‘হে কবি, নীরব কেন— ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে নাকি তব বন্দনায়?’— লাইনটি কবি সুফিয়া কামালের ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতা থেকে নেওয়া। কবিতায় দেখা যায়, প্রকৃতিতে বসন্ত এলেও ব্যক্তিগত দুঃখে কবি সেই সৌন্দর্য অনুভব করতে পারছেন না। কিন্তু প্রকৃতি তার নিজস্ব নিয়মেই চলে; কোনো মানুষের অপেক্ষায় ঋতুর আগমন থেমে থাকে না। ঠিক তেমনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসেও রমজানের ছুটিতে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে থাকলেও বসন্ত ঠিক সময়েই এসে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থীশূন্য ক্যাম্পাসে তাই নেমেছে ফুলের রঙিন উৎসব।
সরেজমিনে দেখা যায়, শীতের নরম আবহ কাটিয়ে ফাল্গুনের হালকা উষ্ণতায় ক্যাম্পাসজুড়ে ফুটে উঠেছে নানা রঙের ফুল। শহিদ আনাস হলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দুটি জারুলগাছ যেন সৌন্দর্যের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভেসে বেড়াচ্ছে এসব ফুলের ছবি ও ভিডিও।
অন্যদিকে প্রশাসন ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম মোড়, রবীন্দ্র-নজরুল কলাভবনের দক্ষিণ গেট এবং থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের সামনে লাল পলাশ ফুলে ছেয়ে গেছে চারপাশ। যেন ফেব্রুয়ারির ভাষাশহিদ ও মার্চের কালরাতের শহিদদের স্মরণেই লাল রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে প্রকৃতি।
সাদ্দাম হোসেন হলের গেট ঘিরে ফুটেছে পয়েনসেটিয়া ও লাল-সাদা গোলাপ। ক্যাম্পাসে অবস্থানরত অনেকেই সেখানে এসে ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। কেউ প্রিয়জনকে ফুল উপহার দিচ্ছেন, কেউ আবার স্মৃতির জন্য ছবি তুলছেন।
ক্যাম্পাসে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ মসজিদের সামনের এলাকাও এখন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। মসজিদের সিঁড়ির পাশে হলুদ ল্যান্টানা, নিচে গাঁদা ফুল আর চারপাশে ভৃঙ্গরাজ ফুলে তৈরি হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। প্রতিটি নামাজের পর অনেক মুসল্লি সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে এই সৌন্দর্য উপভোগ করেন। শহিদ মিনার ও কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনেও ফুটেছে গাঁদাসহ নানা ফুল, যা স্থানগুলোকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী ফারিহা আক্তার মিষ্টি বলেন, ‘বসন্ত এলেই ইবি ক্যাম্পাস নতুন প্রাণ ফিরে পায়। কৃষ্ণচূড়া, শিমুল, জারুল, ভৃঙ্গরাজ ও পলাশের রঙিন আভা সবুজ ঘাসের ওপর ছড়িয়ে দেয় এক মায়াবী পরিবেশ।’
বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. সরওয়ার মুর্শেদ বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় শুধু পড়াশোনার স্থান নয়; প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বাড়াতে রাস্তার পাশে আরও বেশি ফুলের গাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রশাসন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগ এক সঙ্গে কাজ করলে ইবি ক্যাম্পাসের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও সমৃদ্ধ হবে।’
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়