ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ভিনিসিয়ুস: এবার হলুদ জার্সিতে প্রমাণের পালা প্রেরণার নাম ম্যাকগিন মৃত্যুকূপে দাঁড়িয়ে ফিরে আসার রোমাঞ্চ হাইতির স্বপ্নসারথি ইসিদোর অবসর ভাবনায় কর্তোয়া ড্র দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু কানাডার কাতারের সামনে সুইজারল্যান্ড চ্যালেঞ্জ লুকিচের গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে বসনিয়া কানাডার বিশ্বকাপ বরণ অনুষ্ঠান মাতালেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সঞ্জয় ইনজুরিতে বিশ্বকাপ শেষ, ভাঙা হৃদয়ে অবসর ঘোষণা মৃত্যুকে হারিয়ে বিশ্বকাপ হিরো গিমেনেজ আর্জেন্টিনা শিবিরে বড় সুসংবাদ হঠাৎই অবসরে উইলিয়ামসন সিলেটের মাজারে দানের টাকার ‘বেহিসেবী’ ঘোচাতে চান ডিসি সারওয়ার বেলকুচিতে উদ্ভাবননির্ভর দেশ গঠনে বিজ্ঞান মেলা টাঙ্গাইলে এলএসডি ভ্যাকসিনেশন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন চলে গেলেন আধুনিক শিল্পের আইকন ডেভিড হকনি সনকে নিয়ে অস্বস্তিতে দক্ষিণ কোরিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এখন শেষ পর্যায়ে? পাকিস্তানের নতুন দাবি নাটকীয় সমাপ্তিতে ১৬ বছর পর চ্যাম্পিয়ন মোহামেডান মন্তব্য ঘিরে আইনি জটিলতা, মমতার বিরুদ্ধে মামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার দ্বারপ্রান্তে ইরান: আরাঘচি সিলেটে ফাহিমা হত্যার ১ মাস পর চার্জশিট দিল পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয়, ছয় লেন সড়ক, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন; প্রধানমন্ত্রীর কাছে কক্সবাজারবাসীর যত প্রত্যাশা হাম ও উপসর্গে মোট মৃত্যু ৬৪৩ আক্রান্ত ৮৪২৬৬ স্থায়ী নিয়োগসহ ছয় দফা দাবিতে রাজশাহীতে কর্মচারীদের সমাবেশ সোনারগাঁওয়ে আইফোনসহ ১৪৬ মোবাইল চুরি, প্রায় কোটি টাকা ক্ষতি শাহ আমানত বিমানবন্দরে ৬৪৭ কার্টুন সিগারেট জব্দ প্রথম ম্যাচে খেলা হচ্ছে না ডেভিসের নওগাঁয় দুইদিন মাইকিং করেও মেলেনি ব্রাজিল সমর্থক
Nagad desktop

নিজের নামেই উজ্জ্বল হোক নারীর পরিচয়

প্রকাশ: ২৬ নভেম্বর ২০২৫, ১২:২৮ পিএম
নিজের নামেই উজ্জ্বল হোক নারীর পরিচয়

নারী মানে শক্তি, সম্ভাবনা, সৃজনশীলতা। নারী মানে একক পরিচয়। সম্পর্ক তাকে সমৃদ্ধ করে, কিন্তু সংজ্ঞায়িত করে না। তাই সময় এসেছে পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলার। পিতা, স্বামী কিংবা সন্তানের পরিচয়ে নয়, বরং নারী নিজের পরিচয়েই নারী। 

সমাজের চোখে নারীর পরিচয় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এক অদৃশ্য শৃঙ্খলে বাঁধা- কারও কন্যা, কারও স্ত্রী, কারও মা। নিজের নামে, নিজের স্বতন্ত্র পরিচয়ে নারীকে দেখা এখনো বহু সমাজই অভ্যস্ত নয়। অথচ নারী একটি পূর্ণাঙ্গ মানুষ; তার নিজস্ব স্বপ্ন, যোগ্যতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস, শখ, শক্তি ও দুর্বলতা আছে। সে যেমন পরিবারের অংশ, তেমনি নিজের ব্যক্তিসত্তারও মালিক। আজকের পৃথিবীতে সেই ব্যক্তিসত্তার দাবি আরও জোরালো হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে- নারীর পরিচয়ের কেন্দ্রে কি শুধু সম্পর্ক থাকবে, নাকি থাকবে তার নিজের পরিচয়ও?

