সিলেট নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাতে সম্ভাবনাময় পরিবর্তনের জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে পরিবেশবাদী সংগঠনের পক্ষ থেকে 'সবুজ সাথী’ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সিলেট নগরীর মিরবক্সটুলায় রয়েল মার্ক হোটেলের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানে সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) প্রবর্তিত এই সম্মাননা সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীনের নেতৃত্বাধীন দপ্তরকে।
সম্মাননা প্রবর্তনকারী সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে এই সম্মাননা প্রবর্তন করা হয়েছে। দেশে প্রতিষ্ঠানিক বা ব্যক্তি উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে ‘সবুজ সাথী’ দেওয়া হয়। সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দৃষ্টান্ত সারা দেশের মধ্যে অনন্য বিবেচনায় এবং এ কাজে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানের একাগ্রতায় সম্মাননা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর হাত থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন। তার কার্যক্রম নিয়ে গত ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবসে খবরের কাগজে ‘একাগ্র একলিম, পরিচ্ছন্ন সিলেট’ শিরোনামে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল।
ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখার আহ্বায়ক ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (যুগ্মসচিব) মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, পরিবেশ অধিদপ্তর, সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই সিলেট সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। নাহিদা খান সুর্মির সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য দেন সুরমা রিভার ওয়াটারকিপার ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেট শাখারবসদস্য সচিব আব্দুল করিম চৌধুরী কিম। আলোচনায় অংশ নেন প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল অ্যাসিয়েশনের সভাপতি ডা. নাসিম আহমেদ, প্রবাসী বিনিয়োগকারী উইন্ডসর হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টের স্বত্বাধিকারী ব্যারিস্টার মইনুল ইসলাম, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাজিয়া চৌধুরী, ড্যাব সভাপতি ডা. শামিমুর রহমান, বারাকা পাওয়ার লিমিটেড ও কুইন্স হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম আহমেদ চৌধুরী, লেখক ও গবেষক মিহির কান্তি চৌধুরী, শ্রীহট্ট আর্কিটেকের স্বত্ত্বাধীকারী মিনহাজুল আবেদিন চৌধুরী ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফাদার জোসেফ গোমেজ।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘১০ লাখ লোকের বসবাস এই শহরে। ইতিহাস ঐতিহ্য ও পযর্টনের শহর হিসেবে সিলেটের পরিচিতি দেশ বিদেশে সর্বত্র আছে। তাই এই সুনাম ধরে রাখতে হলে সিলেট শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। আর এই পরিচ্ছন্নতার কাজটা করে যাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন। সত্যি কথা বলতে সিসিকের বর্জ্য বিভাগে যারা কাজ করেন তাদের বেতনই আমরা ঠিকভাবে দিতে পারি না। কারণ সিসিকের সেই পরিমান আয় নেই। নগরীর যে অংশ বর্ধিত হয়েছে সেই অংশে এখনো হোল্ডিং ট্যাক্সের আওতায় আনা যায়নি নানা কারণে। কিন্তু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুফল তারাও পাচ্ছেন। এত কিছুর মাঝেও আমাদের বর্জ্য বিভাগের দায়িত্বশীল অফিসার ও কর্মীরা সঠিকভাবে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী আমাকে সিসিকের দায়িত্ব দেওয়ার পর বলেছেন জনগণের জন্য কাজ করতে তিনি সার্বিক সহযোগিতা করবেন। তার দিকনির্দেশনা মতই আমি কাজ করে যাচ্ছি।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক ও ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সচিব শরীফ জামিল এবারের বাজেটে পরিবেশ ও নদীর কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘এই প্রথমবারের মতো বাজেটে দেশের পরিবেশের কথা চিন্তা করে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। কতটুকু রাখা হয়েছে সেই তর্কে না গিয়ে সরকার প্রধানকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ অন্তত তিনি তো দেশের পরিবেশ প্রতিবেশের কথা চিন্তায় রেখেছেন।’
‘সবুজ সাথী’ সম্মাননা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিগত চার বছর ধরে আমরা এই সসম্মাননা দিয়ে আসছি। আমার সবসময়ই সিটি করপোরেশন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমালোচনাই করে থাকি। তবে এবার যখন সম্মাননার জন্য সিলেট সিটি করপোরেশনের নাম এলো তখন মনে হয়েছে খারপ বা ভুল কাজের সমালোচনা করা যেমন জররি, তেমনি ভালো কাজের জন্য সম্মাননা জানানোও জরুরি। এতে যারা কাজ করেন তাদের কর্মস্পৃহা বাড়ে। তবে আমি সিসিক কতৃপক্ষের প্রতি আহবান জানাবো, আপনার যদি সিলেট নগরীর পরিবেশ-প্রতিবেশ ভালো রাখতে চান, তাহলে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করে এসব পরিকল্পনার কাজে আমাদের সম্পৃক্ত করুন। তাহলে সিলেট নগরীর বাসিন্দাদের জন্য সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা যাবে।’
‘সবুজ সাথী’ সম্মাননা গ্রহণের পর সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন বলেন, ‘এই অর্জন শুধু আমাদের নয়, সমগ্র সিলেট নগরবাসীর। সবুজ সাথী সম্মাননা সিলেট মহানগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় আরও ইতিবাচক ও সম্ভাবনাময় পরিবর্তন আনবে। এই সম্মাননা গ্রহণ করতে পেরে আমরা গর্বিত ও অনুপ্রাণিত। এই স্বীকৃতি কেবল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের নয়; এটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য সিলেট নগর গড়ে তোলার অভিযাত্রায় সম্পৃক্ত সকল নগরবাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টারই স্বীকৃতি।’
এসএন/