চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের যাতায়াত ভোগান্তি নিরসনে অন্তত ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালুর দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু)।
শাটল ট্রেনের সীমিত ধারণক্ষমতা ও নিয়মিত দুর্ভোগের কারণে বিকল্প গণপরিবহণ ব্যবস্থা জোরদারের দাবি তুলে ধরেছে চাকসু প্রতিনিধিরা।
রবিবার (১০ মে) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে চাকসু। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চাকসুর যোগাযোগ ও আবাসন বিষয়ক সম্পাদক মো. ইসহাক ভূঁঞা।
সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা সমাধানে ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অন্তত ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালু করে নির্দিষ্ট রুটে শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি সার্ভিস নিশ্চিত করা, ১০টি নতুন ই-কার চালু, শাটল ট্র্যাকার অ্যাপের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, দ্রুত ফিরতি বাস সার্ভিস চালু, টেকনিক্যাল হল্ট বন্ধ করে অক্সিজেন স্টপেজ চালু এবং শাটলের সব শিডিউলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ।
লিখিত বক্তব্যে মো. ইসহাক ভূঁঞা বলেন, “চাকসু দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই আমরা শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সমস্যা সমাধানে কাজ করছি। শাটল ট্রেন সেবা সংস্কারের লক্ষ্যে আন্দোলনও করেছি। কিন্তু বর্তমানে শাটল ট্রেনের ধারণক্ষমতা মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশেরও কম। ফলে প্রতিদিন হাজারো শিক্ষার্থীকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের চাপ সামাল দিতে শাটলের পাশাপাশি বিকল্প পরিবহন ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ কারণে আমরা ১০টি ডাবল ডেকার বিআরটিসি বাস চালুর দাবি জানিয়েছি। দাবিগুলোর অধিকাংশ এখন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।”
সংবাদ সম্মেলনে চাকসুর পক্ষ থেকে যাতায়াত সমস্যা নিরসনে চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে শহর থেকে ফিরতি বাস সার্ভিস চালুর উদ্যোগ, ই-কার সার্ভিস সম্প্রসারণ, শাটল ট্রেন সেবা সংস্কার, শিক্ষার্থীদের জন্য স্বল্প ভাড়ায় বিআরটিসি সার্ভিস চালু, ক্যাম্পাসে চক্রাকার বাস সার্ভিস, শাটল ট্র্যাকার অ্যাপ, সিএনজি নিয়ন্ত্রণে নতুন রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা এবং জোবাইক ও ইলেকট্রিক স্কুটার চালুর পরিকল্পনা।
চাকসুর নেতারা জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম শাটল ট্রেন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় রুটে দৈনিক কয়েক জোড়া শাটল ট্রেন চলাচল করলেও তা শিক্ষার্থীদের তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। ফলে ট্রেনের ছাদ, দরজা ও বগির সংযোগস্থলে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
দীর্ঘদিন ধরে শাটল ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড়, সময়সূচির অনিয়ম, পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাব এবং ট্রেনের সংকট নিয়ে অভিযোগ রয়েছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, ছিনতাই, নারী শিক্ষার্থীদের হেনস্থাসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগও প্রায়ই উঠে আসে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ে বলে দাবি শিক্ষার্থীদের।
আল আরাফ/এসএন