নারায়ণগঞ্জ নগরীকে যানজটমুক্ত করতে ও অবৈধ ইজিবাইক চলাচল বন্ধে যৌথ অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারি সংস্থা। এ সময় সড়কে পার্কিং করে রাখা অর্ধশতাধিক যানবাহনসহ লাইসেন্স ও ফিটনেসের মেয়াদ না থাকায় আটক-জরিমানাসহ মামলা দেওয়া হয়।
এছাড়া অর্ধশতাধিক ব্যাটারি চালিত লাইসেন্সবিহীন যান আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে শহরের চাষাঢ়া থেকে ২নং রেলগেইট এলাকা পর্যন্ত এ যৌথ অভিযান চলে। অভিযানে অংশ নেন সেনাবহিনী, পুলিশ, জেলা প্রশাসন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও বিআরটিএর কর্মকর্তারা।
এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রুহুল আমিন সাগর বলেন, ‘নগরীর বিগত কয়েক দিনের তীব্র যানজটে স্থানীয়দের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে। তাই নগরবাসীকে যানজটমুক্ত করতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ২৯টি যানবাহনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনে মামলা হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স ও ফিটনেস ঠিক না থাকায় ২৭টি গাড়ি আটক করা হয়।’ এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে বলে জানান তিনি।
শুধু যানবাহনই নয় লাইসেন্স বিহীন অর্ধশতাধিক ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকও আটক করা হয়েছে বলে জানান নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন পরিকল্পনাবিদ মঈনুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, ‘এ নগরে ১৭ হাজার ইজিবাইককে ২৭টি ওয়ার্ডসহ প্রধান সড়কে চলাচলে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিন ধরনের ইজিবাইকে লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে।
তবে সিটির বাইরের ইউনিয়ন এলাকা থেকে বহু অবৈধ ইজিবাইক শহরে প্রবেশ করে যানজট সৃষ্টি করে। অভিযানে এ ধরনের অর্ধশতাধিক ব্যাটারি চালিয়ে যান আটক করা হয়েছে।’
এর আগে ১৪ নভেম্বর শহরে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়, এসময় চলাচলের অনুমতি না থাকায় গ্রিন ঢাকা ও আশিয়ান পরিবহনের দুটি এসি বাসসহ চারটি যানবাহনকে আটক করা হয়। এছাড়া বন্ধন পরিবহনের একটি বাসকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে প্রশাসন।
উল্লেখ্য, প্রাচ্যের ড্যান্ডিখ্যাত নারায়ণগঞ্জ যানজটের নগরীতে পরিণত হওয়ায় এ থেকে পরিত্রাণ পেতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন যৌথ অভিযানের ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করে।
এর মধ্যে শহরে ফিটনেস বিহীন গাড়ি চলাচল না করা, রাস্তায় লোড-আনলোড, অবৈধ পার্কিং বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন অটোরিকশা প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়। নির্দেশ অমান্য করলে মামলা দেওয়াসহ নানা বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
বিল্লাল/নাবিল/এমএ/