শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষাখাতের সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘বাংলাদেশ-পাকিস্তান ২য় এডুকেশন এক্সপো-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে পাকিস্তানের ২২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করে।
রবিবার (১৭ মে) সকাল ১০ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন-১ এর ৪র্থ তলার সভাকক্ষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে পাকিস্তানের ২২টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদলের একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষার প্রকল্প পরিচালক জাহানজেব খান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী বলেন, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে আমরা একটি সমৃদ্ধ একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই। সাম্প্রতি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমাদের যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে, তা শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। শিক্ষার্থীদের সার্বিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা একে অপরের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহী। আমরা বিশ্বাস করি, গবেষণা, উদ্ভাবন ও একাডেমিক কার্যক্রমে বৈশ্বিক সংযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, গত বছরে বাংলাদেশের ৭৪ জন শিক্ষার্থীকে আমাদের দেশে স্কলারশিপ কর্মসূচির আওতায় স্বাগত জানাতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত। এই উদ্যোগ দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান, দক্ষতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গেও আমার আলোচনা হয়েছে এবং তিনি উদ্যোগটির প্রশংসা করেছেন । আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল করিম বলেন, এই শিক্ষা বিনিময় (এডুকেশন এক্সচেঞ্জ) কর্মসূচির আয়োজক হতে পেরে আমরা অত্যন্ত গর্বিত। আপনারা যারা এখানে এসেছেন, তাদের আমরা আমাদের পরিবারের সদস্য হিসেবেই মনে করি। আমাদের দেশ থেকে ইতিমধ্যেই ৭৪ জন শিক্ষার্থী আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ভর্তি হয়েছে জেনে অত্যন্ত আনন্দিত হলাম। আপনাদের এই স্কলারশিপ প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। আশা করি, চলতি বছরে এই বৃত্তির পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে আমাদের চমৎকার প্রাতিষ্ঠানিক কোলাবরেশন বা যৌথ সহযোগিতা রয়েছে। আমাদের অনুষদের শিক্ষক ও গবেষকরা আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে শিক্ষা ও গবেষণা বিনিময় কার্যক্রমে অংশ নিতে অত্যন্ত আগ্রহী। আমাদের এখানে অত্যন্ত উচ্চমানের গবেষক রয়েছেন, যার ফলশ্রুতিতে গত বছরই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে আমাদের গবেষকদের ৫৫০টি গবেষণা প্রবন্ধ (আর্টিকেল) প্রকাশিত হয়েছে।
মতবিনিময় সভা সঞ্চালনা করেন শাবিপ্রবি ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মনিরুল ইসলাম। মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান এবং দপ্তরপ্রধানগণ।
মতবিনিময় সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ সোশ্যাল সায়েন্সেস বিল্ডিং-এর ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ আয়োজিত ‘এডুকেশন এক্সপো’ শীর্ষক শিক্ষা মেলার উদ্বোধন করেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. এম. সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী।
দিনব্যাপী এই এক্সপোতে অংশগ্রহণকারী ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম, প্রোগ্রাম, বৃত্তির সুযোগ এবং গবেষণা সম্পর্কে স্টলের মাধ্যমে উপস্থাপনা করে।
শাবিপ্রবি প্রতিনিধি/এসএন




