জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের দাবিতে আমরণ অনশনে বসা ৩ শিক্ষার্থী জুলাই আন্দোলনে শহিদ পরিবারের সদস্যদের অনুরোধে ৭২ ঘণ্টা পর অনশন ভেঙেছেন।
শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এসে শহিদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা, শহিদ সাইদুল ইসলামের বাবা, শহিদ জাবেরের বাবা, শহিদ সৈকতের বাবা এবং জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্যরা ওই শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান।
এ সময় তারা গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আশ্বাস দেন এবং ডাবের পানি পান করিয়ে শিক্ষার্থীদের অনশন ভাঙান। অনশনরত তিনজনের মধ্যে সাদিক মনোয়ার মুনেম ও সাকিবুর রহমানকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী ড. মোহাম্মদ মোর্তজা মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিক মুনেম অনশনে বসেন। পরে সন্ধ্যায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান এবং পরদিন নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শেখ মুস্তাফিজ অনশনে যোগ দেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য তাদের সঙ্গে দেখা করে অনশন ভাঙার অনুরোধ করলেও তারা অনশন চালিয়ে যান।
অনশনে বসার পর তাদের সঙ্গে পাবনা-১ আসনের এমপি নাজিবুর রহমান মোমেন, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, ঢাকা-৪ আসনের এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ আসনের এমপি কামাল হোসেন, শেরপুর-১ আসনের এমপি রাশেদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমেদ, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ আরো অনেকে সংহতি জানান।
এছাড়া শুক্রবার রাত সাড়ে ১০ টায় রাজু ভাস্কর্য চত্বরে অনশনরত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান এবং তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ-খবর নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। এসময় উপাচার্য জানান, অনশনরত শিক্ষার্থীদের বার্তা সরকারের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছে দেবেন।
আরিফ জাওয়াদ/এসএন




