এইচআইভি রোগে আক্রান্ত এক অন্তঃসত্ত্বার সিজারিয়ান অপারেশন নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ। ওই প্রসূতির চিকিৎসা চলেছে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল থেকে। তাদের তত্ত্বাবধানেই অপারেশন করা হবে বলে জেলা সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৮ মে) তার সিজার করার প্রাথমিক দিন থাকলেও নানা জটিলতার কারণে আগামী রবিবার তাকে সিজার করা হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। অপারেশনটি চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এমনকি অপারেশনের পর কমপক্ষে তিন দিন ওই অপারেশন কক্ষ বন্ধ রাখতে হবে। মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ওই নারী বর্তমানে নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন। চরম ঝুঁকিপূর্ণ হলেও মানবিক কারণে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর এইচআইভি শনাক্ত হন। এখন সন্তান প্রসবের সময় হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক পর্যায়ে যোগাযোগ করেন। এরপর তারা অপারেশন করার সম্মতি দেয়। সেই অনুযায়ী ওই নারীকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে সিজার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সিজারের জন্য সব প্রস্তুতি নিয়েছে।
এ দিকে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে লেবার ওটিতে ১০ থেকে ১৫ অন্তঃসত্ত্বার সিজার হয়ে থাকে। কিন্তু এইচআইভি আক্রান্ত ওই নারীকে অপারেশন করলে তিন দিন লেবার ওটি বন্ধ রাখা হবে। ফলে সিজার কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে।
গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. জেসমিন সুলতানা জানান, এ ধরনের অপারেশন করার পর ওটিকক্ষ জীবাণুমুক্ত করার জন্য তিন দিন বন্ধ রাখতে হয়। পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্ত কারোর অপারেশন করতে হলে ওই রোগীর শরীরের রক্ত এবং পরিষ্কার করা পানিকে খুব সতর্কতার সঙ্গে পুঁতে রাখতে হবে। না হলে ওই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সিজার করার সময় যদি কোনো লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায়, তাহলে সিজার কার্যক্রমের সঙ্গে চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টদের এইচআইভি আক্রান্তের শঙ্কা আরও বেড়ে যেতে পারে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. হুসাইন শাফায়াত জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগের থেকেই যোগাযোগ করা হয়। প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, বুধবার তাকে সিজার করা হবে। কিন্তু কিছু সমস্যা দেখা দেওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়নি। আগামী রবিবার ওই নারীকে সিজার করা হবে।
এ ব্যাপারে যশোরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ড. নাজমুস সাদিক রাসেল বলেনৃ, ‘যশোরের স্বাস্থ্য বিভাগ চরম ঝুঁকিপূর্ণ একটি অপারেশন করতে যাচ্ছে। তবে কাজটি সাহসী। এ ধরনের সিজার করতে হলে আলাদা হাসপাতালের প্রয়োজন হয়।’