ঢাকা ৭ আষাঢ় ১৪৩৩, রোববার, ২১ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৫ম পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র জাহাজডুবির দুঃসহ অধ্যায় শেষে দেশে ফেরা সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশি নিহত হাইড্রোলিক হর্নের অত্যাচার ও বিপন্ন জনস্বাস্থ্য ‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন একটি ব্রিজের অভাবে থমকে আছে জনজীবন সামাজিক অস্থিরতায় মানবতা হত্যা: প্রতিকার কোথায়? জার্মানির জয়ের নায়ক কে এই ডেনিজ উন্দাভ? অস্ট্রেলিয়ার দাপুটে জয়ে হোয়াইটওয়াশ বাংলাদেশ বাংলাদেশে সমৃদ্ধি ও বঞ্চনার পাহাড় গ্যালাক্সি ওয়াচে যেভাবে ব্যবহার করবেন গুগল ওয়ালেট শতকোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মাসুদ চৌধুরী রিমান্ডে বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা স্বাগতিকদের সিরিজ পরাজয়ে গ্যালারিতে দর্শক ফাঁকা কেন মন্টেরি স্টেডিয়াম পরিষ্কার করলেন জাপানি সমর্থকরা? মৌয়ের জন্মদিনে বাবার গানে আবেগঘন উপহার বিপ্লব সাহার প্রবাসে ৪৭ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধনের অনুমোদন ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার জাপানের কাছে হারের পর যা বললেন তিউনিসিয়া কোচ বাজেট ডিব্রিফিং সেশন সংসদীয় গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করবে: স্পিকার ইস্টার্ন ব্যাংকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন নেওয়া শুরু উদ্ভিদের বংশ বৃদ্ধি অধ্যায়ের ৬টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ২য় পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ৩০ মিটার বিলীন কামাদাকে প্রশংসায় ভাসালেন জাপান কোচ মোরিয়াসু বগুড়ায় এসএমই উদ্যোক্তাদের মাসব্যাপী প্রশিক্ষণের উদ্যেগ নিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক চান্দগাঁও বিসিকে দিনদুপুরে ফাঁকা গুলি, যুবদল নেতাকে প্রাণনাশের হুমকি সাদাপাথর পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা নিভে গেল ক্রীড়াঙ্গনের বাতিঘর: এক কিংবদন্তির প্রস্থান সিলেটে শাহজালাল (রহ.) মাজারের ‘ডেগকাণ্ডে’ ডিসি প্রত্যাহার

অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার পথে নারী-শিশুসহ আটক ৭

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৫, ০৯:৩৩ এএম
আপডেট: ১২ মার্চ ২০২৫, ১০:৫৫ এএম
অবৈধভাবে ভারত যাওয়ার পথে নারী-শিশুসহ আটক ৭
ছবি : খবরের কাগজ

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ চেষ্টার অভিযোগে শিশুসহ ৭ বাংলাদেশি নারী-পুরুষকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) রাতে উপজেলার সীমান্তবর্তী শরীফপুর ইউনিয়নের পালবাড়ি এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে আটকদের কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করে বিজিবি।

আটকরা হলেন- কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের বাসিন্দা শ্রীরাম দাস কানু, শরীফপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা সুদামা রবি দাস, শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর চা বাগানের বাসিন্দা বিনা কানু, তার শিশুকন্যা রিথিকা কানু, অনু কানু, তনু কানু ও তিন্নি কানু।

৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এএসএম জাকারিয়া আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে পালবাড়ি এলাকা দিয়ে মানবপাচারকারী আলাল মিয়া, আমির হামজা ও সানোয়ার হোসেন আটক ৭ জনকে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর চেষ্টা করেন। এ সময় লালারচক বিজিবির সদস্যরা গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পালবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই ৭ জনকে আটক করে।'