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার সমাজে জন্মের পর থেকেই মেয়েদের পরিচয় তৈরি হয় ‘অমুকের মেয়ে’ হিসেবে। কৈশোর পেরোতেই পরিবার ও সমাজ তাদের কাছে প্রত্যাশা করে ‘ভালো স্ত্রী’ হওয়া, আর সন্তান জন্মের পর পরিচয় দাঁড়ায় ‘অমুকের মা’। অদ্ভুতভাবে, নারী যত বেশি দায়িত্ব পালন করে, ততই তার নিজের নামটি আড়াল হতে থাকে। কর্মক্ষেত্রে সফল নারীও বহু ক্ষেত্রে সমাজে পরিচিত থাকে ‘অমুকের বউ’ নামেই। এই অদৃশ্য পরিচয়-নির্মাণ নারীর ব্যক্তিসত্তাকে কীভাবে সংকুচিত করে, তার গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন।

নারীর পরিচয়কে সম্পর্ককেন্দ্রিক করে দেখার এই মানসিকতা শুধু সামাজিক নয়, সাংস্কৃতিকভাবেও প্রতিষ্ঠিত। সিনেমা-ধর্মীয় বয়ান-সাহিত্য-গান- সবকিছুতেই নারীকে মাতৃত্ব বা ত্যাগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়। যেন নারী তার নিজের জন্য অস্তিত্বশীল নয়, বরং সমাজের জন্য, পরিবার-স্বামীর জন্য, সন্তানের জন্য। এতে নারীর নিজের ভালো লাগা, পছন্দ, উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার, আর্থিক স্বাধীনতা- সবকিছুই ‘গৌণ’ হয়ে যায়। আর এখানেই প্রশ্ন ওঠে: নারী কি নিজেকে শুধুই সম্পর্কের মাধ্যমে সংজ্ঞায়িত করবে?

এমন সামাজিক কাঠামোর কারণে বহু নারীর নিজের পরিচয় গড়ে উঠতে পারে না। তাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত থাকে, পেশা বাছাইয়ের স্বাধীনতা সংকুচিত হয়, এমনকি নিজের শরীর-মন সম্পর্কেও তারা স্বাধীন মত প্রকাশ করতে পারে না। নারীর নাম হয়তো সরকারি কাগজে থাকে, কিন্তু বাস্তব সমাজে তাকে পরিচিত করা হয় সম্পর্কের মাধ্যমে। ফলে নারীর আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও সৃজনশীলতার ক্ষেত্র বাধার মুখে পড়ে।

তবে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। শহরকেন্দ্রিক কর্মজীবী নারীরা, উদ্যোক্তা নারীরা, ক্রীড়াবিদ-শিল্পী-গবেষক নারীরা সমাজকে দেখিয়ে দিচ্ছেন- নারী তার নিজের পরিচয়েই আলোকিত। আজকের মেয়েরা উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, ব্যবসা শুরু করছেন, দেশের বড় সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখছেন। অনেকেই বিবাহ বা মাতৃত্বকে জীবনের একমাত্র গন্তব্য হিসেবে দেখছেন না। তারা নিজের ক্যারিয়ার, স্বপ্ন ও ব্যক্তিসত্তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এ পরিবর্তন শুধু নারীর নয়, বরং পুরো সমাজের চেতনায় একটি বড় পরিবর্তনের প্রতীক।

কিন্তু এখানেই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন- পরিবর্তন কতটা গভীরে পৌঁছেছে? শহরে পরিবর্তনের ছোঁয়া থাকলেও গ্রাম ও প্রান্তিক সমাজে পরিস্থিতি এখনো কঠিন। অনেক নারী এখনো নিজের পরিচয়ে দাঁড়াতে পারেন না; সামাজিক চাপ, পরিবারের প্রত্যাশা, আর্থিক নির্ভরতা তাদের সীমাবদ্ধ রাখে। মেয়েকে নিজের নামে পরিচয় করানো অনেক পরিবারেই ‘বেখাপ্পা’ মনে করা হয়। আবার কর্মজীবী নারীর সাফল্যও অনেক সময় ‘ঘর সামলাতে না পারার ব্যর্থতা’ হিসেবে ধরা হয়। অর্থাৎ সামাজিক মানসিকতা এখনো বড় বাধা। 

