ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান শেষ মুহূর্তের ইরেনকির গোলে পানামাকে হারিয়ে ঘানার জয়; খেলোয়াড়দের রেটিং দূরত্ব হাজার মাইল, উৎসব ক্যাম্পাসে তিস্তায় আরেকটি ব্যারেজ নির্মাণ হবে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে পঞ্চম ব্যালন ডি’অর বিজয়ী হলেন ফাবিও ক্যানাভারো বিশেষ ‘লেগাসি’ ব্যাজ পরে মাঠে নামলেন রোনালদো, মেসি ও মদ্রিচ গ্রুপসেরার দৌড়ে এগিয়ে যাওয়ার লড়াই শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে সিন্ডিকেট বিলুপ্তিসহ ৭ দাবি চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন আমানত ফিরে পাওয়ার দাবিতে চট্টগ্রামে ‘রোডমার্চ’ ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার বরিশালে ভুয়া ভাড়ার তালিকা নিয়ে বিভ্রান্তি শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক নীলিমাইব্রাহিমের মৃত্যুবার্ষিকী আজ নদী খননের মাটির নিচে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পশুর শিংয়ে নান্দনিক শিল্পকর্ম কসাইয়ের ‘এইভাবে পইড়া থাকলে বাচ্চা দুইডা মইরা যাইব’ ছড়িয়ে পড়ছে এইডস: আক্রান্ত তরুণ ও শিক্ষার্থীরা কালীগঙ্গা নদীর ওপর সেতু আছে, তবু খেয়া পারাপার ১৮ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ১৮ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল প্রথম জয়ের খোঁজে… বসনিয়া চ্যালেঞ্জ সুইসদের ১৮ জুন  ২০২৬ তারিখের নামাজের সময়সূচি কানাডার সামনে এশিয়ান চ্যাম্পিয়নরা ৬ গোলের ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে হারাল ইংল্যান্ড দুবার পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফিরল ক্রোয়েশিয়া ফুটবল তার শক্তি দেখাল, মাঠে আসছেন ভোজিনহার মা বিশ্বমঞ্চে নিস্তেজ রোনালদো
Nagad desktop

সংগ্রামী জীবনে ফাগুয়ার ছোঁয়া

প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩২ পিএম
আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৫, ১২:৩৩ পিএম
সংগ্রামী জীবনে ফাগুয়ার ছোঁয়া
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের অদূরে ফুলছড়া চা-বাগানের মাঠে আয়োজন করা হয় ফাগুয়া উৎসবের। ছবি: খবরের কাগজ

চা-শ্রমিকদের সংগ্রামী জীবনে ঘরে-বাইরে শত অভাব-অনটন। তবে বছরের কোনো একটি সময়ে তারা এসব ভুলে যান। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠেন। এ রকম উপলক্ষগুলোর একটি ফাগুয়া উৎসব। আর এই উৎসবে একে অন্যের মুখে রং লাগিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে চলে শুভেচ্ছা বিনিময়। লাল, সবুজ, নীল হলুদ রঙের ছড়াছড়িতে চা-জনগোষ্ঠীর সবাই এখন মাতোয়ারা।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের অদূরে ফুলছড়া চা-বাগানের মাঠে আয়োজন করা হয় এই ফাগুয়া উৎসবের। গত শনিবার বিকেলে ফুলছড়া মাঠে নানা বয়সী হাজারো নারী-পুরুষ রঙের খেলায় মেতে ওঠেন। এই বর্ণিল উৎসব চলে রাত পর্যন্ত।

