শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ফাতিমাতুজ জাহরা হল সংলগ্ন টিলায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এই পর্যন্ত খোঁজ নিয়ে ৭ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিভানো কাজে নিয়োজিতদের পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৩টার দিকে এ আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী ও ফাতিমাতুজ জাহরা হলের কর্মীদের প্রচেষ্টায় প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
আগুন নিভাতে গিয়ে অনেকেই আহত হন। তাদের মধ্যে ৭ জনের ব্যাপারে জানা যায়। আহতরা হচ্ছেন, আজিজুল হক (প্লাম্বার), রাকিব হুসেন আলী (মালি), মো. সেলিম মিয়া (ইলেক্ট্রিশিয়ান), সুমন আহমেদ (নিরাপত্তাকর্মী), রঞ্জন দাস (নিরাপত্তাকর্মী), ময়নুল খান (নিরাপত্তাকর্মী), আল আমিন (নিরাপত্তাকর্মী), লিমন দাস (নিরাপত্তাকর্মী)।
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূসম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবুল হাসনাতের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে বিড়ি সিগারেটের আগুন থেকেই টিলায় আগুন লেগেছে। টিলাগুলোতে আকাশমণি গাছের পরিমাণ বেশি হওয়ায় ঘন ঘন আগুন লাগার ঘটনা আরো বাড়ছে। কারণ আকাশমণি গাছের পাতা অত্যন্ত দাহ্য হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে সহজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। তাই আমার মনে হয় অতি দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের টিলাগুলোতে নজরদারি আরও বাড়াতে হবে এবং বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে।
প্রক্টর অধ্যাপক মো. মোখলেসুর রহমান জানান, আকাশি গাছ থেকে প্রচুর পাতা ঝড়ে যেগুলো থেকেই মূলত আগুনটা লাগছে। কিন্তু প্রতিটা ক্ষেত্রেই যে এমনটা হচ্ছে বিষয়টা এমন না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কেউ হয়তো উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাদের সুবিধার জন্য কাজটা করছে। তবে আমরা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছি। পাশাপাশি লেডিস হলের আশেপাশের টিলাগুলো থেকে আকাশি গাছগুলো কেটে সেখানে ফলজ গাছ লাগানোর ব্যাপারেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সমর্থনও পাওয়া গেছে।
আগুন লাগলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি প্রক্টর অফিস থেকে আগুন নিভানোর জন্য ১০টা আগুন নির্বাপক যন্ত্র কিনেছি যেগুলো ব্যবহার করে আমাদের নিরাপত্তাকর্মীরা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারবে।
প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আগুন নিভাতে সহায়তাকারী কর্মচারীদের পুরস্কৃত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে কাজ করার জন্য শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরস্কৃত করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।
উল্লেখ্য, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম আসলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের টিলাগুলোতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে করে টিলার বনাঞ্চলের পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের উপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে
ইসফাক/মাহফুজ