নারীর নিজের পরিচয় গঠনের সংগ্রাম শুধু ব্যক্তিগত লড়াই নয়, এটি একটি কাঠামোগত লড়াইও। শিক্ষা, প্রযুক্তি, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং মানসিক শক্তি- এই চারটি ক্ষেত্র নারীর ব্যক্তিসত্তা নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একজন নারী যখন অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার জায়গায় তার অবস্থান শক্তিশালী হয়। উচ্চশিক্ষা তাকে যুক্তিবোধ দেয়, নিজের স্বপ্নকে বড় করে দেখার ক্ষমতা দেয়। আর প্রযুক্তি আজ নারীর জন্য খুলে দিয়েছে নতুন জগৎ- ফ্রিল্যান্সিং, অনলাইন ব্যবসা, রিমোট কাজ। যেখানে তারা নিজের সময় ও পছন্দমতো কাজ করতে পারেন।

তবে শুধু আর্থিক বা পেশাগত স্বাধীনতা পেলেই নারীর পরিচয়ের সংকট মুছে যায় না। প্রয়োজন গভীর মানসিক স্বীকৃতি- নারী একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষ, যার পরিচয় সম্পর্কের বাইরেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। সমাজকে এই স্বীকৃতির জায়গা তৈরি করতে হবে। পরিবারকে শিখতে হবে মেয়ের পরিচয় দিতে তার নিজের নামেই। সন্তানের পরিচয়ের পাশেও মায়ের নিজস্ব পরিচয় তুলে ধরতে হবে। মিডিয়াকে দায়িত্ব নিতে হবে নারীর বহুমাত্রিক ভূমিকা তুলে ধরার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন লিঙ্গ-সংবেদনশীল পাঠ্যক্রম। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- নারীকে নিজেকে নিজের পরিচয়ে গ্রহণ করতে হবে।

নারীর পরিচয় নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই যাত্রায় আত্মসম্মান ও আত্মপরিচয় বড় ভূমিকা রাখে। নিজের কাজের মূল্য বোঝা, নিজের সিদ্ধান্তে দৃঢ় থাকা, নিজের পছন্দকে গুরুত্ব দেওয়া- এসবই একটি নারীর ব্যক্তিসত্তাকে গড়ে তোলে। সমাজের প্রতিটি মেয়েকে জানাতে হবে- আপনি কারও স্ত্রী বা মা বলেই মূল্যবান নন; আপনি মূল্যবান কারণ আপনি ‘আপনি’।

/এসএল

অনলাইনে নারীরাই কেন কটূক্তির শিকার?

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৫০ পিএম
অনলাইনে নারীরাই কেন কটূক্তির শিকার?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক সময় ছিল মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগের জায়গা। এখন এটি মতপ্রকাশ, পেশাগত পরিচিতি তৈরি, ব্যবসা পরিচালনা এবং সামাজিক আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু এই একই জায়গা নারীদের জন্য প্রায়ই অপমান, কটূক্তি ও হয়রানির ক্ষেত্র হয়ে ওঠে। 

প্রশ্ন হলো, অনলাইনে নারীরা কেন এত সহজ টার্গেট? এর উত্তর খুঁজতে গেলে শুধু প্রযুক্তির দিকে তাকালে হবে না; দেখতে হবে সমাজ, সংস্কৃতি এবং ক্ষমতার কাঠামোকেও।

অনেকেই মনে করেন, অনলাইন হয়রানি একটি নতুন সমস্যা। বাস্তবে এটি পুরোনো বৈষম্যেরই নতুন রূপ। সমাজে নারীদের পোশাক, চলাফেরা, পেশা বা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মন্তব্য করার যে প্রবণতা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সেটিকে আরও দৃশ্যমান করেছে।

ক্ষমতার রাজনীতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন কটূক্তি অনেক সময় ক্ষমতার রাজনীতির অংশ। সমাজে যখন নারীরা শিক্ষা, কর্মক্ষেত্র, রাজনীতি কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে দৃশ্যমান হয়ে ওঠেন, তখন কিছু মানুষ সেটিকে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত অবস্থানের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।

ফলে নারীদের চুপ করিয়ে দেওয়া, আত্মবিশ্বাস নষ্ট করা কিংবা জনপরিসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি উপায় হয়ে দাঁড়ায় অনলাইন আক্রমণ। এ কারণেই নারী সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ কিংবা জনপ্রিয় কনটেন্ট নির্মাতারা তুলনামূলক বেশি ঘৃণামূলক মন্তব্যের শিকার হন।

অজ্ঞাত পরিচয়ের সাহস

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আরেকটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো, অজ্ঞাত পরিচয়ে সক্রিয় থাকার সুযোগ। অনেকেই নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন রেখে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে কটূক্তি করেন। বাস্তব জীবনে যেটি বলার সাহস পান না, সেটিই অনলাইনে নির্দ্বিধায় লিখে ফেলেন।

