ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা হাইতিকে হারিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ব্রাজিল কুমিল্লায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টা যুবদল কর্মীর পাকিস্তান সম্মান ও স্বীকৃতি অর্জন করেছে: শেহবাজ শরিফ ২০ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ফিফা বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে সর্বশেষ হ্যাটট্রিক করেছেন যিনি ২০ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল বাংলাদেশের আজ দ্বিতীয় লক্ষ্য পূরণের ম্যাচ প্রতিপক্ষ পাকিস্তান ধানমন্ডিতে শিশু গৃহপরিচারিকার রহস্যজনক মৃত্যু অরুণাচলে বাঁধ নির্মাণ করেছে চীন পাল্টা প্রকল্প ভারতের সুইডেনের বিপক্ষে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের খেলা নিয়ে সংশয় হাইতিকে ৩-০ গোলে হারাল ব্রাজিল টাইলস আমদানিতে ধস, কমেছে রাজস্ব আয় ব্রিটেনে উপনির্বাচনে বার্নহামের জয়, চ্যালেঞ্জের মুখে স্টারমারের প্রধানমন্ত্রিত্ব ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা রাজধানীতে আবাসিক হোটেলে সৌদিপ্রবাসীর মৃত্যু নিয়ে রহস্য গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে ইরাকে গোপন সেল গঠন ইরানের ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতি হঠাৎ দেখা নীলমাথা হাঁস সবার আগে শেষ নকআউটে মেক্সিকো বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি আগের পোশাকে ফিরছে পুলিশ কানাডার উৎসব ম্লান ভয়াবহ চোটে গোলোৎসবের দিন মেসির গোল উদযাপনে বদলের পরামর্শ ২০ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি জার্মানির সামনে আফ্রিকান চ্যালেঞ্জ, ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া ইকুয়েডর বিশ্বকাপে দ্রুততম গোলের রেকর্ড গড়ে মরক্কোর জয়

রিয়াজউদ্দিন বাজারে বাড়তি দরে ডিম বিক্রির প্রমাণ পেল ভোক্তা অধিকার

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৪, ০৭:১৯ পিএম
রিয়াজউদ্দিন বাজারে বাড়তি দরে ডিম বিক্রির প্রমাণ পেল ভোক্তা অধিকার
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম মহানগরের রিয়াজউদ্দিন বাজারে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এসময় ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় তিন ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। 

রবিবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে অভিযানটি পরিচালিত হয়। 

অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ, সহকারী পরিচালক মো. আনিছুর রহমান, রানা দেব নাথ ও চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নাসরিন আক্তার। 

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, ডিমের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি ও মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ডিম ব্যবসায়ী মতিনকে ২০ হাজার টাকা, মেসার্স আবুল বশর সওদাগরকে ১০ হাজার টাকা ও সালমা এন্টারপ্রাইজকে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

তাছাড়া মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় একই বাজারের গরীবে নেওয়াজ মুরগির দোকানকে ৩ হাজার টাকা, শাহ আমানত পোল্ট্রি সেলস সেন্টারকে ৫ হাজার টাকা ও পাইকারি মরিচ বিক্রেতা লোকমানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। 

জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। 

তারেক মাহমুদ/এমএ/

জাতীয় চা দিবস আজ ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম
ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত চা-শ্রমিকরা
চা শ্রমিক। ছবি: সংগৃহীত

আজ শনিবার, দেশে ‘চা-শিল্পের উন্নতি, সবুজ হোক অর্থনীতি’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় চা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। তবে দেশের চা-শিল্প অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও চা-বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান এখনো উদ্বেগজনক। দৈনিক মজুরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকারের ক্ষেত্রে নানা বঞ্চনার শিকার চা-শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়েও শ্রমিকদের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। 

জানা গেছে, চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি অতীতে ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন চুক্তি ও বার্ষিক বৃদ্ধির ফলে কিছু বাগানে মজুরি কিছুটা বেড়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান বাজারদরে এই আয় দিয়ে পরিবারের খাদ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহন করা অত্যন্ত কঠিন।

