ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই! ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু নয়নের খাল খননে নয়ন কি জুড়াবে এবার? বিশ্বকাপে মিশরকে প্রথম ম্যাচ জয় উপহার দিয়ে উচ্ছ্বসিত সালাহ ঘরছাড়া মানুষের বাস্তবতা ও বৈশ্বিক দায়িত্ব আর্জেন্টিনার পতাকার রঙে ভাইরাল ভেড়া অপরাধ নির্মূলে কার্যকর ভূমিকার বিকল্প নেই চুয়েট হলে চলন্ত ফ্যান ছিঁড়ে পড়ায় আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা ‘মাথা উঁচু করে বিদায় নিচ্ছি’- ড্রেসিংরুমে ইরানের বার্তা যার শেষ পরিণতি হবে জাহান্নাম চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭ আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত হবে ঈশ্বরগঞ্জে কৃষকদের পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে আগুন অসংক্রামক রোগের আগ্রাসন মোকাবিলায় ৩৫ মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে অভ্যন্তরীণ রুটে ১৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় গুজব মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং সেল ২৪ ঘণ্টা সক্রিয়: তথ্যমন্ত্রী শিবপুরে বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন বিতরণ সাতকানিয়ায় মিলল মহাবিপন্ন হলুদ পাহাড়ি কচ্ছপ বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থার সমাজ উন্নয়ন কার্যক্রম অধ্যায়ের ১৬টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ১ম পর্ব, এইচএসসির সমাজকর্ম ২য় পত্র খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নোবিপ্রবিতে শিক্ষামন্ত্রী প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জনবল নিয়োগ, পদ ১১১

জৈন্তাপুরে বালুমহালে দা উঁচিয়ে চাঁদাবাজি

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৫, ১০:২৫ এএম
জৈন্তাপুরে বালুমহালে দা উঁচিয়ে চাঁদাবাজি
ছবি: ভিডিও থেকে

নদীতে বালুবাহী বারকি নৌকাসহ বিভিন্ন নৌযান আটকা। এক হাতে দা উঁচিয়ে বুক সমান পানি ঠেলে চাঁদাবাজি করছিলেন একজন। তাকে বাধা দেওয়ায় একজন বারকি শ্রমিককে দা দিয়ে আঘাত করে পালান চাঁদাবাজ। দা উঁচিয়ে চাঁদাবাজ পালানোর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার (১৭ জুন) দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ইজারাকৃত বড়গাং নদীর বালুমহালের। দা হাতে নিয়ে চাঁদাবাজি করা লোকটি হচ্ছেন জৈন্তাপুরের মাঝের বিল গ্রামের মো. খোকন মিয়া (২৮)। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় খোকন দা দিয়ে আঘাত করে সন্তোষ কুমার (৩৫) নামে এক বারকি শ্রমিককে আহত করেছেন। স্থানীয় লোকজন আহত শ্রমিককে বালুমহাল থেকে উদ্ধার করে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দিয়েছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার দিনভর বালুমহালে উত্তেজনা ছিল। খবর পেয়ে জৈন্তাপুরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (এসিল্যাণ্ড) ফারজানা আক্তার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

এসিল্যাণ্ড বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা পালিয়ে যায়। ঘটনাটি উর্ধবতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বালুমহাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১ বৈশাখ থেকে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীর ইজারা নেন সনি সোহা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটার চন্দন তালুকদার। বালুমহাল নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি বারকি শ্রমিকদের মাধ্যমে বালু আহরণ করে আসছিল। সম্প্রতি একটি চক্র ইজারাদারের বালু আহরণ কালে রূপচেং মাঝের বিল এলাকার জাটকা জামাল, মজিদ, নিজপাট ইউপির সাবেক মেম্বার আবদুন নূর, আলাই মিয়া, জমির উদ্দিন ওরফে কলা জমির, আবুল, আব্দুল জলিল, বাবুল মিয়া, ইসলাম মিয়ার নেতৃত্বে রূপচেং মাঝেল বিল এলাকায় বারকি শ্রমিকদের বালু উত্তোলনে বাধা দেয়। একপর্যায়ে নৌকা প্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দাবি করে। এতে করে বারকি নৌকা দিয়ে বালু আহরণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

