পটুয়াখালীতে ২১ হিন্দু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা করছে একদল ভূমিদস্যু। গত সোমবার সকালে পটুয়াখালী শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকায় ওই জমিতে ঘর তুলতে গেলে লাঠিসোঁটা নিয়ে ভূমিদস্যুরা বাধা দেন। তারা নিজেদের বিএনপির কর্মী দাবি করে হিন্দু পরিবারের সদস্যদের খুন-জখমসহ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন। এ ব্যাপারে প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী স্বপন ব্যানার্জী জানান, ২০০৯ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে এসব হিন্দু পরিবার শহরের টাউন কালিকাপুর এলাকায় দেড় একর জমি কেনেন। ক্রেতারা ওই জমিতে বালু দিয়ে ভরাট করে বাড়ি তৈরির উপযোগী করেন। সোমবার সকালে সেখানে জমির মালিকরা ঘর তুলতে গেলে ওই এলাকার চিহ্নিত ভূমিদস্যু বেল্লাল খান, মনিরুজ্জামান নাসির ও জামাল বিশ্বাস একদল সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের কাজে বাধা দেন। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্বপন ব্যানার্জী আরও বলেন, ‘এর আগেও এসব ভূমিদস্যুরা তাদের বাধা দিয়েছেন। আমরা সেখানে ঘর তৈরি করতে গেলে তারা আমাদের নানাভাবে হুমকি-ভয়ভীতি দেখায়। পরে আমরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছি। এ ছাড়া আমরা ২১ পরিবারের সদস্য গত রবিবার দুপুরে পুলিশ সুপারের কাছেও বিষয়টি লিখিতভাবে জানিয়েছি এবং এর প্রতিকার দাবি করেছি।’
জমির আরেকজন মালিক খোকন দে বলেন, ‘আমরা জমির মালিক। কিন্তু জমির কাছে এলেই এসব ভূমিদস্যু অকথ্য ভাষায় গালাগালসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখায়। তারা আমাদের খুন-জখমসহ নানা ধরনের হুমকি দেয়। এমনকি তারা আমাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয়।’ এ সময় চিহ্নিত ভূমিদস্যু অভিযুক্ত বেল্লাল খান নিজেকে বিএনপি কর্মী বলে পরিচয় দেন। তার দাবি, তিনি সেখানে জমি কিনেছেন। তবে ওই জমির কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। আরেক অভিযুক্ত মনিরুজ্জামান নাসির বলেন, ‘আমিও বিএনপির লোক।
আওয়ামী লীগের সময়ে আমরা নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়েছি। কিন্তু এখনো হয়রানির শিকার হব, এটা মানা যায় না।’ তবে এ বিষয়ে পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন জানান, বেল্লাল ও মনিরুজ্জামান নাসির বিএনপির কেউ নন। বিএনপির কোনো পদ-পদবিতে তাদের নাম নেই।’
এ ব্যাপারে পটুয়াখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রতনুজ্জামান জানান, উভয়পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থানে থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।