বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নারীর অংশগ্রহণ এক সময় সীমিত থাকলেও ধীরে ধীরে তা বাড়ছে। তবে অর্থনৈতিক বৈষম্য এখনো অনেক নারীর নির্বাচনে অংশগ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে সরকার এবার এক নতুন ও যুগান্তকারী উদ্যোগ নিতে চলেছে। যেখানে বলা হয়, নারী প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারে সরকারি অর্থ সহায়তা দেওয়া হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক নীতিনির্ধারণী সংলাপ ‘Election Campaign Funding (Women Candidates) Ordinance’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। যার মূল প্রতিপাদ্য ছিল নারী প্রার্থীদের জন্য একটি স্বতন্ত্র সরকারি অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা। ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) বি-স্পেস প্রকল্প সংলাপটি আয়োজন করে। যার পেছনে অর্থায়ন করেছে UKAID।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদ। তিনি বলেন, ‘সরকার নারীর ক্ষমতায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়িত হলে নারীদের নেতৃত্বে আরও গতিশীলতা আসবে।’
উক্ত সংলাপে একটি খসড়া অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়। যেখানে নারী প্রার্থীদের জন্য নির্বাচনকালীন অর্থ সহায়তার একটি লিঙ্গ-সংবেদনশীল কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে।
এটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে প্রার্থীরা সহজে আবেদন করতে পারেন এবং একটি স্বচ্ছ নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত হয়।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের (ডিআই) কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. মো. আব্দুল আলিম খসড়াটি উপস্থাপন করেন এবং এর মূল প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। তিনি জানান, এই অধ্যাদেশ পাস হলে নারী প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনি প্রচারে কার্যকর সহায়তা পাবেন, যা রাজনৈতিক অংশগ্রহণে সমতা আনার পথে বড় পদক্ষেপ হবে।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নির্বাচন কমিশনের সদস্য, নারী সংস্কার কমিশনের নেতা, জামায়াতে ইসলামী, সামাজিক সংগঠন জুলাই কন্যা, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সবাই এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে একে সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখেন। বিশেষত, সব দলের সম্মিলিত উপস্থিতি ও সমর্থন ইঙ্গিত দেয় যে, এটি কেবল একটি নারীবিষয়ক পদক্ষেপ নয়, বরং একটি জাতীয় রাজনৈতিক সংস্কারের সূচনা।
নির্বাচন কমিশন আশ্বাস দেয়, অধ্যাদেশটি পাস হলে তারা এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ক্যাথরিন সেসিল বলেন, ‘আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বলে, যেসব দেশে সরকারি অর্থায়ন রয়েছে, সেখানে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বহুগুণে বেড়েছে।’ তিনি বাংলাদেশের জন্য এটিকে একটি ‘রূপান্তরমূলক সুযোগ’ হিসেবে আখ্যা দেন।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ শুধু বাড়বে না, বরং তারা নেতৃত্বের আসনে উঠে আসার বাস্তব সুযোগ পাবেন।
একজন নারী প্রার্থীকে নির্বাচন করতে গিয়ে যেসব আর্থিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়, সরকারি সহায়তা তার একটি বড় অংশ লাঘব করবে। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন মানে শুধু নারীর অগ্রগতি নয়, এটি দেশের গণতন্ত্রেরও একটি শক্তিশালী রূপান্তর।
এই অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় বদলের সূচনা হতে পারে। নারীর নেতৃত্বকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার এমন উদ্যোগ দীর্ঘদিনের বৈষম্য ভেঙে দেবে বলে আশা করা যায়।
তথ্য সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)
/এসএল
.jpg)