শিক্ষার ক্ষেত্রেও চা-শ্রমিক পরিবারের সন্তানরা পিছিয়ে রয়েছে। অনেক বাগানে মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যাপ্ত শিক্ষা সুবিধার অভাব রয়েছে। ফলে দারিদ্র্য ও শিক্ষাবঞ্চনার চক্র থেকে বেরিয়ে আসা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতাও প্রকট। অনেক বাগানে পর্যাপ্ত চিকিৎসক, ওষুধ ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয় না। বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সুবিধা এখনো অপর্যাপ্ত।

চট্টগ্রাম চা-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক বাবু চিত্ত রঞ্জন মন্টু বলেন, ‘শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা সব ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয় না। আমাদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ, ভাতা বৃদ্ধি, পেনশন সুবিধা, নিরাপদ কর্মপরিবেশ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক বাগানে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ঠিকমতো দেওয়া হয় না। চা-শ্রমিকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছি।’

চট্টগ্রামের নেপচুন চা-বাগারের দেশসেরা শ্রমিক জেসমিন আক্তার খবরের কাগজকে বলেন, ‘কম মজুরি দিয়ে সংসার চলে না। স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা সুবিধার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। মানসম্মত শিক্ষা ও আবাসনের অভাব এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। শ্রমিকদের সংগঠিত হয়ে দাবি আদায়ে নানা বাধা, নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে বৈষম্য ও অতিরিক্ত ঝুঁকিতে কাজ করতে হচ্ছে। বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকরা চা তুলতে না পারলে হাজিরাও দেওয়া হয় না। রোদ-বৃষ্টি মাড়িয়ে কাজ করতে হয় বাগানে।’ 

কর্ণফুলী চা-বাগানের শ্রমিক রিকু ত্রিপুরা জানান, শুধু মজুরি বৃদ্ধি নয়; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আবাসন, বিশুদ্ধ পানি ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করলেই তাদের জীবনমানের প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব। 

রাঙ্গাপানি চা-বাগানের শ্রমিক মাধবী ত্রিপুরা বলেন, ‘আমাদের বাগানের অফিসের পাশে একটি মাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। বাগানের ভেতর থেকে আমাদের শিশুরা এই স্কুলে আসতে পারে না। বাগানের মালিকরা চান, শ্রমিকের ছেলেমেয়েরাও শ্রমিক হোক। আমরা চাই, আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে মানুষ হোক।’

ইস্পাহানি গ্রুপের নেপচুন চা-বাগানের ব্যবস্থাপক (ভারপ্রাপ্ত) মো. রিয়াজ উদ্দিন খবরের কাগজকে বলেন, ‘দেশের অন্যতম প্রাচীন এই শিল্পের টেকসই উন্নয়নের জন্য শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তবে পরিস্থিতি সব জায়গায় এক নয়। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা ও সরকারের উদ্যোগে নানা সময়ে মজুরি বৃদ্ধি ও কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তারপরও বহু চা-শ্রমিক এখনো জীবনযাত্রার ব্যয় ও শ্রমের তুলনায় পর্যাপ্ত সুবিধা পান না।’

বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘চা-বাগানের শ্রমিকরা অধিকার থেকে বঞ্চিত সেটি সঠিক নয়। তারা দৈনিক মজুরি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, রেশন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও শ্রম অধিকার অনুযায়ী বেতন-ভাতাদি পেয়ে থাকেন। বাগানের মালিক ও শ্রমিক ইউনিয়নের মধ্যে সম্পাদিত শ্রমচুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর শ্রমিকদের মজুরি ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ চা বোর্ডের পক্ষ থেকে বাগান মালিকদের সঙ্গে সব সময় যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। পাশাপাশি শ্রমিকদের মজুরিসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা যেন সময়মতো বৃদ্ধি করা হয়, সে জন্য তাদের উদ্বুদ্ধ করার কাজ চলমান রয়েছে।