জাকারিয়া আরও বলেন, 'অভিযানকালে বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে মানবপাচারকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আটকদের কাছে বিজিবির সদস্যরা কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা ভারতে যাওয়ার বৈধ কোনো কাগজপত্র দেখাতে না পারায় তাদের আটক করে রাতেই কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।'

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আপছার বলেন, 'তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।'

পুলক পুরকায়স্থ/জোবাইদা/

জাহাজডুবির দুঃসহ অধ্যায় শেষে দেশে ফেরা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
জাহাজডুবির দুঃসহ অধ্যায় শেষে দেশে ফেরা
ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদ। ছবি: খবরের কাগজ

থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে ‘এমভি সিলয়েড আর্ক‘নামক জাহাজ ডুবির ঘটনার চার মাস পনেরো দিন পর আইনি জটিলতা কাটিয়ে দেশে ফিরলেন জাহাজের মাস্টার ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদ। 

এরআগে চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি দুর্ঘটনার কবলে জাহাজটি। গত ২৭ এপ্রিল জাহাজটির ১৫ জন নাবিক আদালতের মাধ্যমে মুক্তি লাভ করে ৩০ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছায়। তবে চলমান আইনি কার্যক্রমের কারণে ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদকে থাইল্যান্ডে অবস্থান করতে হয়েছিল। গত ১৮ জুন ক্যাপ্টেন মনির অস্থায়ী মুক্তি দেন থাইল্যান্ডের আদালত। আপিল প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায় তিনি গত ১৯ জুন দেশে ফিরে আসেন। এরমধ্য দিয়ে জাহাজটিতে থাকা সকল নাবিক দেশে ফিরে এসেছেন। 

ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদ বলেন, আমাদের জাহাজ দুর্ভাগ্যজনক ডুবে যাওয়ার ঘটনার পর গত সাড়ে চার মাস ধরে কঠিন সময় অতিক্রম করতে হয়েছে। গত ১৮ জুন আদালতের মাধ্যমে আমার মুক্তির পথ সুগম হয়। ফলে আমি আমার পরিবার এবং অসুস্থ মায়ের কাছে ফিরে আসতে পেরেছি। বর্তমানে মামলার আপিল প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং থাইল্যান্ডের উচ্চতর বিচারিক কর্তৃপক্ষের নিকট মামলার পরবর্তী কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-এর প্রতি আমার অনুরোধ, চলমান জটিল আইনি পরিস্থিতি থেকে দ্রুত মুক্তির স্বার্থে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা প্রদান করা হোক।

উল্লেখ্য জাহাজটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি মালয়েশিয়ার পোর্ট ক্লাং বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। যাত্রাপথে জাহাজটি মারাত্মক ও বিপজ্জনকভাবে একদিকে কাত হয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে ৭ ফেব্রুয়ারি থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলের অদূরে ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর থাই কোস্টগার্ড জাহাজে অবস্থানরত ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে সফলভাবে উদ্ধার করে নিরাপদে তীরে নিয়ে আসে। 

ঘটনার পর থাই কর্তৃপক্ষ, জাহাজের ইনসুরেন্স কোম্পানি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট অংশীজন জাহাজডুবির কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। জাহাজের সকল নাবিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ায় পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করেন। গত ৩০ মার্চ পুলিশ তদন্তকারী কর্মকর্তা, সরকারি সার্ভেয়র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ এপ্রিল জাহাজটির অন্যান্য ১৫ জন নাবিক মুক্তি লাভ করেন এবং ৩০ এপ্রিল ঢাকায় পৌঁছে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যান। তবে চলমান আইনি কার্যক্রমের কারণে ক্যাপ্টেন শেখ মনির আহমেদকে থাইল্যান্ডে অবস্থান করতে হয়েছিল।  

এসএন/

সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
সুনামগঞ্জে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত
ছবি: খবরের কাগজ

কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের সব নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর পানি উপচে তাহিরপুর-আনোয়ারপুর সড়ক ডুবে গেছে, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।