মঙ্গলবার সকালে বারকি দিয়ে বালু উত্তোলন শুরু হলে চাঁদা আদায়কারীদের পক্ষে মো. খোকন মিয়া প্রকাশ্যে দা উঁচিয়ে চাঁদা উত্তোলনে নামে। এ খবর পেয়ে বালুমহালের ইজারাদার ঘটনাস্থলে গেলে খোকনসহ চাঁদাবাজেরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে দুপুর ১২টায় পুনরায় চাঁদাবাজ চক্রের সদস্যরা এসে চাঁদা দাবি করে। বারকি শ্রমিকরা চাঁদা না দিতে অস্বীকৃতি জানালে এ সময় সন্তোষ নামে বারকি শ্রমিককে দা দিয়ে একটি কোপ দিয়ে খোকন দা উঁচিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

বালুমহাল ইজারাদার পক্ষের আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, সরকারি নিয়মে আমরা বালু আহরণ করছি। গত কয়েকদিন থেকে চক্রের সদস্যরা বেআইনি ভাবে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার দা উঁচিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনার ভিডিও তারা প্রশাসনের কাছে দিয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানান।

যোগাযোগ করলে জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদিউজ্জামান বলেন, চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মেহেদী/

নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার আব্দুল মাবুদ। ইনসেটে চীনা নাগরিক।

নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে ঘুরতে আসা এক চীনা পর্যটককে হেনস্তা, ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে আব্দুল মাবুদ (৪২) নামের এক যুবককে আটক করেছে টুরিস্ট পুলিশ।

সোমবার ( ২২ জুন) দুপুরে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আটক আব্দুল মাবুদ জয়পুরহাট জেলার সদর উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা।

টুরিস্ট পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর মেসবাহুল হক জানান, ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারে প্রায় এক সপ্তাহ আগে এক চীনা নাগরিক ঘুরতে আসেন। পাহাড়পুরে অবস্থানকালে অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদ ওই বিদেশি পর্যটককে নানাভাবে হেনস্তা করেন এবং তার অনুমতি ছাড়াই ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে সেই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হলে তা দ্রুত ভাইরাল হয় এবং বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি টুরিস্ট পুলিশ পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ইউনিটের নজরে আসলে দ্রুত অভিযানে নামে পুলিশ। দেশের ভাবমূর্তি রক্ষা এবং বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে মূল অভিযুক্ত আব্দুল মাবুদকে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে বদলগাছি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

হারুন/নাঈম

কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী!

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী!
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৮টি কলেজ থেকে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না কেউ। এসব কলেজের চারটি কলেজ থেকে রেজিষ্ট্রেশনই করে নি কেউ। এর মধ্যে বাকি ৪ কলেজ থেকে রেজিস্ট্রেশন করেও ৩৫ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ফাইনালের জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এই ৮ কলেজের মধ্যে চারটি কলেজ রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলায় ও একটি ফেনী জেলায়। 

এ বছর কুমিল্লা বোর্ডে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠানের ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে মেয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছেলে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। এ বছরও ছেলে পরীক্ষার তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি। গত ১৪ই জুন সরকারি সময়ে রেজিষ্ট্রেশনের সময় শেষ হয়। 

সে সময় কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) এর দায়িত্বে থাকা মো. সালাহউদ্দিন জানান, এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৬ জেলায় মোট ৪৬৪ টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। আমরা আটটি প্রতিষ্ঠানকে পেয়েছি যাদের কলেজের স্বীকৃতি ছিল কিন্তু তাদের কোনো পরীক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারছে না। এছাড়া গতবছর শূন্য থেকে পাঁচ শতাংশ পাশের হারে ১৩টি প্রতিষ্ঠানকেও কলেজ স্বীকৃতি বাতিল করা হয় তারা ২০২৭ সালে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে না। 