উল্লেখ্য, চা-শ্রমিকরা দৈনিক মজুরির পাশাপাশি টাস্ক অনুযায়ী অতিরিক্ত কাজ সম্পাদন করলে চুক্তি অনুসারে অতিরিক্ত টাকা পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি সাপ্তাহিক রেশন এবং যারা রেশন গ্রহণ করেন না তারা চাষাবাদের জন্য ধানি জমি পেয়ে থাকেন।

এদিকে প্রতিবছর ২১ মে জাতীয় চা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত থাকলেও চলতি বছর ঈদুল আজহার কারণে মূল আনুষ্ঠানিকতা পিছিয়ে দিবসটির উদযাপন ২০ জুন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২০ জুন জাতীয় চা দিবস পালন করা হচ্ছে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি থাকবেন মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী। এ ছাড়া চা-শিল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অংশীজন ও চা-শ্রমিক প্রতিনিধিরা আলোচনা সভায় অংশ নেবেন।

বেলা ১১টায় বাণিজ্যমন্ত্রীর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধনী পর্বের পর চা-শিল্পবিষয়ক ডকুমেন্টারি প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে দেশের চা-শিল্পে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আটটি ক্যাটাগরিতে ‘জাতীয় চা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান করা হবে। পাশাপাশি চলতি বছর প্রথমবারের মতো শ্রেষ্ঠ বটলিফ চা কারখানা ক্যাটাগরিতে বিশেষ পুরস্কার দেওয়া হবে।

প্রধান অতিথি বিজয়ীদের হাতে ট্রফি ও সনদ তুলে দেবেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ চা বোর্ড ও দেশের শীর্ষস্থানীয় চা-প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণে একটি চা-প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে মোট ১৭২টি চা বাগান রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের সমতল ভূমিতেও চা চাষের সম্প্রসারণ ঘটেছে। দেশের চা-শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে চায়ের রাজধানীখ্যাত শ্রীমঙ্গলে এবার ষষ্ঠবারের মতো জাতীয় চা দিবস উদযাপন করা হচ্ছে।

গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৯ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৫ এএম
গফরগাঁওয়ে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে মৃত্যু
মো. মাহিম শেখ । ছবি: খবরের কাগজ

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে ফুটবল বিশ্বকাপ উপলক্ষে ব্রাজিলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মো. মাহিম শেখ (১৪) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে উপজেলার পাগলা থানাধীন পাঁচবাগ ইউনিয়নের দক্ষিণ হারিনা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মাহিম শেখ একই গ্রামের মো. নয়ন শেখের ছেলে। সে স্থানীয় পাঁচবাগ ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। ফাহিম ব্রাজিল সমর্থক।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিশ্বকাপ খেলার শুরুতে বাড়ির উঠানের আম গাছে একটি কাঁচা বাঁশে ব্রাজিলের পতাকা টানায় ফাহিম। বাঁশটি হেলে পড়ায় বিকেলে ফাহিম আম গাছে উঠে। এ সময় পাশে থাকা বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাগলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা প্রক্রিয়াধীন।

কামরুজ্জামান মিন্টু/অন্তরা

শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩৭ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৪৬ এএম
শেবাচিমে মোবাইলের আলোয় আইসিইউ সেবা
লোডশেডিংয়ের কারণে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে রোগীদের সেবা দেওয়া হচ্ছে/ খবরের কাগজ

প্রায় এক মাস স্বস্তির পর বরিশালে আবারো তীব্র লোডশেডিং শুরু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ নেমে এসেছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতেও নেমে এসেছে বিপর্যয়। এতে রোগী তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউতে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে উৎকণ্ঠা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করছেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর অনেক সময় আইসিইউতে বিকল্প বিদ্যুৎ সরবরাহের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকে না। এতে জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এমন অবস্থায় অন্ধকার ও গরম থেকে রক্ষা পেতে রোগীর স্বজনদের হাতপাখা, মোমবাতি, টর্চলাইট কিংবা মোবাইলের আলোর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনরা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