এদিকে দোয়ারাবাজার উপজেলার খাসিমারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করায় রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গত কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এবং উজান থেকে ঢল নামায় জেলার সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনো সময় পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে।

আগামী আরও তিন দিন ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের সম্ভাবনা থাকায় বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। এরই মধ্যে সীমান্ত এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি ৬৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ২০ মিলিমিটার।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

দেওয়ান গিয়াস/রিফাত/

‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
‘কমল দাদার পাঠশালায়’ আদিবাসী শিশুদের পাশে ফারুক হোসেন
শিক্ষার্থীদের হাতে উপহার প্রদান করছেন  মানবতার ফেরিওয়ালা ফারুক হোসেন। ছবি: খবরের কাগজ

দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত চৌপুকুরিয়া গ্রামে কমল রায়ের বাড়ীর একটি ছোট্ট উঠান। চারপাশে দারিদ্র্যের ছাপ, কিন্তু সেই উঠানজুড়ে প্রতিদিন জ্বলে ওঠে শিক্ষার আলো। এখানেই বসে ‘কমল দাদার পাঠশালা’—যেখানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও আদিবাসী পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান করেন আনসার সদস্য কমল চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী লতা রানী রায়।

অভাব-অনটনের কারণে যেসব শিশু নিয়মিত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত, তাদের জন্য এই পাঠশালাই হয়ে উঠেছে স্বপ্ন দেখার এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা। মাটিতে চট বিছিয়ে চলে পাঠদান, আর সেই পাঠশালাকে ঘিরেই গড়ে উঠছে ভবিষ্যতের নতুন সম্ভাবনা।

শুক্রবার (১৯ জুন) দৈনিক খবরের কাগজে প্রকাশিত ‘কমল দাদার পাঠশালা’ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ব্যাপক সাড়া ফেলে। সংবাদটি পড়ে অনুপ্রাণিত হন বিআরডিসির গাড়িচালক ফারুক হোসেন। তিনি নিজ উদ্যোগে পাঠশালায় এসে প্রায় ৩৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেন।

শিক্ষার্থী প্রত্যেককে একটি বাংলা খাতা, একটি ইংরেজি খাতা, একটি গণিত খাতা, একটি কলম এবং একটি করে বিস্কুটের প্যাকেট উপহার দেওয়া হয়। সামান্য এই উপহার পেয়ে শিশুদের মুখে ফুটে ওঠে আনন্দের ঝলক। নতুন খাতা-কলম হাতে পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে। তাদের চোখেমুখে দেখা যায় নতুন উদ্যমে লেখাপড়া শেখার প্রত্যয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এলাকার অধিকাংশ আদিবাসী পরিবার চরম দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করে। সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় বহন করা অনেক পরিবারের পক্ষেই সম্ভব হয় না। আবার অনেক অভিভাবকের মধ্যে শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। এমন বাস্তবতায় কমল চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী লতা রানী রায় দীর্ঘদিন ধরে সম্পূর্ণ বিনা পারিশ্রমিকে শিশুদের পাঠদান করে আসছেন। নিজেদের সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও তারা শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন পিছিয়ে পড়া শিশুদের মাঝে।

দিনাজপুর বিআরডিসি গাড়ীচালক ফারুক হোসেন বলেন, “দৈনিক খবরের কাগজে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি পড়ে আমি কমল চন্দ্র রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি এলাকার আদিবাসী শিশুদের শিক্ষা পরিস্থিতি, তাদের পারিবারিক দারিদ্র্য এবং শিক্ষা উপকরণের সংকটের কথা জানান। বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। এরপর নিজের বেতনের অর্থ থেকে প্রায় ৩৫ জন শিশুর জন্য খাতা, কলম ও কিছু খাবার কিনে নিয়ে আসি।

