অনেকেই তাকে বিশ্বের প্রথম নারীবাদীদের মধ্যে একজন হিসেবে বিবেচনা করেন। তিনি সেই নারী যিনি ফরাসি বিপ্লবে ঘোষণা করেছিলেন যে, নারী এবং পুরুষ উভয়ই সমান। বলছিলাম ফরাসি সমাজ সংস্কারক এবং লেখক অলিম্পে দে গোজেসের কথা। তিনি একজন নাগরিক হিসেবে নারীর ভূমিকাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রচলিত মতামতকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।
অলিম্পের জন্ম ১৭৪৮ খ্রিষ্টাব্দের ৭ মে ফ্রান্সের মন্টাউবানের এক ধনী পরিবারে। যদিও তার মা ব্যক্তিগতভাবে তার শিক্ষক ছিলেন কিন্তু তার নিজের কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তাকে তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে লুই অব্রি নামে একজনের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তার স্বামী এক বছর পরে মারা যান। অলিম্পে তার আধা-আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ Memories-এ বলেন, ‘আমি এমন একজনকে বিয়ে করেছি যাকে আমি ভালোবাসিনি এবং যিনি ধনী বা ভালো পরিবারে জন্মগ্রহণকারীও ছিলেন না।’
পরবর্তী সময়ে দে গোজেস ১৭৭০ সালে প্যারিসে চলে যান এবং সেখানে একটি থিয়েটার কোম্পানি শুরু করেন এবং ক্রমবর্ধমান বিলোপবাদী আন্দোলনে জড়িত হন। একজন নাট্যকার হিসেবে তিনি সমসাময়িক রাজনৈতিক বিতর্কে অভিযুক্ত হন। প্যারিসের থিয়েটার সম্প্রদায়ে যোগদানের পর গোজেস দাসত্ব, নারী-পুরুষ সম্পর্ক, শিশুদের অধিকার এবং বেকারত্বের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নাটক লিখতে শুরু করেন। ১৭৮৪ সালে তিনি একটি উপন্যাস প্রকাশ করেন।
তার কাজগুলো প্রায়ই পুরুষশাসিত সাহিত্য প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিকূল সমালোচনা এবং উপহাসের সম্মুখীন হতো। এমনকি কিছু সমালোচক প্রশ্ন তুলেছেন যে, তিনি যে রচনাগুলোয় তার নাম স্বাক্ষর করতেন তার প্রকৃত লেখক তিনিই ছিলেন কি না। অলিম্পে সর্বাধিক পরিচিত তার ‘নারী ও নারী নাগরিকের অধিকারের ঘোষণা’ এবং ‘নারীর অধিকার ও বিলোপবাদ’ এই দুটি কাজের জন্য। ‘নারী ও নারী নাগরিকের অধিকারের ঘোষণা’ এটি প্রকাশনার ফলে গোজেসের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। অলিম্পে দে গোজেস ফরাসি বিপ্লবকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর যখন তিনি দেখলেন যে, পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের সমান অধিকার প্রসারিত করা হয়নি তখন তিনি হতাশ হয়ে পড়েন।
নারী অধিকারের বিষয়ে নীরব থাকতে অস্বীকার করা, গিরোন্ডিস্টদের সঙ্গে যুক্ত থাকা, জ্যাকবিনদের সমালোচনা করা এবং বিপ্লবে নতুন দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ার জন্য অলিম্পে দে গোজেসকে বিপ্লবের চার বছর পর ১৭৯৩ সালের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই বছরেরই ৩ নভেম্বর গিলোটিনে শিরশ্ছেদ করে তাকে হত্যা করা হয়।
কলি