মনোবিজ্ঞানীরা এটিকে ‘অনলাইন ডিসইনহিবিশন’ বলে থাকেন। অর্থাৎ পর্দার আড়ালে থাকার কারণে মানুষ নিজের আচরণের সামাজিক দায়বদ্ধতা কম অনুভব করে। ফলে সহানুভূতি কমে যায় এবং আক্রমণাত্মক আচরণ বেড়ে যায়।

অ্যালগরিদম

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম সাধারণত বেশি প্রতিক্রিয়া পাওয়া কনটেন্টকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়। দুঃখজনকভাবে বিতর্ক, বিদ্বেষ ও উত্তেজনাপূর্ণ মন্তব্য অনেক সময় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বেশি সম্পৃক্ততা তৈরি করে।

ফলে একটি নারীবিদ্বেষী মন্তব্য বা অপমানজনক পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যে হাজারও মানুষের সামনে পৌঁছে যায়। এতে শুধু একজন নারী নন, পুরো অনলাইন পরিবেশই নারীদের জন্য কম নিরাপদ হয়ে ওঠে।

অনেকের ধারণা, অনলাইনের মন্তব্যকে গুরুত্ব না দিলেই হয়। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। নিয়মিত কটূক্তি, অপমান বা হুমকির শিকার হলে উদ্বেগ, হতাশা, আত্মবিশ্বাসহীনতা এবং মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। অনেক নারী নিজের মতামত প্রকাশ করা বন্ধ করে দেন। কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দূরে সরে যান। আবার অনেকের ক্ষেত্রে এর প্রভাব কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত সম্পর্কেও পড়ে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, অনলাইন হয়রানি অনেক সময় ভার্চুয়াল জগতের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতেও রূপ নিতে পারে।

পরিবর্তন কোথা থেকে শুরু হবে?

অনলাইনে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু আইন যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন সামাজিক মানসিকতার পরিবর্তন। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে সমানভাবে দায়িত্ব নিতে হবে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকেও ঘৃণামূলক বক্তব্য শনাক্ত ও অপসারণে আরও কার্যকর হতে হবে। একই সঙ্গে নারীদের জন্য অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ ও নিরাপদ করা জরুরি।

সবচেয়ে বড় কথা, অনলাইনে নারীদের বিরুদ্ধে কটূক্তিকে ‘স্বাভাবিক’ বা ‘মজা’ হিসেবে দেখার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কারণ প্রতিটি অপমানজনক মন্তব্য শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, নারীদের জনপরিসরে অংশগ্রহণের অধিকারকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।

/এসএল

নারী অধিকার যখন ভূরাজনীতির হাতিয়ার

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম
নারী অধিকার যখন ভূরাজনীতির হাতিয়ার
যুদ্ধ শেষ হলেও নারীদের বেদনা, বাস্তুচ্যুতি ও অনিশ্চয়তা থেকে যায় দীর্ঘদিন। ছবি: সংগৃহীত

পশ্চিমারা ইতিহাসের বিভিন্ন যুদ্ধে নারীদের যুদ্ধের শিকার, প্রতিরোধের প্রতীক; আবার অনেক সময় যুদ্ধের যৌক্তিকতা তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে আধুনিক বিশ্বে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও নারী মুক্তির ভাষা যত বেশি শক্তিশালী হয়েছে, ততই এই ভাষাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের অভিযোগও জোরালো হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পশ্চিমা সামরিক হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে ‘নারী অধিকার রক্ষা’ একটি পরিচিত যুক্তি হিসেবে সামনে এসেছে।

প্রশ্ন হলো, সত্যিই কি নারীর অধিকার রক্ষার জন্য এসব যুদ্ধ হয়েছে, নাকি নারীমুক্তির ভাষা কখনো কখনো বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থের আড়াল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে?

