ঢাকার সাভারে দাম্পত্য কলহের জেরে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর নির্জন বাঁশঝাড়ে ফেলে রেখে গেছে তার স্বামী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে আশুলিয়া থেকে অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়। সে নওগাঁ জেলার সদর থানার খিদিরপুর গ্রামের বাছের আলী মোল্লার ছেলে।
নিহত তানিয়া আক্তার (২৪) নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার বাঘানগর মহল্লার নুরুল হকের মেয়ে।
ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) শাহীনুর কবির বলেন, ‘গত ২৫ এপ্রিল বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকায় একটি বাঁশঝাড়ের ভেতরে অর্ধনগ্ন অবস্থায় অজ্ঞাত এক নারীর মরদেহ পাওয়া যায়। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা ভুক্তভোগীর পরিচয় নিশ্চিত করি। এ ঘটনায় নিহতের বাবা অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করেন। পরে গতকাল রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত নিহতের স্বামী সোহাগকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, ভুক্তভোগী তানিয়া বেগম ও তার স্বামী সোহাগ আশুলিয়া এলাকার এনএএইচ নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করত। তদন্তে ভুক্তভোগীর স্বামীকে সন্দেহ হওয়ায় প্রথম থেকে আমরা তাকে নজরদারিতে রেখেছিলাম। পরে গতকাল রাতে তাকে আমরা আশুলিয়া থেকে আটক করা হয়। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
আসামির ভাষ্য অনুযায়ী পুলিশ জানান, একই গার্মেন্টসে চাকরিরত অবস্থায় তানিয়ার সঙ্গে সোহাগের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং গত বছর তারা বিয়ে করেন। তাদের উভয়েরই আগে বিয়ে হয়েছিল। তানিয়ার প্রথম সংসারের ছয় বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। মৃত্যুর সময় তানিয়া চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। মূলত সোহাগ তার প্রথম স্ত্রীকে না জানিয়ে এই বিয়েটি করেছিলেন, যা নিয়ে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলছিল। এ ছাড়া তানিয়ার বিরুদ্ধে পরকীয়ার অপবাদও দেয় সোহাগ। এ ঘটনার পর গত ২৩ এপ্রিল পরিকল্পিতভাবে তানিয়াকে ঘুরতে নিয়ে যায় সোহাগ এবং কৌশলে বিরুলিয়া ইউনিয়নের কালিয়াকৈর এলাকার একটি নির্জন বাঁশঝাড়ের মধ্যে নিয়ে গিয়ে শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। একপর্যায়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং অর্ধনগ্ন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সোহাগ।
ইমতিয়াজ/তাওফিক/