জেলা প্রশাসন ও ফাগুয়া উৎসব উদযাপন পরিষদের আয়োজনে এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় আয়োজিত উৎসবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এ সময় তিনি বলেন, ‘চা-শ্রমিকদের অবদান আমাদের জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখাই আমাদের দায়িত্ব।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মো. ইসরাইল হোসেন, শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুল ইসলাম, বালিশিরা চা-বাগানের মহাব্যবস্থাপক মো. সালাউদ্দিন, ফাগুয়া উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রীতম দাশ ও সদস্যসচিব অনিল তন্তুরায়, শ্রমিক নেতা পরিমল বাড়াইক প্রমুখ। চা-জনগোষ্ঠীর কয়েকজন সদস্য জানান, শত দুঃখ-কষ্ট, শত অভাব-অনটনের মধ্যেও উৎসবের কয়েকটি দিন চা-জনগোষ্ঠী পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দে কাটানোর চেষ্টা করে। শ্রমিকেরা এই আনন্দ ভাগাভাগি করেন প্রতিবেশীদের সঙ্গে। এ সময় দূর-দূরান্তের চা-বাগান থেকে মেয়েরা নাইওর আসেন জামাইসহ।

দেশের চা-বাগানগুলোতে নানা জনগোষ্ঠীর বসবাস। ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এসে আবাস গড়া চা-শ্রমিকদের যেমন নিজেদের পৃথক ভাষা আছে, তেমন রয়েছে পৃথক সংস্কৃতিও। আয়োজকেরা জানান, এই উৎসবে কেবল রঙের হোলিই নয়, ছিল ভিন্ন সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা। এর মধ্যে দিনব্যাপী চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ও বর্ণিল আয়োজনে ছিল ভোজপুরীদের গুরুবন্দনা ও হোলিগীত, বাড়াইকদের ঝুমুর নৃত্য, উড়িয়াদের পত্রসওরা ও চড়াইয়া নৃত্য, তেলেগুদের কাঠিনৃত্য, হাড়িনৃত্য, বিরহা, হোড়কা বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যে ঝুমুর এবং গড় সম্প্রদায়ের হোলিগীত উল্লেখযোগ্য।

একসঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির নানা পরিবেশনা উপভোগ করতে পেরে যেমন আনন্দে ভেসেছেন চা-শ্রমিকরা, তেমন অভিভূত হয়েছেন উৎসবে আসা নাগরিক সমাজও। এদিকে ধীরে ধীরে চা জনগোষ্ঠীর অনেক ভাষা ও সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে জানিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী সালাউদ্দিন শুভ বলেন, ‘চা-জনগোষ্ঠীর নিজস্ব সংস্কৃতি সুন্দর ও প্রাণবন্ত। এটা চাক্ষুষ না দেখলে বোঝা যাবে না।’

উৎসবে আসা শিক্ষক নিপা দাশ বলেন, ‘একসঙ্গে নৃত্যগীতের এত বৈচিত্র্যপূর্ণ আয়োজন দেখে অন্যদের মতো আমিও অভিভূত। সবাই নাচছে, গাইছে, আনন্দ করছে। চা-বাগানের মানুষের কৃষ্টি সংস্কৃতি এত সুন্দর যে, না দেখলে বুঝতে পারতাম না।’

উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রীতম দাশ বলেন, ‘চা-শ্রমিকদের হারিয়ে যাওয়া সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখার জন্যই এ উৎসবের আয়োজন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে চা-জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি তুলে ধরেছেন।’

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২১ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৮ এএম
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান
ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বারইপাড়া নিজ গ্রামের ঈদগাহ ময়দানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান ৩৪৯ জন সেবাগ্রহীতার হাতে ফ্যামিলি কার্ড ও তাল গাছের চারা তুলে দেন।

বুধবার (১৭জুন) বুধবার সারাদেশের ২০টি উপজেলায় একযোগে ফ্যামিলি কার্ডের উদ্বোধন করেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন এর সভাপতিত্বে এ সময় জেলা পুলিশ সুপার আশিস বিন হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল মজিদ, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহফুজুর রহমান প্রমুখ  উপস্থিত ছিলেন। পরে আইনমন্ত্রী সরকারের ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বারইপাড়া জিকে খালের পাড়ে বারইপাড়া থেকে বালিয়াডাঙ্গা মাঠ পর্যন্ত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। 

আলমগীর অরণ্য/তামান্না রুপা/

শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম
শিশুদের স্বপ্নের কথা শুনলেন জাইমা রহমান
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে র্দীঘ সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান। এ সময় শিশুদের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পড়াশোনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