বিশ্বব্যাপী নারীর অধিকার নিয়ে উদ্বেগের কোনো ঘাটতি নেই। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে নারীর শিক্ষা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ ও স্বাস্থ্যসেবায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবু আজও প্রতিমুহূর্তে বিশ্বের অসংখ্য নারী পারিবারিক সহিংসতা, বৈষম্য, দারিদ্র্য ও নিরাপত্তাহীনতার শিকার হচ্ছেন। এই বাস্তবতায় অনেকের কাছে বিস্ময়কর মনে হয়, যখন কোনো দেশে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়, তখন হঠাৎ করে সেই দেশের নারীদের মুক্তির প্রশ্নটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির কেন্দ্রে চলে আসে।

এই প্রবণতাকে অনেক গবেষক ‘নারী অধিকারের অস্ত্রায়ণ’ বলে অভিহিত করেন। অর্থাৎ নারীর অধিকার ও লিঙ্গসমতার ভাষাকে প্রকৃত সামাজিক পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক, সামরিক বা কৌশলগত লক্ষ্য অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা।

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান শুরু করে। সেই সময় পশ্চিমা রাজনৈতিক বক্তব্যে আফগান নারীদের দুর্দশার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। তালেবান শাসনের অধীনে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্বাধীনতার সীমাবদ্ধতা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। অনেকের মতে, এটি ছিল বাস্তব সমস্যার প্রতিফলন। তবে সমালোচকদের একটি অংশের দাবি, নারীর অধিকারের প্রশ্নকে যুদ্ধের নৈতিক বৈধতা তৈরির জন্যও ব্যবহার করা হয়েছিল।

দুই দশকের যুদ্ধের পর আফগানিস্তানের বাস্তবতা কী দাঁড়িয়েছে? লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, হাজার হাজার নারী স্বজন হারিয়েছে এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি সংকটে ফেলেছে। ফলে প্রশ্ন ওঠে–যে যুদ্ধ নারীর মুক্তির নামে শুরু হয়েছিল, তার চূড়ান্ত ফলাফল কি সত্যিই নারীদের জন্য মুক্তি বয়ে এনেছে?

একই ধরনের বিতর্ক দেখা গেছে ইরাক ও লিবিয়ার ক্ষেত্রেও। গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও নারী অধিকারের কথা বলে সামরিক হস্তক্ষেপকে সমর্থন করা হলেও পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সশস্ত্র সংঘাত ও নিরাপত্তাহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। আর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হয়েছে নারী ও শিশুদের।

কারণ যুদ্ধ কেবল সীমান্তে লড়াই নয়। যুদ্ধ মানে ঘর হারানো, পরিবার বিচ্ছিন্ন হওয়া, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য ও চিকিৎসা সংকট এবং যৌন সহিংসতার ঝুঁকি বৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে নারী ও কন্যাশিশুরা প্রায়ই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তারা শুধু বোমা ও গুলির শিকার হয় না; বরং যুদ্ধের দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও বহন করে।

ফিলিস্তিন থেকে ইরান—যুদ্ধের সবচেয়ে নির্মম মূল্য আজও দিচ্ছেন নারীরাই। গাজার রাফাহ সীমান্ত দিয়ে ফিরে আসা বহু নারী নিজেদের ঘরবাড়ির জায়গায় এখন শুধু ধ্বংসস্তূপ দেখছেন। একসময় যেখানে ছিল সংসার, সন্তানদের হাসি আর ভবিষ্যতের স্বপ্ন, সেখানে এখন যুদ্ধের ক্ষতচিহ্ন। বাস্তুচ্যুতি, খাদ্য সংকট, নিরাপত্তাহীনতা ও প্রিয়জন হারানোর বেদনা তাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা।

একইভাবে সাম্প্রতিক ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ছিল দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ নামের একটি মেয়েদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই হামলায় ১৬৫ থেকে ১৭০-এর বেশি স্কুলছাত্রী ও শিক্ষাকর্মী নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই ছিল ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী মেয়ে। হামলায় বিদ্যালয় ভবন ধসে পড়ে এবং শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়।

যুদ্ধ শুধু ঘর ভাঙেনি, ভেঙে দিয়েছে তাদের স্বপ্নও। ছবি: সংগৃহীত

এই হামলা শুধু কয়েকটি প্রাণ কেড়ে নেয়নি; এটি শত শত পরিবারের স্বপ্ন ধ্বংস করেছে। যে মেয়েরা বই হাতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছিল, তারা মুহূর্তেই যুদ্ধের শিকার হয়ে যায়। একই সংঘাতে বহু নারী ও শিশু বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, ঘরবাড়ি হারিয়েছেন এবং নিরাপত্তাহীন জীবনে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের রাজনৈতিক লক্ষ্য যাই হোক না কেন, এর সবচেয়ে নির্মম মূল্য পরিশোধ করছে সাধারণ নারী ও শিশুরাই।