তিনি আরও বলেন, “আমার সামর্থ্য সীমিত। তারপরও মনে হয়েছে এই শিশুদের পাশে দাঁড়ানো উচিত। আমরা চাই তারা শিক্ষিত হয়ে দেশের সম্পদে পরিণত হোক। কমল দাদার মতো একজন মানুষ নিঃস্বার্থভাবে যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে এসব শিশুর ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হবে।

শিক্ষার্থী সুকন্যা মাড্ডি বলে, “আমাদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুব খারাপ। অভিভাবকেরাও শিক্ষা সম্পর্কে তেমন সচেতন নন। লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণেরও অভাব রয়েছে। ফারুক হোসেন স্যার আমাদের খাতা-কলম দিয়েছেন। এতে আমাদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ আরও বেড়েছে।

আরেক শিক্ষার্থী দীপিকা মুর্মু বলে, “এই উপহার পেয়ে আমরা অনেক খুশি। এখন আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করতে ইচ্ছে করছে। আমাদের পরিবারও পড়াশোনার জন্য উৎসাহ দিচ্ছে।

পাঠশালার উদ্যোক্তা কমল চন্দ্র রায় বলেন, “আমাদের কার্যক্রম নিয়ে দৈনিক খবরের কাগজ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষের সাড়া পাচ্ছি। একজন সংবাদকর্মী সরেজমিনে এসে বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছিলেন। সেই প্রতিবেদনই ফারুক হোসেনের মতো একজন হৃদয়বান মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছে। তিনি শিশুদের জন্য শিক্ষা উপকরণ নিয়ে এসেছেন। এতে আমি যেমন আনন্দিত, শিশুরাও তেমনি নতুন করে উৎসাহ পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “এই শিশুদের অধিকাংশই সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের সন্তান। তাদের পাশে সমাজের আরও মানুষ এগিয়ে আসবেন বলে আশা করি। শিক্ষা পেলে এই শিশুরাই একদিন দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাদের স্বপ্ন পূরণে সামান্য সহযোগিতাও বড় পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা হরেন সরকার বলেন, “কমল দাদার পাঠশালা শুধু একটি শিক্ষা কেন্দ্র নয়, এটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আশার আলো। আর ফারুক হোসেনের মতো মানুষের মানবিক উদ্যোগ প্রমাণ করে, সমাজের প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে এলে শিক্ষার আলো পৌঁছে যেতে পারে সবচেয়ে প্রান্তিক মানুষের কাছেও।

তিনি আরোও বলেন, একটি সংবাদ, একজন মানবিক মানুষ এবং কিছু শিক্ষা উপকরণ—এই তিনের সমন্বয়ে চৌপুকুরিয়ার ছোট্ট পাঠশালায় যেন নতুন করে জেগে উঠেছে স্বপ্নের আলো। আর সেই আলোই হয়তো একদিন বদলে দেবে পিছিয়ে পড়া এসব শিশুর জীবন।

সুলতান মাহমুদ/এসএন

বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম
বাজার ছিল যার ঠিকানা, পরিচয় রয়ে গেল অজানা
তিনি এক বছর ছিল বাজারের আপনজন, শেষ বিদায়ে রইল না কোনো স্বজন। ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের লালপুর উপজেলার ওয়ালিয়া বাজার এলাকায় প্রায় এক বছর আগে আসেন এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী। বয়স আনুমানিক ৫০ বছর।

ওইদিন তার সরব উপস্থিতি মুহুর্তেই জানাজানি হয়। কেউ কেউ পাগলী বলে বিরক্ত করেন। কয়েকজন হৃদয়বান মানুষের হস্তক্ষেপে তা বন্ধ হয়। কিছু মানুষ দয়া করে তাকে খেতে দেন। সে খুশি হয়।

মানসিক ভারসাম্যহীন  হলেও মানুষের দয়া আর সহানুভূতি তাকে সন্তুষ্ট করে।

এরপর থেকে সেই বাজারেই অবস্থান করছিলেন সেই মধ্য বয়সি নারী। এভাবে দিনযাপন চলছে।

এক বছর পর হঠাৎ নীরবেই পরপারে চলে গেলেন তিনি। কেউ জানতেই পারলেন না তার পরিচয়।

কোথায় থেকে এলেন। নেই কোন ঠিকানা। পরিচয় অজানা থেকে গেলো। 

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কয়েকদিন থেকেই ওই নারী কিছুটা অসুস্থ ছিলেন।