জানা গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন জেনারেটর আছে। কিন্তু সেটি চালানোর মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় দিনের বেশির ভাগ সময় তা বন্ধ রাখা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের সময়ও অনেক ক্ষেত্রে জেনারেটর চালু করা সম্ভব হয় না। এতে আইসিইউসহ হাসপাতালের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বাড়ছে।

আরিফুর রহমান নামে নগরীর এক বাসিন্দা জানান, গত মঙ্গলবার আইসিইউতে এক রোগীকে দেখতে গিয়ে তিনি পুরো অন্ধকার পরিবেশের মধ্যে পড়েন। তখন রোগীর স্বজনরা হাতপাখা, মোমবাতি ও মোবাইলের আলো ব্যবহার করছিলেন। এমনকি কয়েকজন নার্সও মোবাইলের আলোয় কাজ করছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।

বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সহসভাপতি আব্দুর রশিদ নিলু বলেন, ‘আইসিইউর মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় লোডশেডিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সেখানে সচল জেনারেটর বা বিকল্প বিদ্যুৎব্যবস্থা রাখা জরুরি। এত অর্থ বরাদ্দের পরও হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকা দুঃখজনক।’

তিনি আরও বলেন, বরিশাল বিভাগে প্রচুর বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও এখানকার মানুষকে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, যা মোটেও কাম্য নয়।

লোডশেডিংয়ের কারণে কেবল হাসপাতাল নয়, জেলার সকল খাতেই এর প্রভাব পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে নিজেদের দুর্বিষহ অবস্থা তুলে ধরছেন। বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সদস্যসচিব আবুল কালাম শাহিন ফেসবুকে লিখেছেন, আগামী ২ জুলাই এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। অথচ বিভিন্ন বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

অন্যদিকে লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উৎপাদন খাতে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ-বিভ্রাটের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম অর্ধেকে নেমে এসেছে।

নগরীর কালীবাড়ি রোডের প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান গ্রাফিক্স মার্টের স্বত্বাধিকারী অম্লান রায় বলেন, ‘ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে বরিশালের প্রেস ও প্রকাশনা খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। নির্ধারিত সময়ে অর্ডারের কাজ দেওয়া যাচ্ছে না। দিনে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে উৎপাদন অনেক কমে গেছে।’

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতির কারণেই এ সমস্যা হচ্ছে। বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মনজুল কুমার স্বর্ণকার জানান, তার বিভাগের আওতায় মোট চাহিদা প্রায় ৯০ মেগাওয়াট, কিন্তু সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। অথচ নগরীর একাংশেরই চাহিদা প্রায় ৬৫ মেগাওয়াট।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২-এর উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সুব্রত মালাকার বলেন, তাদের এলাকায় ৪২ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বিদ্যুৎ মিলছে ২২ মেগাওয়াট। এ কারণে এক ঘণ্টা পরপর লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ’র বরিশাল অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী আক্তারুজ্জামান পলাশ জানান, জাতীয় গ্রিডে উৎপাদন ঘাটতি থাকায় বরিশালে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি উন্নয়নে কাজ চলছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মশিউল মুনীরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:২৮ এএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:৩১ এএম
বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি
নৌকা চালিয়ে যাত্রী পারাপার করছেন তাসলিমা বেগম। ছবিটি শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের পূর্ব হাজীপাড়া এলাকার মেঘনার শাখা নদী থেকে তোলা/ খবরের কাগজ