নারী অধিকারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের আরেকটি বিপদ হলো, এটি প্রকৃত নারীবাদী আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যখন কোনো সামরিক শক্তি নারীমুক্তির ভাষা ব্যবহার করে যুদ্ধকে বৈধতা দেয়, তখন অনেক মানুষের কাছে নারী অধিকারের দাবিটিই সন্দেহের বিষয় হয়ে ওঠে। ফলে যারা সত্যিকার অর্থে সমতা, নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য লড়াই করছেন, তাদের কাজও কঠিন হয়ে পড়ে।

আজকের বিশ্বে নারীর অধিকার নিঃসন্দেহে একটি সর্বজনীন মানবাধিকার প্রশ্ন। কিন্তু সেই অধিকার যদি ক্ষমতার রাজনীতির অংশ হয়ে যায়, তা হলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় নারীদেরই। কারণ তখন নারীমুক্তি আর মানবিক লক্ষ্য হিসেবে থাকে না; এটি পরিণত হয় কূটনৈতিক ভাষণ, সামরিক কৌশল কিংবা আন্তর্জাতিক প্রভাব বিস্তারের একটি উপাদানে।

যুগোস্লাভিয়া থেকে আফগানিস্তান, ইরাক থেকে লিবিয়া, কিংবা সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত–বহু ক্ষেত্রে সমালোচকরা একই প্রশ্ন তুলেছেন: নারীমুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়ে শুরু হওয়া হস্তক্ষেপের শেষ ফলাফল কী সত্যিই নারীদের জীবনকে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ করেছে?

এই প্রশ্নের উত্তর সহজ নয়। তবে একটি সত্য স্পষ্ট–যুদ্ধ কখনো নারীদের জন্য সহজ বাস্তবতা বয়ে আনে না। নারীর অধিকারকে যদি সত্যিই গুরুত্ব দিতে হয়, তা হলে তা বোমা, নিষেধাজ্ঞা কিংবা আগ্রাসনের মাধ্যমে নয়; শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় নারীদের নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার মাধ্যমেই সম্ভব। অন্যথায় নারীমুক্তির স্লোগান বারবার উচ্চারিত হবে, কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের ধ্বংসস্তূপে পড়ে থাকবে সেই নারীদেরই স্বপ্ন, যাদের মুক্তির কথা বলে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল।

/এসএল

উপকূলীয় নারীদের জলবায়ু সংগ্রাম নিয়ে রাজধানীতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
উপকূলীয় নারীদের জলবায়ু সংগ্রাম নিয়ে রাজধানীতে আলোকচিত্র প্রদর্শনী

রাজধানীতে উপকূলীয় নারীদের জলবায়ু সহনশীলতা, জীবনসংগ্রাম ও নেতৃত্ব নিয়ে তিন দিনব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘ভয়েজ অফ কোস্টাল ক্লাইমেট রেজিলেন্স’  শুরু হয়েছে । বৃহস্পতিবার বিকেলে পান্থপথের দৃক গ্যালারিতে এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) জেন্ডার-রেসপনসিভ কোস্টাল অ্যাডাপটেশন (জিসিএ) প্রকল্পের উদ্যোগে, গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড ও বাংলাদেশ সরকারের সহযোগিতায় এ আয়োজন করা হয়েছে।

প্রদর্শনীতে দেশের বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চলের নারীদের জীবন ও সংগ্রামের নানা চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট লবণাক্ততা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন ও জীবিকাগত সংকট মোকাবিলায় নারীদের অভিযোজন কৌশল, বিকল্প জীবিকা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং সামাজিক নেতৃত্বকে আলোকচিত্রে তুলে ধরা হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকলেও তা প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে নারী নেতৃত্বভিত্তিক জলবায়ু অভিযোজন উদ্যোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, জিসিএ প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল হাই আল মাহমুদ, ইউএনডিপি বাংলাদেশের অ্যাসিস্ট্যান্ট রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ সর্দার এম আসাদুজ্জামান এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের যোগাযোগ বিভাগের প্রধান মো. আব্দুল কাইয়ুম।

আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২১ থেকে ২৩ মে পর্যন্ত প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দৃক গ্যালারিতে প্রদর্শনীটি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এতে আলোকচিত্রী এ বি রশিদের ধারণ করা প্রায় ৮৫টি স্থিরচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে। সরাসরি প্রদর্শনীর পাশাপাশি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেও এটি আয়োজন করা হয়েছে।

/এসএল

সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে নারী যা চায়

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০২:৫৭ পিএম
সম্পর্কের ভিত মজবুত করতে নারী যা চায়

