চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসকের অনুপস্থিতি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে দুজন চিকিৎসকের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অধিকাংশ সময় একজন চিকিৎসক দিয়ে সেবা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে রোগীর চাপ বাড়লে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সরেজমিনে দেখা গেছে, বিকাল চারটা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও দুই চিকিৎসকের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন একজন। রোস্টার অনুযায়ী ডা. জামিলা হক ও ডা. মো. খোরশেদুল আলমের দায়িত্বে থাকার কথা থাকলেও সেখানে কেবল একজন চিকিৎসককে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়। ফলে রোগীদের দীর্ঘ সময় সিরিয়ালে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী ছাত্রীদের রাত আটটার মধ্যে হলে ফিরতে হয়, যা চিকিৎসা নিতে আসা অনেকের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।
চিকিৎসা কেন্দ্রের দায়িত্বশীল এক কর্মচারী জানান, অনুপস্থিত চিকিৎসক ছুটিতে রয়েছেন। তবে কেন্দ্রটির সার্বিক তদারকির দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, তার জানা মতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ছুটিতে নেই। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডা. খোরশেদুল আলম জানান, তিনি ওই দিন ও আগামী বৃহস্পতিবার ছুটিতে রয়েছেন এবং ছুটির বিষয়টি সিএল খাতায় উল্লেখ আছে। তবে চিকিৎসা কেন্দ্রের সিএল খাতা পর্যালোচনায় তার এ দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি, খাতা অনুযায়ী তার সর্বশেষ ছুটি ছিল গত ১৮ ফেব্রুয়ারি।
এদিকে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির চিত্রও দেখা গেছে। তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, ডিউটিতে দুইজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও একজন উপস্থিত থাকায় চিকিৎসা নিতে দেরি হচ্ছে, ফলে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রায় ৩২ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাফি যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রয়োজনীয় উপকরণ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা করা হয় না। ফলে শিক্ষার্থীদের অন্যদিন আসতে হয় বা বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
সার্বিকভাবে চিকিৎসক সংকট, অব্যবস্থাপনা ও অব্যবহৃত চিকিৎসা সরঞ্জামের বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইবাদ হোসেন/নাঈম