বৈঠা যেন তার জীবনের নিয়তি। স্বামী হারানোর পর অনেকেই যখন ভাগ্যের কাছে হার মানেন, তখন উল্টো পথ বেছে নিয়েছেন শরীয়তপুরের তাসলিমা বেগম। সন্তানদের নিয়ে বেঁচে থাকার তাগিদে গত দুই যুগ ধরে নেমেছেন নদীর বুকে। অদ্বৈত মল্লবর্মণের উপন্যাস তিতাস একটি নদীর নামের বাসন্তীর মতো তিনিও লড়ছেন জীবনের উত্তাল স্রোতের সঙ্গে। পার্থক্য শুধু বাসন্তী ছিল কল্পনার চরিত্র, আর তাসলিমা বাস্তবের এক অনমনীয় সংগ্রামের নাম। দুই যুগ ধরে বৈঠা হাতে নদীর বুকে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া তাসলিমা বেগম সংগ্রামী নারীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটের কোদালপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত নদীবেষ্টিত এক জনপদের নাম পূর্ব হাজীপাড়া। সেখানেই থাকতেন নাসির সরদার ও তাসলিমা বেগম দম্পতি। তাসলিমার স্বামী নাসির মেঘনার একটি শাখা নদীতে নৌকা চালিয়ে সংসার চালাতেন। স্বামী-সন্তান নিয়ে তাদের ছোট সংসার ছিল। কিন্তু ২৬ বছর আগে হঠাৎ নাসিরের মৃত্যু অন্ধকার নামিয়ে আনে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন তাসলিমা।

শুরুতে বিভিন্ন কাজের চেষ্টা করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত আয়ের পথ না পেয়ে হাতে তুলে নেন বৈঠা। নেমে পড়েন নদীতে। এভাবেই তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে বড় করেন এবং তাদের বিয়ে দেন। তবে পাঁচ বছর আগে সংসারে আবার বড় বিপদ নেমে আসে। ছেলে আলী আকবর সড়ক দুর্ঘটনায় একটি পা হারিয়ে পঙ্গু হয়ে যান। ছেলের চিকিৎসা করাতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তাসলিমা। সেই পঙ্গু ছেলে এখন ঢাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে নৌকা চালিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবন চালান। আর তাসলিমা এখনো নদীতে নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত নদীর ঘাটে নৌকা নিয়ে যাত্রী পারাপার করেন তিনি। কখনো কৃষকের ফসল, কখনো বাজারের মালামাল, আবার কখনো সাধারণ মানুষকে এক পাড় থেকে অন্য পাড়ে পৌঁছে দেন। নদী পারাপারের বিনিময়ে গ্রামের মানুষ ফসলের মৌসুমে তাকে বিভিন্ন ফসল দেন। সেই ফসল বিক্রি করে সংসারের খরচ চালান তিনি। নদীর ঢেউ, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সামাজিক কটূক্তি তাকে থামাতে পারেনি। এখন এই অঞ্চলের মানুষের নদী পারাপারের ভরসা তাসলিমা।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘তাসলিমা নৌকা নিয়ে রাতদিন পরিশ্রম করে আমাদের নদী পারাপার করেন। কিছু মানুষ তাকে পয়সা দেয়, আবার কিছু মানুষ দেয় না। এভাবেই দুঃখকষ্টে তার দিন যায়। অনেক পরিশ্রমী মানুষ তিনি। কত মানুষ কতভাবে সরকারি সাহায্য পায়, তাসলিমার পাশে সরকার দাঁড়ালে তার আর কষ্ট করতে হতো না।’

নদীর ঘাটে স্বামীর চায়ের দোকানে সহায়তা করা সাহিদা বেগম বলেন, ‘তাসলিমা সকালে আহে (আসে) রাইতে (রাতে) যায়। ঝড়তুফান, মেঘবৃষ্টিতে ভিইজ্জা ভিইজ্জা (ভিজে ভিজে) কাজ করে। কী করবে বাবা, মহিলা মানুষ পেটের ধান্ধায় এইগুলা কইরা খাইতে অয়। এহন সরকার যদি তার জন্য অন্য কোনো কামের (কর্মের) ব্যবস্থা করে, তাইলে আর কষ্ট অইতো না।’