সম্পর্ক শুধু ভালোবাসা বা একসঙ্গে সময় কাটানোর নাম নয়; এটি পারস্পরিক সম্মান, নিরাপত্তা, বোঝাপড়া ও মানসিক সংযোগের এক সূক্ষ্ম সমীকরণ। নারী সম্পর্কে কী চান–এই প্রশ্নের উত্তর সব নারীর ক্ষেত্রে এক নয়। তবে কিছু মৌলিক চাহিদা আছে, যা প্রায় সব নারীই নিজের সম্পর্কের মধ্যে খুঁজে পান। এগুলো পূরণ হলে সম্পর্ক হয় গভীর, স্থায়ী ও পরিণত।

সম্মান ও সমান মর্যাদা

একজন নারী সবার আগে চান সম্মান। তাকে ছোট করে কথা বলা, মতামত উপেক্ষা করা বা সিদ্ধান্তে গুরুত্ব না দেওয়া–এসব বিষয় সম্পর্ককে ধীরে ধীরে দুর্বল করে। একজন নারী চান, তার সঙ্গী তাকে সমান অংশীদার হিসেবে দেখুক।

ধারাবাহিকতা ও নির্ভরযোগ্যতা

সম্পর্কে অনিশ্চয়তা নারীদের মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তোলে। কখনো খুব যত্নশীল, আবার হঠাৎ দূরে সরে যাওয়া–এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে অস্থিরতা তৈরি করে।
নারীরা সাধারণত এমন একজন মানুষ চান, যার আচরণে ধারাবাহিকতা আছে। প্রতিশ্রুতি দিলে তা রক্ষা করা, কঠিন সময়ে পাশে থাকা এবং কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখা–এসব বিষয় একজন নারীর কাছে গভীর গুরুত্ব বহন করে। কারণ, নির্ভরযোগ্য মানুষই সম্পর্ককে নিরাপদ করে তোলে।

যোগাযোগের প্রয়োজন

অনেক সম্পর্ক ভেঙে যায় শুধু যোগাযোগের অভাবে। নারীরা সাধারণত নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে চান এবং সঙ্গীর কাছ থেকেও খোলামেলা কথা আশা করেন।

নিরাপত্তার অনুভূতি

নারীরা সম্পর্কে মানসিক নিরাপত্তা খোঁজেন। এখানে নিরাপত্তা বলতে শুধু অর্থনৈতিক বিষয় বোঝায় না; বরং আবেগগত নিরাপত্তাও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যেন নিশ্চিত থাকতে পারেন–তার সঙ্গী তাকে অপমান করবেন না, প্রতারণা করবেন না বা অবহেলা করবেন না। সম্পর্কের এই নিরাপদ পরিবেশই একজন নারীকে মানসিকভাবে স্বস্তি দেয়।

তার শক্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া

অনেক সময় সমাজে এখনো এমন ধারণা দেখা যায় যে, নারীর সাফল্য পুরুষের জন্য হুমকি হতে পারে। কিন্তু সুস্থ সম্পর্কে একজন নারী চান, তার সঙ্গী তার শক্তি, মেধা ও সাফল্যকে সম্মান করুক।

নারীরা চান না কেউ তাদের নিয়ন্ত্রণ করুক; বরং পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিক। একজন নারী যখন নিজের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যান, তখন তার সঙ্গীর সমর্থন সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে। 

হাসি ও আনন্দের প্রয়োজন

হাস্যরস সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখে। জীবনের চাপ, কাজের ব্যস্ততা বা নানা সমস্যার মাঝেও একটু হাসি সম্পর্ককে সহজ ও উষ্ণ করে তোলে। নারীরা সাধারণত এমন মানুষ পছন্দ করেন, যার সঙ্গে স্বস্তিতে থাকা যায়। সব সময় গুরুগম্ভীর সম্পর্ক অনেক সময় ক্লান্তিকর হয়ে ওঠে। 

মূল্যায়ন ও কৃতজ্ঞতা

একজন নারী যখন সম্পর্কের জন্য সময়, শ্রম ও আবেগ বিনিয়োগ করেন, তখন তিনি সেটার স্বীকৃতিও আশা করেন। অনেক সময় ছোট ছোট প্রচেষ্টাগুলো অদৃশ্য থেকে যায়। অথচ একটি সাধারণ ‘ধন্যবাদ’ বা ‘তুমি পাশে আছ বলে ভালো লাগে’–এ ধরনের বাক্য একজন নারীর মনে গভীর প্রভাব ফেলে।