উপ- পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন জানান, এবছরও মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ২০ হাজার বেশি। মেয়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া যেমনি নারী শিক্ষায় একটি ইতিবাচক দিক, তেমনি ছেলেদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ফেনী জেলার নোবেল কলেজ, কুমিল্লা জেলার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল এন্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ। 

কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু আছে। এ বছরই প্রথম এই কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না। বিগত কিছু বছর যাবতই শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে। এ বছর যে ১০ জন এইচএসসিতে ভর্তি হয়েছিল তারাও পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। এছাড়া প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়েও তো তোড়জোড় করা যায়নি। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর জামাল নাসের মনে করেন, যেসব প্রতিষ্ঠান উচ্চ বিদ্যালয়ে রয়েছে সেগুলোকে কলেজে উত্তীর্ণ করার কোনো প্রয়োজন নেই। সঠিকভাবে পরিচালনা না করা গেলে কলেজ ছাতা চালাতে গিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক শাখা ও আর্থিক সংকট এবং সুনামের ক্ষতির মুখোমুখি হয়। এতে অনেক ভালো প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী সংখ্যা কমে আসে। তার চেয়ে বরং যারাই মহৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত করতে চান তারা যদি আলাদা করে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেটি দায়িত্বশীল ভাবে পরিচালনা করেন তাহলে এই দুর্ভাগা পরিণতিতে কাউকে পড়তে হবে না। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. মো. শফিকুল ইসলাম জানান, কোন কোন কলেজগুলো থেকে শূন্য পরীক্ষার্থী এবং কেন সেসব কলেজ থেকে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারলো না এই বিষয়গুলো আমরা বিস্তারিত খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। সেসব প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি আছে কি না আমরা পর্যালোচনা করবো। 

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান প্রফেসর আনোয়ার পারভেজ বলেন, কোন কলেজগুলোতে একেবারে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা নেই, আবার কোন কোন কলেজে দিন দিন পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছে- এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা আমরা ভেবে দেখছি। তবে যেসব প্রতিষ্ঠানেরই বাৎসরিক ফলাফল খারাপ হবে কিংবা তাদের শিক্ষার্থী থাকবে না তাদের বিরুদ্ধে কোনো নীতিমালা তৈরি করে সরকার ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিলে আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পদক্ষেপ নিব। এতে করে মানহীন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমবে। শিক্ষার্থীরাও কোনো প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে প্রতারণার শিকার হবে না।

রিফাত/

ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৩৬ পিএম
ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট বা ‘মুগুর পা’ দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) বিকেলে তেমুহনী এলাকায় ক্লাবফুট আক্রান্ত শিশুদের শারীরিক ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইটেড পারপাসের বাস্তবায়নে, মিরাকেলফিটের আর্থিক সহযোগিতায় এবং আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সার্বিক সহায়তায় কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিকেল ৫টার পর স্থানীয় যুবসমাজের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং ক্লাবফুটে আক্রান্ত শিশুদের অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে র‌্যালিটি তেমুহনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের সভাকক্ষে ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের আওতায় একটি সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকরা জানান, দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো পরিবারগুলোর কাছে এই বার্তা পৌঁছে দেওয়া যে ক্লাবফুট কোনো অভিশাপ নয়; বরং সময়মতো চিকিৎসা নিলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য।

সভায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

বক্তারা ক্লাবফুট নিয়ে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূর করা, দ্রুত শনাক্তকরণ এবং নিকটস্থ ক্লাবফুট ক্লিনিকে রেফারালের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘ফেনীর মতো এলাকাগুলোতে এখনো অনেক পরিবার ক্লাবফুটকে জন্মগত অভিশাপ বা অচিকিৎসাযোগ্য সমস্যা মনে করে। অথচ এটি সম্পূর্ণ চিকিৎসাযোগ্য একটি অবস্থা। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয়ে দ্রুত শনাক্তকরণ ও সময়মতো রেফারাল নিশ্চিত করা গেলে কোনো শিশুকেই প্রতিবন্ধকতার শিকার হতে হবে না।’

পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, ‘ক্লাবফুট কোনো অভিশাপ বা স্থায়ী অক্ষমতা নয়। জন্মের পর যত দ্রুত এটি শনাক্ত করা যায়, তত দ্রুত ‘পনসেটি পদ্ধতি’র মাধ্যমে চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও রেফারাল নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে।’

ইউনাইটেড পারপাসের ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর এবং অনুষ্ঠানের মূল আলোচক সুমিত বণিক অনলাইনে যুক্ত হয়ে বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে এখনো ক্লাবফুট নিয়ে নানা ভুল ধারণা ও কুসংস্কার রয়েছে। পরিবার, সমাজ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে এসব ভুল ধারণা দূর করাই আমাদের লক্ষ্য। জন্মের পরপরই সঠিক স্ক্রিনিং ও রেফারাল ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে প্রতিটি শিশু সময়মতো চিকিৎসা পাবে।’

আলাবক্স স্পেশালাইজড ফিজিওথেরাপি ট্রিটমেন্ট সেন্টারের পনসেটি প্র্যাকটিশনার ও ফিজিওথেরাপিস্ট মো. সাইফুদ্দীন জুলফিকার বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে চিকিৎসা শুরু হওয়ার কারণে জটিলতা বাড়ে। অথচ পনসেটি পদ্ধতির মাধ্যমে ক্লাবফুট সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’

সভা শেষে অংশগ্রহণকারী অভিভাবক ও স্থানীয়রা ক্লাবফুট সম্পর্কে নতুন ধারণা লাভের কথা জানান এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ‘ওয়াক ফর লাইফ’ প্রকল্পের এ উদ্যোগ ফেনী অঞ্চলে ক্লাবফুট বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অমিয়/

নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই!

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:২৩ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
নাটোরে এক গ্রামেই ৪ শতাধিক ঘরজামাই!
ছবি: খবরের কাগজ

নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের গড়মাটি গ্রামে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাস করছেন চার শতাধিক জামাই। দেশের বিভিন্ন এলাকায় যেখানে মেয়ের বিয়ের পর স্বামীর বাড়িতে বসবাসকেই স্বাভাবিক রীতি ধরা হয়, সেখানে ওই গ্রামে মেয়ের জন্মস্থানে স্বামীর এমন ব্যতিক্রমী বসবাস কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মজা করে ওই গ্রামকে ‘জামাইদের গ্রাম’ বলেও সম্বোধন করেন। গত প্রায় ৫০ বছর ধরেই ওই গ্রামে জামাইদের বসবাসের এ রীতি চলে আসছে।

স্থানীয়দের দাবি, ওই গ্রামে পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা বেশি। এ ছাড়া জামাই আদরসহ নানা কারণে সেখানে এমন ব্যতিক্রমী রীতির প্রচলন হয়েছে।

তথ্যানুসারে, গোপালপুর ইউনিয়নে মোট ১৩টি গ্রাম রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি গ্রামে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও বাকি ৮টি গ্রামে নারীর সংখ্যা বেশি, যার মধ্যে গড়মাটি গ্রাম অন্যতম।

ইউপি সূত্রে জানা যায়, গড়মাটি গ্রামের মোট জনসংখ্যা ৬ হাজার ৭৫৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩ হাজার ১২০ জন এবং নারী ৩ হাজার ৬৩৬ জন। ইউনিয়নটিতে শিক্ষার হারও ভালো। এখানে রয়েছে ১টি কলেজ, ৩টি উচ্চবিদ্যালয়, ৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১০টি মাদরাসা, ৪৫টি মসজিদ, ১১টি মন্দির ও ১টি গির্জা।

মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সম্প্রীতির বন্ধন সবাইকে মুগ্ধ করে। এলাকায় প্রবাসী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ছাড়াও রয়েছেন দিনমজুর, মৎস্যজীবীসহ নানা পেশার মানুষ।

সরেজমিনে জানা যায়, গড়মাটি গ্রামের অনেক পরিবারেই প্রথম সন্তান মেয়ে। এতে বাবা-মায়ের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের অবদান বেশি থাকে। বাবা-মায়ের সঙ্গে মেয়েরাই বেশি ঘনিষ্ঠ।

এ ছাড়া অনেক পরিবারের ছেলেরা বিয়ের পর পৃথক সংসার গড়ে বাবা-মায়ের প্রতি তেমন দায়িত্ব পালন না করায় মেয়েদের প্রতিই বেশি মনোযোগ দেন অভিভাবকেরা।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নূরজাহান খাতুন জানান, অনেক মেয়ের স্বামী প্রবাসী হওয়ায় তারা শ্বশুরবাড়ির পরিবর্তে বাবার বাড়িতে থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। স্বামীরা দেশে ফিরে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মেয়ের বাবা-মায়ের দেওয়া সম্পত্তিতে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করেন। আবার অনেক মেয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতন সইতে না পেরে স্বামীসহ বাবা-মায়ের দেওয়া জমিতে বাড়ি করে সংসার করছেন। পাশাপাশি ওই গ্রামে পেঁয়াজ-রসুনসহ বিভিন্ন লাভজনক কৃষিপণ্য উৎপাদন হওয়ায় কৃষিজীবী পরিবারগুলোও সেখানে বসবাসে আগ্রহী।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ঘরজামাই তেমন নেই বললেই চলে। অধিকাংশই পৃথক জমিতে বাড়ি করে বসবাস করেন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, কোনো জামাই বা মেয়েকে পরিবারের ছেলেরা কোনো ধরনের কটাক্ষ বা খারাপ আচরণ করেন না। বরং সবাই জামাইদের আদর-আপ্যায়ন করতে পছন্দ করেন। এ কারণে স্ত্রীর জন্মগ্রামে বসবাস করতে জামাইদেরও কোনো অনীহা নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জামাই জানান, ওই গ্রামে তার মতো ৪ শতাধিক জামাই বসবাস করলেও ঘরজামাই খুব কম। অধিকাংশই নিজস্ব বাড়িতে বসবাস করেন।

ইউপি সদস্য জামিরুল ইসলাম জামে জানান, গড়মাটি গ্রামের সবাই শান্তিপ্রিয়। তারা মিলেমিশে বসবাস করেন। অনেক জামাইয়ের নাতি-নাতনিরাও বড় হয়েছে। তাদের কাছে এই গ্রামই নিজের গ্রাম। ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, শ্বশুর-জামাই সবাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ।

কামাল মৃধা/রিফাত/

চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৪:৫০ পিএম
চকরিয়ায় সৌদিয়া বাস উল্টে আহত ৭
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার আজিজনগর গয়ালমারা এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ‘সৌদিয়া পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে গিয়ে অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন)ভোর ৬টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির কারণে সড়ক পিচ্ছিল থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি ভোরে গয়ালমারা এলাকায় পৌঁছালে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ভোরে বৃষ্টি হওয়ার কারণে মহাসড়কের ওপর মাটি ও পানি মিশে সড়ক অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে পড়েছিল। চাকা পিছলে যাওয়ায় চালক গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং বাসটি সড়কের ওপর উল্টে যায়।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা ও চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে। বাসটির ভেতর থেকে গুরুতর আহত ৭ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

বানিয়ারছড়া হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মোহাম্মদ আরিফুল আমিন দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার কাজ সম্পন্ন করে। দুর্ঘটনাকবলিত সৌদিয়া পরিবহনের বাসটিকে জব্দ করা হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।

রাকিবুল/রিফাত/