শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা ঈদ বা পূজায় ছুটি পেলেও ছুটি পায় না ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের বছরে সবচেয়ে বড় সামাজিক উৎসব বৈসাবিতে। প্রতি বছরের মতো এবারও তাদের অন্যতম এই সামাজিক উৎসবটি পরিবারের সঙ্গে উদযাপন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৫০জন শিক্ষার্থী।
উৎসবটি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা বিভিন্নভাবে তাদের পরিবার পরিজনদের সাথে উদযাপন করে থাকেন। ত্রিপুরাদের বৈসু, মারমাদের সাংগ্রাই, চাকমাদের বিজু নামে বেশ পরিচিত। এছাড়াও এটি তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিসু, ম্রো (মুরং)দের-চাংক্রান ও অন্যান্য জনগোষ্ঠীরা পালন করে সাংগ্রাই বা রঙপানী হিসেবে।
এ দিনগুলোতে পাহাড়ে বসবাসরত ১৩টি জাতিগোষ্ঠীর সবাই পুরোনো বছরের সব দুঃখ-কষ্ট ও পাপ ধুয়ে মুছে ফেলে নতুন বছরে সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করে এবং পাহাড়ে বসবাসরত জাতিগোষ্ঠীর স্ব-স্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরা হয় বিভিন্ন উৎসবের মধ্য দিয়ে। এটি অনেকটা পারস্পরিক সহাবস্থান ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যেরও প্রতীক হিসেবে তারা মনে করে।
এই উৎসব সাধারণত বাংলা বছরের শেষ দু-দিন (চৈত্র সংক্রান্তি) এবং নতুন বছরের প্রথম দিন (পহেলা বৈশাখ) অর্থাৎ প্রতি বছর ১২, ১৩ ও ১৪ এপ্রিল পালিত হয়।
দেখা যায় প্রতি বছরই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি না পাওয়ায় বাড়িতে যেতে পারেন না শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন যাবৎ প্রশাসনের নিকট দাবি জানিয়ে আসলেও প্রশাসন থেকেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী শিক্ষার্থীদের সংগঠন “অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিজেনাস স্টুডেন্টস,সাস্ট”এর সিনিয়র সহ-সভাপতি অমিতাভ ভূষণ ত্রিপুরা অমিত খবরের কাগজকে বলেন, " বৈসাবি উৎসবে আমরা পুরনো সব দু:খ, কষ্ট ভুলে গিয়ে পরিবার তথা সমাজের মানুষের সাথে আনন্দ বিনিময় করে আগামীর জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি কামনা করি। যেহেতু এ উৎসবটি আমাদের সবচেয়ে বড় বাৎসরিক সামাজিক উৎসব, সেহেতু উক্ত দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো ক্লাস ও পরীক্ষা না রাখে, তাহলে আমরাও এ উৎসবে শামিল হয়ে পরিবারের সঙ্গে অন্তত বছরে একবার এ বিশেষ দিনে আনন্দ বিনিময় করার সুযোগ পাবো।"
এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি মুখের কথায় হয় না। এর জন্য একটা ছুটি কমিটি হয়, তারপর সে কমিটি ছুটি প্রস্তাব করে এবং সবশেষে এটা একাডেমিক কাউন্সিলে পাস হয়। আমার জানা নেই ওরা কোনো আবেদন করছে কি না। যদি ওরা আবেদন করে তাহলে সেটা সিস্টেম্যাটিকেলি দেখা হবে।
মো: ইসফাক আলী/এসএন