পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ১০০টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। ঈদে ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ২৯টি কারখানার শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারা নির্ধারিত ৮ ঘণ্টা কাজের পরেও অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন। এমনকি বন্ধের দিনেও কাজ করে পুরোনো কোচ ব্যবহার উপযোগী করছেন তারা।
নিয়মিত কাজের শিডিউলে সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় বর্তমানে স্বাভাবিক নিয়মে প্রত্যেক মাসে ৩২টি কোচ মেরামত করা হয়। কিন্তু ঈদের আগে ও পরে নিয়মিত ট্রেন চলাচল করার পরেও পাঁচ দিন ঈদের বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে। ফলে অতিরিক্ত কোচের প্রয়োজন। এ কারণেই এবার ৪৫ কর্ম দিবসে ১০০টি কোচ মেরামতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এই লক্ষ্য পূরণে রেল কারখানা কর্মমুখর হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ঈদযাত্রার জন্য ৬০টি কোচ মেরামত সম্পন্ন হয়েছে, যা ঈদ বহরে যুক্ত হবে।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় ২ হাজার ৮৫৯ জন লোকবল থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৭০৭ জন। নতুন নিয়োগ বন্ধ থাকায় মাত্র ২৫ শতাংশ জনবল নিয়ে উৎপাদনে রয়েছে কারখানাটি। ঈদুল আজহাতে যাত্রীর চাপ সামলাতে তাই অল্প জনবল নিয়েই অতিরিক্ত কোচ মেরামত করার কর্মযজ্ঞ চলছে। কারখানায় কোচের জরাজীর্ণ কাঠামো পরিবর্তন, চাকার ট্রলি মেরামত, নতুন আসন করা ও ভেতরের সাজসজ্জার কাজ করা হচ্ছে। শেষে পেইন্ট শপে রঙ করার কাজ হচ্ছে। এসব কাজে যন্ত্রাংশের জোগান দিয়ে সহায়তা করছে কারখানার আরও ২৪টি শপ।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার ক্যারেজ শপের শ্রমিক মোক্তারুল ইসলাম মুন্না বলেন, ‘কারখানায় তিনজনের কাজ আমরা একজন করছি। ঈদে কাজের চাপ বেড়ে যায়। আমাদের নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়। ঈদ উপলক্ষে আমরা দিনরাত কাজ করছি যাতে নির্বিঘ্নে সবাই বাড়ি ফিরতে পারেন।’
পেইন্ট শপের শ্রমিক আলাউদ্দিন বলেন, ‘ঈদের আগে অনেক চাপ থাকে। লোকবল কম থাকার কারণে আমরা ছুটির দিনও কাজ করছি। ঈদের আগে যাতে কোচগুলো রঙ করে দিতে পারি সেই লক্ষ্যে কাজ করছি।’
কারখানার ক্যারেজ শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী মোমিনুল ইসলাম জানান, ঈদকে সামনে রেখে ১০০টি কোচ মেরামত করা হচ্ছে। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও ঈদুল আজহা উপলক্ষে শ্রমিকরা অতিরিক্ত সময় কাজ করছেন। যাত্রীদের নিরাপদে নির্বিঘ্নে বাড়ি ফেরার জন্য দিনরাত কাজ করছেন। ইতোমধ্যে তারা ৬০টি কোচ হস্তান্তর করেছেন, বাকি ৪০টি কোচ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিতে পারবেন।
কারখানার শিডিউল শপের ইনচার্জ প্রকৌশলী রুহুল আমীন বলেন, ‘জরাজীর্ণ কোচগুলোকে নতুন কোচে রূপান্তর করা হচ্ছে। নানামুখী সংকট থাকলেও অগ্রাধিকার দিয়ে ঈদে বাড়তি কোচ সরবরাহের কাজ করছি, বাকি ১০ কর্মদিবসের মধ্যে আরও ৪০টি কোচ মেরামতের জন্য চলছে শপে শপে কর্মব্যস্ততা।’
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক শাহ সুফি নুর মোহাম্মদ বলেন, ‘কারখানায় জনবল সংকট রয়েছে। তারপরও নির্দিষ্ট সময়ের আগেই আমরা বাকি কোচ মেরামত করে ঈদ রেলবহরে যুক্ত করার জন্য সরবরাহ করতে পারব।’