খুলনার রায়পাড়ার ‘ইন্সপায়ারিং ইউথ’ (ওয়ার্ল্ড ওয়াইড) এর উদ্যোগে হ্যালোইন পার্টি উদযাপিত হয়েছে।
বুধবার (৩০ অক্টোবর) ৮৫নং রায়পাড়া ইনেস্পায়ারিং ইউথের ওয়ার্ল্ড ওয়াইজের দ্বিতীয় তলায় হলরুমে বিশ্ব ভ্রমণকারী কাজী আসমা আজমেরীর নেতৃত্বে তার লাইব্রেরি এবং ড্যান্স ক্লাবের সহায়তায় বাচ্চাদের নিয়ে এই পার্টি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহায়তার করেন নাচের শিক্ষক বিপ্লব, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশা আক্তার ও মীম।
সন্ধ্যা ৭টায় বিদ্যুৎ না থাকায় হলরুমে থমথমে পরিবেশে ভূতের আড্ডা শুরু হয়।
‘ভয়কে জয় কর, ভূতের সঙ্গে খেলা কর’ এই শ্লোগান নিয়ে ভূতগুলো দর্শকদের ভয় দেখাতে থাকে।
এতে ১৮টি বাচ্চা অংশ নেয়। প্রথমে তারা লাইব্রেরি কক্ষের বিভিন্ন রুমে লুকিয়ে ছিল। পরে দর্শকরা রুমে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ভূতগুলো তাদের ভয় দেখাতে শুরু করে। এতে দর্শকরা বেশ মজা পান এবং ভূতের ভয়ে আতঙ্কে থাকেন।
পরে ছোট ছোট ভূতগুলো যখন দৌড়ঝাঁপ করে ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন তাদের দেওয়া হয় চকলেট।
এর মধ্যে নাচের স্কুলের শিক্ষার্থীরা নেচে নেচে মাতিয়ে তোলে দর্শকদের।
পরে গ্রুপ ডান্সার বিপ্লবের কোরিওগ্রাফিতে কয়েকটি নাচ পরিবেশন করা হয়।
এরপর আবারও ভয়ংকর ভুতগুলো দর্শকদের ভয় দেখাতে শুরু করে।
ছোট ছোট ভূতের বাচ্চাদের সঙ্গে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ জন দর্শক এ অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।
এ অনুষ্ঠানে প্রথমে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভলেন্টিয়ার শিক্ষার্থীরা ফেইজে পেইন্ট করে বাচ্চাদেরকে ভূত (তাদের মুখে বিভিন্ন ধরনের ভূতের নমুনা তৈরি করে) বানিয়ে দেন।
অনুষ্ঠান শেষে এদের মধ্যে থেকে থেকে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ভূতকে বাছাই করে প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়।
এর আগে বাচ্চা ও দর্শকদের হ্যালোইন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রতি বছরের ৩১ অক্টোবর ‘হ্যালোইন’ উৎসব উদযাপন করা হয়ে থাকে।
ভুতুড়ে এই উৎসবটির ইতিহাস প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো। অনেকেই ভাবেন, এ দিন হয়তো ভূতের মতো সাজার জন্যই উদযাপন করা হয়। মূলত মৃত আত্মাদের স্মরণ করতে এ দিনটি উদযাপন করা হয়।
কাজী আজমেরী ২০১৫ সালে আমেরিকার শিকাগো শহরে থাকার সময় এই বিষয়টি তাকে খুব বেশি প্রভাবিত করে যে বাচ্চাদের সঙ্গে কিভাবে মজার মাধ্যমে কিছু শেখানো যায়। সাধারণত আমেরিকানরা তাদের ঘরগুলোকে চমৎকারভাবে ভূতের মতো সাজিয়ে তোলেন। পরে পাড়ার বাচ্চারা প্রতিবেশীদের বাড়িতে গিয়ে দরজা ধাক্কায় এবং বাড়ির মালিক বাচ্চাদের চকলেট উপহার দিয়ে থাকেন।
আমেরিকায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে এই হ্যালোইন পার্টি উদযাপন করা হয় এবং অনেক জায়গায় অক্টোবর মাস জুড়েই এই পার্টি ও ভূতের আনাগোনা দেখা যায়।
কাজী আসমা আজমেরী এ বিষয়টিকে বাংলাদেশে বিশেষ করে তার লাইব্রেরির বাচ্চারা যেন আনন্দের মধ্যে দিয়ে কিছু শিখতে পারে তাই প্রায় প্রতি বছরই তিনি এমন বিনোদন দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পপি/অমিয়/