয়সালের চোখ খুলে যায়। পাশাপাশি ন্যাচার, স্ট্রিট এবং স্পোর্টস ফটোগ্রাফিও তাকে টানে।

 

মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল


ফয়সালের জীবনের অন্যতম সেরা ছবিটির গল্প সিনেমার মতো। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল রহনপুর রেলওয়ে স্টেশনে এক বন্ধুকে বিদায় জানানোর সময় ট্রেনের জানালায় একটি ফ্রেম দেখে তাৎক্ষণিক ক্লিক করেন তিনি। ‘১৬ হোক কিংবা ৬১’ শিরোনামের সেই ছবির ক্যাপশন ছিল–‘বয়স ১৬ হোক কিংবা ৬১, চিন্তা তোমার পিছু ছাড়বে না।’ ছবিটি ফেসবুকে পোস্ট করার পর ৫৪ হাজারেরও বেশি লাইক পায় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

 

অর্জনের ঝুলিতে রহনপুর ফটোগ্রাফি ক্লাবের প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থানসহ একাধিক অনলাইন পুরস্কার থাকলেও, বাচ্চাদের ছবি তুলে তাদের হাসিমুখ দেখানোই ফয়সালের কাছে সবচেয়ে বড় পুরস্কার।

 

স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০২:০২ পিএম
স্মৃতির মলাটে শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল।

ক্লাস আর টিউশন শেষ করে সবে রুমে এসে বিছানায় শুয়েছি, অমনি বন্ধু ফাহিম এসে মাথায় এক বাড়ি দিয়ে জিজ্ঞেস করল–আজ কী বার? 
হঠাৎ মনে পড়ল, আজ শনিবার। মানে ডাইনিংয়ে স্পেশাল মিল! পোলাও, রোস্ট, বুটের ডাল, সবজি আর ফিরনির আয়োজনে রোস্টের বড় পিসটি পাওয়ার জন্য চোখে-মুখে পানি দিয়ে ডাইনিংয়ের দিকে দৌড় দেওয়া–এটি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের নিত্য শনিবারের চেনা দৃশ্য।

 


বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে একজন শিক্ষার্থীর কাছে তার আবাসিক হল যেন সবচেয়ে আবেগের জায়গা এবং একটি ‘সেকেন্ড হোম’। পরিবার থেকে দূরে অচেনা শহরে একা পথচলা শুরু হলেও, ধীরে ধীরে সেই শূন্যতা ভরে ওঠে নতুন বন্ধুদের হাসিতে, করিডোরে রাত জাগা গল্পে আর এক নতুন পরিবারের উষ্ণতায়। এক্ষেত্রে ঐতিহ্যবাহী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল অন্য যেকোনো হলের জন্য একটি আদর্শ দৃষ্টান্ত।
উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিক হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নামে ১৯৬৯ সালে এই হলটি স্থাপিত হয়। চার তলাবিশিষ্ট হলের আবাসিক রুমগুলো ৪টি ব্লকে বিভক্ত, যেখানে মোট ১৬৮টি রুমে প্রায় ৪০০ শিক্ষার্থীর আবাসন সুবিধা রয়েছে। ব্লকের মাঝে তিনতলা ভবনের নিচতলায় কমন রুম, দ্বিতীয় তলায় লাইব্রেরি ও তৃতীয় তলায় নামাজঘর অবস্থিত। হলের আবাসন ব্যবস্থা এতটাই গোছানো যে, প্রথম দিন থেকেই প্রত্যেক শিক্ষার্থী একটি করে সিঙ্গেল বেড পেয়ে যায়।

 


হলের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ এর সুইমিংপুল। গ্রীষ্মের ক্লান্তিকর দিন শেষে ক্লাস-পরীক্ষার সব ক্লান্তি নিমিষেই ধুয়ে যায় পুলে বন্ধুদের আড্ডায়। সাঁতার জানা বন্ধুটি যখন সাঁতার না জানা বন্ধুকে কাঁধে তুলে সাঁতার শেখায়, তখন সেই মুহূর্তগুলো বন্ধুত্বকে রূপ দেয় এক অনন্য ভ্রাতৃত্বে।
হলের আরেকটি সুপরিচিত দিক হলো এর চমৎকার ডাইনিং ব্যবস্থা। সাধারণত ডাইনিংয়ের খাবার নিয়ে শিক্ষার্থীদের মনে ক্ষোভ থাকলেও, এখানে পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতিতে ছাত্ররা নিজেরাই ডাইনিং পরিচালনা করে। হলের প্রতিটি আবাসিক ছাত্র মাসের কোনো না কোনো দিন খাবার পরিবেশনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকে। ফলে সবাই সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাবারের মান ধরে রাখতে সচেষ্ট থাকে। এ ছাড়া বিভিন্ন মৌসুমে হল প্রশাসন ও বড় ভাইদের সহযোগিতায় আয়োজিত নানা খেলাধুলা নবীনদের সঙ্গে প্রবীণদের চমৎকার মেলবন্ধন তৈরি করে। সব মিলিয়ে ৪ বছরের অনার্স জীবন শেষে হল ছাড়ার সময় শিক্ষার্থীর মন কতটা কাঁদে, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। দুরুদুরু বুকে হলে আসা তরুণটি যখন ক্যাম্পাস ছাড়ে, তখন একবুক মধুর স্মৃতি সঙ্গে নিয়েই আগামীর পথে পা বাড়ায়।

লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহ

শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত পাশে ছিলেন সহপাঠীরা
সাখাওয়াত হোসেন

জীবনের শেষ লড়াইয়ে একা ছিলেন না নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) আইন বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী শিক্ষার্থী সাখাওয়াত হোসেন। দীর্ঘদিন মরণব্যাধি ক্রোনস ডিজিজ ও হিস্টোপ্লাজমোসিসের সঙ্গে লড়াই করে গত ১৮ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার এক কৃষক পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান সাখাওয়াতের স্বপ্ন ছিল জজ হওয়া। সাফল্যের সঙ্গে এলএলবি (বিভাগে পঞ্চম) ও এলএলএম শেষ করার পরপরই রোগের আলামত টের পান। তার পেটে ব্যথা শুরু হয়। স্থানীয় হাসপাতাল ঘুরে পরবর্তী সময়ে ঢাকার পিজি ও ক্রিটিক্যাল কেয়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। শেষ দিনগুলোয় কেবল স্যালাইনের ওপর বেঁচে থাকা সাখাওয়াতের চিকিৎসার আকাশচুম্বী খরচ বহন করা কৃষিজীবী পরিবারের পক্ষে অসম্ভব ছিল।
এই সংকটে পাশে দাঁড়ান তার সহপাঠীরা। ‘হেল্প ফর সাখাওয়াত’ উদ্যোগের মাধ্যমে অফলাইন ও অনলাইনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৬ দিনে ৪,৯৫,৯৬৮ টাকা সংগৃহীত হয়। সেখান থেকে চিকিৎসায় ২,৭৯,০১৫ টাকা খরচ হলেও শেষ পর্যন্ত সাখাওয়াতকে বাঁচানো যায়নি। অবশিষ্ট ২,১৬,৯৫৩ টাকা তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সহপাঠী আবু সুফিয়ান ও ইলমা সালসাবিল নাফিসার স্মৃতিচারণায় উঠে আসে সাখাওয়াতের সহজ-সরল, শান্ত ও বিনয়ী স্বভাবের কথা। বার কাউন্সিল পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া স্বপ্নবাজ এই ছেলেটি অসুস্থ হয়ে শেষ সময়ে ইশারায় আইসিইউ থেকে বাড়ি ফেরার আকুতি জানিয়েছিল। সাখাওয়াত আজ আর এই পৃথিবীতে নেই, কিন্তু তার জন্য সহপাঠীদের এই অনন্য মানবিক প্রয়াস ও ভালোবাসা নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।


লেখক: শিক্ষার্থী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী

বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম
বেরোবির বিশেষ বাসসেবায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ঈদ বাস সার্ভিস

ঈদে বাড়ি ফেরার পথে টিকিটের সংকট, অতিরিক্ত ভাড়া ও ভোগান্তি এড়াতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) প্রশাসন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বাসসেবার উদ্যোগ নিয়েছিল। 
ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটি উপলক্ষে পরিবহন পুলের পাঁচটি বাস ঢাকা, বগুড়া, নাটোর, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড় রুটে ক্যাম্পাস থেকে ছেড়ে যায়। অনলাইনে আগে নিবন্ধনকারীদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই সেবার আওতায় আনা হয়।
গণপরিবহনের ভোগান্তি ছাড়া নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রিফা লুবানা রানিয়া ও ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের কাজী সিয়াম হোসাইন। রসায়ন বিভাগের বাপ্পি আহমেদসহ দূরবর্তী এলাকার শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে বরিশালসহ দেশের সব বিভাগীয় শহরে এই সেবা সম্প্রসারিত হোক।
পরিবহন পুলের পরিচালক মাসুদ রানা বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সাতটির মধ্যে পাঁচটি বাস যুক্ত করা হয়েছে। 
উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী জানান, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের কষ্ট কমাতে প্রশাসন সব সময় আন্তরিক এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের জনবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।