রবিবার (২১ জুন) সকালে ওয়ালিয়া বাজারে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

নিহতর পরিচয় জানতে পিবিআই অনেক চেষ্টা করলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে ওসি জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা জাহিদ হোসেন বলেন, গত এক বছরে বাজারের দোকানি থেকে শুরু করে আশপাশের প্রায় সবাই ওই নারীকে চিনতেন। ধীরে ধীরে তিনি যেন এই জনপদেরই একজন হয়ে উঠেছিলেন। তাই তার আকস্মিক মৃত্যু কেবল একটি মৃত্যুসংবাদ নয়, নীরবে অনেকের মনেই শোকের রেখা এঁকে দিয়েছে।

জাহিদের ভাষ্য, তার কথাবার্তা, আচার-আচরণে কখনোই মনে হয়নি তিনি পথের মানুষ। বরং মনে হয়েছে, তিনি কোনো সম্মানিত পরিবারেরই সন্তান—যার জন্য কোথাও না কোথাও কেউ অপেক্ষা করে, কেউ দোয়া করে, কেউ হয়তো এখনও খোঁজ করে।

কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! হয়তো তারও আপনজন ছিল, ছিল তাকে ভালোবাসার মানুষ। অথচ তারা জানতেই পারলেন না—তাদের প্রিয় মানুষটি পৃথিবীর মায়া ছেড়ে চলে গেছেন। তারা তার জানাজায় দাঁড়াতে পারলেন না, শেষবারের মতো মুখটিও দেখতে পারলেন না, বিদায়ের অশ্রুটুকুও ঝরাতে পারলেন না। কিছু বিদায় এমনই নীরব হয়, যেখানে কান্নার শব্দও স্বজনদের কাছে পৌঁছায় না।

কামাল মৃধা/এসএন

ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২১ জুন ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম
ঢাকাগামী ফ্লাইটে ওঠার আগে ইয়াবাসহ নারী গ্রেপ্তার
ছবি: খবরের কাগজ

কক্সবাজার বিমানবন্দর থেকে ঢাকায় পাচারের চেষ্টাকালে ৯ হাজার ৮২৫ পিস ইয়াবাসহ এক নারী যাত্রীকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। 

রবিবার (২১ জুন) সকালে বিমানবন্দরে যাত্রীদের লাগেজ তল্লাশির সময় এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

আটক জেসমিন আক্তার (৩৭) চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নারায়ণহাট এলাকার মৃত হারুন মিয়ার মেয়ে।

কক্সবাজার বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ গোলাম মুর্তুজা জানান, রবিবার সকালে নভোএয়ারের ঢাকাগামী প্রথম ফ্লাইট (ভিকিউ-৯২২) এর এক নারী যাত্রী বোর্ডিং পাস সংগ্রহের পর তার হোল্ড লাগেজ স্ক্যানিং করা হয়। এ সময় দায়িত্বরত কর্মীরা ব্যাগে সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতির সংকেত পান। পরে ব্যাগটি তল্লাশি করে দেখা যায়, একটি ল্যাপটপ ব্যাগের দুই পাশের শকপ্রুফ ফোমের ভেতরে বিশেষ কৌশলে প্যাকেট সেলাই করে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে উদ্ধার করা প্যাকেটগুলো খুলে ৯ হাজার ৮২৫ পিস ইয়াবা পাওয়া যায়।

তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলেই ওই নারী যাত্রীকে আটক করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবাসহ তাকে কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কক্সবাজার- এর উপপরিচালক সোমেন মন্ডল বলেন, “ওই নারীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে।”

তারেকুর রহমান/এসএন