ব্যক্তিস্বাধীনতার জায়গা

সম্পর্ক মানেই নিজের পরিচয় হারিয়ে ফেলা নয়। একজন নারী চান, তার ব্যক্তিগত সময়, পছন্দ ও স্বপ্নের জায়গাটুকু সম্মান করা হোক।

সুতরাং সম্মান, নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও ভালোবাসার সমন্বয়েই একটি সম্পর্ক সুন্দর হয়ে ওঠে। কারণ শেষ পর্যন্ত মানুষ সবচেয়ে বেশি খোঁজে এমন একজনকে, যার কাছে নিজের মতো করে থাকা যায়।

/এসএল

সুস্থতায় কাঁচা আম

প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
সুস্থতায় কাঁচা আম

গ্রীষ্মকাল এলেই কাঁচা আম আমাদের খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পায়। টক স্বাদের এ ফলটি শুধু রসনাতৃপ্তিই দেয় না, বরং পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় নারীদের স্বাস্থ্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর উপকারিতা পেতে হলে সচেতনভাবে ও পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা জরুরি।

হিটস্ট্রোক প্রতিরোধে কার্যকর

গরমে নারীরা ঘরের কাজ, রান্না কিংবা বাইরে নানা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। অতিরিক্ত গরমে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়ায় হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে। কাঁচা আমের শরবত শরীরকে ঠাণ্ডা রাখে এবং দ্রুত শক্তি ফিরিয়ে আনে। তবে শরবতে অতিরিক্ত চিনি বা লবণ ব্যবহার করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হতে পারে।

হজমশক্তি বৃদ্ধি ও রুচি উন্নত করে

অনেকের হজমজনিত সমস্যা দেখা যায়, বিশেষ করে অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে। কাঁচা আমে থাকা প্রাকৃতিক অ্যাসিড ও এনজাইম হজমশক্তি বাড়ায় এবং ক্ষুধা উদ্রেক করে। তবে অতিরিক্ত খেলে অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়তে পারে।

ত্বকের সৌন্দর্য রক্ষায় সহায়ক

ত্বকের যত্নে নারীরা সচেতন থাকেন। কাঁচা আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে উজ্জ্বল ও সতেজ রাখে, পাশাপাশি ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন ধীর করতে সাহায্য করে। কিন্তু অতিরিক্ত খেলে শরীরে তাপ বাড়িয়ে ব্রণ বা র‍্যাশ হতে পারে।

চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

পুষ্টির ঘাটতি ও মানসিক চাপের কারণে অনেক নারীর চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। কাঁচা আমে থাকা পুষ্টি উপাদান চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।
রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক

বাংলাদেশের নারীদের মধ্যে রক্তস্বল্পতা একটি সাধারণ সমস্যা। কাঁচা আমে থাকা ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণ বাড়িয়ে রক্তস্বল্পতা কমাতে সাহায্য করে। যদিও এটি সহায়ক হলেও একমাত্র সমাধান নয়; আয়রনসমৃদ্ধ খাবারও প্রয়োজন।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

ওজন নিয়ন্ত্রণে সচেতন নারীদের জন্য কাঁচা আম একটি ভালো বিকল্প। এতে ক্যালরি কম এবং ফাইবার বেশি থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। তবে আচার বা অতিরিক্ত লবণ-মরিচ দিয়ে খেলে শরীরে সোডিয়াম বেড়ে যেতে পারে।

হৃদস্বাস্থ্য রক্ষায় ভূমিকা রাখে

কাঁচা আমে থাকা পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে লবণযুক্ত কাঁচা আম এড়িয়ে চলা উচিত।
মুখ ও মাড়ির স্বাস্থ্য ভালো রাখে

কাঁচা আম মাড়ি শক্ত করে এবং মুখের দুর্গন্ধ কমাতে সহায়তা করে। এটি স্কার্ভি প্রতিরোধেও সহায়ক। কিন্তু অতিরিক্ত টক খাবার দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
পরিশেষে বলতে চাই, কাঁচা আম গ্রীষ্মের একটি সহজলভ্য কিন্তু অত্যন্ত পুষ্টিকর ফল, যা নারীদের সুস্থতা ও কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই সচেতনভাবে এবং পরিমিত কাঁচা আম গ্রহণ করলে এটি হতে পারে গরমের দিনে নারীদের জন্য প্রাকৃতিক ও কার্যকর সুরক্ষা।

/এসএল