দীর্ঘ সংগ্রামের পথে তাসলিমা বেগমের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি কোনো সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে তার আক্ষেপ রয়েছে। তাসলিমা বলেন, ‘পেডের (পেট) জ্বালায় নৌকা চালাই, নাইলে এই কষ্ট কেন করুম। ব্যাডায় (স্বামী) বাঁইচা থাকলে এই কষ্ট করতে অইতো না। যখন তুফান আহে, অনেক কষ্ট কইরা নৌকাডা চালাই।’

কেউ সাহায্য করে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাগো কেউ কিচ্ছু দেয় না। একমাত্র আল্লাহ যদি সাহায্য করে–হেইডাই সাহায্য, মাইনষের কাছে ধরনা দিয়া শুধু শুধু কিছুই পাই না। কয়দিন আগে মেম্বারে কয়ডা চাউল দিছিলো, এইডাই সাহায্য। আর নাইলে কোনো কিছুই আমরা পাই নাই।’

অবশ্য তাসলিমার জন্য খেয়াঘাটটি ইজারামুক্ত রেখেছে ইউনিয়ন পরিষদ। কোদালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘পূর্ব হাজিপাড়া এলাকার তাসলিমা বেগম দীর্ঘদিন ধরে নদী পারাপার করতেছেন। তার স্বামী বেঁচে নেই। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে ঘাটটি ইজারামুক্ত রেখে তাকে পারাপারের সুযোগ করে দিয়েছি। এলাকার মানুষও তার প্রতি সহানুভূতিশীল। আমি মনে করি সরকার ও আমাদের তার জন্য আরও কিছু করার প্রয়োজন রয়েছে।’

চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ১১:০১ পিএম
চাঁদপুরের সানজিদার বিশ্বজয়, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি
সানজিদা আক্তার তুলি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ছয় কোটি টাকার পূর্ণাঙ্গ বৃত্তি পেলেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবুরকান্দি গ্রামের সানজিদা আক্তার তুলি বছরে স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন সহায়তা এবং টিউশন ফি মওকুফ ও স্বাস্থ্যবিমা বাবদ প্রায় ৬ কোটি টাকার সুবিধা পাবেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য টুলেন ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি গণিতে পিএইচডি অর্জন করেন।

২০২৬ সালের ফল সেমিস্টার থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরাল প্রোগ্রামে যোগ দেবেন।

সানজিদা পরিবারের পক্ষ থেকে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়।

সানজিদা আক্তার তুলি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার নবুরকান্দি গ্রামের সন্তান। তিনি মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অজুফা সরকারের কন্যা।

বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো ভর্তি ও আর্থিক সহায়তাসংক্রান্ত চিঠির তথ্য থেকে জানা গেছে, সানজিদা প্রতি শিক্ষাবর্ষে স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন গবেষণা সহায়তা বাবদ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন। এর পাশাপাশি পূর্ণকালীন ডক্টরাল শিক্ষার্থী হিসেবে তাঁর টিউশন ফি সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। যার বার্ষিক মূল্য ৬৫ হাজার ৪ মার্কিন ডলার।

এছাড়া শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার (টিএসএইচআইপি) শতভাগ ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়। পিএইচডি প্রোগ্রামের পাঁচ বছর মেয়াদে এসব সুবিধার সম্মিলিত বাংলাদেশী সমমূল্য প্রায় পাঁচ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

সানজিদার শিক্ষাজীবন শুরু হয় নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর মান্দারতলী মুজাদ্দেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। পরবর্তীতে চাঁদপুর শহরের আল-আমিন একাডেমি স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন।

এই অর্জনে উচ্ছ্বসিত সানজিদা আক্তার তুলি বলেন, একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের একটি বড় স্বপ্ন পূরণ। পরিবারের সমর্থন, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা আর নিরলস পরিশ্রমই আমাকে এই পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। আমি চাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে মেয়েরা যেন বুঝতে পারে জন্মস্থান নয়, স্বপ্ন আর অধ্যবসায়ই গন্তব্য নির্ধারণ করে।

তার এই সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মনে করছেন, সানজিদার এই অর্জন মতলব উত্তরসহ গোটা চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

এসএন/