ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রথম কোনো দূরের সফরে যাচ্ছে। এ অনুভূতিই যেন অন্য রকম। গন্তব্য কক্সবাজার। সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে যাত্রার সাড়ে ১৫ ঘণ্টা পর কক্সবাজারে আগমন। সাগরের সুনীল জলরাশির গর্জন শুনে আনন্দে আত্মহারা সবাই। সে এক অন্যরকম অনুভূতি!
সাগরের এই বিশাল জলরাশি ও গর্জন শুনে ছোট-বড় সবাই যেন হারিয়ে গেল শৈশবে! আকাশের দিকে তাকিয়ে অসীম প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির চোখ, পাশাপাশি সাগরের বুকে বারবার ঢেউয়ের আছড়ে পড়া, গর্জন, দক্ষিণের বাতাসের ঝাপ্টা—জীবনের এক অমোঘ বাণী সঞ্চারিত হয়— এই হলো সাগরের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।
সাগরের নোনা পানিতে ঝাঁপ দেওয়া, প্রতিটি ঢেউয়ের সঙ্গে নিজের ঠুনকো শক্তির দুর্বলতা প্রদর্শন, কেউবা আনমনায় চেয়ে আছে এর বিশালতায়। ফুটবল খেলা, পানিতে ডুব দেওয়া, কেউবা সাগরের কিনারায় ছুটে চলছে! এভাবেই কেটে যায় ঘণ্টাখানেক। পরে বিকেলে আবার দলবদ্ধভাবে সাগর দেখতে যাই সবাই। সাগরের নোনা জলের সেই উদ্দাম নৃত্য কখনোই ভোলার নয়। পড়ন্ত বিকেলে অনেকে সাগরে ডুবন্ত সূর্য খুব কাছ থেকে দেখার জন্য ছুটে যায়।
সূর্য অস্তের সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছে, তত আকাশের কালো আভা বিস্তার লাভ করছে। সেই সঙ্গে সামুদ্রিক মাছ, কাঁকড়া, অক্টোপাস খাওয়ার লোভ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। অবশেষে সবাই পছন্দের খাবার উপভোগ করে। খাবারের পর রাতের আধো ঘুম, ক্লান্ত শরীরে মনের আনন্দঘন অসীম শক্তির কাছে হার মেনে পরদিন সবাই আবারও জাগ্রত হয় নতুন ঠিকানার উদ্দেশে। হোটেলের সামনে থেকে ৩টি চাঁদের গাড়িতে করে আবারও যাত্রা শুরু।
একপাশে বন ও ছোট ছোট পাহাড়, নারিকেল বা ঝাউগাছ; অপরদিকে নীল জলরাশি, সাম্পান নৌকা। এরই মাঝে গাড়ি ছুটছে পৃথিবীর দীর্ঘতম মেরিন-ড্রাইভ সড়ক দিয়ে। এবার আমাদের প্রথম গন্তব্য পাটুয়ার টেক। কারও মুখে পছন্দের গান, কারও চোখে আনন্দে ঢেউ খেলা করছে। পাটুয়ার টেক হলো— একপাশে বড় বড় পাথুরে গাঁথা বিশাল সাগর আর অন্যপাশে পাহাড়ের বিস্তৃতি। সাগরের পানি বারবার আছড়ে পড়ছে পাথরের ওপর। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্যে নিজেদের ফটোবন্দি করতে কেউ ভোলেনি।
এক ঘণ্টা বিরতির পর চাঁদের গাড়ি আবারও ছুটে চলল ইনানী বিচের উদ্দেশে। সৈকতজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাল পাথরের গায়ে গায়ে লেগে থাকে ঝিনুক আর শামুক। সেই প্রাকৃতিক আবরণের পাশেই খুলে যায় বালুকাময় তীরের নরম বিস্তার। ঢেউয়ের ছোঁয়ায় বালির বুকে যেন এক অদ্ভুত প্রাণের স্পন্দন।
আমাদের পরের গন্তব্য হলো মিনি বান্দরবানে। সাগরের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা নেওয়ার পর, সবুজ-শ্যামল পাহাড়ের একটা রূপ হলো মিনি বান্দরবান। এর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের পর আবার চললাম সবশেষ ঠিকানা– হিমছড়ির উদ্দেশে। এটি কক্সবাজারের সেরা সৈকতের মধ্যে একটি। এখানে জলপ্রপাত রয়েছে, যা প্রধান আকর্ষণ। এভাবে একে একে সব পর্যটনস্থান ঘোরা শেষ হলো।
লেখক: শিক্ষার্থী, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়