গত মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে দুই উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের কন্যা মেহভীন রহমান মুনিয়ার উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
আড্ডার শুরু থেকেই প্রাণবন্ত ছিলেন জাইমা রহমান। শিশুদের একজন একজন করে কাছে ডেকে স্বপ্ন, ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চান। তিনি পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও জীবনদক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। তিনি নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা শিশুদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন।

একপর্যায়ে শিশুদের কাছে জানতে চান, তারা রান্না করতে পারে কি না। কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতিবাচক উত্তর দিলে তিনি মজা করে বলেন, একদিন তাদের এলাকায় গেলে কী খাওয়াবে। শিশুরা জানায়, তারা বিরিয়ানি রান্না করবে। উত্তরে জাইমা রহমান হাসিমুখে বলেন, বিরিয়ানির সঙ্গে ইলিশ মাছও হলে মন্দ হয় না।

রামধননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান ওসমান রাহিন বলে, ‘খুব ভালো লেগেছে। এত কাছ থেকে উনার সঙ্গে কথা বলব, ভাবিনি। তিনি আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতেও বলেছেন।’

সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলী বলেন, ‘শিশুরা প্রধানমন্ত্রী কন্যার সঙ্গে অসাধারণ সময় কাটিয়েছে। তিনি প্রতিটি শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন। এতে শিশুরা অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছে।’

আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা নিজেদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছে।’

ইউএনও তাপসী রাবেয়া বলেন, ‘আমরা আশা করিনি তিনি এত দীর্ঘ সময় শিশুদের সঙ্গে কাটাবেন। প্রতিটি শিশুর কথা শুনে তাদের উৎসাহ দিয়েছেন। এটি শিশুদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।’

চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ এএম
চট্টগ্রামে এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রোহিঙ্গারা
ছবি: সংগৃহীত

মায়ানমারের নাগরিক তথা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী চট্টগ্রামে এইচআইভি এইডসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। চট্টগ্রামের সঙ্গে তাদের ভাষাগত মিল থাকায় তারা সহজেই চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং তিন পার্বত্য জেলার মানুষের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। তাতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে চট্টগ্রামের মানুষ। 

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের উদ্যোগে ‘সাংবাদিকদের সাথে মানবাধিকার ও এইচআইভিবিষয়ক কর্মশালা: বাংলাদেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক কর্মশালায় আলোচকরা এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার চমেক হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত কর্মশালার উদ্দেশ্য ছিল এইচআইভি-সম্পর্কিত সচেতনতা বৃদ্ধি, আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার সুরক্ষা এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনে গণমাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করা।

কর্মশালায় রিসোর্স পারসন ছিলেন চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, উপপরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী। 

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জোনায়েদ মাহমুদ খান। তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে, অর্থাৎ গত বছর ২১৭ জন রোহিঙ্গা এইডস রোগী চমেক হাসপাতালে এসেছিল। তার আগের বছর এসেছিল ২১৫ জন। তাদের কক্সবাজারের উখিয়া এআরটি সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামে অবাধে চলাফেরা করে। কেউ চিকিৎসা নিতে এলে তখন আমরা চিকিৎসা দিয়ে উখিয়া সেন্টারে পাঠাই। কিন্তু চিকিৎসা নিতে আসে না এ রকম রোগী বাইরে কতজন ঘোরাফেরা করছে, আমাদের জানা নেই। এসব রোগী মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।’ 

তথ্য হিসাবে জানানো হয়, ২০২৫ সালে সারা দেশে এইচআইভি নিয়ে বসবাসকারী ব্যক্তির সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৯১ জন। এর মধ্যে ২১৭ জন ছিল রোহিঙ্গা। আর ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এআরটি সেন্টারে ৩ হাজার ৯৪২ জনকে এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে পজিটিভ ছিল ৮১ জন, নেগেটিভ ৩ হাজার ৮৬১ জন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৬২ জন পুরুষ এবং ১৯ জন নারী। এই রোগীদের মধ্যে ১৫ জন মারা যায়। আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশের বয়স ২৫ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক জোনায়েদ মাহমুদ খান বলেন, যে ব্যক্তি ১৫ বা ২০ বছর বয়সে আক্রান্ত হয়, তার শরীরে এইডস প্রকাশ পেতে ৮ থেকে ১০ বছর সময় লেগে যায়। অর্থাৎ ওই ব্যক্তির শরীরে এইডসের জীবাণু শনাক্ত হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সে। যথাযথ চিকিৎসা নিলে এইচআইভি পজিটিভ ব্যক্তি সুস্থভাবে ও স্বাভাবিকভাবে ঘরসংসার করতে পারে। এমনকি তারা সন্তানও জন্ম দিচ্ছে। সন্তানদের শরীরে এইচআইভির জীবাণু নেই। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের উৎকর্ষের ফল। এই ইতিবাচক দিকের নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক তরুণ-তরুণী বেপরোয়া জীবনযাপন করে। কারণ তারা জানে এইচআইভিতে আক্রান্ত হলে এখন সরকার বিনামূল্যে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়। 

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, এইচআইভি বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, বৈষম্য ও সামাজিক কলঙ্ক দূরীকরণ এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সংবাদমাধ্যম জনগণের ধারণা ও মনোভাবকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে সক্ষম। একই সঙ্গে নীতিনির্ধারণী আলোচনায় ভূমিকা রাখা, ঝুঁকিপূর্ণ ও আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কথা তুলে ধরা এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক সঠিক তথ্য জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মিডিয়ার দায়িত্ব অপরিসীম। দায়িত্বশীলতার অভাবে গণমাধ্যম কখনো কখনো অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রচলিত ভুল ধারণা ও কুসংস্কারকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। এ ছাড়া এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের গোপনীয়তা লঙ্ঘন কিংবা ঘটনাকে অতিরঞ্জিত ও চাঞ্চল্যকরভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে। তাই এইচআইভি-সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। 

কর্মশালায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান (নাহিদ), সহকারী অধ্যাপক ডা. বর্ণালী বড়ুয়া, ডা. অজয় কুমার ঘোষ, ডা. সামিরা জামাল, ডা. সাবিনা ইয়াসমিন, বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সিফাত সায়মা প্রমুখ।

তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ এএম
তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মীকে পুলিশ দম্পতির নির্যাতন
ছবি: সংগৃহীত

খুলনার সোনাডাঙ্গায় পুলিশ দম্পতির বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে অমানষিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার সোলার পার্কসংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় তাকে গরম কড়াই দিয়ে ছেঁকা দেওয়া হয়। এর আগে তাকে কান ধরে ওঠবস ও মারধর করা হয়। গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ওই ঘটনা পাশের ভবনের ছাদে অবস্থান করা একজন সংবাদকর্মীর ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

নির্যাতনের শিকার গৃহকর্মীর নাম মোসাম্মৎ মিলন (১৮)। তিনি নরসিংদীর বাসিন্দা। তিনি অভিযুক্ত সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্রের বাসায় কাজ করেন এবং সেখানেই থাকেন।

এদিকে গৃহকর্মীর ওপর এমন নির্যাতনের ঘটনা জানাজানি হলে বিভিন্ন নারী সংগঠন, সংবাদকর্মী ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ওই বাড়ির সামনে জড়ো হন। এ সময় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে নির্যাতিত ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গরম খুন্তি ও কড়াই দিয়ে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। তরকারি পুড়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে এই নির্মম ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করলেও অভিযুক্তদের ঘটনাস্থল থেকে আটক না করায় ক্ষোভের মুখে পড়েন ডিউটিরত পুলিশ কর্মকর্তারা। স্থানীয়রা বলেন, অভিযোগ পেয়ে পুলিশ এই বাড়িতে আসার পর এএসআই সঞ্জয় মিত্র তাদের সঙ্গেই ছিলেন। এক পর্যায়ে তিনি হেঁটে সোলার পার্কের মধ্যে চলে যান। তার স্ত্রী পপি মিত্র সে সময় বাসার ভেতরে ছিলেন। কিন্তু থানা থেকে আসা পুলিশ সদস্যরা তাদের আটক না করায় স্থানীয়রা পুলিশের গাড়িটি ঘিরে ধরে এবং তীব্র নিন্দা জানায়।

গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত এএসআই সঞ্জয় মিত্র এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি না হলেও তার স্ত্রী এএসআই পপি মিত্র জানান, রান্নার সময় গৃহকর্মী কড়াইয়ের মধ্যে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি বলেন, শুধু ওই গৃহকর্মী নয়, তিনি তার ছেলেকেও মারধর করেছেন।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে সোনাডাঙ্গা থানার ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, কাজের মেয়েকে নির্যাতনের বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। ভিকটিম ও অভিযুক্তদের থানায় আনা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৮:৪৭ এএম
ময়মনসিংহ বিভাগ: নীরবে বাড়ছে এইচআইভির বিস্তার
ছবি: সংগৃহীত

২৫ বছর বয়সী রাকিব (ছদ্মনাম) প্রথমে জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপর তার ওজন কমতে শুরু করে। পরে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কয়েক মাস টানা চিকিৎসা নিয়েও সুস্থ হচ্ছিলেন না। বাধ্য হয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং সার্ভিস (এইচটিসি) সেন্টারে তিনি রক্ত পরীক্ষা করান। এরপর জানতে পারেন তিনি হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাসে (এইচআইভি) আক্রান্ত হয়েছেন। 

এ বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম। রিপোর্ট দেখে মনে হয়েছিল জীবন শেষ। এখন ওষুধ খাই, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলি। সবাই জানলে কী ভাববে–মনে এখন সে ভয়টা বেশি কাজ করে।’

শুধু রাকিব নয়, সাড়ে ছয় বছরে (২০২০ থেকে ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাস) ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে ১৩ হাজার ৬৮৭ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করা হয়। এদের মধ্যে ১২২ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। আক্রান্তদের মধ্যে শিক্ষার্থী, তরুণ-তরুণী, কর্মজীবী, বিবাহিত নারী-পুরুষ, এমনকি শিশুও রয়েছে। এইচটিসি সেন্টারে শনাক্ত হওয়া ১২২ জন ছাড়াও ময়মনসিংহের বিভিন্ন হাসপাতাল ও এনজিওর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আরও ১২৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। এর মধ্যে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির ময়মনসিংহ শাখায় এইচআইভি শনাক্ত হয় ৪৬ জনের। সব মিলিয়ে এইচআইভি আক্রান্ত হন মোট ২৪৮ জন। তারা সবাই ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা। এদের মধ্যে পাঁচজন মারা গেছেন। বাকি ২৪৩ জন মমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের বয়স ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে হলেও সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ হয়েছেন ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সী। 

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে দ্রুত বৃদ্ধি

এইচটিসি সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে এক হাজার জনের এইচআইভি পরীক্ষা করে একজনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২১ সালে ২ হাজার ৩৯২ জনের পরীক্ষা করে একজনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২২ সালে ১ হাজার ৭২৯ জনের পরীক্ষা করে ১০ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৩ সালে ৩ হাজার ২৯৬ জনের পরীক্ষা করে ১৬ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৪ সালে ২ হাজার ২১৭ জনের পরীক্ষা করে ৩১ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়। ২০২৫ সালে ২ হাজার ২৬৭ জনের পরীক্ষা করে ৪৩ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয় এবং ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত ৭৮৬ জনের পরীক্ষা করে ২০ জনের এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে।

এই তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে একজন, ২০২১ সালে একজন, ২০২২ সালে ১০ জন, ২০২৩ সালে ১৬ জন, ২০২৪ সালে ৩১ জন, ২০২৫ সালে ৪৩ জন ও ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত ২০ জন হয়েছেন। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সংখ্যা শুধু পরিসংখ্যান নয়; এটি সমাজের জন্য একটি সতর্কসংকেত।

এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর রোগ নয়

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের ফোকাল পারসন ডা. আরিফ মাহবুব বলেন, শুধু তরুণদের নৈতিক অবক্ষয়কে দায়ী করলে সমস্যার প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না। শিক্ষার্থী, বিবাহিত নারী-পুরুষসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিদের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মানুষ যেন ভয় বা লজ্জার কারণে পরীক্ষা থেকে দূরে না থাকেন।

সমকামীদের চেয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেই বেশি শনাক্ত

হাসপাতালসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রচলিত ধারণার বিপরীতে বর্তমানে সমকামী জনগোষ্ঠীর তুলনায় সাধারণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি এইচআইভি শনাক্ত হচ্ছে। এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সিলর কাম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মো. আবদুল আল মামুন বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী যেমন আক্রান্ত হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন। কেউ কেউ আক্রান্ত মা-বাবার মাধ্যমে জন্মগতভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, মানবদেহের নির্দিষ্ট কিছু তরল পদার্থ–যেমন রক্ত, বীর্য ও বুকের দুধের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক এবং একই সুই-সিরিঞ্জ ব্যবহারও বড় ঝুঁকি। হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে প্রতিদিন ৭ থেকে ১৫ জন আসছেন পরীক্ষা করাতে। শনাক্ত হওয়া রোগীদের প্রতি তিন মাস পরপর ফলোআপ করা হচ্ছে। দেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা। এ ছাড়া কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। গুরুতর রোগীদের ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতেও উদ্বেগজনক চিত্র

ট্রান্সজেন্ডার, হিজড়া ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। এখন সংস্থাটির ময়মনসিংহ শাখার ড্রপ-ইন সেন্টার ম্যানেজার আব্দুল্লাহ আল আশিক বলেন, ‘আমাদের সেন্টারে এইচআইভি পরীক্ষা করা হচ্ছে। যাদের শরীরে এইচআইভি শনাক্ত হয়, তাদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে পাঠিয়ে দিচ্ছি।’

ওষুধসংকটে বাড়ছে ভোগান্তি

এইচআইভি আক্রান্তদের জন্য হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারে বিনামূল্যে এআরভি (ARV) ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। তবে রোগীদের সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য আগে যে সহায়ক ওষুধ সরবরাহ করা হতো, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে তার সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে রোগীদের অনেক প্রয়োজনীয় ওষুধ এখন নিজ খরচে কিনতে হচ্ছে। অনেক রোগী আর্থিকভাবে দুর্বল। তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে।

সমাজের জন্য সতর্কবার্তা

শিক্ষাবিদ লে. কর্নেল (অব.) ড. মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, তরুণদের মধ্যে বাড়তে থাকা সংক্রমণ, শিক্ষার্থীদের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এবং জন্মগত সংক্রমণের নজির–সব মিলিয়ে এটি শুধু স্বাস্থ্য খাতের নয়, পুরো সমাজের জন্য একটি সতর্কবার্তা। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনগুলোকে সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় হতে হবে। শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষকে জানতে হবে এইচআইভি কীভাবে ছড়ায় এবং কীভাবে ছড়ায় না। নীরবে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রমণ ঠেকাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী দিনের চিত্র আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে। ভুল ধারণা ও সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে না পারলে সংক্রমণ প্রতিরোধ কঠিন হবে।

সচেতনতা ছাড়া বিকল্প নেই

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মুহম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, হাসপাতালে আসা প্রত্যেক রোগীকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। ভয় বা লজ্জার কারণে পরীক্ষা না করিয়ে রোগ গোপন রাখা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। যত দ্রুত শনাক্ত হবে, চিকিৎসার ফল তত ভালো হবে। তাই প্রয়োজন সচেতনতা, দ্রুত পরীক্ষা এবং নিয়মিত চিকিৎসা।

তিনি বলেন, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবার জন্য আগে যে সহায়ক ওষুধ সরবরাহ করা হতো সেগুলো রোগীরা বিনামূল্যে আবারও যাতে পান, সে ব্যবস্থা করা হবে।